প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৮১) : যৌথ পরিবারে সকলেই বিবাহিত, সবারই  সন্তান-সন্ততি রয়েছে এবং সকলে একত্রে বসবাস করে এবং একান্নভুক্ত। এক্ষণে যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে সকলের সম্পদ একত্রিত করে যাকাত বের করতে হবে কি?

-তাসের শেখ

বাঁশইল, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : যৌথ পরিবারের সকল সম্পদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যদি একজনের হাতে থাকে, তবে তিনিই পুরো সম্পদের উপর যাকাত আদায় করবেন। আর যদি পৃথক থাকে, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকে পৃথকভাবে তা আদায় করবে। কেননা যাকাতের পরিমাণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পৃথক মালিকানাধীন সম্পদসমূহ একত্রিত করে যাকাত দেওয়ার অনুমতি নেই (আবুদাউদ হা/১৫৭৯-৮০, সনদ হাসান)।   

প্রশ্ন (২/৮২) : মসজিদে ওয়াকফকৃত কুরআন বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে পাঠ করা এবং পরে ফেরত দেওয়া জায়েয হবে কি?

-ফেরদৌস আহমাদ, আবদালী, কুয়েত।

উত্তর : এটি জায়েয হবে না। কারণ তা মসজিদের মুছল্লীদের জন্যই ওয়াকফ করা হয়েছে। অতএব তা মসজিদে গিয়েই পাঠ করতে হবে। তবে মসজিদের প্রয়োজনাতিরিক্ত কুরআন অন্য মসজিদে স্থানান্তর করায় কোন বাধা নেই (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ্দারব ২১/২৫০; আব্দুল্লাহ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/১৫)। সুতরাং প্রত্যেক মসজিদে কুরআন, হাদীছ, তাফসীর প্রভৃতি কিতাব পাঠ, পঠন ও বিতরণের পৃথক ব্যবস্থা রাখা উচিত। যেখানে মানুষ কেবল বিতরণের জন্য কিছু কুরআন ও অন্যান্য কিতাব দান করবে। 

প্রশ্ন (৩/৮৩) : যারা সঊদী আরবের সাথে একই দিনে ছিয়াম ও ঈদ পালন করে, তাদেরকে খারেজী বলা যাবে কি?

-শামসুযযামান, রহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : কেবল উক্ত আমলের কারণে তাদের খারেজী বলা যাবে না। বরং খারেজীদের অন্যান্য চরমপন্থী আক্বীদা ও আমল কারু মধ্যে পাওয়া গেলে, তাকে খারেজী বলা যায়। কিন্তু এসব মন্দ লকবে কাউকে ডাকা উচিত নয়। তাতে তার মধ্যে যিদ সৃষ্টি হবে এবং হেদায়াত লাভের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ... একে অপরকে মন্দ লকবে ডেকো না। কেউ ঈমান আনলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গোনাহের কাজ। আর যারা এ কাজ থেকে তওবা করে না, তারাই যালেম’ (হুজুরাত ৪৯/১১)

প্রশ্ন (৪/৮৪) : আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ দ্বারা দো‘আ করার পদ্ধতি কি?

-আফযাল শরীফ, মাটিয়ানী, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ছালাত বা ছালাতের বাইরে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে তাঁর গুণবাচক নাম সমূহ দ্বারা আহবান করা যাবে। যেমন হে রূযীর মালিক! আমাকে রূযী দাও! হে আরোগ্য দানকারী! আমাকে আরোগ্য দান কর। হে অন্তর সমূহের পরিবর্তনকারী! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখো ইত্যাদি। এর জন্য ওযূ-ছালাত-কিবলা কিছুই শর্ত নয়। তবে ছালাত অবস্থায় দো‘আ করা নিঃসন্দেহে উত্তম। এ সময় ছহীহ হাদীছে বর্ণিত দো‘আ সমূহ করবে। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা রাসূল (ছাঃ) মসজিদে জনৈক ব্যক্তিকে ছালাতরত অবস্থায় দো‘আ করতে দেখলেন। দো‘আয় সে বলছিল, হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তুমি অধিক দাতা, তুমি আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা এবং তুমি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। তখন তিনি ছাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি জান সে কি দ্বারা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছে? সে আল্লাহর বড় বড় নাম দ্বারা প্রার্থনা করছে, যা দ্বারা ডাকা হ’লে তিনি জবাব দেন, যা দ্বারা কিছু কামনা করা হ’লে তিনি দান করেন (তিরমিযী হা/৩৫৪৪, মিশকাত হা/২২৯০)

প্রশ্ন (৫/৮৫) : আল্লাহ-মুহাম্মাদ পাশাপাশি লেখা আছে এরূপ মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি?

-মীযান, বাটরা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : আল্লাহ ও মুহাম্মাদ পাশাপাশি প্রদর্শন করা শরী‘আত বিরোধী। এতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে আল্লাহর সমতুল্য বুঝায়। যা বিশুদ্ধ আক্বীদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী শিরকী আক্বীদা। তবে এরূপ মসজিদে ছালাত আদায় করা যায়। এরূপ লেখার কারণে মসজিদের মুতাওয়াল্লীসহ দায়িত্বশীলগণ গুনাহগার হবেন। এমতাবস্থায় মুছল্লীকে ঐসব বস্ত্ত থেকে দৃষ্টি নীচু রাখতে হবে, যাতে তার খুশূ‘-খুযূ বিনষ্ট না হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিভিন্ন মসজিদে আল্লাহ-মুহাম্মাদ ও কালেমাখচিত এবং মক্কা-মদীনার ছবি সম্বলিত নকশা ও দৃষ্টিনন্দন টাইল্স বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়। এগুলি শরী‘আত বিরোধী কাজ। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কেননা মসজিদ অহেতুক উঁচু ও জাঁকজমকপূর্ণ করা নিষিদ্ধ (আবুদাঊদ হা/৪৪৮; মিশকাত হা/৭১৮)

প্রশ্ন (৬/৮৬) : ‘পানির অপর নাম জীবন’- কথাটি কি কুরআন-হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?

-তারেক আযীয, রহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : পানির গুরুত্ব বুঝাতে এটা বলা হয়, জীবনদাতা হিসাবে নয়। কেননা পানি দ্বারাই সকল প্রাণীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমরা পানি দ্বারা সকল প্রাণবান বস্ত্তকে সৃষ্টি করেছি’ (আম্বিয়া ২১/৩০)। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই ... বৃষ্টির মধ্যে, যা আসমান থেকে আল্লাহ বর্ষণ করেন, অতঃপর তার মাধ্যমে মৃত যমীনকে পুনর্জীবিত করেন ও সেখানে বিস্তৃত করেন সকল প্রকারের জীবজন্তু,...’ (বাক্বারাহ ২/১৬৪)। অতএব পানি জীবনের মাধ্যম মাত্র, জীবনদাতা নয়। যেমন ঔষধ আরোগ্যের মাধ্যম। কিন্তু আরোগ্যদাতা নয়। বরং আল্লাহই হ’লেন জীবনদাতা ও আরোগ্যদাতা।

প্রশ্ন (৭/৮৭) : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াদাহু... আহাদান ছামাদান লাম ইয়ালিদ... ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। এ দো‘আটি পাঠ করলে ৪০ লক্ষ নেকী হয়’ এ বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

