কবিতা


তবু বলি নিজেকে

মুহাম্মাদ মাযহারুল আবেদীন

রামনগর, গাজোল, মালদহ

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

ইসলামী আকাশটা আজ বড় অন্ধকার

সুন্নাত নিধন যজ্ঞ বিশাল আকার।

শিরককারী বিদ‘আতী করে দাপাদাপি

অসহায় হয়ে ভাবি নিজেও যে পাপী!

অধর্মের আস্ফালনে ঢাকা পড়ে ধর্ম

আল্লাহর কাছে দো‘আ করি নাশ এই কর্ম।

সদা হক্ব কথা বলা হক্ব পথে চলা

অত্যাচার হয়রানি অবিরাম খেলা।

তবু বলি নিজেকে থামাও সব পাপ

রুখে যদি না দাঁড়াও হবে না যে সাফ।

ভবিষ্যতে হক্বপন্থী করিবে না মাফ

সোজা পথ অনুসারী কেন দেবে ঝাঁপ?

যবানের হক্ব কথা হোক বিষ ফলা

বন্ধ হোক শিরক ও বিদ‘আতের খেলা।

দূর হোক অধর্মের বিদঘুটে কালো

দীপ্তিমান সুন্নাতের ছড়িয়ে যাক আলো।

আল্লাহর পরিচয়

হাফেয আব্দুস সালাম

নারচি, নওগাঁ।

এমন সুন্দর সৃষ্টি যাঁর তাঁর পরিচয় শোন

তাঁর সৃষ্টির নৈপুণ্যের মাঝে ত্রুটি নেই কোন।

ঐ যে দূরে নীলাভ আকাশ দাঁড়িয়ে স্তম্ভ ছাড়া

তাতে খচিত চন্দ্র-সূর্য অসংখ্য গ্রহ-তারা।

অবনি মাঝে হেথায় হেথায় গগণ ছোঁয়া পাহাড়

তাত্থেকে কোথাও সুদৃশ্য ঝর্ণা প্রবাহিত হয় আবার।

হরেক রকম বৃক্ষে ধরে নানান সাধের ফল

খাইলে পরে দেহের মাঝে বাড়ে শক্তি-বল।

পাখ-পাখালীর কণ্ঠে শুনি মিষ্টি-মধুর গান

তাদের কলরবে খুশীর দোলায় ভরে যায় প্রাণ।

গুলশানে ফোঁটে সুরভিত রঙ্গীন ফুল

গুণগুণ গানে মধু আহরণে যায় ছুটে অলিকুল।

কার ইঙ্গিতে তৈরী এমন বিশাল অথৈয় পাথার

জলজ প্রাণী সহ তাতে রয়েছে বিবিধ আহার।

নিপুণ হাতে রিযিক বানায় কোন সে কারিগর?

জোয়ার-ভাটা দিবস-যামী কার এই চরাচর?

সমস্ত সৃষ্টির মালিক যিনি তিনিই আল্লাহ তা‘আলা

হায়াত-মওত সবই তাঁর যায় কি তাকে ভোলা?

তিনি কাউকে জন্ম দেননি জন্মদাতা নেই তাঁর

অংশীদার স্থাপন করিও না ইবাদতে তাঁর।

ধরার বুকে সৃষ্টি বিষয়ে ভাবো যদি ভাই

তবেই তাঁকে যথার্থ চিনবে সন্দেহ এতে নেই।

আহলেহাদীছ যুবসংঘ

মীযানুর রহমান

তাহেরপুর, বাগমারা, রাজশাহী।

হক্বের দাওয়াত দিয়ে যাব লক্ষ্য মোদের একটাই

অহি-র আলোয় গড়ব জীবন হক্বের পথে চলব সবাই।

সমাজ থেকে শিরক-বিদ‘আত দূর করব ইনশাআল্লাহ

চেষ্টা মোরা চালিয়ে যাব সফলতা দিবেন মহান আল্লাহ।

ইসলামের নামে যত নোংরামী মারেফতের নামে যত ভন্ডামী

সবকিছু মোরা করব দূর যাতে কেউ না হয় জাহান্নামী।

কর্মসূচী চারটি নিয়ে নেমেছি মোরা মাঠে

মূলনীতি পাঁচটি আরও আছে আমাদের সাথে।

কুরআন ও ছহীহ হাদীছ মানতে

করি না কোন আপোষ

বিরোধীদের কাছে এটাই মোদের দোষ।

চাই না মোরা ক্ষমতার আসন

দূর করতে চাই দুর্নীতি ও কুশাসন।

হক্বের পথে চলব মোরা মুক্তি পেতে আখিরাতে

তাইতো সবাই করছি কাজ মিলেমিশে এক সাথে।

সন্ত্রাস

মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ

নলত্রী, পানিহার, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

সন্ত্রাসে ভরে গেছে মোদের সোনার দেশটা

সকাল-বিকাল, রাত দুপুরে চলছে খুনের চেষ্টা।

দেশে যারা টাকা ওয়ালা খুন হ’তে হয় তাদের ফের

টাকার লোভে সন্ত্রাসীরা যিম্মী করে সন্তানদের।

সত্য কথা বলতে যারা একটু নাহি করে ভয়

তাইতো তারা সন্ত্রাসীদের নির্মমতার শিকার হয়।

শত, শত খুন করিয়া সন্ত্রাসীরা পায় ছাড়া

দোষ না করেও জেল খাটে এখন নিরপরাধ ব্যক্তিরা।

ঘুষ দিলে ফের সন্ত্রাসীদের মাফ হয়ে যায় সকল খুন

তাইতো দেশে চলছে এত হত্যা, গুম, চুরি, ধর্ষণ।

মশার ন্যায় এই দেশেতে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ভাই

এমন হালে এতটুকু সুখ কি করিয়া পাওয়া যায়?

শাসন নামে শোষণ

আবুল কাসেম

গোভীপুর, মেহেরপুর।

শাসন নামে শোষণ করে শুধুই করে অত্যাচার

দুঃখ যাদের নিত্য সাথী তাদের শুধু হয় বিচার।

নিষ্কলংক মানুষগুলো হতাশায় দিন গুনছে

চক্রকারীর চক্রজালে তারাই কেবল ভুগছে।

ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি করছে ভবে যারাই

লুটতরাজি, চাঁদাবাজী জন্ম দিচ্ছে তারাই।

মানবরূপী দানবগুলো বসে আসন জুড়ে

মরণ শেষে খোল পিটিয়ে খাচ্ছে মগজ কুরে।

আমরা তো নই স্বৈরাচারী নইতো চাঁদাবাজ

দ্বীন কায়েমের নির্ভিক সেনা গড়তে আল্লাহর রাজ।

জগৎ জুড়ে রয়েছে মোদের সুখ্যাতি-সম্মান

লক্ষ প্রাণের মুক্ত আশা আহলেহাদীছ নাম।

তবুও কেন জেলখানাতে মোদের নেতা দ্বীনী ভাই

চাইলে রক্ত আরো দেব বিনিময়ে মুক্তি চাই।