প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৮১) : পৃথিবী না আসমান সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয়েছে?

-মুজীবুর রহমান, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : আল্লাহ প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আসমান সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু। অতঃপর তিনি মনঃসংযোগ করেন আকাশের দিকে। অতঃপর তাকে সপ্ত আকাশে বিন্যস্ত করেন। আর তিনি সকল বিষয়ে জ্ঞাত’ (বাক্বারাহ ২/২৯)। তিনি আরো বলেন, আপনি বলে দিন, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি দু’দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? ...তারপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করেন। তা ছিল ধোঁয়া।..’ (ফুছছিলাত/হামীম সাজদাহ ৪১/৯-১১)। ইবনু কাছীর, শাওকানীসহ জমহূর মুফাসসিরগণ বলেন, আল্লাহ প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেন তারপর আসমান সৃষ্টি করেন। কারণ যমীন হ’ল ভিত্তি। আর কোন কিছুর ভিত্তি প্রথমে স্থাপন করা হয়, তারপর ছাদ’ (তাফসীর উক্ত আয়াত)

তবে সূরা নাযি‘আতে এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে। সেখানে এসেছে, তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন, না আকাশের সৃষ্টি? যা তিনি নির্মাণ করেছেন। তিনি তার ছাদকে সুউচ্চ করেছেন। অতঃপর তাকে বিন্যস্ত করেছেন। ... পৃথিবীকে এর পরে তিনি বিস্তৃত করেছেন। সেখান থেকে তিনি নির্গত করেছেন পানি...’ (নাযি‘আত ৭৯/২৭-৩২)। প্রথমোক্ত আয়াতদ্বয়ের সাথে এ আয়াতটির বাহ্যিক বিরোধ সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বলেন, আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে যমীনকে অবিস্তৃত আকারে সৃষ্টি করেন। অতঃপর আসমান সৃষ্টি করেন। এরপর যমীনকে প্রসারিত করে তাতে পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছ-পালা ইত্যাদি স্থাপন করেন’ (কুরতুবী, তাফসীর সূরা বাক্বারাহ ২৯ আয়াত; শানক্বীতী, আযওয়াউল বায়ান, তাফসীর সূরা ফুছছিলাত ১০ আয়াত)

প্রশ্ন (২/৮২) : তাহাজ্জুদ ফউত হওয়ার আশংকা থাকায় এশার ছালাতের পর বিতর পড়লে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার পর পুনরায় বিতর পড়তে হবে কি?

-ছফিউদ্দীন আহমাদ, পাঁচদোনা, নরসিংদী।

উত্তর : পুনরায় বিতর পড়তে হবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘এক রাতে দুই বিতর নেই’ (তিরমিযী হা/৪৭০; আবুদাঊদ হা/১৪৩৯)। আর তাহাজ্জুদ ফউত হওয়ার আশংকা থাকলে রাতের প্রথম ভাগে বিতর ছালাতের পর দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করলে সেটাই তার রাত্রির নফল ছালাতের স্থলাভিষিক্ত হবে (দারেমী, মিশকাত হা/১২৮৬; ছহীহাহ হা/১৯৯৩)। তাছাড়া ইচ্ছা থাকা সত্ত্বে্ও তাহাজ্জুদ আদায় করতে না পারলে সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে যোহরের পূর্ব পর্যন্ত যেকোন সময় বিতরের ক্বাযা আদায় করবে। এতে সে রাতে বিতর আদায়ের নেকী পেয়ে যাবে’ (মুসলিম হা/৭৪৭; মিশকাত হা/১২৪৭; ছহীহুত তারগীব হা/৬৬৩)। স্মর্তব্য যে, ফজরের ইক্বামতের পূর্ব পর্যন্ত বিতর আদায় করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বিতর আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ল বা ভুলে গেল, সে যেন সকাল হলে বা স্মরণ হ’লে তা আদায় করে নেয়’

(আবুদাউদ হা/১৪৩১; তিরমিযী হা/৪৬৬; মিশকাত হা/১২৬৮)। হাদীছটির ব্যাখ্যায় শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ফজর উদিত হওয়ার পর থেকে ছালাত শুরুর পূর্ব পর্যন্ত বিতর আদায় করা যায়। যেমন ইবনু ওমর, আয়েশা ও অনেকে করতেন’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৩/৮৯; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১৮১)

প্রশ্ন (৩/৮৩) : ইমাম ছাহেব জুম‘আ ব্যতীত অন্য ওয়াক্তে মসজিদে কোন সুৎরা ছাড়াই সামনে এক কাতার স্থান খালি রেখে ইমামতি করেন। এটা জায়েয হবে কি?

-হারূনুর রশীদ, চট্টগ্রাম।

উত্তর : এভাবে ছালাত আদায়ে বাধা নেই। কারণ দেওয়াল বেষ্টিত মসজিদের দেওয়াল অথবা মসজিদের ক্বিবলার দিকের খাম্বা বা খুঁটিই মুছল্লীর জন্য সুৎরা। নতুন করে ইমামের সামনে সুৎরা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন (৪/৮৪) : হান্নান ও মান্নান কি আল্লাহর গুণবাচক নাম? আল্লাহ নামটিও কি গুণবাচক নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত?

-আব্দুল হান্নান, ঢাকা।

উত্তর : মান্নান (অধিক দাতা) আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে অন্যতম, যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (আবুদাউদ হা/১৪৯৫; তিরমিযী হা/৩৫৪৪; মিশকাত হা/২২৯০, সনদ ছহীহ)। তবে হান্নান (অধিক স্নেহশীল) আল্লাহর ছিফাতী নাম মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ (আহমাদ হা/১৩৪৩৫; সিলসিলা যঈফাহ হা/১২৪৯)। তাই হান্নান নাম রাখায় বাধা নেই। আর ‘আল্লাহ’ হ’ল ইসমে যাত বা সত্তাগত নাম। এটিই আল্লাহর প্রকৃত নাম (আবুদাউদ হা/১৪৯৬, ৩৮৫৭; মিশকাত হা/২২৯১; যঈফাহ হা/৬১২৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (৫/৮৫) : হাইকোর্টের বিচারপতিগণকে এডভোকেটদের বাধ্যগতভাবে ‘মাই লর্ড’ বলে সম্বোধন করতে হয়। অথচ শব্দটি আল্লাহ ব্যতীত কারো ব্যাপারে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ বলে আমরা জানি। এক্ষণে এটা বলা যাবে কি?

-আবু ইজতিহাদ অহী, কুমিল্লা।

উত্তর : এটি গোলামী যুগে এদেশে ইংরেজদের চালুকৃত একটি আদালতী পরিভাষা। এটি ইংল্যান্ডে সম্মানসূচক সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন Oxford ডিকশনারীতে বলা হয়েছে, My Lord : (in Britain) a title of respect used when speaking to a judge, bishop or some male members of the nobility (people of high social class). অর্থাৎ বৃটেনে ‘মাই লর্ড’ বলতে বিচারক, বিশপ এবং উচ্চ সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন পুরুষের প্রতি সম্মানসূচক সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়’। সুতরাং বিচারককে সম্মানসূচক সম্বোধনের ক্ষেত্রে ‘মাই লর্ড’ বলা ইংল্যান্ডের পরিভাষায় দোষণীয় নয়। লর্ড শব্দটি ইংরেজরা গড-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করে থাকেন (ঐ)। অতএব এ জাতীয় দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা থেকে বেঁচে থাকাই উত্তম। এক্ষেত্রে ‘মহামান্য বা মাননীয় বা বিজ্ঞ আদালত’ বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন (৬/৮৬) : জেহরী ছালাত সমূহ বাড়িতে বা মসজিদে একাকী পড়ার ক্ষেত্রে ক্বিরাআত সরবে না নীরবে পাঠ করতে হবে? এসময় ইক্বামত দিতে হবে কি?