-সাজু আহমাদ, ঢাকা।

উত্তর : উক্ত মর্মের বর্ণনাটি জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৬১৩, ৬৩১৩)

প্রশ্ন (৮/৮৮) : কোন কারণ ছাড়াই নফল ছালাতগুলি বসে পড়া শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-রাইয়ান, রামপুরা, ঢাকা।

উত্তর : নফল ছালাত সুস্থ অবস্থায় বসে আদায় করা জায়েয। তবে এতে অর্ধেক নেকী হবে। আর ওযরবশতঃ হ’লে দাঁড়িয়ে ছালাতের ন্যায় পূর্ণ নেকী পাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা উত্তম। যে ব্যক্তি বসে ছালাত আদায় করে, সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়কারীর অর্ধেক নেকী পাবে। আর যে ব্যক্তি শুয়ে ছালাত আদায় করে, সে বসা ব্যক্তির অর্ধেক নেকী পাবে (বুখারী হা/১১১৫-১৬, মিশকাত হা/১২৪৯)। অত্র হাদীছটি নফল ছালাত আদায়কারীর জন্য প্রযোজ্য (মিরক্বাত, মির‘আত উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

উল্লেখ্য যে, সুস্থ অবস্থায় ফরয ছালাত দাঁড়িয়েই আদায় করতে হবে। কেননা ক্বিয়াম ছালাতের অন্যতম রুকন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় কর’ (বাক্বারাহ ২/২৩৮)। সুতরাং এমতাবস্থায় বসে আদায় করলে উক্ত ছালাত বাতিল হবে।

প্রশ্ন (৯/৮৯) : কেবল পরিদর্শনের জন্য মাযার বা শিরকী কার্যকলাপ চলে এরূপ স্থানে যাওয়া যাবে কি?

-হারূনুর রশীদ, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।

উত্তর : স্রেফ উপদেশ হাছিলের জন্য এসব স্থানে গমন করা যায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছে’?(আন‘আম ৬/১১)

প্রশ্ন (১০/৯০) :  চলাচলের ক্ষেত্রে বা মসজিদে অন্যের পায়ে বা দেহের কোন স্থানে পা লেগে গেলে করণীয় কি?

-ইলিয়াস মোল্লা, পাংশা, রাজবাড়ী।

উত্তর : অন্যের দেহে পায়ের স্পর্শ লাগার বিষয়টি অসতর্কতাবশতঃ ঘটে থাকে। অতএব এজন্য তার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াই যথেষ্ট হবে। তবে এথেকে সাধ্যমত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) ঐসব কর্ম থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, যার জন্য পরক্ষণে ওযর পেশ করতে হয় (দায়লামী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৮৩৯, ছহীহুল জামে‘ হা/২৬৭১)। উল্লেখ্য যে, জামা‘আতে ছালাত আদায়ের সময় পায়ে পা ও কাঁধে কাঁধ মিলানো সুন্নাত (বুখারী হা/৭২৫)। যা পালনে নেকী রয়েছে। না করলে সুন্নাত অমান্য করার গোনাহ হবে। আল্লাহ বলেন, সফলকাম হ’ল সেইসব মুমিন যারা তাদের ছালাতের হেফাযত করে’ (মুমিনূন ২৩/৫)

প্রশ্ন (১১/৯১) :  পাঠা ছাগল দ্বারা কুরবানী দেওয়া যাবে কি?

-শহীদুল্লাহ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : পাঠা ছাগল কুরবানী দেওয়া যায়। তবে খাসী ছাগল কুরবানী দেওয়া উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খাসী কুরবানী দিয়েছিলেন। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট দু’টি মোটা-তাযা সাদা-কালো শিংওয়ালা খাসী ছাগল নিয়ে আসা হ’ল। তিনি দু’টির একটি মাটিতে ফেলে দিলেন এবং বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করলেন (ইবনু মাজাহ্ হা/৩১২২; মিশকাত হা/১৪৬১, বায়হাক্বী, ইরওয়া হা/১১৩৮)

প্রশ্ন (১২/৯২) :  ইয়াযীদী সম্প্রদায় কারা? তাদের সম্পর্কে জানতে চাই।

-আব্দুল হাফীয, চাঁদপাড়া, গাইবান্ধা

উত্তর : ইয়াযীদী একটি পথভ্রষ্ট দল। যাদের বৃহদাংশ ইরাকে এবং কিছু অংশ তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া, জর্জিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ১৩২ হিজরীতে উমাইয়া শাসনের অবসানের পর এদের উৎপত্তি হয়। এদের প্রতিষ্ঠাতা ইবরাহীম বিন হারব বিন খালেদ বিন ইয়াযীদ। এরা অভিশপ্ত ইবলীসকে ‘ভাল’ বলে থাকে এবং তাকে মাল‘ঊন বলতে অস্বীকার করে। কুরআনের যত জায়গায় ‘লা‘নত, শয়তান ও ইস্তি‘আযাহ’ শব্দ আছে তা পড়তে বারণ করে। তারা মিথ্যা দাবী করে যে, শব্দগুলি মূল কুরআনে নেই। মুসলমানরা পরে এগুলি কুরআনে যোগ করেছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

তাদের ভ্রান্ত আক্বীদা সমূহ : (১) তারা অভিশপ্ত ইবলীসকে ফেরেশতাদের পাখি বলে এবং ময়ূর সদৃশ তামার মূর্তি বানিয়ে তার চতুর্দিকে তাওয়াফ করে। (২) তাদের নিকটে কালেমায়ে শাহাদাত হল, أشهد واحد الله، سلطان يزيد حبيب الله অর্থাৎ আমি এক আল্লাহর সাক্ষ্য প্রদান করছি এবং সুলতান ইয়াযীদকে আল্লাহর দোস্ত বলে সাক্ষ্য দিচ্ছি। (৩) তারা বছরে তিন দিন ছিয়াম পালন করে। তার মধ্যে একদিন হ’ল ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়ার জন্ম দিন। (৪) তারা প্রতি বছর ১০ই যিলহজ্জ ইরাকের মিরজাহ আন-নূরানিয়াহ পাহাড়ে অবস্থান করে। (৫) তারা মধ্য শা‘বানে ছালাত আদায় করে এই বিশ্বাসে যে, এই ছালাত তাদের সারা বছরের ছালাতের স্থলাভিষিক্ত হবে। (৬) তাদের নিকটে মৃত্যুর পরে হাশর-নাশর হবে সিনজার পাহাড়ে। আর মীযানের পাল্লা থাকবে শায়খ আদী ইবনু মুসাফিরের হাতে। তিনিই মানুষের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তিনিই তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (৭) তাদের নিকটে ৬ টি পর্যন্ত বিবাহ করা জায়েয। এছাড়াও অনেক ভ্রান্ত আক্বীদায় তারা বিশ্বাস করে (বিস্তারিত আলোচনা  দ্রঃ আল-মাওসূ‘আতুল মুয়াসসারাহ ফিল আদইয়ান ওয়াল মাযাহেব ওয়াল আহযাব)

প্রশ্ন (১৩/৯৩) :  ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করা যাবে কি? দলীল সহ জানতে চাই।

-বযলুর রশীদ, যশোর।

উত্তর : উক্ত নামে অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে কোনরূপ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ঈদের সময় পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও একত্রে খানাপিনায় কোন দোষ নেই। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার ভালবাসা তাদের জন্য ওয়াজিব হয়ে যায় যারা আমার জন্য পরস্পরকে ভালবাসে, এক সাথে বসে, একে অপরের জন্য খরচ করে এবং পরস্পরের সাথে মিলিত হয় (আহমাদ হা/২২৮৩৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৩৩১; ছহীহ তারগীব হা/৩০১৯)

প্রশ্ন (১৪/৯৪) : টাখনুর নীচে কাপড় পরা, দাড়ি শেভ করা সহ বিবিধ কবীরা গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ছালাত কবুল হবে কি?

