মুসলিম জাহান

মুসলিম জাহান

দক্ষিণ সুদানে ৩০ হাযার মানুষ অনাহারে

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ সুদানের যুদ্ধপীড়িত এলাকা গুলোতে ৩০ হাযারের বেশী মানুষ অনাহারে মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে। লোকজন তাদের সামনে আর কোন সহায়ক শক্তিকে দেখতে পাচ্ছে না। সেখানের সাধারণ মানুষ যে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে, তা বিশ্বের সকল স্তরের মানুষেরই জানা। জাতিসংঘ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, সুদানের হাযার হাযার লোক রয়েছে যারা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। দক্ষিণ সুদানের ২২ মাস ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সেখানের মানুষের প্রতি কোন মানবিক আচরণ করা হচ্ছে না। অন্তত ৩০ হাযার লোক চরম খাদ্যাভাবে বাস করছে এবং তারা দিনের পর দিন অনাহারে কাটিয়ে মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে।

ইসলামের অবমাননাকারী সঊদী ব্লগার পেল ইউরোপীয়ান শান্তি পুরস্কার

ইসলামের অবমাননা করে শাস্তি ভোগরত সঊদী ব্লগার রাইফ বাদাবীকে ‘শাখারভ শান্তি পুরস্কার’ দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। রাইফ বাদাবীকে সঊদী সরকার চাবুক মারার শাস্তি দেয়ার পর তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। রাইফ বাদাবী যেন শাখারভ শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন সেজন্যে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য সঊদী বাদশাহ সালমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ। ইসলাম ধর্মের অবমাননা করায় বাদাবীকে দশ বছরের জেল এবং এক হাযার দোররা মারার শাস্তি দেয়া হয়। দেশটির সুপ্রীমকোর্টও তার বিরুদ্ধে এই সাজা বহাল রাখে। রাইফ বাদাবী ‘ফ্রী সঊদী লিবারেলস’ নামে একটি ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১২ সালে তাকে ইসলামের অবমাননার দায়ে সাজা দেয়া হয়। ইতিমধ্যে এ বছরের জানুয়ারীতে তাকে ৫০টি দোররা মারা হয়েছে। কিন্তু বাকী দোররা মারা স্থগিত রাখা হয়। আন্দ্রে শাখারভ পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন নেলসন ম্যান্ডেলা, অং সান সুকি এবং মালালা ইউসুফজাই।

[ইসলামের অবমাননাকারীরাই ইহূদী-খিষ্ট্রানদের প্রিয় হবে এটাতো স্বাভাবিক। এদের মুখে গণতন্ত্র, ধর্মীয় অধিকার ইত্যাদি কথা মানায় না (স.স.)]

অবরুদ্ধ গাযায় আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে

হামাসের শাসনাধীন অবরুদ্ধ গাযায় তরুণদের আত্মহত্যার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধবিগ্রহ আর দারিদ্রে্যর কষাঘাতে জর্জরিত এখানকার মানুষ। ২০০৮ সাল থেকে অভিশপ্ত ইহূদীদের সাথে তিন তিনবার যুদ্ধ হয়েছে তাদের। গত বছরের ইসরাঈলী হামলার পর গাযার অবস্থা সবচেয়ে বেশী করুণ হয়ে পড়ে। এখন সেখানে খাবার নেই, কাজ নেই, নানা সমস্যা। ১৮ লাখ মানুষের দারিদ্রে্যর ভারে নুয়ে পড়েছে গাযা। এখানে একদিকে চলছে ইসরাঈলী অবরোধ। অন্যদিকে মিসরও সীমান্ত পথ বন্ধ করে রেখেছে। পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা সীমিত। বিশ্বে এখন সবচেয়ে বেশী বেকার এখানে। ৬০ শতাংশের বেশী মানুষের কোন কাজ নেই। ৩৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছে। ৮০ শতাংশ মানুষই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম অধ্যুষিত গাযায় ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয়ভাবে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ। তাই সরকারীভাবে আত্মহত্যার হিসাব না পেলেও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, আত্মহত্যার সংখ্যা আতঙ্কজনক। ৩০ বছরের মুহাম্মাদ আবু আসী তাদের একজন। বিষ পান করার পর কয়েক দিন তিনি কোমায় ছিলেন। তিনি বলেন, সন্তানদের মুখে খাবার জুটাতে পারি না আমি। তাই পিতা হয়ে চোখের সামনে ওদের মৃত্যু দেখার চেয়ে বরং নিজে মরতে চেয়েছিলাম। আবু আসী বলেন, এখানে তরুণ, বৃদ্ধ সবাই গরীব। একটা মানুষকে যখন জীবন-মৃত্যুর মধ্যে একটাকে বেছে নিতে হয়, তখনই বোঝা যায় আসলে আমাদের আর কিছু নেই। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা বলছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গাযা সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

[আল্লাহ তুমি মযলূমদের সাহায্য কর (স.স.)]