-মুহাম্মাদ হারূনুর রশীদ, চট্টগ্রাম।

উত্তর : বাড়িতে বা মসজিদে, একাকী হৌক বা জামা‘আতে হৌক, যে ওয়াক্তের ছালাত রাসূল (ছাঃ) যেভাবে আদায় করেছেন, তা সেভাবেই আদায় করা আবশ্যক (বুখারী হা/৬৩১)। তবে মসজিদে বা জনবহুল স্থানে যেখানে অপর মুছল্লীর অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেসব স্থানে নীরবে বা নীচু কণ্ঠে ক্বিরাআত করাই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) ই‘তিকাফে থাকাকালীন সময়ে এক ব্যক্তি সরবে ক্বিরাআত করলে তিনি বলেন, তোমাদের প্রত্যেকে তার রবের সাথে গোপনে কথা (মুনাজাত) বলে থাকে। অতএব তোমাদের কেউ যেন কাউকে সরবে ক্বিরাআত পাঠ করে কষ্ট না দেয় (আবুদাউদ হা/১৩৩২; ছহীহাহ হা/১৬০৩)। আর একাকী হৌক বা জামা‘আতে হৌক উভয় ক্ষেত্রে ইক্বামত দেওয়া সুন্নাত (মুসলিম হা/৬৮০, আবুদাউদ হা/৪৩৫; ইবনু হিববান হা/১৬৬০)

প্রশ্ন (৭/৮৭) : ইহরামের কাপড়ের নীচে ছোট প্যান্ট জাতীয় কিছু পরা যাবে কি?

-তাওহীদ যামান, ঢাকা।

উত্তর : ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য সেলাইযুক্ত কোন কাপড় পরিধান করা নিষিদ্ধ (বুখারী হা/১৫৩৬, ৫৮৪৭; মিশকাত হা/২৬৭৮)। তবে মহিলাগণ এসব ব্যবহার করতে পারবেন। কেননা তাদের জন্য ইহরামের পৃথক কোন কাপড় নেই।

প্রশ্ন (৮/৮৮) : প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর একই সূরা পাঠে কোন বাধা আছে কি?

-মুহিউদ্দীন, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : এতে কোন বাধা নেই। আল্লাহ বলেন, কুরআন থেকে তোমার যা সহজ তা পাঠ কর’ (মুয্যাম্মিল ৭৩/২০)। একদা রাসূল (ছাঃ) ফজরের দু’রাক‘আত ছালাতেই সূরা যিলযাল পাঠ করেন’ (আবুদাউদ হা/৮১৬, সনদ হাসান)। অন্য একদিন তিনি মাগরিবের দু’রাক‘আতেই সূরা আ‘রাফ (অর্থাৎ তার কিছু অংশ) পাঠ করেন’ (তিরমিযী হা/৩০৮; ইবনু মাজাহ হা/৮৩১, সনদ ছহীহ)। তবে এসবই সাময়িক আমল। অধিকাংশ সময় তিনি ভিন্ন ভিন্ন সূরা পাঠ করতেন। ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) খুব কমই দু’রাক‘আতে একই সূরা পাঠ করেছেন’ (যাদুল মা‘আদ ১/২০৭)। অতএব প্রত্যেক রাক‘আতে ভিন্ন ভিন্ন সূরা বা আয়াত পাঠ করাই উত্তম। যদিও একই সূরা পাঠে বাধা নেই।

প্রশ্ন (৯/৮৯) : সূদী অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যায়। এক্ষণে এ উদ্দেশ্যে পিতার জমাকৃত টাকা নতুনভাবে ব্যাংকে রেখে লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

-আরিফ, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বাধ্যগত অবস্থায় ব্যাংকে টাকা রাখার কারণে প্রাপ্ত সূদ থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যেই প্রাপ্ত লভ্যাংশ সমাজকল্যাণ খাতে ব্যয় করার অনুমতি রয়েছে। যার মাধ্যমে নেকী অর্জনের কোন সুযোগ নেই। এক্ষণে ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজকল্যাণে ব্যয় করার লক্ষ্যে ব্যাংকে রেখে সূদ গ্রহণ করলে গুনাহগার হ’তে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ جَمَعَ مَالًا حَرَامًا ثُمَّ تَصَدَّقَ بِهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ، وَكَانَ إِصْرُهُ عَلَيْهِ ‘যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করল এবং তা দ্বারা ছাদাক্বা করল। তার জন্য কোন নেকী নেই। বরং এর গোনাহ তার উপরেই বর্তাবে’ (ছহীহ ইবনে হিববান হা/৩৩৫৬, ছহীহুত তারগীব হা/৮৮০)

প্রশ্ন (১০/৯০) : আমার মৃত পিতা ছালাত আদায় করতেন না। এক্ষণে তার সম্পদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করা সন্তানদের জন্য হালাল হবে কি?

-আকায়েদুল ইসলাম, কাদিরগঞ্জ, রাজশাহী।

উত্তর : অবহেলাবশতঃ ছালাত পরিত্যাগ করে থাকলে তার সম্পদ তার সন্তানরা গ্রহণ করতে পারবে। কারণ এরূপ ছালাত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি কবীরা গোনাহগার। পক্ষান্তরে যদি তিনি ছালাতের ফরযিয়াতকে ‘অস্বীকার’ করে ছালাত পরিত্যাগ করে থাকেন, তবে তিনি ‘কাফের’ হিসাবে গণ্য হবেন (মুসলিম হা/৮২; মিশকাত হা/৬১, ৫৮০)। এমতাবস্থায় তার সম্পদ পরিবারের মাঝে বণ্টন হবে না। বরং তা বায়তুল মাল হিসাবে জমা করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মুসলিম কোন কাফিরের ওয়ারিছ হবে না এবং কাফির কোন মুসলিমের ওয়ারিছ হবে না’ (বুখারী হা/৬৭৬৮; মুসলিম হা/১৬১৪; মিশকাত হা/৩০৪৩)

প্রশ্ন (১১/৯১) : আমি একজন পুলিশ। দুর্গাপূজার সময় দায়িত্বরত অবস্থায় মন্দির থেকে প্রদত্ত টিফিন খাওয়া যাবে কি?

-মুহাম্মাদ হেলাল, মুর্শিদাবাদ, ভারত

উত্তর : পূজা উপলক্ষে তাদের দেয়া টিফিন খাওয়া যাবে না। কারণ এতে শিরকের সমর্থন ও সহযোগিতা করা হবে। আল্লাহ তা‘আলা পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (মায়েদাহ ৫/২; লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ২৮৮২)

প্রশ্ন (১২/৯২) : হাদিয়া ফেরৎ দেওয়ার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি? বিশেষত অসৎ নিয়তে যে হাদিয়া প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে করণীয় কি?