-আক্কাছ আলী, ফরিদপুর।

উত্তর : এ সমস্ত পাপের জন্য ছালাত কবুল হ’তে বাধা নেই। কেননা ছালাত কবূলের শর্ত হ’ল, (১) আক্বীদা ছহীহ হওয়া। অর্থাৎ শিরক মুক্ত নির্ভেজাল তাওহীদে বিশ্বাসী হওয়া (কাহফ ১৮/১১০) (২) তরীকা ছহীহ হওয়া। অর্থাৎ রাসূল (ছাঃ)-এর ছহীহ সুন্নাহ মোতাবেক হওয়া (মুসলিম হা/১৭১৮)। (৩) ইখলাছপূর্ণ হওয়া (যুমার ৩৯/১১)। অর্থাৎ কোনরূপ রিয়া বা শ্রুতির উদ্দেশ্য না থাকা। এছাড়া হাদীছে খাদ্য-পানীয় ও পোষাক হালাল হওয়াকে ইবাদত কবূলের অন্যতম শর্ত বলা হয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬০)। আর ছালাত কবুলের বাহ্যিক নিদর্শন হ’ল সকল কবীরা গোনাহ হ’তে তওবা করা। অতএব প্রশ্নে বর্ণিত কবীরা গোনাহসমূহ থেকে তওবা করতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই ছালাত যাবতীয় ফাহেশা ও মুনকার কাজ থেকে মুছল্লীকে বিরত রাখে’ (আনকাবূত ২৯/৪৫)। আর তওবা করাটাই হবে ছালাত কবুলের নিদর্শন।

প্রশ্ন (১৫/৯৫) : মহিলাগণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে মহিলা ডাক্তার না পাওয়ায় পুরুষ ডাক্তারের নিকটে যাওয়ায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : মহিলা ডাক্তার না পাওয়া গেলে বাধ্যগত অবস্থায় পুরুষ ডাক্তারের নিকটে যাওয়া যাবে। বদর, ওহোদ প্রভৃতি যুদ্ধে মহিলা ছাহাবীগণ আহত মুসলিম সৈন্যদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন (বুখারী হা/৫৬৭৯, মুসলিম হা/১৮১০, মিশকাত হা/৩৯৪০)। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী মহিলাদের সতরের প্রতি দৃষ্টিপাত করা চিকিৎসকের জন্য জায়েয (বুখারী হা/৩০০৭; ইবনু কুদামা, মুগনী ৬/৫৫৬)। তবে সম্ভব হ’লে একজন মাহরাম পুরুষ সাথে নিবে (বুখারী হা/৩০০৬, মিশকাত হা/৩১১৮)

প্রশ্ন (১৬/৯৬) : স্ত্রী বিদেশে অবস্থানরত তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে চায়, কিন্তু স্বামী তাতে ইচ্ছুক নয়। এক্ষেত্রে উক্ত স্ত্রীর করণীয় কি?

-মেহেদী হাসান, ঢাকা।

উত্তর : স্ত্রী যদি বৈধ কারণে ডিভোর্স দিতে চায় এবং স্বামী তাতে অসম্মত হয়, তবে স্ত্রীকে আদালতের অথবা ধর্মীয় নেতাদের সাহায্য নিতে হবে। তারা স্ত্রীকে প্রদত্ত স্বামীর দেনমোহর ফেরত প্রদানের মাধ্যমে উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিবেন। ছাবিত বিন ক্বায়েস-এর স্ত্রীকে এভাবে ‘খোলা’-র মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন (বুখারী হা/৫২৭৩; নাসাঈ হা/৩৫১০; মিশকাত হা/৩২৭৪)

প্রশ্ন (১৭/৯৭) : কুরবানী একটির বেশী করা জায়েয হবে কি?

-শামাঊন, মির্জাপুর, ঝাড়খন্ড, ভারত।

উত্তর : সামর্থ্য থাকলে একাধিক কুরবানী করায় কোন বাধা নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজ পরিবার ও উম্মতের পক্ষ হ’তে দু’টি ‘খাসি’ কুরবানী করেছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪৫৩)। এছাড়া বিদায় হজ্জের দিন তিনি একশত উট কুরবানী করেছিলেন (ইবনু মাজাহ হা/৩০৭৬)। তবে নিজ ও পরিবারের পক্ষে একটি ছাগল কুরবানী করাই যথেষ্ট (মুসলিম হা/১৯৬৭, মিশকাত হা/১৪৫৪)। তাবেঈ বিদ্বান ‘আতা বিন ইয়াসার (রহঃ) বলেন, আমি আবু আইয়ূব আনছারী (রাঃ)-কে রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে কুরবানী কেমন ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘সেসময় একজন লোক একটি ছাগল দ্বারা নিজের ও নিজের পরিবারের পক্ষ হ’তে কুরবানী দিতেন। অতঃপর তা খেতেন ও অন্যকে খাওয়াতেন। অতঃপর লোকেরা তাতে বড়াই করত। তারপর সেটাই আছে যেমনটা তুমি দেখছ’ (তিরমিযী হা/১৫০৫, ইবনু মাজাহ হা/৪৩১৪৭)। ধনাঢ্য ছাহাবী আবু সারীহা (রাঃ) বলেন, সুন্নাত জানার পর আমি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বা দু’টি কুরবানী দিতাম। লোকেরাও পরিবারপিছু একটি বা দু’টি করে বকরী কুরবানী দিত। অথচ এখন প্রতিবেশীরা আমাদের বখীল বলছে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩১৪৮)

প্রশ্ন (১৮/৯৮) : কোন দলীলের ভিত্তিতে ফজর, মাগরিব ও এশার ছালাতে সরবে এবং যোহর ও আছর ছালাতে নীরবে তেলাওয়াত করা হয়? দলীলভিত্তিক জবাব চাই।

-অধ্যাপক সফিউদ্দীন আহমাদ

পাঁচদোনা, নরসিংদী।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে যেভাবে ছালাত আদায় করতে দেখছ সেভাবে তোমরা ছালাত আদায় কর’ (বুখারী হা/৬৩১; মিশকাত হা/৬৮৩)। তিনি মাগরিব, এশা ও ফজরের ছালাতে সশব্দে এবং যোহর ও আছর ছালাতে নিম্নস্বরে কিরাআত পাঠ করেছেন (বুখারী হা/৭১৩, ৭৩৫, ৭৩৯, ৭৭৩; মিশকাত ‘ছালাত’ অধ্যায় দ্রঃ)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, সুন্নাত হ’ল মাগরিব ও এশার প্রথম দু’রাক‘আতে এবং ফজর ও জুম‘আর ছালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করা। অন্য দিকে যোহর, আছর ও মাগরিবের ৩য় রাক‘আতে এবং এশার শেষ দু’রাক‘আতে নিম্নস্বরে কিরাআত পাঠ করা (আল-মাজমূ‘, শারহুল মুহাযযাব ৩/৩৮৯)

প্রশ্ন (১৯/৯৯) : জিনের সাথে মানুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করার ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা কি?

