বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

মোবাইলের ব্যাটারী ব্যবহার করা যাবে ২০ বছর!

মোবাইল ও ট্যাবে টানা ২০ বছর ব্যবহার করা যাবে এবং দ্রুত চার্জ হবে, এমন একটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা। সিঙ্গাপুরের ন্যানইয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরী করা নতুন এই লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী প্রথম দুই মিনিটেই ৭০% পর্যন্ত চার্জ হবে এবং ফুল চার্জ হ’তে সময় নেবে মাত্র ২০ মিনিট। আর ব্যাটারিটি ব্যবহার করা যাবে টানা ২০ বছর পর্যন্ত। স্মার্টফোন ও ট্যাবে ব্যবহৃত বর্তমান লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারীর রিচার্জ সাইকেল সাধারণত ৫০০। নতুন উদ্ভাবিত এই ব্যাটারির রিচার্জ সাইকেল ১০,০০০।

গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারীতে টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইড জেল ব্যবহৃত হয়েছে, যা ব্যাটারিতে দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। ফলে দ্রুত চার্জ হওয়ার পাশাপাশি সর্বাধিক ব্যাটারী লাইফের নিশ্চয়তা দেবে। তবে এটি বাজারজাত হ’তে এখনো দেরী আছে।

ডুবে যাওয়া নৌযানের লোকেশন ডিটেক্টর আবিষ্কার

পানির নিচে ডুবে যাওয়া নৌযানের খোঁজ জানতে লোকেশন ডিটেক্টর আবিষ্কার করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফারূক বিন হোসাইন ইয়ামীন। তিনি জানান, নৌযানের সামনে ও পিছনের অংশে লাগানো থাকবে কম্পন সৃষ্টিকারী দু’টি ডিভাইস। পানি নিরোধক কৃত্রিম বিদ্যুৎ কোষ দিয়ে চলবে এসব ডিভাইস। ডুবে যাওয়া নৌযান থেকে ডিভাইসগুলো কম্পন সৃষ্টি করতে থাকবে ডুবে যাওয়ার পরবর্তী সাতদিন পর্যন্ত। এর মধ্যে উদ্ধার কর্মীরা পানির উপরিভাগ থেকে হাইড্রোসোনার মেশিনের সাহায্যে ভাইব্রেটর থেকে সৃষ্ট কম্পনকে শনাক্ত করে নৌযানের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবে। এ ডিভাইসটি নদীর মোহনা কিংবা যেকোন প্রতিকূল পরিবেশেও কাজ করতে সক্ষম।

লোকেশন ডিটেক্টরের আরেকটি ধরন রয়েছে, যা স্বল্প গভীর নদীতে ডুবে যাওয়া নৌযানের অবস্থান শনাক্ত ও নৌযানে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারবে। ডিভাইসটিতে বার্তা গ্রহণ ও প্রেরণে সক্ষম ইলেকট্রিক চিফ বসানো থাকবে। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকেশন ডিটেক্টর ডিভাইসটি ভেসে উঠবে। আর তৎক্ষণাৎ ডিভাইসটি শব্দসহ সিগন্যাল দিতে থাকবে। পুরো ডিভাইসটি ব্যাটারি এবং ক্ষুদ্র সোলার প্যানেলের সাহায্যে চলবে। এছাড়া এতে লাইটের বিকল্প হিসাবে রেডিয়ামে মোড়ানো থাকবে। এর সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ লোড ডিটেক্টর নামে আরেকটি ডিভাইস যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে নৌযানে প্রবেশের পথে বড় মনিটরে যাত্রীরা যানের পানির উচ্চতা ও যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং সবুজ, হলুদ ও লাল বাতির সিগন্যাল দেখে নৌযানে আরোহনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

যন্ত্রটির উদ্ভাবক জানান, দেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে ডুবে যাওয়া নৌযানের অবস্থান জানা যায় না। কিন্তু এই যন্ত্রটির মাধ্যমে সহজে অল্প সময়ে, দ্রুততার সাথে এমনকি ঘোলাপানিতেও যে কোন গভীরতা থেকে নৌযানের অবস্থান নির্ণয় করা যাবে।