-মাঈদুল ইসলাম, ফরিদপুর।

উত্তর : ইসলাম পরস্পরকে হাদিয়া দিতে উৎসাহিত করেছে। পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টিতে তা সহায়ক হয় (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫৯৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা দাওয়াত কবুল কর এবং হাদিয়া ফেরৎ দিয়ো না ...’ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৫৭; আহমাদ হা/৩৮৩৮, সনদ ছহীহ)। তিনি বলেন, কারো নিকটে তার মুসলিম ভাইয়ের পক্ষ থেকে যদি কোন হাদিয়া আসে, অথচ তার প্রতি তার কোন কামনা নেই, এক্ষেত্রে তা ফিরিয়ে না দিয়ে সে যেন তা গ্রহণ করে। কারণ এটা এমন রিযিক, যা আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ব্যবস্থা করেছেন (আহমাদ; ছহীহাহ হা/১০০৫)। তবে যৌক্তিক কারণে হাদিয়া ফেরৎ দেওয়া যায়। রাসূল (ছাঃ) আবওয়া নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে জনৈক ব্যক্তি একটি বন্য গাধা হাদিয়া হিসাবে দিলে তিনি তা ফেরৎ দেন। এতে লোকটি মন খারাপ করলে তিনি বলেন, আমরা হাদিয়া ফেরৎ দেই না। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় থাকার কারণে ফেরৎ দিলাম (বুখারী হা/১৮২৫; মুসলিম হা/১১৯৩; মিশকাত হা/২৬৯৬)। আর অসৎ উদ্দেশ্যে হাছিলের উদ্দেশ্যে কেউ হাদিয়া গ্রদান করলে তা গ্রহণ করা যাবে না। যেমন বেতনভুক কর্মচারী কর্তৃক অন্যদের নিকট থেকে হাদিয়া গ্রহণ করা (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৭৯)। ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে ঋণদাতার পাওনার অতিরিক্ত হাদিয়া গ্রহণ করা (বুখারী হা/৩৮১৪; ইরওয়া হা/১৩৯৭) ইত্যাদি।

প্রশ্ন (১৩/৯৩) : সফর অবস্থায় ছালাত ক্বছর করতেই হবে এরূপ কোন বাধ্যবাধকতা আছে কি?

-মেহদী হাসান, সাতক্ষীরা।

উত্তর : এরূপ কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা সফর কর, তখন ছালাতে ক্বছর করায় তোমাদের কোন দোষ নেই’ (নিসা ৪/১০১)। সফর অবস্থায় ছালাতে ‘ক্বছর’ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের প্রতি একটি উপহার স্বরূপ। আর উপহার যে গ্রহণ করাই উত্তম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেমন- ওমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি ছাদাক্বা। আল্লাহ তা‘আলা (ছালাত ‘ক্বছর’ করার অনুমতি দানের মাধ্যমে) তোমাদের প্রতি এটি ছাদাক্বা হিসাবে দিয়েছেন। অতএব তোমরা তাঁর ছাদাক্বা গ্রহণ কর’ (মুসলিম হা/৬৮৬, মিশকাত হা/১৩৩৫)। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ), আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর সাথে সফরে থেকেছি। তাঁরা সফরে দু’রাক‘আতের অধিক ছালাত আদায় করতেন না’ (বুখারী হা/১১০২; মুসলিম হা/৬৮৯; মিশকাত হা/১৩৩৮)

প্রশ্ন (১৪/৯৪) : দ্বিতীয় বিবাহের জন্য স্ত্রীর অনুমতি যরূরী কি? একাধিক স্ত্রীর মাঝে ইনছাফ না করতে পারার পরিণতি কি?

-মাসঊদ, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : শারঈ দৃষ্টিতে পূর্ব স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম পুরুষকে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন (নিসা ৩)। তবে বিবাহ করার চেয়ে স্ত্রীদের মাঝে ইনছাফ করার বিষয়টি বেশী যরূরী ও কঠিন। এজন্য একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে ইনছাফের বিষয়টি ভাবতে হবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে ইনছাফ করা আবশ্যক। কেননা নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘কারো নিকট যদি দু’জন স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মাঝে ইনছাফ না করে, তাহ’লে সে ক্বিয়ামতের দিন এক অঙ্গ পতিত অবস্থায় উঠবে’ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২৩৬)। তবে পারিবারিক শান্তির স্বার্থে পূর্ব স্ত্রীর সম্মতি গ্রহণ করা ভাল।

প্রশ্ন (১৫/৯৫) : রাসূল (ছাঃ) ক্বাদারিয়া বা তাকদীরকে অস্বীকারকারীদের মাজূসী বা অগ্নিউপাসক বলে আখ্যায়িত করেছেন কি? করলে তার কারণ কি?

-যুবায়ের হাসান, বাগেরহাট।

উত্তর : আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ভাগ্যকে অস্বীকারকারীরা এ উম্মতের অগ্নি উপাসকদের ন্যায়। তারা অসুস্থ হ’লে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না। আর মারা গেলে তাদের জানাযায় অংশ নিবে না (আবুদাঊদ হা/৪৬৯১, সনদ হাসান)। এর ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিছগণ বলেন, আলো এবং অন্ধকারের ব্যাপারে ক্বাদারিয়াদের সাথে অগ্নি উপাসকদের মতবাদের সাদৃশ্যের কারণে রাসূল (ছাঃ) এরূপ বলেছেন। মজূসীরা ধারণা করে যে, ভাল কথা ও কর্ম আলো থেকে আসে। আর মন্দ কথা ও কর্ম অন্ধকার থেকে আসে। এভাবে তারা দ্বৈতবাদী। তেমনিভাবে ক্বাদারিয়ারা ভালো কাজকে আল্লাহর সাথে এবং মন্দকর্মকে মানুষ, শয়তান ইত্যাদির সাথে সম্পৃক্ত করে। অথচ আল্লাহ ভালো-মন্দ উভয়েরই স্রষ্টা। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোনটাই সংঘটিত হয় না। সৃষ্টি ও অস্তিত্বে আনয়নের দিক দিয়ে এ দু’টি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত এবং কর্ম ও উপার্জনের দিক দিয়ে এ দু’টি বান্দার সাথে সম্পর্কিত’(নববী, শরহ মুসলিম ১/১৫৪; আযীমাবাদী, আওনুল মা‘বূদ শহর আবুদাঊদ ১২/২৯৫)। আল্লাহ হ’লেন কর্মের স্রষ্টা এবং বান্দা হ’ল কর্মের বাস্তবায়নকারী’। অতএব তাওহীদী আক্বীদার সাথে ক্বাদরিয়াদের আক্বীদা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। যা থেকে বিরত থাকা যরূরী।

প্রশ্ন (১৬/৯৬) : রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ ব্যতীত কা‘বাগৃহের অন্য কোন স্থান বরকত লাভের উদ্দেশ্যে স্পর্শ করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-সাখাওয়াত হোসাইন, বরিশাল।

উত্তর : কা‘বাগৃহের রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ এবং হাজারে আসওয়াদ চুমা দেওয়া বা ইশারা করার বিষয়টি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (বুখারী, মিশকাত হা/২৫৬৮, ২৫৮৯)। অন্যান্য স্থানে স্পর্শ করার ব্যাপারে কোন স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। একবার হযরত মু‘আবিয়া ও ইবনু আববাস (রাঃ) একত্রে ত্বাওয়াফরত অবস্থায় মু‘আবিয়া (রাঃ) কা‘বাগৃহের সবগুলি রুকন (চারটি কোণ) স্পর্শ করলে ইবনু আববাস (রাঃ) তার প্রতিবাদ করে বলেন, কেন আপনি এ দু’টি রুকন স্পর্শ করছেন? অথচ রাসূল (ছাঃ) এ দু’টি স্পর্শ করেননি। জবাবে মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেন, কা‘বাগৃহের কোন অংশই পরিত্যাগ করার নয়। তখন ইবনু আববাস আয়াত পাঠ করে শোনালেন, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে’ (আহযাব ২১)। জবাবে মু‘আবিয়া (রাঃ) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন’ (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/২৩২৩; আহমাদ হা/৩৫৩২, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (১৭/৯৭) : জনৈক পিতা তার পুত্রকে বলেন,আল্লাহর কসম আমি তোকে ত্যাজ্য পুত্র করলাম। এক্ষণে এরূপ কসম করা শরী‘আতসম্মত কি? উক্ত কসমের কাফফারা দিতে হবে কি?

