স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ

২০২০ সালের মধ্যে ঢাকা তৃতীয় বৃহৎ জনবহুল শহর হয়ে উঠবে

আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকা ৩য় বৃহৎ জনবহুল শহর হিসাবে পরিণত হবে। এক সময়ে মাত্র ২ বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল। অথচ বর্তমান ঢাকায় জনসংখ্যা এত বেশী যে হাঁটা যায় না। জাপান বড় কোন সমস্যা ছাড়াই সুনামির মত ভয়াবহ দুর্যোগ সামাল দিলেও, ঢাকা শহরে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তা সামাল দেয়া এ দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সম্প্রতি রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ‘নগরায়ন এবং উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ভারত সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে নিরাপদ

সাধারণ মানুষ নয়, মাদক ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে। ভারতের সাথে ছয়টি দেশের সীমান্ত থাকলেও শুধু বাংলাদেশ সীমান্তেই বিএসএফের হত্যাযজ্ঞের শিকার হচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক এবং দেশীয় অস্ত্র চোরাচালানের সাথে জড়িত রয়েছে কয়েকশ’ চোরাকারবারী। শুধু বাংলাদেশে  ফেনসিডিল পাচার করার জন্য ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ২৪টি ফেনসিডিল কারখানা। বিএসএফের হাতে কখনো কোন মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য নেই কারো কাছেই।

সীমান্তে নিহত বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশ গরু ব্যবসায়ী। অথচ বিএসএফের প্রধান ইউকে বানসালও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গরু বাণিজ্য বৈধ করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। ২০০০ সালের পর গত একযুগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক হাযার একশ’র অধিক নিরীহ বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে ২শ’রও বেশী নিরীহ বাংলাদেশী নিহত হয়েছে সীমান্তে। এ সময় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র হাতে ভারতের কোন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভুটান এবং মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তান সীমান্তেও গত ১০ বছরে কোন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ সীমান্তে।

সঊদী আরবে আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় হাফেয এহসান প্রথম

সঊদী আরবে বাদশাহ আব্দুল আযীয আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০১২-এ বাংলাদেশের হাফেয মুহাম্মাদ এহসান উদ্দীন নো‘মান (২০ পারা গ্রুপে) প্রথম স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করেছেন। গত ২ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মক্কার হারাম শরীফে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৭৩টি দেশের ৭৩ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। এবারই প্রথম কোন বাংলাদেশী এই বিরল গৌরব অর্জন করলেন। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করেন মক্কা শরীফের প্রধান ইমাম ও খতীব আব্দুর রহমান আস-সুদাইসী ও ধর্মমন্ত্রী ছালেহ বিন আব্দুল আযীয। ইতিপূর্বেও হাফেয নো‘মান ২০০৮ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত ১৬তম আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৪র্থ স্থান লাভ করে।

১৪০০ কোটি ডলারের বেশী প্রবাসী-আয় এসেছে গত বছর

বিদায়ী ২০১২ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা ১৪০০ কোটি ডলারের বেশী প্রবাসী-আয় দেশে পাঠিয়েছেন। এই উচ্চহারে প্রবাসী-আয় প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদকে (রিজার্ভ) নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১২ সালের শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে এক হাযার ২৭৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ৩০০ কোটি ডলার। প্রবাসী-আয় প্রাপ্তির দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জনসম্পদ যে একটি দেশের উন্নয়নে কি পরিমাণ ভূমিকা রাখতে পারে, এর মাধ্যমে তা নিরূপণ করা যায়।

অপুষ্টির শিকার হয়ে প্রতিদিন ২শ’ শিশুর মৃত্যু ঘটছে

সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা এবং শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান না করানোর ফলে অপুষ্টির শিকার হয়ে দেশে প্রতিদিন ২০০ শিশুর মৃত্যু ঘটছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অপুষ্টির হার এখনো বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী। এখনো দেশের অর্ধেক শিশু ও এক-চতুর্থাংশ মায়েরা অপুষ্টিতে ভুগছে। ‘বাংলাদেশে পুষ্টি প্রকল্প, শেখা এবং এগিয়ে চলা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ঘরে তৈরী খাবারের মাধ্যমে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের ৩% মানুষ অন্ধত্বের সমস্যায় ভোগেন

