প্রবন্ধ


উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে

আহলেহাদীছগণের অগ্রণী ভূমিকা

 

মূল (উর্দূ) : মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক ভাট্টি
অনুবাদ : নূরুল ইসলাম
পিএইচ.ডি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

এখন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উপমহাদেশে আহলেহাদীছগণের অগ্রগণ্য কৃতিত্বের দিকে আসুন!

হিজরী ত্রয়োদশ ও ঈসায়ী ঊনবিংশ শতক উপমহাদেশে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টের যুগ ছিল। যে সমস্ত ব্যক্তি মুসলমানদের এই দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা দর্শনে চরমভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হন তাঁদের মধ্যে সাইয়িদ আহমাদ ব্রেলভী, মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ ইসমাঈল দেহলভী ও তাঁদের সম্মানিত সাথীদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই সৎ ব্যক্তিগণ সংঘবদ্ধভাবে কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন এবং সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়েন। তাঁরা সমগ্র ভারতবর্ষ পরিভ্রমণ করেন। দেশের গ্রাম-গঞ্জে ও শহর-নগরে যান। লোকদেরকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করে সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের প্রচেষ্টা শুরু করেন।

জিহাদ আন্দোলনের উদ্দেশ্য :   

তাদের একটি সুশৃঙ্খল আন্দোলন ছিল। যার একটা উদ্দেশ্য তো এটা ছিল যে, মুসলমানরা বিদ‘আত পরিত্যাগ করবে, পারস্পরিক মেলামেশার সুবাদে তাদের মধ্যে যেসব হিন্দুয়ানী রসম-রেওয়াজ বাসা বেঁধেছিল তা ছেড়ে দিবে। শিরকী কর্মকান্ড থেকে মুক্ত হবে এবং ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী জীবন-যাপন করবে। ছালাত-ছিয়াম পালন করবে এবং আক্বীদা ও আমলে কুরআন-সুন্নাহর বিধানাবলীকে পথনির্দেশিকা হিসাবে গ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল এই দেশ থেকে ইংরেজদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দূর করা এবং এজন্য যথারীতি জিহাদ করা। এই দু’টি উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক। মূলতঃ এজন্য তাঁরা পূর্ণ প্রচেষ্টা চালান এবং উপমহাদেশে সাড়া ফেলে দেন। এ দেশে দ্বীন পুনর্জীবিতকরণের এটিই ছিল প্রথম নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন। যার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর প্রচার-প্রসার এবং এর মাধ্যমে মুসলমানদেরকে জিহাদের আহবান জানিয়ে ভিনদেশী কর্তৃত্বের অবসান ঘটানো। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাঁরা নিজ জন্মভূমিকে বিদায় জানান এবং আরাম-আয়েশের জীবন পরিত্যাগ করে নিজেদেরকে সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট ও বালা-মুছীবতের নিকট সোপর্দ করেন। জিহাদী জোশে পাগলপারা হয়ে ঐ পুণ্যাত্মা ব্যক্তিগণ সানন্দে নিজেদের বাড়ি থেকে যাত্রা করেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে নিজেদের কেন্দ্র নির্বাচন করেন। যেগুলো ইংরেজদের নাগাল ও অমুসলিমদের কর্তৃত্বের বাইরে ছিল।

১২৪১ হিজরীর ৭ই জুমাদাল আখেরাহ (১৭ই জানুয়ারী ১৮২৬ খ্রিঃ) আমীরুল মুজাহিদীন সাইয়িদ আহমাদ শহীদের নেতৃত্বে পাঁচ/ছয়শো জন মুজাহিদের প্রথম কাফেলা যাত্রা শুরু করে।[1] তাঁদের নিকট নগদ সর্বমোট পাঁচ হাযার রূপী ছিল। যাকে পাথেয় বলা চলে। শিখ সরকারের কারণে পাঞ্জাব অতিক্রম করা কঠিন ছিল। এজন্য তাঁরা রাজস্থান হয়ে সিন্ধুতে পৌঁছেন। সেখান থেকে কান্দাহার অতঃপর কাবুল যান। কাবুল থেকে রওয়ানা হয়ে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে প্রবেশ করেন এবং স্বাধীন গোত্রগুলোকে নিজেদের অবস্থানস্থল হিসাবে বেছে নেন। এরপর উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মুজাহিদ সেখান পৌঁছতে শুরু করেন।