-আবু ইজতিহাদ অহী,* কুমিল্লা।

* [নাম শুদ্ধ করুন (স.স.)]

উত্তর : ইসলামে সন্তানকে ত্যাজ্য করার কোন বিধান নেই। এরূপ করলে পিতা-মাতা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী কবীরা গোনাহগার হিসাবে গণ্য হবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (বুখারী হা/৫৯৮৪; মুসলিম হা/ ২৫৫৬; মিশকাত হা/৪৯২২)। পক্ষান্তরে সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য হ’লে সেটি কবীরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত হবে। যতক্ষণ না পিতা-মাতা তাকে পাপকর্মে বাধ্য করেন (লোকমান ৩১/১৫)

এক্ষণে পিতাকে কসম ভেঙ্গে সন্তান ফিরিয়ে নিতে হবে এবং কাফফারা আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যদি নিজ পরিবারের ব্যাপারে (সদাচরণ করবে না বলে) কসম করে এবং আল্লাহ কর্তৃক ফরযকৃত কাফফারা আদায় না করে স্বীয় কসমের উপর অটল থাকে, তাহ’লে সে আল্লাহর নিকটে (কসম ভঙ্গের চাইতে) অধিক গুনাহগার হবে(বুখারী হা/৬৬২৫, মুসলিম হা/১৬৫০, মিশকাত হা/৩৪১৪)। কারণ পরিবারের ব্যাপারে এরূপ কসম করা অন্যের ব্যাপারে কসমের তুলনায় অধিকতর পাপ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, পরে অন্যটিকে তা থেকে উত্তম মনে করে, সে যেন তা করে এবং নিজের কসমের কাফফারা দেয় (মুসলিম হা/১৬৫০, মিশকাত হা/৩৪১৩)। আর কসম ভঙ্গের কাফফারা হ’ল দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য খাওয়ানো অথবা বস্ত্র দান করা অথবা একটি দাস মুক্ত করা। এতে অসমর্থ হ’লে তিন দিন ছিয়াম পালন করা (মায়েদাহ ৫/৮৯)

প্রশ্ন (১৮/৯৮) : ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়া (রাঃ) হোসাইন (রাঃ)- কে হত্যার কারণে ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদকে কোন শাস্তি প্রদান করেছিলেন কি? না করে থাকলে কেন প্রদান করেননি?

-মনোয়ার, পুরানা পল্টন, ঢাকা।

উত্তর : ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদের সকল সৈন্য এমনকি ইয়াযীদ নিজেও এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে রাযী ছিলেন না। ...তবে ধারণা করা যায় যে, তিনি যদি তাকে হত্যা করার পূর্বে পেতেন, তাহ’লে ক্ষমা করে দিতেন। যেমনটি তার পিতা তাকে নছীহত করেছিলেন এবং তিনিও স্পষ্টভাবে সেকথা জানিয়েছিলেন। তিনি এজন্য ইবনু যিয়াদকে লা‘নত করেছিলেন, গালি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেননি বা শাস্তি দেননি’ (আল-বিদায়াহ ৮/২০২-০৩)। তিনি বলেন, মৃত্যুকালে ইয়াযীদের শেষ কথা ছিল, ‘হে আল্লাহ! আমাকে পাকড়াও করো না ঐ বিষয়ে যা আমি চাইনি এবং আমি প্রতিরোধও করিনি এবং আপনি আমার ও ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের মধ্যে ফায়ছালা করুন’(আল-বিদায়াহ ৮/২৩৯ পৃঃ)। এক্ষণে সম্ভবতঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তিনি গভর্নর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

প্রশ্ন (১৯/৯৯) : ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনের ক্ষেত্রে আমি এবং আমার পরিবার উদাসীন। এক্ষণে নিজেদেরকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের কোন দো‘আ বা নিয়মিত আমল আছে কি?

-ফাইয়ায ইকরাম, মিসর।

উত্তর : এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আল্লাহভীতি এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি। যে আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি দুনিয়ায় এসেছেন এবং যার ইচ্ছায় আপনি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন, তার হুকুম পালন না করে মৃত্যুবরণ করলে পরিণামে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির কথা বারবার স্মরণ করুন। জীবন্ত মানুষের পুড়ন্ত অবস্থা মনের চোখ দিয়ে দেখুন। দুনিয়ার চাকচিক্য সাময়িক। কিন্তু আখেরাত চিরস্থায়ী। তাই নশ্বর দুনিয়ার আকর্ষণে অবিনশ্বর আখেরাত থেকে উদাসীন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আপনি আল্লাহর নামে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিন যে, পরকালে চিরস্থায়ী শান্তির জন্য আমি ইহকালে সবকিছু করব। এজন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য চান। দেখবেন সত্বর আপনি ফল পাবেন। অতঃপর নিম্নোক্ত আমলগুলি করুন।- (১) আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ করুন (যারিয়াত ৫১/৫৫)। (২) সকল ইবাদত খুশূ-খুযূ সহকারে আদায় করুন (বুখারী হা/৫০) (৩) বেশী বেশী মৃত্যুকে স্মরণ করুন (তিরমিযী হা/২৩০৭) (৪) গুনাহ থেকে দূরে করুন (ইবনু মাজাহ হা/৪২৪৪) (৫) অল্পে তুষ্ট করুন। কারণ অধিক ধনসম্পদের আকাংখা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গাফেল করে দেয় (তাকাছুর ১০২/১) (৬) অধিক হারে নফল ইবাদত করুন (বুখারী হা/৬৫০২)। যেমন তাহাজ্জুদের ছালাত, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারে নফল ছিয়াম ইত্যাদি।

এছাড়া নিম্নোক্ত দো‘আটি নিয়মিতভাবে পাঠ করবেন। ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবে ছাবিবত ক্বালবী ‘আলা দ্বীনিকা, আল্লা-হুম্মা মুছারিরফাল ক্বুলূবে ছাররিফ ক্বুলূবানা ‘আলা ত্বোয়া-‘আতিকা’। অর্থাৎ ‘হে অন্তর সমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপরে দৃঢ় রাখ’। ‘হে অন্তর সমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমাদের অন্তর সমূহকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও’ (তিরমিযী হা/২১৪০; মুসলিম হা/২৬৫৪)

প্রশ্ন (২০/১০০) : কা‘বা গৃহের দিকে দৃষ্টিপাত করা কি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত? ছহীহ হাদীছের আলোকে জানতে চাই।

-রায়হান কবীর, ঢাকা।

উত্তর : এটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। এ মর্মে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সবই যঈফ। যেমন আয়েশা (রাঃ) হ’তে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত, কা‘বাগৃহের দিকে তাকিয়ে থাকা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত (দায়লামী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৭০১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, পাঁচটি জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যার একটি হ’ল বা‘বাগৃহের দিকে তাকিয়ে থাকা। এ বর্ণনাটিও অত্যন্ত যঈফ (যঈফুল জামে‘ হা/২৮৫৪-৫৫)