-আব্দুল মালেক, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : মানুষের সাথে জিনের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পসন্দমত দুই, তিন বা চারজন নারীকে বিবাহ কর’ (নিসা ৪/৩)। তিনি বলেন, আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হ’তেই জোড়া (স্ত্রী) সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া (স্ত্রী) হ’তে তোমাদের জন্য সন্তান ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন (নাহল ১৬/৭২)। অত্র আয়াতগুলো দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে মানুষের স্ত্রী মানুষই হবে, জিন বা অন্য কোন প্রাণী নয়।

প্রশ্ন (২০/১০০) : জনৈক বক্তা বলেন, সন্তানহীনা নারী ৪০ দিন সাদা লজ্জাবতী গাছ পেটে বাঁধলে এবং ৪০ দিন দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করলে সন্তান হবে। এর প্রমাণসূত্র তাফসীর ইবনে কাছীর বলে উল্লেখ করেছেন। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-তহূরা আখতার, গুহলক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর।

উত্তর : বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য প্রশ্নে উল্লিখিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কুসংস্কার মাত্র। তাফসীর ইবনে কাছীরে উক্ত বর্ণনার কোন অস্তিত্ব নেই। বরং আরোগ্য লাভের জন্য শরীরে কোন কিছু ঝুলালে তা শিরক হবে। চাই তা তাবীয হোক বা অন্য কিছু হোক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি শরীরে কোন কিছু ঝুলাল, তাকে তার কাছেই সোপর্দ করা হ’ল’ (আহমাদ হা/১৮৮০৩; তিরমিযী হা/২০৭২; মিশকাত হা/৪৫৫৬, সনদ হাসান)। তাই শিরকী পদ্ধতি ছেড়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে বেশী বেশী ইস্তিগফার ও সন্তান লাভের জন্য দো‘আ করতে হবে। যেমন করেছিলেন ইবরাহীম (ছাফফাত ৩৭/১০০) এবং যাকারিয়া (আম্বিয়া ২১/৮৯-৯০) আলাইহিমুস সালাম।

কোন কোন ছহীহ নামায শিক্ষায় ‘বন্ধ্যা নারীর সন্তান লাভ’ শিরোনামে সূরা ইনশিক্বাক্ব-এর প্রথম পাঁচ আয়াত লিখে বন্ধ্যা নারীর গুপ্তাঙ্গে বেঁধে দিলে অবশ্যই সন্তান হবে বলা হয়েছে। এগুলি কবীরা গোনাহ। এথেকে তওবা করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, সন্তান দেওয়া না দেওয়ার মালিক আল্লাহ। এতে কারু কোন হাত নেই। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং তার গর্ভাশয়ে যা সংকুচিত হয় ও বর্ধিত হয়। বস্ত্ততঃ তাঁর নিকটে প্রত্যেক বস্ত্তরই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে’ (রা‘দ ১৩/৮)

প্রশ্ন (২১/১০১) : রাসূল (ছাঃ) কি নূরের না মাটির তৈরী? তিনি যে নূরের তৈরী সূরা মায়েদার ১৫নং আয়াত কি তার প্রমাণ নয়? বিস্তারিত জানতে চাই।

-আশরাফুল ইসলাম, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাটির মানুষ ছিলেন; নূরের তৈরী নন। আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) ‘তুমি বলে দাও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র। (পার্থক্য হ’ল) আমার নিকট ‘অহি’ করা হয় ...’ (কাহ্ফ ১৮/১১০)। এটা কেবল আমাদের নবীই নন, বরং বিগত সকল নবীই স্ব স্ব কওমের উদ্দেশ্যে একথা বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মত মানুষ মাত্র’ (ইবরাহীম ১৪/১১)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমি তো একজন মানুষ। আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। সুতরাং আমি (ছালাতে কিছু) ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ো’ (বুখারী হা/৪০১; মুসলিম হা/৫৭২; মিশকাত হা/১০১৬ ‘সিজদায়ে সহো’ অনুচ্ছেদ)। তিনি বলেন, আমি একজন মানুষ। আমি তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কোন কিছু আদেশ করলে তা গ্রহণ করবে। আর নিজস্ব রায় থেকে কিছু বললে আমি একজন মানুষ মাত্র। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে আমার ভুলও হ’তে পারে (মুসলিম হা/২৩৬৫, মিশকাত হা/১৪৭)

বস্ত্ততঃ ফেরেশতারা হ’ল নূরের তৈরী, জিনেরা আগুনের তৈরী  এবং মানুষ হ’ল মাটির তৈরী মুসলিম হা/২৯৯৬; মিশকাত হা/৫৭০১; মুমিনূন ২৩/১২, আন‘আম ৬/২)

উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন মর্মে সমাজে কিছু হাদীছ প্রচলিত রয়েছে। যেমন ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেন’। এ মর্মে বর্ণিত সব বর্ণনাই জাল (‘আজলূনী, কাশফুল খাফা হা/৮২৭; ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

সূরা মায়েদাহ ১৫ আয়াতে বলা হয়েছে, قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللهِ نُوْرٌ وَكِتَابٌ مُبِيْنٌ ‘তোমাদের কাছে এসেছে একটি জ্যোতি এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ’। উক্ত আয়াতে ‘নূর’ বা জ্যোতি দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন শিরকের অন্ধকার হ’তে মানুষকে তাওহীদের আলোর পথে বের করে আনে। এখানে ‘ওয়া কিতাবুম মুবীন’  (وَكتابٌ مبيْنٌ)তার পূর্ববর্তী ‘নূর’ (نُوْرٌ) -এর উপর عطف بيان হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, ‘তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে একটি জ্যোতি ও সমুজ্জ্বল গ্রন্থ’। যেমন ইতিপূর্বে সূরা নিসা ১৭৪-৭৫ আয়াতে بُرْهَانٌ نُوْرًا مُبِيْنًا বলে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অমনিভাবে সূরা আ‘রাফ ১৫৭ আয়াতের কুরআনকে ‘নূর’ বলা হয়েছে।

উক্ত আয়াতের তাফসীরে ‘নূর’-এর ব্যাখ্যায় যাজ্জাজ বলেন, এখানে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে (কুরতূবী)। যদি সেটাই ধরে নেওয়া হয়, তাহ’লেও এর অর্থ এই নয় যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন। কারণ কুরআনেই বলা হয়েছে যে, তিনি তোমাদের মত মানুষ ছিলেন’ (কাহফ ১৮/১১০)। আর মানুষ বলেই তো তিনি পিতা-মাতার সন্তান ছিলেন এবং সন্তানের পিতা ছিলেন। তিনি খানা-পিনা ও বাজার-ঘাট করতেন। অতএব রাসূল (ছাঃ) যে মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন, এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

প্রশ্ন (২২/১০২) : ঔষধ খাওয়ার সময় পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন দো‘আ আছে কি?

-কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : ঔষধ খাওয়ার পূর্বে নির্দিষ্ট কোন দো‘আ নেই। অতএব ‘বিসমিল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট হবে। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কিছু খাবে তখন সে যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে সে যেন বলে, ‘বিসমিল্লাহি আউওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ’ । অর্থ, উহার শুরুতে ও শেষে ‘বিসমিল্লাহ’ (আবুদাঊদ হা/৩৭৬৭; মিশকাত হা/৪২০২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৪৪)

প্রশ্ন (২৩/১০৩) : কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে ছালাত বিনষ্টের কারণ সমূহ কি কি?

-সোবহান মুনশী

 যেলা পরিষদ অফিস, ফরিদপুর।

উত্তর : (১) ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশতঃ ছালাতের কোন শর্ত  বা রুকন ছুটে যাওয়া। যেমন ওযূ নষ্ট হওয়া (মায়েদাহ ৩/০৬), ক্বিয়াম, রুকূ বা সিজদা না করা (বাক্বারাহ ২/২৩৮, হজ্জ ২২/৭৭), প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা না পড়া (বুখারী হা/৭৫৬; মুসলিম হা/৩৯৪) ইত্যাদি। (২) ছালাতরত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা ও খাওয়া বা পান করা (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০৩, বাক্বারাহ ২/২৩৮; বুখারী হা/১২০০; মুসলিম হা/৫৩৯) (৩) ইচ্ছাকৃতভাবে বাহুল্য কাজ করা। যা দেখলে ধারণা হয় যে, সে ছালাতের মধ্যে নেই। (৪) ছালাতের মধ্যে উচ্চৈঃস্বরে হাস্য করা (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/৬১৪) (৫) ইচ্ছাকৃতভাবে সতর প্রকাশ করা (আ‘রাফ ৭/৩১; আবুদাউদ হা/৬২৭; বুখারী হা/৩৬১; মুসলিম হা/৩০১০) (৬) ইচ্ছাকৃতভাবে ক্বিবলামুখী না হওয়া (বাক্বারাহ ২/১৪৪; বুখারী হা/৬২৫১; মুসলিম হা/৩৯৭) (৭) জানা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অপবিত্র স্থানে ছালাতে দাঁড়ানো (বুখারী হা/২২০) (৮) একাকী ছালাত আদায়কারী বা ইমামের সম্মুখস্থ সিজদার স্থান দিয়ে বালেগা নারী, গাধা ও কালো কুকুর (শয়তান) অতিক্রম করা (মুসলিম হা/৫১০, ইবনু মাজাহ হা/৯৪৯) (৯) ওযর ব্যতীত কোন কিছুতে হেলান দিয়ে ছালাত আদায় করা (বাকারাহ ২/২৩৮; বুখারী হা/১১১৭) (১০) ছালাতের রুকনগুলি ধারাবাহিকভাবে পালন না করা (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮৩)(বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০৫ পৃঃ; ফিকহুল মুয়াস্সার পৃঃ ৫৭-৫৮)

প্রশ্ন (২৪/১০৪) : শিরকী আক্বীদা ও আমলে লিপ্ত পিতা-মাতার যুবতী কন্যা ছহীহ আক্বীদা-আমল গ্রহণ করার পর আহলেহাদীছ পরিবারে বিবাহের ব্যাপারে পিতা-মাতার অমতের কারণে তাদের উপেক্ষা করে অন্য কোন নিকটাত্মীয়ের অভিভাবকত্বে বিবাহ করতে পারবে কি?

-ছাবির আলী মোল্লা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : মেয়ের বিবাহের ক্ষেত্রে অলী বা অভিভাবকের অনুমতি আবশ্যক (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩১৩০)। তবে স্রেফ আক্বীদাগত কারণেই যদি পিতা বাধা হয়ে দাঁড়ান, সেক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্য বা সমাজের মুসলিম ধর্মীয় নেতা অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে বিবাহ দিবেন। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা (পিতা-মাতা) তোমাকে শিরক করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তখন তুমি তাদের আনুগত্য করো না। তবে পার্থিব বিষয়ে তাদের সাথে সদাচরণ করো’ (লোকমান ৩১/১৫)

প্রশ্ন (২৫/১০৫) : হাদীছে মোটা-তাজা সুন্দর পশু কুরবানী করতে বলা হয়েছে। এক্ষণে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে পশু মোটাতাজা করণে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-রাণা হামীদ, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে বা ট্যাবলেট খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যা আদৌ শরী‘আতসম্মত নয়। কেননা এর মাধ্যমে ক্রেতার সাথে প্রতারণা করাই লক্ষ্য থাকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। প্রতারণা করা ও ধোঁকা দেওয়ার কারণে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫৬৭, মুসলিম হা/১০২, ছহীহাহ হা/১০৫৮)। উপরন্তু এসব ব্যবহারে পশুর গোশত বিষাক্ত হয়ে যায়, যা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। এতে মানুষ লিভার, কিডনী, ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ক্ষতি করো না ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না’ (ইবনে মাজাহ হা/২৩৪১)

প্রশ্ন (২৬/১০৬) : দু’টি সন্তানের একজনকে পিতা-মাতা বিদেশে বহু অর্থ খরচ করে পড়াশোনা করাচ্ছেন। কিন্তু অন্য সন্তানের পড়াশুনার দিকে তেমন কোনই খেয়াল রাখেন না। এরূপ করায় পিতা-মাতা কি স্বাধীন না এর জন্য কিয়ামতের দিন জবাবদিহী করতে হবে?

-আমানুল্লাহ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : সন্তানের আগ্রহ, স্বাস্থ্য, মেধা ও যোগ্যতার মান ভেদে তাকে উৎসাহিত করা ও তার জন্য সাধ্যমত ব্যয় নির্বাহ করা পিতা-মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এতে কমবেশী হওয়ায় কোন দোষ নেই। তবে কারো প্রতি ইচ্ছাকৃত অবহেলা চরম নিন্দনীয় বিষয়। আর ভরণ-পোষণ ও সম্পত্তি বণ্টনে সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। নইলে তাঁরা পরকালে আল্লাহর নিকট জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,  ‘তোমরা  আল্লাহকে  ভয়  কর  এবং  তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ইনছাফ বজায় রাখ’ (বুখারী হা/১৫৮৭; মিশকাত হা/৩০১৯)। তিনি বলেন, (ক্বিয়ামতের দিন) স্বামী তার পরিবার সম্পর্কে এবং স্ত্রী তার স্বামীর সংসার ও সন্তান সস্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ‘ইমারত ও বিচার’ অধ্যায় হা/৩৬৮৫)

প্রশ্ন (২৭/১০৭) : কোন মসজিদে গেটে আজমীরের পীরবাবার ছবি লাগানো থাকলে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-মুনীরুদ্দীন

ওমরপুর, মুর্শিদাবাদ, ভারত

উত্তর : মসজিদের ভিতরে গিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে। কিন্তু যদি কেউ উক্ত ছবির বরকত লাভের উদ্দেশ্যে উক্ত মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করে, তবে তা শিরক হবে। আর ঐ ছবি অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। কেননা ইসলামে ছবি-মূর্তি হারাম। আর মসজিদের গেটে বা দেওয়ালে লাগানো আরো বেশী হারাম।

প্রশ্ন (২৮/১০৮) : ইবাদতের শুরুতে মুখে নিয়ত পড়তে হবে, না অন্তরে সংকল্প করলেই যথেষ্ট হবে?