স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদের এই কাফেলা স্বাধীন কেন্দ্রে পদার্পণ করা  মাত্রই শিখ সৈন্যরা মুকাবিলার জন্য বের হয়ে আসে এবং যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। এটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থা। মূলতঃ নিয়ম-শৃংখলা বজায় রাখা এবং বিজিত এলাকাগুলোকে বিন্যস্ত করার জন্য একটি সুশৃঙ্খল সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন অনুভূত হয়। এজন্য ১২৪২ হিজরীর ১২ই জুমাদাল আখেরাহ (১০ই জানুয়ারী ১৮২৭ খ্রিঃ) একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। সাইয়িদ আহমাদ শহীদ এই সরকারের আমীর নিযুক্ত হন। সাইয়িদ ছাহেবের ভারতীয় সাথীগণ ছাড়াও স্থানীয় পাঠানরা তাঁর নিকট বায়‘আত করে এবং তাঁর নেতৃত্বে জিহাদে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়।

সাইয়িদ ছাহেবের সাথীদের মধ্যে অধিকাংশ ছিলেন আলেম-ওলামা। জিহাদের নেতৃত্বের লাগাম তাঁদের হাতেই ছিল। আলেমগণের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মাদ ইসমাঈল দেহলভী, মাওলানা কারামত আলী জেŠনপুরী, মাওলানা সাইয়িদ আওলাদ হাসান কন্নৌজী, মাওলানা বেলায়াত আলী আযীমাবাদী, মাওলানা সাইয়িদ মুহাম্মাদ আলী রামপুরী অন্যতম। মোটকথা অনেক আলেম ও জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি এই জামা‘আতে শামিল ছিলেন। যারা স্রেফ আল্লাহর বাণীকে সমুন্নতকরণ এবং দেশ থেকে ইংরেজদের আধিপত্য খতম করার জন্যই ময়দানে নেমেছিলেন। কিন্তু এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যে, শিখরা তাদের মুকাবিলার জন্য এগিয়ে আসে এবং তাদের সাথে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি কঠিন যুদ্ধ হয়। শেষ মুকাবিলা হয়েছিল বালাকোট ময়দানে। যেখানে ১২৪৬ হিজরীর ২৪শে যিলক্বদ (৬ই মে ১৮৩১ খ্রিঃ) সাইয়িদ আহমাদ ব্রেলভী, মাওলানা মুহাম্মাদ ইসমাঈল দেহলভী সহ শতশত মুজাহিদ শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন।[2]

যাহোক শিখ বা ইংরেজ যাদের সাথেই লড়াই হোক তাতে কোন যায় আসে না। দু’টি দলই মুসলমানদের শত্রু ছিল এবং উভয়েরই লক্ষ্য ছিল মুসলমানদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। বালাকোট যুদ্ধের পর মুজাহিদগণ যথারীতি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্ত্তত হন। মুজাহিদগণের এই আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক ও নির্ভেজাল ইসলামী আন্দোলন ছিল। প্রায় সোয়াশো বছর ব্যাপী (১৮২৬-১৯৪৭ খ্রিঃ) যেটি ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ছিল এবং অবশেষে সেই শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়।

শাহ আব্দুল আযীয-এর ফৎওয়া :

শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী (রহঃ) কর্তৃক ইংরেজদের বিরুদ্ধে জারীকৃত ফৎওয়াই ছিল জিহাদ আন্দোলনের ভিত্তি। ফৎওয়াটি ফার্সী ভাষায় জারী করা হয়েছিল। যার অনুবাদ নিম্নরূপ- ‘এখানে খ্রিস্টান নেতাদের (খ্রিস্টান শাসকদের) হুকুম নির্দ্বিধায় জারী আছে। আর তাদের হুকুম জারী ও কার্যকরী হওয়ার মানে হল রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রজা পালন, খারাজ ও কর, ওশর ও ভূমিকর, ব্যবসায়িক সম্পদ, চোর-ডাকাতদের মামলা-মোকদ্দমার বিচার এবং অপরাধ সমূহের শাস্তি প্রদানে এই লোকেরা (খ্রিস্টানরা) নিজেরাই হাকিম (বিচারক) ও একচ্ছত্র অধিপতি। জুম‘আর ছালাত, ঈদায়েন, আযান এবং গাভী যবেহ ইত্যাদি বিধি-বিধানে তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না বটে, কিন্তু যে জিনিসটা এ সকল কিছুর মূল এবং স্বাধীনতার ভিত্তি তা নিশ্চিতভাবে ভূলণ্ঠিত ও পদদলিত। এরা নির্বিচারে মসজিদগুলিকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। জনসাধারণের নাগরিক স্বাধীনতা শেষ হয়ে গেছে। এমনকি কোন মুসলিম বা অমুসলিম তাদের অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীত এই শহর (দিল্লী) বা এর আশপাশে আসতে পারে না। সাধারণ মুসাফির বা ব্যবসায়ীদের শহরে যাতায়াতের যে অনুমতি রয়েছে সেটিও দেশীয় স্বার্থ বা জনসাধারণের নাগরিক স্বাধীনতার ভিত্তিতে নয়; বরং তাদের নিজেদের স্বার্থে। পক্ষান্তরে বিশিষ্ট ও খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ তাদের অনুমতি ব্যতীত এই দেশে প্রবেশ করতে পারে না। দিল্লী থেকে কলকাতা অবধি তাদেরই কর্তৃত্ব চলছে। অবশ্য কিছু ডানে-বামে যেমন হায়দারাবাদ, লাক্ষ্ণৌ ও রামপুরের শাসকদের ইংরেজদের আনুগত্য স্বীকার করা মানে যথারীতি খ্রিস্টানদের শাসন জারী হওয়া নয়’।[3]

এটা ছাড়াও শাহ আব্দুল আযীয আরেকটি ফৎওয়া জারী করেছিলেন। যেটিতে দলীল দ্বারা প্রমাণ করেছিলেন যে, ভারতবর্ষ বর্তমানে ‘দারুল হারব’ বা যুদ্ধ এলাকা হয়ে গেছে।[4]

বিষয়বস্ত্তর দিক থেকে এ দু’টি ফৎওয়াই সুস্পষ্ট। এর আলোকে নিঃসন্দেহে ঐ সময় ভারতবর্ষ ‘দারুল হারব’ ছিল এবং এর স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের সাথে জিহাদ করা আবশ্যক ছিল। মূলতঃ মাওলানা ইসমাঈল দেহলভী, সাইয়িদ আহমাদ শহীদ এবং তাঁদের সাথীগণ ইংরেজদের সাথে জিহাদের সূচনা করেছিলেন। অতঃপর কোন না কোনভাবে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে থাকতে ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার নে‘মত লাভ সহজসাধ্য হয়। মুজাহিদগণের এই আন্দোলনকে ‘ওহাবী আন্দোলন’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেটি ১২১ বছর যাবৎ চলমান ছিল।

বাংলার ফারায়েযী আন্দোলন :