প্রশ্ন (২১/১০১) : প্রচলিত আছে যে, ১৯২৯ সালে জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) ইরাকের তৎকালীন বাদশাহ ফয়ছালকে স্বপ্নযোগে তাদের লাশ স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। অতঃপর সারা বিশ্বের লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের অবিকৃত লাশ স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার সত্যতা জানতে চাই।

-কাওছার আলম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।

উত্তর : ঘটনাটি ভিত্তিহীন। কারণ জাবের (রাঃ) ৭৮ হিজরীতে ৯৪ বছর বয়সে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ ছাহাবী ছিলেন। মদীনার আমীর আবান বিন ওছমান তাঁর জানাযায় ইমামতি করেন (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ১২/২৮১; ইবনু হাজার, আল-ইছাবাহ, জাবের ক্রমিক ১০২৮; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৭/৪১৯)। অপরদিকে হুযায়ফা (রাঃ) ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে মাদায়েনের গবর্ণর নিযুক্ত হন এবং ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদাত অবধি এ পদে বহাল থাকেন এবং এর ৪০ দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন’(ইবনু হাজার, আল-ইছাবাহ, হুযায়ফা ক্রমিক ১৬৫২; যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন-নুবালা ৪/২৯)। উপরন্তু আবুবকর ও ওমর (রাঃ) ব্যতীত কোন ছাহাবীর কবর এভাবে নির্দিষ্ট নেই যে, সেটি অমুক ছাহাবীর কবর হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে। অতএব কবর নিয়ে যেকোন বাড়াবাড়ি ও ধারণার উপর ভিত্তি করে কোন সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (২২/১০২) : শরী‘আতের দৃষ্টিকোণ থেকে একজন স্ত্রী থাকা উত্তম, নাকি একাধিক স্ত্রী? বিস্তারিত জানতে চাই।

-ডা. এ.এফ. সুমন, চৌড়হাস, কুষ্টিয়া।

উত্তর : শারীরিক, অর্থনৈতিক ও ইনছাফ রক্ষার ব্যাপারে ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য একাধিক বিবাহ করা উত্তম। কেননা একজন স্ত্রীর প্রতি ইহসান, শিক্ষাদান ও ভরণ-পোষণের ফলে যে নেকী অর্জিত হয়, একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে সে অনুপাতে নেকী বেশী হয় (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)। তবে উপরোক্ত শর্তাবলী পূরণে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য একজন স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। আল্লাহ বলেন, ‘...তাহ’লে অন্য মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের তোমরা ভাল মনে কর দুই, তিন বা চারটি পর্যন্ত বিবাহ করতে পার। কিন্তু যদি তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে ভয় কর, তাহ’লে মাত্র একটি বিবাহ কর...’ (নিসা ৪/০৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা অধিক সোহাগিনী ও অধিক সন্তানদায়িনী মহিলাকে বিবাহ কর। কারণ আমি ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব’ (আবুদাঊদ হা/২০৫০; মিশকাত হা/৩০৯১ সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (২৩/১০৩) : যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত সুন্নাত ছালাত এক সালামে পড়তে হবে কি?

-রেযা, হালসা, নাটোর।

উত্তর : যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত কিংবা দুই রাক‘আত উভয় আমল করা যাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১১৫৯-৬০)। আর চার রাক‘আত সুন্নাত এক সালামে বা দুই সালামে উভয়ভাবেই পড়া যাবে (নাসাঈ হা/৮৭৫; ইবনু মাজাহ হা/১৩২২)

উল্লেখ্য, ‘যোহরের পূর্বে সালামবিহীন চার রাক‘আত ছালাতের জন্য আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আবুদাঊদ হা/১২৭০; যঈফ তারগীব হা/৩২০; মিশকাত হা/১১৬৮, সনদ যঈফ)

প্রশ্ন (২৪/১০৪) : জনৈক আলেম বলেন, রাসূল (ছাঃ) সূরা ফাতিহা পড়ার পর মাঝে মাঝে জোরে আমীন বলতেন লোকদেরকে এ ব্যাপারে জানানোর জন্য। এটা তার সবসময়কার আমল ছিল না। একথার সত্যতা জানতে চাই।

-ছদরুদ্দীন, জামালপুর।

উত্তর : উক্ত দাবীটি সঠিক নয়। ইমাম যখন সশব্দে সূরা ফাতিহা শেষ করবেন, তখন মুক্তাদীগণও সাথে সাথে সশব্দে আমীন বলবেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন ‘যখনই ইমাম ওয়া লাযযা-ল্লীন’ বলবে অন্য বর্ণনায় যখন ‘আমীন’ বলবেন, তখন তোমরাও আমীন বল’। কেননা যার আমীন ফেরেশতাদের আমীন-এর সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্বেকার সকল গুনাহ মাফ করা হবে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮২৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজে সশব্দে আমীন বলতেন, যার আওয়ায উচ্চ হ’ত’ (আবুদাঊদ, তিরমিযী, ইবনু কাছীর, দারেমী, মিশকাত হা/৮৪৫)। উল্লেখ্য যে, নিম্ন স্বরে আমীন বলার হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী হা/২৪৯; নায়ল ৩/৭৫)

ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূল (ছাঃ)-কে ‘গায়রিল মাগযূবি ‘আলাইহিম ওয়া লাযযোয়া-ল্লীন’ পড়ে জোরে আমীন বলতে শুনেছি’ (তিরমিযী হা/২৪৮; আবুদাঊদ হা/৯৩২; মিশকাত হা/৮৪৫)। তাবেঈ বিদ্বান আত্বা (রহঃ) বলেন, ইবনে যুবায়ের ও তাঁর মুক্তাদীগণ এত জোরে ‘আমীন’ বলতেন যে, মসজিদে নববী গমগম করে উঠত (বুখারী তা‘লীক্ব ৩/৩১৫, অনুচ্ছেদ নং ২৬২ হা/৭৮০; মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/২৬৪০)। জোরে ‘আমীন’ বলার প্রমাণে সতেরটি হাদীছ এবং ছাহাবীদের তিনটি আছার পাওয়া যায় (নায়লুল আওত্বার ২/১২২ পৃঃ)। এমনকি হানাফী আলেমদের নিকটেও নীরবে আমীন বলার হাদীছের সনদ ছহীহ নয়। যেমন আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী হানাফী (রহঃ) বলেন, ‘নীরবে আমীন’ বলার সনদে ত্রুটি আছে। সঠিক ফৎওয়া হ’ল জোরে ‘আমীন’ বলা’ (শরহে বেকায়াহ ১৪৬ পৃঃ)

প্রশ্ন (২৫/১০৫) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, ক্বিয়ামতের দিন হাশরের ময়দান হবে সিরিয়ায়। একথার কোন সত্যতা আছে কি?

-তহুরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : কেবল সিরিয়ায় নয় বরং শামে হাশরের ময়দান হবে মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আর তৎকালীন শাম বর্তমানে সিরিয়া, জর্দান, লেবানন, ফিলিস্তীন ও ইসরাঈলের পুরো ভূখন্ড এবং ইরাক, তুরস্ক, মিসর ও সঊদী আরবের কিছু অংশকে শামিল করে (উইকিপিডিয়া)। আবু যর গেফারী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘শাম হ’ল একত্রিত হওয়ার ও পুনরুত্থিত হওয়ার স্থান’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭২৬)। অন্য বর্ণনায় তিনি হাশরের স্থান হিসাবে শামের দিকে ইশারা করেছেন (আহমাদ হা/২০০৪৩, ছহীহুল জামে‘ হা/২৩০২)। মনে রাখতে হবে যে, ক্বিয়ামতের দিন বর্তমান পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবীতে পরিণত হবে (ইবরাহীম ৪৮) এবং পাহাড়-পর্বত সব একাকার হয়ে সমতল হয়ে যাবে (ত্বোয়াহা ২০/১০৬)। যেটা মানুষের কল্পনার বাইরে। 

প্রশ্ন (২৬/১০৬) : জনৈকা মুসলিম মহিলা এক হিন্দু পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যায়। সেখানে মহিলাটির গর্ভে এক কন্যা সন্তান জন্ম হয়। পরবর্তীতে মহিলাটি ফিরে আসে। এক্ষণে তার কন্যা সন্তানটি মুসলিম হবে, না হিন্দু হিসাবে গণ্য হবে।

-হাফেয নূর আলম নূরী*, নীলফামারী।

* নামটি পরিবর্তন করে আব্দুন নূর রাখুন (স.স.)।

উত্তর : উক্ত শিশুটি মুসলিম হিসাবে গণ্য হবে। কারণ ‘জারজ’ সন্তান মাতার সাথে সম্পর্কিত হয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৩১২, ৩৩২০)। এছাড়া প্রত্যেক শিশুই ফিৎরাত তথা ইসলামের উপরে জন্মগ্রহণ করে (বুখারী হা/১৩৮৫, মুসলিম, মিশকাত হা/৯০; রূম ৩০)

প্রশ্ন (২৭/১০৭) : ছালাতে বুকের উপর হাত বাঁধার ক্ষেত্রে কেউ কনুই পর্যন্ত পুরো হাত অপর হাতের উপর রাখে। আবার কেউ হাতের তালু অপর হাতের তালুর উপর রাখে। এক্ষণে হাত বাঁধার সঠিক নিয়ম কি?

-আব্দুল ক্বাইয়ূম, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : বাম হাতের উপরে ডান হাত বুকের উপরে রাখাই ছালাতে হাত বাঁধার সঠিক নিয়ম। ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে ছালাত আদায় করলাম। এমতাবস্থায় দেখলাম যে, তিনি বাম হাতের উপরে ডান হাত স্বীয় বুকের উপরে রাখলেন’ (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৪৭৯; আবুদাঊদ হা/৭৫৫)। একই রাবী কর্তৃক অন্য বর্ণনায় আরো স্পষ্টভাবে এসেছে যে, রাসূল (ছাঃ) ছালাতে ডান হাত বাম হাতের পাতা, কব্জি ও হাতের উপর রাখতেন (নাসাঈ হা/৮৮৯, সনদ ছহীহ)। এর দ্বারা কনুই থেকে কনুই পর্যন্ত পুরা হাতকে বুঝানো হয়েছে। যেমন সাহ্ল বিন সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘লোকদেরকে নির্দেশ দেওয়া হ’ত যেন তারা ছালাতের সময় ডান হাত বাম হাতের উপরে রাখে (বুখারী হা/৭৪০; মিশকাত হা/৭৯৮)। অনুরূপভাবে বাম হাতের জোড়ের (কব্জির) উপরে ডান হাতের জোড় বুকের উপরেও রাখা যাবে (আহমাদ হা/২২০১৭; আহকামুল জানায়েয ১/১১৮, সনদ হাসান)

‘ছালাতে তালুর উপর তালু রাখা সুন্নাত’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (দারাকুৎনী হা/১০৮৫, সনদ যঈফ)। এতদ্ব্যতীত নাভীর নীচে হাত বাঁধা সম্পর্কে যত হাদীছ এসেছে সবই যঈফ (দারাকুৎনী হা/১০৮৯-৯০; আবুদাঊদ হা/৭৫৬; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৯৬৩, সনদ যঈফ)

আলবানী (রহঃ) বলেন, হাতের উপর হাত রাখা এবং ধরা দু’টিই সুন্নাত। কিন্তু এ বিষয়ে পরবর্তী হানাফী বিদ্বানগণের কেউ কেউ যা বলেছেন সেটি বিদ‘আত। তার নিয়ম যা তারা বলেছেন যে, ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখবে এমনভাবে যে, কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা কব্জি ধরবে এবং বাকি তিনটি আঙ্গুল খোলা থাকবে (ছিফাতু ছালাতিন্নবী পৃঃ ৬৮, টীকা-৬)

প্রশ্ন (২৮/১০৮) : বর্তমানে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বেশ কিছু কবরকে বিভিন্ন নবীর কবর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-আব্দুল ক্বাইয়ূম, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবর ব্যতীত সকল নবীর কবরের অবস্থান অজ্ঞাত। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘রাসূল (ছাঃ)-এর কবর ব্যতীত কোন নবীর কবরের অবস্থানের ব্যাপারে পৃথিবীর মানুষ একমত নয়’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৭/১১৬)। শায়খ বিন বায বলেন, নবী (ছাঃ)-এর কবর ব্যতীত সকল নবীর কবরের অবস্থান অজ্ঞাত। ..তবে ইবরাহীম (আঃ)-এর কবর ফিলিস্তীনের মাগারাতে আছে বলে প্রসিদ্ধ রয়েছে। ...আর যে ব্যক্তি দাবী করবে যে, এটি অমুকের কবর, এটির অমুকের কবর তাহলে সে মিথ্যা বলবে। এর কোন সত্যতা এবং বিশুদ্ধতা নেই’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১/১৬০)। মূলতঃ কবর চিহ্নিত থাকলে লোকেরা তাঁদের কবরে পূজা শুরু করে দিত। সম্ভবতঃ একারণেই আল্লাহ তা‘আলা নবীগণের কবর সমূহ অজ্ঞাত রেখেছেন।

প্রশ্ন (২৯/১০৯) : ছহীহ বুখারীতে এসেছে ‘যদি হাওয়া খেয়ানত না করতেন, তবে যুগে যুগে কোন নারী তার স্বামীর সাথে খেয়ানত করত না’। হাদীছটির ব্যাখ্যা জানতে চাই।

-মামূন, রাজশাহী।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এখানে নারীর ফিৎরাতের কথা বলেছেন, তার কর্মকে দায়ী করেন নি। যেমন অন্য হাদীছে আদম তার আয়ুষ্কালকে অস্বীকার করেছিলেন বলে মানুষ অস্বীকার করে বলা হয়েছে (তিরমিযী হা/৩০৭৬, মিশকাত হা/১১৮)। এর অর্থ এটা নয় যে, বনু আদমের অস্বীকারের জন্য আদম (আঃ) দায়ী হবেন। কারণ একজনের পাপের বোঝা অন্যে বইবে না (আন‘আম ১৬৪ ও অন্যান্য)। আল্লাহ নিজেও হাওয়াকে এককভাবে এ বিষয়ে দায়ী করেননি। বরং কুরআনে শয়তান ‘আদম’কে এবং ‘আদম ও হাওয়া’ উভয়কে প্রতারিত করেছিল বলে বর্ণিত হয়েছে (ত্বোয়াহা ১২০, আ‘রাফ ২০)

অতএব আলোচ্য হাদীছ সহ অন্যান্য হাদীছে ‘হাওয়া আদমকে উৎসাহিত করেছিলেন’ মর্মে যা কিছু বলা হয়েছে সবটারই উদ্দেশ্য হ’ল, নারীর স্বাভাবিক প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করা। যাতে মুমিন নারী ও পুরুষ স্ব স্ব মন্দ প্রবণতাকে সংযত রাখে।

প্রশ্ন (৩০/১১০) : জনৈক ব্যক্তি বলে, যে ব্যক্তি মৃত্যু পর্যন্ত টুপী পরিধান করবে, ক্বিয়ামতের দিন সূর্যের তাপ ঐ ব্যক্তির শরীরে লাগবে না। এ বর্ণনার কোন সত্যতা আছে কি?