চোখের নীরব ঘাতক হ’ল ‘গ্লকোমা’ রোগ। যা অন্ধত্বের প্রধান কারণ। বাংলাদেশে প্রায় শতকরা ৩ ভাগ লোক এ রোগের শিকার। গত ১২ই জানুয়ারী বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটি কর্তৃক ঢাকায় আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এ তথ্য প্রকাশ করেন। বিশ্বসংস্থার তথ্য অনুযায়ী বর্তমান পৃথিবীতে ৪ কোটি মানুষ অন্ধ এবং ২৪ কোটি মানুষ স্বল্পদৃষ্টি রোগে ভুগছেন। যাদের ৯০ শতাংশ গরীব উন্নয়নশীল দেশ সমূহে বসবাস করেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে এসব রোগীর ৮০ ভাগেরই স্বল্পদৃষ্টি প্রতিরোধ করা সম্ভব। অথচ ডাক্তাররা কেবল চশমা দিয়েই রোগীদের বিদায় করেন। বক্তাগণ বলেন, প্রচারণার অভাবে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষই এ বিষয়ে অবগত নয়। অথচ শুরুতে রোগটি শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

যশোর হর্টিকালচার সেন্টারে গাছ আলুর উদ্ভাবন

লাউ, শিম ও বরবটির মতো গাছ আলুর উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে যশোর হর্টিকালচার সেন্টার। গোল আলু, মেটে আলু ও শাক আলু সাধারণত মাটির নীচে আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। নতুন প্রযুক্তিতে এখন গাছে আলু উৎপাদন হচ্ছে। আগামী বছর যশোর হর্টিকালচার আরো ব্যাপকভাবে নতুন এই প্রযুক্তিতে আলু উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উক্ত সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ বলেন, গাছে হয় বলেই নাম দেয়া হয়েছে গাছআলু। এই আলু একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় ফসল। বড় ও চওড়া পানের মত আকৃতির পাতা হয়। পশ্চিম আফ্রিকার ১৬টি দেশে এই আলুর ব্যাপক চাষ হয়। শীতকালে গাছটি মরে গিয়ে অদৃশ্য হয়। গ্রীষ্মের শুরুতে মাটির নীচের কন্দ এবং বুলবিল থেকে নতুন চারা বের  হয়। বর্ষার ভেতর গাছে ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওযন হয় ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। একটি গাছে ফল হয় প্রায় এক মণ। উর্বর বেলে দোঁআশ মাটিতে গাছ আলুর চাষ ভালো হয়। যশোর হর্টিকালচার সেন্টার গাছ আলু উৎপাদন করে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। সূত্র মতে, এই আলু চাষ করতে বাড়তি কোন জমির প্রয়োজন হয় না। বসতবাড়ির আনাচে-কানাচে গাছ-গাছালির মাঝেই উৎপাদন করা যায়। এ আলু চাষে খরচ নেই বললেই চলে। সার ও রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। তাই গাছআলু সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। এ আলু খেতেও সুস্বাদু।

[আল্লাহ রূযীর মালিক। তিনি বান্দার রূযীর জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে অসংখ্য নে‘মত মানুষকে দান করেছেন (লোকমান ৩১/২০)। মানুষের দায়িত্ব সর্বদা চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে সুপ্ত নে‘মতরাজি বের করে এনে ভোগ করা ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। আমরা এই আবিষ্কারের জন্য যশোর হটিকালচারের বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাপূর্ণ প্রশংসা জ্ঞাপন করছি (স.স.)]