-আজীবর রহমান মন্টু

কাঁকড়া, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

উত্তর : হৃদয়ে সংকল্পই যথেষ্ট হবে। মুখে পাঠ করা বিদ‘আত। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম কখনো মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করেননি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কাজ করল, যেখানে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী হা/১০৯২)। বিশিষ্ট হানাফী বিদ্বান মোল্লা আলী ক্বারী, কামাল ইবনুল হুমাম, আব্দুল হাই লাক্ষ্ণেŠবী (রহঃ)ও মুখে নিয়ত পাঠ করাকে বিদ‘আত বলে আখ্যায়িত করেছেন (মিরক্বাত শরহ মিশকাত (দিল্লী ছাপা) ১/৪০-৪১ পৃঃ)

প্রশ্ন (২৯/১০৯) : ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালে জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের নিকটে এসে বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনি আল্লাহর কাছে আপনার উম্মতের জন্য পানি প্রার্থনা করুন। তারা তো ধ্বংস হয়ে গেল’- এ ঘটনার সত্যতা আছে কি?

-আব্দুল ক্বাইয়ূম, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : আছারটি বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন মালেকুদ্দার বলেন, ওমর (রাঃ)-এর যুগে লোকেরা দুর্ভিক্ষে পতিত হ’ল। তখন জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কবরের নিকটে এলো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উম্মতের জন্য পানি প্রার্থনা করুন। কারণ তারা ধ্বংস হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল স্বপ্নে ঐ ব্যক্তির নিকটে এলেন এবং তাকে বলা হ’ল, ‘তুমি ওমরের নিকটে যাও ও তাকে আমার সালাম বল। তাকে খবর দাও যে, তোমরা পানি প্রার্থী। আর তাকে বল, তুমি সাধ্যমত জনগণের সেবা কর। অতঃপর ঐ ব্যক্তি ওমরের নিকটে এল এবং তাকে এ খবর দিল। তখন ওমর (রাঃ) ক্রন্দন করলেন এবং বললেন, হে আমার প্রতিপালক আমি সাধ্যমত চেষ্টা করব’ (ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩২০০২, ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ৩/৫৬; বুখারী, তারীখুল কাবীর ৭/৩০৪)

আছারটির সনদ যঈফ, যা থেকে দলীল গ্রহণ করা যায় না। কারণ (১) ঘটনাটি সঠিক নয়। (২) রাবী মালেকুদ্দার ন্যায়পরায়ণতা এবং স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অপরিচিত। যা মুহাদ্দেছীনের নিকট গ্রহণযোগ্য নয় (৩) এটি শরী‘আতের বিরোধী। কেননা দুর্ভিক্ষের জন্য শরী‘আতে ইস্তিসক্বার ছালাত আদায়ের বিধান রয়েছে। স্বয়ং ওমর (রাঃ) ইস্তিসক্বার ছালাত আদায় করেছেন এবং আববাস (রাঃ)-এর অসীলায় আল্লাহর নিকটে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন (বুখারী হা/১০১০; মিশকাত হা/১৫০৯)। (৪) ছাহাবায়ে কেরামের কারু থেকে এমন কোন আমল পাওয়া যায় না যে তারা দুর্ভিক্ষের সময় রাসূল (ছাঃ)-এর কবরে গিয়েছেন এবং তাঁর নিকটে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন। যদি এটি শরী‘আতসম্মত হ’ত, তাহ’লে খলীফা হিসাবে ওমর (রাঃ) নিজেই সর্বাগ্রে কবরের নিকটে যেতেন এবং রাসূল (ছাঃ) সরাসরি তাঁকেই স্বপ্ন দেখাতেন। (৫) সর্বোপরি এটি কুরআনের আয়াতের বিরোধী। যেখানে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বলেন, তুমি কোন কবরবাসীকে শুনাতে পারো না’ (নমল ২৭/৮০. ফাত্বির ৩৫/২২)। মূলতঃ কবরপূজারীদের স্বার্থের অনুকূলে হওয়ায় তারা ভিত্তিহীন এই কাহিনীটিকে বিশুদ্ধ প্রমাণের জন্য গলদঘর্ম হয়ে থাকে। (বিস্তারিত আলোচনা দ্রঃ নাছিরুদ্দীন আলবানী, আত-তাওয়াস্সুল পৃঃ ১২০-২৪)

প্রশ্ন (৩০/১১০) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কি মৃত্যুবরণ করেছেন না জীবিত রয়েছেন?

-বাদশা মন্ডল, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুবরণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)। তিনি স্বীয় রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে। যেমন তারা (বিগত নবীরা) মৃত্যুবরণ করেছে’ (যুমার ৩৯/৩০)। ৬৩ বছর বয়সে রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুবরণ করার পর আবুবকর (রাঃ) বলেছিলেন, ‘যারা মুহাম্মাদ-এর ইবাদত করে তারা জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মারা গেছেন। আর যারা আল্ল­াহর ইবাদত করে, তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি অমর’ (বুখারী হা/৩৬৬৮)

উল্লেখ্য, কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট উম্মতের দরূদ ও সালাম পৌঁছানো হয় (নাসাঈ; মিশকাত হা/৯২৪) দ্বারা তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ পেশ করেন। অথচ এখানে সালাম অর্থ দো‘আ। চাই তা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হৌক বা দূর থেকে হৌক। দ্বিতীয়তঃ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বারযাখী জীবনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে মানুষের হায়াত বা মঊত বলে কিছু নেই। তাই রূহ ফেরত দেওয়ার অর্থ তাঁকে অবহিত করানো এবং তিনি তা বুঝতে পারেন। আর সেটাই হ’ল তাঁর উত্তর দেওয়া (মির‘আত হা/৯৩১-এর ব্যাখ্যা, ৪/২৬২-৭৪)

বারযাখী জীবন দুনিয়াবী জীবনের সাথে তুলনীয় নয়। অতএব এ হাদীছগুলির মাধ্যমে ‘হায়াতুন্নবী’ প্রমাণের কোন অবকাশ নেই। বরং এটা পরিষ্কারভাবে শিরকী আক্বীদা। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবরের নিকটে গিয়ে দরূদ পাঠ করলে তিনি শুনতে পান মর্মে বায়হাক্বী বর্ণিত হাদীছটি ‘জাল’ (সিলসিলা যঈফাহ হা/২০৩)। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি শুনাতে পারো না কোন মৃত ব্যক্তিকে’ (নামল ২৭/৮০)। আর ‘তুমি শুনাতে পারো না কোন কবরবাসীকে’ (ফাত্বির ৩৫/২২)

প্রশ্ন (৩১/১১১) : অনেক আলেম বলেন. ফিৎরা খেজুর বা যব দিয়ে দিতে হবে। এছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দেওয়া যাবে না। ফলে অনেক মানুষ টাকা দিয়ে এগুলি কিনে ফিৎরা দেয়। এটা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-গোলাম মোছতফা*