সাইয়িদ আহমাদ শহীদ ব্রেলভীর আন্দোলনের কয়েক বছর পূর্বে ‘ফারায়েযী’ নামে বাংলাদেশে একটি জামা‘আত বা দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা শরীয়তুল্লাহ। যিনি ফরীদপুর যেলার বাহাদুরপুরের বাশিন্দা ছিলেন। তিনি ১৮ বছর বয়সে হজ্জ পালন করতে যান এবং ২০ বছর মক্কা মু‘আযযামায় অবস্থান করে শায়খ তাহের মাক্কী শাফেঈর নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করেন। ১৮০২ সালে তিনি ভারতে আসেন। ১৮০৪ সালে তিনি ‘ফারায়েযী জামা‘আত’ নামে বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন এবং মন্দ রসম-রেওয়াজ ও বিদ‘আত উৎখাতের আন্দোলন শুরু করেন। মাওলানা শরীয়তুল্লাহ প্রসিদ্ধ আলেম ছিলেন। তাঁর আন্দোলনও জিহাদ আন্দোলনের ন্যায় ওহাবী আন্দোলন-এর নামে পরিচিত হয়। ফারায়েযী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা বিশেষভাবে কৃষক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে অনেক কাজ করেন। তিনি ‘পীর-মুরীদ’ এর পরিবর্তে ‘উস্তাদ-শাগরেদ’ শব্দগুলি ব্যবহার করতেন। তাঁর শ্লোগান ছিল اَلْأَرْضُ لِلَّهِ ভূমি আল্লাহর এবং যে ব্যক্তি জমিতে কাজ করে, সেই তার মালিক। ১৮৪০ সালে মাওলানা শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর ছেলে হাজী মুহসিন মিয়াঁ ফারায়েযী আন্দোলনের নেতৃত্ব সামলান। বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানেরা তাঁকে আদর করে ‘দুদু মিয়াঁ’ বলে ডাকত। পিতার মতো তিনিও উদ্যমী ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে ইংরেজদের উৎখাত করাও ফারায়েযী আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল। এজন্য তারা বহু ত্যাগ স্বীকার করেন এবং ইংরেজদের হাতে অনেক নির্যাতন সহ্য করেন।

নিছার আলী ওরফে তিতুমীর :

সাইয়িদ আহমাদ শহীদ ব্রেলভী ও মাওলানা ইসমাঈল শহীদ দেহলভী যেই সময় স্বাধীন গোত্রগুলোতে জিহাদী কর্মকান্ডে নিমগ্ন ছিলেন, সেই সময়ে বাংলায় নিছার আলী নামে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। যিনি ‘তিতুমীর’ নামে পরিচিত ছিলেন। ইনি কৃষক ছিলেন। এক জমিদার বাড়িতে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি সাইয়িদ আহমাদ ব্রেলভীর শিষ্য ছিলেন। তিতুমীর ছিলেন কৃষকদের রক্ষক। হাযার হাযার কৃষক তাঁর সাথে ছিল। যারা হিন্দু জমিদারদের যুলুম-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ফারায়েযী আন্দোলন ছিল বাংলার মুসলমানদের প্রথম আন্দোলন। ওখানকার অবস্থা অনুযায়ী ঐ সময়ের আহলেহাদীছ আলেমগণ একটি সুনির্দিষ্ট চিন্তার আলোকে যার গোড়াপত্তন করেছিলেন।

১৮৩১ সালে কৃষ্ণরায় নামে পূর্ণিয়ার এক জমিদারের কথা লোক জানতে পারে। তিনি এই যুলুম করেন যে, তার প্রত্যেক মুসলিম কৃষকের উপর, যাকে তিনি ওহাবী বলতেন, আড়াই টাকা ট্যাক্স ধার্য করতেন। তিনি এটাকে ‘দাড়ির ট্যাক্স’ হিসাবে আদায় করে মুসলমানদের ক্রোধাগ্নি জ্বালিয়ে দেন।[5] নিজ গ্রামে বিনা বাধায় তিনি এই ট্যাক্স আদায় করে নেন। কিন্তু যখন তার কর্মচারীরা নিকটবর্তী গ্রাম সরফরাজপুরে পৌঁছে তখন ঘটনাচক্রে সেখানে নিছার আলী তিতুমীর স্বীয় ভক্তদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কৃষ্ণরায়ের কর্মচারীদেরকে গ্রেফতার করেন। অতঃপর উভয় পক্ষের মধ্যে কঠিন সংঘর্ষ হয় এবং ঘটনা নিহত হওয়া পর্যন্ত গড়ায়। এতে তিতুমীর ও তাঁর অনেক সাথী শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।[6]

১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আহলেহাদীছ আলেমদের অবদান :