-আব্দুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : কথাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। উল্লেখ্য যে, মাথা ঢাকা বা টুপী পরা শিষ্টাচারমূলক পোষাকের অন্তর্ভুক্ত। এটাকে তাক্বওয়ার পোশাক হিসাবে গণ্য করা হয় (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ৪৭)

প্রশ্ন (৩১/১১১) : দানিয়াল কি নবী ছিলেন? তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-ইসমাঈল তালুকদার, নওগাঁ।

উত্তর : দানিয়াল সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছে কিছু পাওয়া যায় না। অতএব তিনি যে নবী ছিলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলার কোন উপায় নেই। তবে ঐতিহাসিকভাবে যা জানা যায় তা নিম্নরূপ : আবুল ‘আলিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (১৩-২৩ হিঃ) আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) কর্তৃক ইরাকের তুসতার নগরী বিজিত হ’লে সেখানকার শাসক হুরমুযানের বায়তুল মালে চৌকির উপরে একজন ব্যক্তির অক্ষত লাশ পাওয়া যায়। যার মাথার কাছে একটি মুছহাফ ছিল। মুছহাফটি ওমর (রাঃ)-এর নিকটে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি নওমুসলিম ইহূদী পন্ডিত কা‘ব আল-আহবারকে ডেকে আরবীতে তার মর্ম উদ্ধার করেন। যার মধ্যে মানুষের আচরণবিধি, আদেশ-নিষেধ ও ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ লিপিবদ্ধ ছিল। অতঃপর খলীফার নির্দেশক্রমে সেখানে দিনের বেলা ১৩টি কবর খনন করা হয় এবং রাতের বেলায় এগুলির কোন একটিতে দাফন করে মাটি সমান করে দেওয়া হয়। যাতে লোকেরা তা খুঁজে না পায় এবং ফিৎনায় পতিত না হয়। কেননা ইতিপূর্বে খরার সময় লোকেরা চৌকিসহ লাশটি বের করত এবং তার অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করত। বর্ণনাকারীর ধারণা মতে এটি ৩০০ বছর পূর্বেকার লাশ। লাশটির মাথার পিছনের কয়েকটি চুল পাকা ব্যতীত দেহের কোন অংশে পরিবর্তন ঘটেনি। কারণ নবীদের লাশ মাটি ও পশুতে খায় না’। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, আবুল ‘আলিয়া পর্যন্ত বর্ণনাটির সূত্র ছহীহ। তবে ৩০০ বছরের পূর্বেকার ধারণামূলক বক্তব্যটি যদি সঠিক হয়, তাহ’লে তিনি নবী ছিলেন না বরং একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন।  কেননা ঈসা ও মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মধ্যে কোন নবী ছিলেন না, যা ছহীহ বুখারীর হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত’ (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ২/৪০; আলবানী, তাখরীজ ফাযায়েলুশ শাম ১/৫১, আছার ছহীহ)। উল্লেখ্য যে, দানিয়াল বিষয়ে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি দানিয়াল সম্পর্কে খবর দিবে, তোমরা তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ো’। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, হাদীছটি ‘মুরসাল’ এবং এর সনদ নিরাপদ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে (আল-বিদায়াহ ২/৪১)। এতদ্ব্যতীত দানিয়াল সম্পর্কে আরও অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে, যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। 

প্রশ্ন (৩২/১১২) : আমাদের মসজিদের ভিতরের এক কর্ণারে ডাষ্টবিন রাখা আছে, যা অনেক সময় নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করে। এক্ষণে মসজিদের ভিতরে ডাস্টবিন রাখা জায়েয হবে কি?

-সাজিদুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

উত্তর : মসজিদে ডাষ্টবিন রাখা যাবে না। বরং তা মসজিদের বাইরে কোন স্থানে রাখতে হবে। আনাস (রাঃ) বলেন, জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মসজিদ পেশাব করা বা আবর্জনা ফেলার স্থান  নয়। মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর যিকির, ছালাত ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য’ (মুসলিম হা/২৮৫, মিশকাত হা/৪৯২)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘ রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে মহল্লায় মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করতে এবং তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন’ (তিরমিযী, আবুদাউদ, মিশকাত হা/৭১৭)

প্রশ্ন (৩৩/১১৩) : দলবদ্ধভাবে কোরাস গাওয়ার ন্যায় কুরআন পাঠ করা জায়েয হবে কি?

-ফযলুল করীম, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : দলবদ্ধভাবে কোরাস গাওয়ার ন্যায় কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয নয়। রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে কুরআন তেলাওয়াত করেননি। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন যে, যে ব্যক্তি সুর দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করে না, সে আমার দলভুক্ত নয় (বুখারী হা/৭৫২৭, মিশকাত হা/২১৯৪)। এর অর্থ কোরাস দিয়ে দলবদ্ধভাবে পড়া নয় বরং একাকী মধুর সুরে পড়া। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা কুরআনকে তোমাদের স্বরের দ্বারা সৌন্দর্যমন্ডিত কর। কেননা সুন্দর স্বর কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে’ (দারেমী হা/৩৫০১, মিশকাত হা/২২০৮)

প্রশ্ন (৩৪/১১৪) : স্ত্রীর নামে কিছু সম্পত্তি যেমন বাড়ি লিখে দেয়ার ব্যাপারে শরী‘আতে বিধান কি?

-মুহাম্মাদ হাফীযুর রহমান, ঢাকা।

উত্তর : উত্তরাধিকার সম্পদ মৃত্যুর পরে বণ্টন হওয়াই ইসলামী শরী‘আতের বিধান। কেননা আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের জন্য তার হক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন’ (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩০৭৩)। তবে অন্য ওয়ারিছদের বঞ্চিত করার অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে সুস্থ অবস্থায় হাদিয়া হিসাবে এরূপ প্রদান করায় বাধা নেই (দ্রঃ ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ৬৭৪৫)।  

প্রশ্ন (৩৫/১১৫) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূল (ছাঃ) তিন যবীহাইনের সন্তান অর্থাৎ আদম, ইবরাহীম এবং নিজ পিতা। এর সত্যতা আছে কি?