সন্তোষপুর, কলিকাতা, ভারত।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কেননা খেজুর ও যব ছাড়াও অন্যান্য হালাল খাদ্যদ্রব্য অথবা মানুষের প্রধান খাদ্য দ্বারা ফিৎরা আদায়ের কথা হাদীছে স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, أَدُّوْا صَاعًا مِنْ طَعَامٍ فِي الْفِطْرِ ‘তোমরা ছাদাক্বাতুল ফিৎর আদায় কর এক ছা‘ খাদ্যশস্য দ্বারা’ (ছহীহুল জামে‘ হা/২৪২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৭৯)। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, ‘আমরা এক ছা‘ খাদ্যশস্য, এক ছা‘ যব, এক ছা‘ খেজুর, এক ছা‘ পনির বা এক ছা‘ কিশমিশ থেকে যাকাতুল ফিৎর বের করতাম’ (বুখারী হা/১৫০৬; মুসলিম হা/৯৮৫; মিশকাত হা/১৮১৬)

অত্র হাদীছে যাকাতুল ফিৎর প্রদানের ব্যাপারে বিভিন্ন খাদ্যশস্যের নাম সহ সাধারণভাবে ‘ত্ব‘আম’ বা খাদ্যের কথা এসেছে, যা মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রধান খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকে। অতএব প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্য দ্বারা ফিৎরা প্রদান করাই শরী‘আত সম্মত।

* নামটি শিরকযুক্ত। অতএব কেবল ‘মুছতফা’ বা ‘গোলাম রহমান’ রাখুন (স.স.)

প্রশ্ন (৩২/১১২) : হাদীছে এসেছে, তোমরা অমুসলিমদের রাস্তার সংকীর্ণ স্থানের দিকে ঠেলে দাও। এক্ষণে অমুসলিমদের সাথে আমাদের আচরণ কিরূপ হওয়া উচিত? তাদের সম্মান করলে বা কোন হাদিয়া দিলে গোনাহ হবে কি?

-আল-আমীন, কাযীপুর, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : হাদীছটি নিম্নরূপ : তোমরা ইহূদী-নাছারাদেরকে প্রথমে সালাম দিয়ো না। যখন তোমরা তাদের কাউকে রাস্তায় পাবে, তখন তাকে রাস্তার সংকীর্ণ স্থানের দিকে যেতে বাধ্য করো (মুসলিম হা/২১৬৭, মিশকাত হা/৪৬৩৫)

যেসব অমুসলিম মুসলমানদের সাথে ধর্মের কারণে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং শত্রুতা করে, তাদের বিষয়ে উক্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি ওদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা প্রেরণ করছ, অথচ ওরা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে? রাসূলকে এবং তোমাদেরকে বহিষ্কার করেছে এই কারণে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতে বিশ্বাস কর’ (মুমতাহিনা ৬০/১)

তবে সাধারণভাবে অমুসলিমদের সাথে সদাচরণ করতে হবে। যাতে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হ’তে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করতে ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন’ (মুমতাহিনা ৬০/৮)

প্রশ্ন (৩৩/১১৩) : আহলেহাদীছগণ ফিরক্বা নাজিয়াহ হওয়া সত্ত্বেও এদের মাঝে এত দলাদলির কারণ কি?

-আলমগীর, খুলনা।

উত্তর : আক্বীদাগতভাবে সকল আহলেহাদীছই এক। শরী‘আতের ব্যাখ্যাগত পার্থক্যের কারণে কিছু প্রশাখাগত বিষয়ে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক। এছাড়া অন্যান্য যেসব বিভেদ দেখা যায়, তা অনেক সময় দুনিয়াবী স্বার্থদ্বন্দ্ব ও মনের রোগ থেকে সৃষ্টি হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দায়ী হবেন। আল্লাহর নিকট তাদের জওয়াবদিহী করতে হবে এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে (বাক্বারাহ ২/১৩৭; আলে ইমরান ৩/১০৫; আন‘আম ৬/১৫৯)। অবশ্য যদি কোন আহলেহাদীছ নামধারী ব্যক্তি কুফরী বা বিদ‘আতী আক্বীদা পোষণ ও লালন করেন এবং জেনে-শুনে যিদ বশতঃ ছহীহ হাদীছ মানতে অস্বীকার করেন, তবে তিনি প্রকৃত অর্থে আহলেহাদীছ নন।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম এবং মুহাদ্দিছ ওলামায়ে কেরামের ভাষ্য অনুযায়ী কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃশর্ত অনুসারী আহলেহাদীছগণই কেবল নাজাতপ্রাপ্ত দল (তিরমিযী, মিশকাত হা/৬২৮৩, ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৬০৩২; বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীছ; বিস্তারিত আলোচনা দেখুন: ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন’ বই)

উল্লেখ্য, রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী- ‘আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে’ (তিরমিযী হা/২৬৪১, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২; মিশকাত হা/১৭১-১৭২) বলতে আক্বীদাগত বিভক্তিকে বুঝানো হয়েছে। ৩৭ হিজরীর পর থেকে যার উদ্ভব ঘটে। ফলে খারেজী ও শী‘আ এবং পরবর্তীতে ক্বাদারিয়া, জাবরিয়া, মুরজিয়া, মু‘তাযিলা সহ হাযারো দল ও মতের প্রচলন ঘটে। নামে-বেনামে যা আজও রয়েছে। অতএব যেকোন মূল্যে ফিরক্বা নাজিয়াহর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৩৪/১১৪) : খিযির (আঃ) কি এখনও বেঁচে আছেন? ‘কাছাছুল আম্বিয়া’ কিতাবে লেখা আছে যে, ‘ইলইয়াস ও খিযির (আঃ) উভয়ে বেঁচে আছেন এবং প্রতি বছর হজ্জের মৌসুমে তারা পরষ্পরে সাক্ষাৎ করেন’। উক্ত কথাগুলির সত্যতা জানতে চাই।

-আব্দুল মান্নান, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

উত্তর : খিযির বা ইলিয়াস (আঃ) কেউ-ই এখন বেঁচে নেই। আল্লাহপাক স্বীয় রাসূল (ছাঃ)-কে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে, যেমন (তোমার পূর্বের) নবীগণ মৃত্যুবরণ করেছেন’ (যুমার ৩৯/৩০)। তিনি বলেন, তোমার পূর্বে কোন মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি (আম্বিয়া ২১/৩৪)। তিনি বলেন, ‘তুমি কোথাও আল্লাহর নিয়মের ব্যতিক্রম পাবে না’ (ফাত্বির ৩৫/৪৩)। অতএব যদি দুনিয়া কারু জন্য চিরস্থায়ী হ’ত, তাহ’লে শ্রেষ্ঠ মানুষ ও শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) চিরস্থায়ী জীবন লাভ করতেন। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেছেন, তখন অন্যদের বেঁচে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। খিযির (আঃ) ‘আবে হায়াৎ’ পান করে আজও বেঁচে আছেন বলে যে কথা চালু আছে, এগুলি ‘ইস্রাঈলিয়াত’ (الإسرائيليات) -এর অন্তর্ভুক্ত। আবু জা‘ফর আল-মুনাদী এ বিষয়ে বিস্তারিত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে এসবের অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে (দ্রঃ ফাৎহুল বারী ৮/২৬৮ পৃঃ, হা/৪৭২৬-এর ব্যাখ্যা ‘তাফসীর’ অধ্যায় ৩নং অনুচ্ছেদ)