১৮৫৭ সালের (১২৭৩ হিঃ) স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তাতেও আহলেহাদীছগণ অংশগ্রহণ করেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য জারী করা ফৎওয়ায় মিয়াঁ সাইয়িদ নাযীর হুসাইন দেহলভী স্বাক্ষর করেছিলেন।[7] ফৎওয়া জারির কিছুদিন পর মিয়াঁ ছাহেবকে দিল্লী থেকে গ্রেফতার করে সেখান থেকে ১২/১৩ শত কিলোমিটার দূরে রাওয়ালপিন্ডি জেলে বন্দী করা হয়। মিয়াঁ ছাহেব ১ বছর কারাবন্দী থাকেন।[8] এই যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয় হলে তারা অসংখ্য মুসলমানকে গ্রেফতার করে ফাঁসি প্রদান করে অথবা লবণাক্ত সমুদ্র পার হওয়ার শাস্তি দেয় অর্থাৎ কালাপানিতে নির্বাসন দেয়। এদের মধ্যে অনেক ওহাবী ছিল।

এরপর ওহাবীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সমূহ দায়ের করা হয়। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেগুলোকে ‘ওহাবী মোকদ্দমা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। আম্বালা, আযীমাবাদ (পাটনা), মালদহ, রাজমহল প্রভৃতি স্থানে আহলেহাদীছ আলেম-ওলামা ও নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মোট ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সংক্ষেপে ঐ সমস্ত মামলার বিবরণ নিম্নরূপ :

১. আম্বালার প্রথম বিদ্রোহ মামলা :

আম্বালায় শুরু হওয়ার কারণে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মোকদ্দমাটিকে ‘আম্বালা মোকদ্দমা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এটি ছিল প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন টাই-এর আদালতে শুরু হয়েছিল। যেটি এক সপ্তাহ অব্যাহত ছিল। এই সময়ে অভিযোগের ধরণ, সাক্ষীদের বিন্যস্তকরণ এবং সাক্ষ্যসমূহের বিস্তারিত বিবরণ একত্রিত করে সব অভিযুক্তকে সেশন কোর্টে সোপর্দ করে দেয়া হয়। যথারীতি সেশন আদালতে মামলা শুরু হয়। এরা ১১ জন আসামী ছিলেন। যাদের নাম পরে উল্লেখ করা হবে।

প্রথম দিন ডেপুটি কমিশনারের আদালতে অভিযুক্তদের হাযির করা হলে মোকদ্দমা চলাকালীন ছালাতের সময় হয়ে যায়। ছালাত আদায়ের অনুমতি চাইলে অনুমতি মিলেনি। অতঃপর এই রীতি হয়ে দাঁড়ায় যে, যখনই ছালাতের ওয়াক্ত হয়ে যেত তখনই অভিযুক্তরা তায়াম্মুম করে বসে ইশারায় ছালাত আদায় করে নিতেন। ডেপুটি কমিশনারের আদালতে যতদিন মামলার শুনানি চলে ততদিন প্রত্যেক আসামী পৃথক পৃথক ফাঁসির কক্ষে বন্দী থাকেন। যখন মামলা সেশন কোর্টে স্থানান্তরিত হয় তখন সবাইকে জেলখানায় এক জায়গায় রাখা হয়। এখানে পরিবেশ কিছুটা অনুকূলে ছিল এবং সবাই একত্রে থাকতেন। এজন্য কষ্টের অনুভূতি প্রায় দূর হয়ে গিয়েছিল। ঐ দিনগুলিতে মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফর থানেশ্বরী প্রায়শই এই ফার্সী কবিতা পাঠ করতেন,

پائے در زنجير پيش دوستاں * بہ كہ بہ بيگا نگاں دربوستاں

‘বন্ধুদের সাথে পায়ে যিঞ্জীর পরিহিত থাকা অপরিচিতদের সাথে বাগিচায় থাকার চেয়েও উত্তম’।

মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী কষ্টের সেই দিনগুলিতে সাধারণভাবে এই চতুষ্পদী কবিতা পড়তেন এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন-

لَسْتُ أُبَالِيْ حِيْنَ أُقْتَلُ مُسْلِمًا + عَلَى أَيِّ جَنْبٍ كَانَ لِلَّهِ مَصْرَعِيْ

وَذَلِكَ فِيْ ذَاتِ الْإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ + يُبَارِكْ عَلَى أَوْصَالِ شِلْوٍ مُمَزَّعِ