বিদেশ

প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ

২০১২ সালে বিশ্বে ক্ষয়ক্ষতি ১৪ হাযার কোটি মার্কিন ডলার

গত বছর সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক এবং মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাযার কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এই আর্থিক মূল্যের মধ্যে ৬৫০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেবে বিশ্বের বীমা খাত। বুধবার সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বীমা প্রতিষ্ঠান সুইস রে কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। সেখানে আরো বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত বছর এগারো হাযারেরও বেশী মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভয়াবহতা ও আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় প্রথম ৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে আমেরিকায় আঘাত হানা সুপারস্টর্ম স্যান্ডি। স্যান্ডির আঘাতে আমেরিকার প্রায় অর্ধশত কোটি ডলারের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

[মানুষের অবাধ্যতার লাগাম টেনে ধরার জন্যই আল্লাহ মাঝে মধ্যে এরূপ গযব পাঠিয়ে থাকেন। এ যুগের নমরূদ ও ফেরাঊনরা এথেকে উপদেশ হাছিল করবে কি? (স.স.)]

ব্যয় হরাসে বৃদ্ধদের বিদেশের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাচ্ছে জার্মানী

আধুনিক সমাজে নতুন প্রথা অনুযায়ী বাবা-মা বৃদ্ধ হ’লে তাদের ঝামেলা মনে করে সন্তানেরা। তাই তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়ে মন চাইলে বছরে মাঝে-সাঝে দেখতে যান। কিন্তু যখন বাবা-মাকে বিদেশের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়, তখন সভ্যতার এই চরম উন্নতি (?) দেখে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। ভাবতে অবাক লাগলেও এ কাজ করছে বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতির দেশ জার্মানী। দেশটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাযার বয়স্ক ও অসুস্থ জার্মানকে পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিসেবায় ব্যয় সংকোচন পদক্ষেপের কারণে জার্মানী এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কেননা ব্যয়বহুল দেশ জার্মানির তুলনায় পূর্ব ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোতে এক্ষেত্রে ব্যয় অনেক কম পড়বে। উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে জার্মানির সেবা কেন্দ্রগুলোর ব্যয় দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং কর্মী সংকটে ভুগছে। সমালোচকরা বলছেন, নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! আজকের উন্নত সভ্যতার ধারক জার্মানীকে যারা সর্বস্ব দিয়ে গড়ে তুলেছেন, তারাই আজ নিজ মাতৃভূমি থেকে নির্বাসিত।

[বস্ত্তবাদী ও পুঁজিবাদী সভ্যতার এটাই হ’ল শেষ পরিণতি। অতএব ফিরে এসো মানুষ আল্লাহর পথে (স.স.)]

দিল্লিতে ২০১২ সালে ধর্ষণ মামলা ৬৩৫টি

দোষী সাব্যস্ত ১ জন!

ভারতের নয়াদিল্লিতে বিদায়ী বছরে ৬৩৫টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এতে মাত্র একজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী গত জানুয়ারী ’১২ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬৩৫টি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৭৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মাত্র একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। বাকীদের শুনানী ও তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য যে, খুন, যখম ও অপরাধের খতিয়ানে ভারত এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের আধিক্যের দিক দিয়েও প্রথম সারিতে রয়েছে দেশটি। তবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রথম স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে গত এক বছরে ধর্ষিতা হয়েছে ১০ লাখের বেশী নারী এবং ১ কোটি ২০ লাখের বেশী নারী ও পুরুষ ঘনিষ্ঠজন দ্বারা ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন বা উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে।

[ধর্মনিরপেক্ষ ও সভ্যতাগর্বী দেশগুলির এই চরম নৈতিক অধঃপতন নিতান্তই স্বাভাবিক। ইসলামী অনুশাসন ও শাসন ব্যতীত এ থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই (স.স.)]