‘ইলিয়াস ও খিযির (আঃ) উভয়ে বেঁচে আছেন এবং প্রতি বছর হজ্জের মৌসুমে তারা পরস্পরে সাক্ষাৎ করেন’ এ বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সবই বানোয়াট বা ভিত্তিহীন (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/৩৩৭; ঐ, তাফসীর সূরা কাহফ ৮২ আয়াতের আলোচনা দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (৩৫/১১৫) : তোমরা আল্লাহর রংয়ে রঞ্জিত হও বা আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হও’ মর্মে বর্ণনাটির সত্যতা জানতে চাই।

-যাকারিয়া, স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

উত্তর : উক্ত বর্ণনাটি ভিত্তিহীন (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮২২)। এ বর্ণনা সম্পর্কে ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন,  ‘এইরূপ শব্দে রাসূল (ছাঃ) থেকে কোন বর্ণনা কোন হাদীছ গ্রন্থে এসেছে বলে জানা যায় না এবং কোন বিদ্বানের নিকট এটি পরিচিত নয়। বরং তাদের নিকটে এটি মওযূ‘ বা জাল’ (ইবনু তায়মিয়াহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়াহ ৬/৫১৮)

উল্লেখ্য, আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহর রং। আর আল্লাহর রংয়ের চাইতে উত্তম রং কার আছে? আমরা তাঁরই ইবাদত করি’ (বাক্বারাহ ২/১৩৮) এর অর্থ, তোমরা আল্লাহর দ্বীনকে অপরিহার্য রূপে ধারণ কর। তার চাইতে উত্তম দ্বীন কার আছে? আর তোমরা বল যে, আমরা সবাই আমাদের রব-এর ইবাদত করি।

প্রশ্ন (৩৬/১১৬) : কোন কোন ক্ষেত্রে ছালাত তরক করা ওয়াজিব? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুল্লাহ, তায়েফ, সঊদী আরব।

উত্তর : ওযর ব্যতীত ছালাত তরক করা মুছল্লীর জন্য হারাম। তবে যরূরী কারণে ছালাত তরক করা যায়। যেমন, বিপদগ্রস্ত বা ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা বা অনুরূপ কোন অবস্থায় ছালাত পরিত্যাগ করা ওয়াজিব। এছাড়া সন্তানের ক্রন্দন, হাড়ি উথলে ওঠা, বাহন চলে যাওয়া, মাল বিনষ্ট হওয়া ইত্যাদি কারণে ছালাত পরিত্যাগ করা যায় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০৪, টীকা-২)। যেমন চোর ধরার জন্য ফরয ছালাত ছেড়ে দেয়ার অনুমতি রয়েছে (বুখারী হা/১২১১)

প্রশ্ন (৩৭/১১৭) : আল্লাহ সবকিছু জানেন ও দেখেন। এছাড়া পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাযার বছর পূর্বেই তিনি ভাগ্য এমনকি জান্নাতী না জাহান্নামী তা নির্ধারণ করে রেখেছেন। এক্ষণে বান্দার কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য কিরামান কাতেবীন নিয়োগ করার পিছনে কি তাৎপর্য আছে?

-আমীর হামযা, চালা, সিরাজগঞ্জ

উত্তর : বান্দাকে পুরস্কার বা শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রমাণ উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এটা করা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি ভেবেছ জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখনো জেনে নেননি কারা তোমাদের মধ্যে জিহাদ করেছে এবং কারা তোমাদের মধ্যে ধৈর্যশীল’? (আলে ইমরান ৩/১৪২)। যাতে বান্দা নিজেই নিজের আমলনামা দেখে নিশ্চিত হয়। যেমন কিয়ামতের দিন আমলনামা হাতে দিয়ে তিনি বলবেন, ‘তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর। আজ তুমি নিজেই নিজের হিসাবের জন্য যথেষ্ট’ (ইসরা ১৭/১৪)

প্রশ্ন (৩৮/১১৮) : হিন্দু বা খৃষ্টান কোন বন্ধু অভিবাদন বিনিময়ের পর যদি মুছাফাহা বা কোলাকুলির জন্য এগিয়ে আসে, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?

-মুহাম্মাদ নাযিম, মেলান্দহ, জামালপুর।

উত্তর : এরূপ ক্ষেত্রে তার সাথে মুছাফাহা ও মু‘আনাক্বা করা যাবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, আহকামু আহলিয যিম্মাহ ১/৪২৫)। আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন তোমরা সম্ভাষণ প্রাপ্ত হও, তখন তার চেয়ে উত্তম সম্ভাষণ প্রদান কর অথবা ওটাই প্রত্যুত্তর কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী’ (নিসা ৪/৮৬)

প্রশ্ন (৩৯/১১৯) : সূরা ইউসুফের ১০০ আয়াতে পিতা-মাতাকে সিজদা করা যায় বলে প্রমাণ মেলে। এক্ষণে কাউকে সম্মান ও শ্রদ্ধাবশতঃ সিজদা করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মোল্লা সুজন, আমীনপুর, পাবনা।

উত্তর : ইয়াকূবী শরী‘আতে সম্মানের সিজদা করা জায়েয ছিল (ইবনু কাছীর, ঐ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ)। কিন্তু মুহাম্মাদী শরী‘আতে এটি হারাম করা হয়েছে এবং এভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি সিজদা করার দূরতম সম্ভাবনাকেও মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মু‘আয (রাঃ) শাম থেকে ফেরার পর রাসূল (ছাঃ)-কে সিজদা করলে তিনি বললেন, কি ব্যাপার হে মু‘আয! তিনি বললেন, আমি শামে গিয়ে দেখলাম, সেখানকার অধিবাসীরা তাদের পোপ ও পাদ্রীদেরকে সিজদা করে। তাই আমি আপনার ক্ষেত্রেও তাদের মত করার ইচ্ছা করেছি। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা এটা করো না। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে যদি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহ’লে স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম। যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম করে বলছি, কোন নারী ততক্ষণ পর্যন্ত তার প্রভুর হক পূরণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার স্বামীর হক পূরণ না করবে.... (আহমাদ, ইবনু মাজাহ হা/১৮৫৩, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১২০৩)। একইভাবে রাসূল (ছাঃ) ক্বায়েস বিন সা‘দ (রাঃ)-কেও এ থেকে নিষেধ করেছিলেন। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজদা করা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমতে হারাম (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/৩৫৮)

প্রশ্ন (৪০/১২০) : জনৈক আলেম বলেন, প্রত্যেক মানুষ ও জিনের সাথে শয়তান থাকে। এমনকি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথেও ছিল। এ বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?

-ইবনে আবেদ আলী

মিলনবাজার, মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সঙ্গে তার একজন জিন সহচর ও একজন ফেরেশতা সহচর নিযুক্ত করা হয়নি’। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমার সাথেও। তবে আল্লাহ তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন। ফলে সে আমার অনুগত হয়ে গেছে। সে আমাকে ভাল ব্যতীত (মন্দ-কাজে) পরামর্শ দেয় না’ (মুসলিম হা/২৮২৪, মিশকাত হা/৬৭)

 

সংশোধনী

আত-তাহরীক নভেম্বর’১৪ প্রশ্ন নং ৩৯/৭৯-এ সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। সেখানে ‘৪ অংশ স্ত্রী, ৩ অংশ মা’-এর স্থলে ‘৩ অংশ স্ত্রী এবং ৪ অংশ মা’ হবে।-সম্পাদক

 

 

HTML Comment Box is loading comments...