‘আমি যখন মুসলিম হিসাবে নিহত হই তখন আমি কোন পরোয়া করি না যে, আমাকে কোন্ পার্শ্বে শোয়ানো হচ্ছে’। ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমার মৃত্যু হচ্ছে। তিনি ইচ্ছা করলে আমার খন্ডিত টুকরা সমূহে বরকত দান করতে পারেন’।[9]

অপরাধীদের নাম ও রায় :

আমরা এখানে এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করতে চাচ্ছি না। এখানে শুধু এটা বলা উদ্দেশ্য যে, সেশন জজের আদালতে মামলা চলে। কতিপয় আসামী বড় অংকের ফিস দিয়ে ইংরেজ উকিলদের সহায়তা নেন। কিন্তু আদালত ১৮৬৪ সালের ২রা মে নিম্নোক্ত আসামীদেরকে নিম্নলিখিত রায় শুনায় :

১. শেখ মুহাম্মাদ শফী : মৃত্যুদন্ড, সম্পত্তি বাযেয়াফ্ত, জেলের কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।

২. মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী ছাদেকপুরী : একই সাজা।

৩. মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফর থানেশ্বরী : মৃত্যুদন্ড, সম্পত্তি বাযেয়াফ্ত।

৪. মাওলানা আব্দুর রহীম ছাদেকপুরী : কালাপানিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও সম্পত্তি বাযেয়াফ্ত।

৫. কাযী মিয়াঁজান[10] : একই সাজা।

৬. আব্দুল গাফফার ছাদেকপুরী : একই সাজা।

৭. মুনশী আব্দুল করীম : একই সাজা।

৮. এলাহী বখশ : একই সাজা।

৯. আব্দুল গফুর : একই সাজা।

১০. হুসায়নী আযীমাবাদী : একই সাজা।

১১. হুসায়নী থানেশ্বরী : একই সাজা।

সাজা শোনার পর আসামীদের ইংরেজ এ্যাডভোকেটগণ পাঞ্জাব জুডিশিয়াল কমিশনারের আদালতে আপিল করেন। যার ফলে সাজা কিছুটা হাল্কা হয় এবং প্রথম তিন আসামীর মৃত্যুদন্ডকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড সহ কালাপানিতে নির্বাসনে রূপান্তরিত করা হয়। ১৮৬৪ সালের ২৪শে আগস্ট এই রায় দেয়া হয়। যে তিনজন বুযুর্গের ফাঁসির সাজা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে পরিবর্তিত হয় তার সংবাদ তারা ১৮৬৪ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর অবগত হন।

যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে যে, শেখ মুহাম্মাদ শফী, মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী এবং মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফরকে (তিনজন) ফাঁসির সাজা শুনানো হয়েছিল। এখানে এ ঘটনা উল্লেখযোগ্য যে, মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী ও মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফর থানেশ্বরী সাজা শুনে দারুণ খুশি ছিলেন। ইংরেজ পুলিশ অফিসার মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফরকে এই খুশির কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, ‘শাহাদাতের আকাঙ্খায় খুশি হয়েছি। যেটি মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় নে‘মত। তুমি এর মর্ম কী বুঝবে’?[11]

এরপর তাঁদের মৃত্যুদন্ড বাতিল করা  হয়। কারণ এতে আসামীরা আনন্দ অনুভব করছিল। আর তাদেরকে খুশি করা কস্মিনকালেও উদ্দেশ্য ছিল না।[12] এর পরিবর্তে কালাপানিতে নির্বাসন সহ যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। কারণ মৃত্যুর পরিবর্তে এটি বেশি কষ্টদায়ক শাস্তি হবে। শেখ মুহাম্মাদ শফীর সাজা শুধু সম্পত্তি বাযেয়াফ্তকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। মৃত্যুদন্ড বাতিল করে যাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড সহ কালাপানিতে নির্বাসনের সাজা দেয়া হয়েছিল তাদের মাথা ও দাড়ি-মোচ কামিয়ে দেয়া হয়েছিল। মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী কর্তিত দাড়ি হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বলতেন, ‘দুঃখ করিস না। তোকে আল্লাহর রাস্তায় গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এজন্যই কর্তন করা হয়েছে’।[13]