-মুহাম্মাদ মুছত্বফা, নয়াবাজার, ঢাকা।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি নিতান্তই যঈফ (তাফসীর ত্বাবারী ২৩/৮৫; হাকেম হা/৪০৩৬; যঈফাহ হা/৩৩১, ১৬৭৭)

প্রশ্ন (৩৬/১১৬) : ছহীহ হাদীছের আলোকে মৃত ব্যক্তিকে গোসল, কাফন-দাফন ও খাটিয়া বহনের ফযীলত সম্পর্কে জানতে চাই।

-আব্দুল্লাহিল কাফী, রাজশাহী।

উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে গোসল ও কাফন-দাফনের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিম মাইয়েতকে গোসল করাবে, অতঃপর তার গোপনীয়তা সমূহ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশ বার ক্ষমা করবেন। যে ব্যক্তি মাইয়েতকে কাফন পরাবে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতের মিহি ও মোটা রেশমের পোষাক পরিধান করাবেন। যে ব্যক্তি মাইয়েতের জন্য কবর খনন করবে, অতঃপর দাফন শেষে তা ঢেকে দিবে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত পুরস্কার দিবেন জান্নাতের একটি বাড়ীর সমপরিমাণ, যেখানে আল্লাহ তাকে রাখবেন’ (হাকেম হা/১৩০৭; ছহীহ তারগীব হা/৩৪৯২; আলবানী, আহকামুল জানায়েয হা/৩০, ১/৫১, সনদ ছহীহ)

দাফনের উদ্দেশ্যে মাইয়েতের খাটিয়া বহন নিঃসন্দেহে নেকীর কাজ। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় কোন জানাযায় শরীক হ’ল এবং দাফন শেষে ফিরে এলো, সে ব্যক্তি দুই ‘ক্বীরাত’ সমপরিমাণ নেকী পেল। প্রতি ‘ক্বীরাত’ ওহোদ পাহাড়ের সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি কেবলমাত্র জানাযা পড়ে ফিরে এলো, সে এক ‘ক্বীরাত’ পরিমাণ নেকী পেল’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৫১)। তবে ‘জানাযার খাটিয়া বহন করলে তা চল্লিশটি কবীরা গোনাহের কাফফারা হবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মুনকার বা যঈফ (ত্বাবারাণী, সিলসিলা যঈফাহ হা/১৮৯১)। এছাড়া বহনের সময় ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্ল­াহ’, ‘আল্ল­াহু আকবার’ ইত্যাদি বলে যিকির করার কোন বিধান নেই।

প্রশ্ন (৩৭/১১৭) : গোসলের সময় লজ্জাস্থানে দৃষ্টি পড়লে বা খালি হাত স্পর্শ করলে ওযূ নষ্ট হবে কি?

-মুখলেছুর রহমান, উত্তর দিনাজপুর, ভারত।

উত্তর : এতে ওযূ নষ্ট হবে না (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩২০)। যে হাদীছে লজ্জাস্থান স্পর্শে ওযূ নষ্ট হবে বলা হয়েছে (আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬, ১১৭; মিশকাত হা/৩৯০), তার ব্যাখ্য হ’ল, উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করা (টীকা দ্রঃ মিশকাত হা/৩২০)

প্রশ্ন (৩৮/১১৮) : জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে বিবি মারিয়াম, মূসার বোন কুলছূম এবং ফেরাঊনের স্ত্রী আসিয়ার বিবাহ হবে। উক্ত কথার সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-এনামুল, গঙ্গারামপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত কথাটি মিথ্যা (সিলসিলা যঈফাহ হা/৮১২)

প্রশ্ন (৩৯/১১৯) : কিছু আলেমের মুখে শোনা যায় যে, আল্লাহর যিক্র পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের চেয়েও উত্তম। তারা প্রমাণে কুরআনের আয়াতও পেশ করে থাকেন। তাদের বক্তব্য কি সঠিক?

-আব্দুল্লাহ আল-মামূন, রাজশাহী।

উত্তর : যিকর অর্থ স্মরণ করা। আর আল্লাহকে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হ’ল ছালাত আদায় করা। যেমন আল্লাহ বলেন, তুমি ছালাত কায়েম কর আমাকে স্মরণ করার জন্য’ (ত্বোয়াহা হা/২০/১৪)। ছালাতের বাইরে সর্বোত্তম যিকর হ’ল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এছাড়াও সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর ইত্যাদি। কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, এগুলি ছালাত আদায়ের চাইতে উত্তম। অতঃপর যিকর দ্বারা যদি প্রচলিত ‘আল্লাহ আল্লাহ’ যিকর অর্থ নেওয়া হয়, তবে সেটি বিদ‘আত মাত্র। কেননা এমন যিকর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলা ছালাতকেই বড় যিক্র বলেছেন (আনকাবূত ৪৫)। কেননা পুরো ছালাতই মূলতঃ যিক্র, দো‘আ ও তাসবীহতে পরিপূর্ণ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ছালাত সঠিক না হ’লে কোন ইবাদত সঠিক হবে না’ (ত্বাবারাণী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৫৮)। কাজেই সাধারণ যিক্রকে ফরয ছালাতের যিকরের চেয়ে উত্তম মনে করা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত আক্বীদা।

প্রশ্ন (৪০/১২০) : ধর্মান্ধ কাকে বলে? ধর্মান্ধ ও প্রকৃত মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য কি?

-জামালুদ্দীন, কালদিয়া, বাগেরহাট।

উত্তর : ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যবহার না জেনে নিজের স্বল্প জ্ঞানের উপর গোঁড়ামী করাকে ধর্মান্ধতা বলে। ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি প্রকৃত মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা ‘ইসলাম’ হ’ল মানবজাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম (আলে ইমরান ৩/১৯)। আর ইসলামের প্রকৃত অনুসারী ব্যক্তিই হ’লেন প্রকৃত ধার্মিক। প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধর্মান্ধ হন না। বর্তমান যুগে কিছু নামধারী মুসলিম প্রকৃত দ্বীনদার মুসলিম পুরুষ ও নারীকে ‘ধর্মান্ধ’ বলেন গালি হিসাবে। তাদের মতে, যারা যুক্তির উপরে ধর্মকে স্থান দেয়, তারাই ধর্মান্ধ। এর দ্বারা তারা ইসলামের প্রতি ইঙ্গিত করেন। এটি তাদের অজ্ঞতার পরিচায়ক। কেননা মানুষের জ্ঞান সসীম। আর আল্লাহ হ’লেন অসীম জ্ঞানের আধার। ইসলাম আল্লাহ প্রেরিত ধর্ম। তার কল্যাণবিধান অনেক সময় সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও যুক্তি আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হয়। যদিও গভীর জ্ঞানীগণ তা অনুধাবনে সমর্থ হন। সেক্ষেত্রে ইসলামী বিধানকে নিজের জ্ঞানের উপর স্থান দেওয়াই হ’ল প্রকৃত মুসলিমের কর্তব্য। দুঃখের বিষয় এই যে, স্থানপূজা, মূর্তিপূজা, কবরপূজা, ছবি-প্রতিকৃতি পূজা ইত্যাদি বৃথা কর্মগুলিতে এরা ধর্মান্ধতা বলেন না।

মুসলমান হ’ল আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উম্মত (আলে-ইমরান ৩/১১০) এবং মধ্যপন্থী জাতি (বাক্বারাহ ২/১৪৩)। রাসূল (ছাঃ) সকল কাজে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন (মুসলিম হা/২৮১৬, তিরমিযী হা/২১৪১; মিশকাত হা/৯৬)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় ছাহেবে মির‘আত বলেন, তোমরা তোমাদের সৎকর্মের মাধ্যমে সুষ্ঠুতা ও দৃঢ়তা অন্বেষণ কর এবং কোনরূপ বাড়াবাড়ি ও হরাসকরণ ছাড়াই মধ্যপন্থা অবলম্বন কর (মির‘আত হা/৯৬-এর ব্যাখ্যা)

 সংশোধনী

গত নভেম্বর’১৫ সংখ্যায় (৩৮/৭৮) প্রশ্নোত্তরে দাদা ও দাদার বোন হিসাবে উত্তর প্রদান করা হয়েছে। এক্ষণে উক্ত বোন যদি মৃতের বোন হয়, তবে পুরো সম্পদের ৩ ভাগের ২ ভাগ দাদা এবং ১ ভাগ বোন পাবে। দাদার বর্তমানে মৃত বোন ও তার সন্তানেরা ওয়ারিছ হবে না।

HTML Comment Box is loading comments...