এক দশকের মধ্যে ইসরাঈল ধ্বংস হয়ে যাবে

মিসরের ইখওয়ানুল মুসলিমীনের রাজনৈতিক শাখা ‘ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি’র উপ-প্রধান এসাম আল-এরিয়ান বৃটেনের দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, আগামী এক দশকের কম সময়ের মধ্যে ইহুদীবাদী ইসরাঈলের অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তীন জবর দখলকারীদের মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করা ও ফিলিস্তীনীদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে দেয়া উচিত। যারা ভবিষ্যৎ অাঁচ করতে পারেন তারাই বুঝতে পারছেন যে, এক দশক বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে ইহুদীবাদী ইসরাঈল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ফিলিস্তীনী জনগণ তাদের ভূমিতে ফিরে আসতে পারবে।

[আমরা দো‘আ করি ইহুদীরা ইসলাম কবুল করুক ও ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তীন রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসাবে বসবাস করুক (স.স.)]

অবসর নিলেন রতন টাটা

১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের ৪৫তম ব্যবসায়িক গ্রুপ ‘টাটা’র চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিয়েছেন রতন টাটা। কোম্পানীর আইন অনুযায়ী ৭৫ বছরে উপনীত হওয়ায় তার এ অবসর। তবে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছেন উত্তরসূরী হিসাবে গড়ে তোলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রিকে। লবণ থেকে সফটওয়ার পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ব্যবসায় টাটা গ্রুপকে সাফল্য এনে দেয়া রতন টাটার অবসরে একটি যুগের অবসান ঘটল। এর আগে দীর্ঘ ২১ বছর নেতৃত্ব দিয়ে টাটাকে বিশ্বের অন্যতম ব্যবসা-সফল গ্রুপে পরিণত করেন তিনি। তবে অবসরের পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে থাকবেন সম্মানসূচক এমিরেটাস চেয়ারম্যান হিসাবে। টাটা গ্রুপের ২৮টি শিল্পের শতাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ কাজ করে। রতন টাটা ‘টাটা’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামশেদ টাটার পালিত প্রোপৌত্র। ১৯৬২ সালে টাটা গ্রুপে যোগ দেন সাধারণ কর্মী হিসাবে। শুরুতে তিনি টাটা স্টিল কারখানায় বেলচা দিয়ে চুনাপাথর সরানো ও চুল্লি ঠিক রাখার কর্মচারী হিসাবে কাজ করতেন। পরে স্বীয় কর্মগুণে ১৯৯১ সালে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পান তিনি। তার সময়েই টাটা একটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। শিল্পক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মবিভূষণ ও নাইট উপাধিসহ দেশ ও বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নযীরবিহীন শিশু হত্যা

চরম নৈতিক অবক্ষয় ও নিজের কর্মদোষেরই ফল

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে ২০টি শিশু নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে সেদেশের অনেক সমাজবিজ্ঞানী বলছেন, মার্কিন সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে এবং বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ছড়িয়ে রয়েছে তাতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি মোটেই অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোন কোন সমাজবিজ্ঞানী দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যায়ক্রমে এই মর্মান্তিক শিশুহত্যার ঘটনা তার নিজের কর্মদোষেরই নিয়তির ফল। তারা বলছেন, আমেরিকা বিভিন্ন দেশে অস্ত্র বিক্রি করে এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনে ড্রোন হামলা চালিয়ে হাযার হাযার শিশুকে হত্যা করছে। অথচ এসব নিরপরাধ শিশু হত্যার জন্য কখনো কোন কথা বলেননি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। অথচ আজ নিজ দেশের কয়েকটি শিশুর মৃত্যুতে তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন! উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারী স্কুলে বন্দুকধারীর বর্বর হামলায় ২০ শিশুসহ ২৮ জন নিহত হয়।

[পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইয়ামনে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত অগনিত নিরপরাধ মযলূম বনু আদমের পক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেওয়া এই প্রতিশোধ থেকে ওবামা শিক্ষা নিবেন কি? (স.স.)]