কালাপানিতে যাত্রা :

উপরোক্ত ১১জন আসামীর মধ্যে চারজন মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী, মিয়াঁ আব্দুল গাফফার, মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফর থানেশ্বরী এবং মাওলানা আব্দুর রহীমকে কালাপানিতে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম তিনজন বুযুর্গকে হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে পায়ে হাটিয়ে আম্বালা থেকে লুধিয়ানা, ফলওয়ার, জলন্ধর ও অমৃতসর হয়ে লাহোর নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছুদিন লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। এরপর ট্রেন যোগে মুলতান এবং সেখান থেকে নৌকায় আরোহণ করিয়ে কোটরী পৌঁছানো হয়। কোটরী থেকে করাচী এবং করাচী থেকে পাল তোলা নৌকায় করে মুম্বাই পৌঁছে। ১৮৬৪ সালের ৮ই ডিসেম্বর জমুনা সামুদ্রিক জাহাযে মুম্বাই থেকে যাত্রা করে ৩৪ দিন পর ১৮৬৫ সালের ১১ই জানুয়ারী পোর্ট ব্লেয়ারে (আন্দামান দ্বীপ) অবতরণ করে।[14]

এর কিছুদিন পর মাওলানা আব্দুর রহীমকে আম্বালা জেল থেকে বের করা হয়। তিনি অসুস্থ ছিলেন। লাহোর পৌঁছার পর ১ বছর ৮ মাস লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকেন। এরপর মুলতান, কোটরী, করাচী ও মুম্বাই হয়ে কালাপানি পৌঁছেন। তাঁর এই সফর খুবই কষ্টদায়ক ছিল। এর একটা কারণ তো এটা ছিল যে, তিনি নিজে অসুস্থ ছিলেন। দ্বিতীয় কারণ ছিল যে জাহাযে তিনি যাত্রী ছিলেন, তার সকল যাত্রী বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস আঘাত হেনেছিল। যার কারণে জাহাযটি ২৩ দিনের পরিবর্তে ১ মাস ২১ দিনে পোর্ট ব্লেয়ার পৌঁছেছিল।

২. আযীমাবাদের প্রথম বিদ্রোহ মামলা :

মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী প্রমুখের মামলার রায় হওয়ার পর- যেটি আসলে প্রথম বিদ্রোহ মামলা ছিল- আযীমাবাদে (পাটনা) মাওলানা আহমাদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ধারাবাহিকতার দিক থেকে এটি দ্বিতীয় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ছিল। কিন্তু আযীমাবাদের (পাটনা) দু’টি মামলার মধ্যে প্রথম ছিল।

নিজের জ্ঞান-গরিমা, তাক্বওয়া-পরহেযগারিতা, ইবাদত-বন্দেগী এবং বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার কারণে মাওলানা আহমাদুল্লাহ আযীমাবাদ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি হিসাবে গণ্য হতেন। তিনি ছিলেন মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলীর বড় ভাই, নিজ এলাকার নেতা এবং মৌলবী এলাহী বখশ জা‘ফরীর পুত্র। তিনি ১২২৩ হিজরীতে (১৮০৮ খ্রিঃ) জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নাম রেখেছিলেন আহমাদ বখশ। সাইয়িদ আহমাদ শহীদের সাথে জড়িত হলে তিনি তাঁর নাম রাখেন আহমাদুল্লাহ। অতঃপর এই নামেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। মাওলানা বেলায়েত আলী আযীমাবাদী ও অন্যান্য শিক্ষকগণের নিকট দ্বীনী ইলম শিক্ষা করেন। ১৮৫৭ সালের গন্ডগোলের সময় প্রায় তিন মাস সার্কিট হাউসে নযরবন্দী থাকেন।

আযীমাবাদের এই গোটা পরিবারকে ইংরেজ সরকার বিপদের সম্মুখীন করেছিল এবং পরিবারের সব সদস্যের বিরুদ্ধে অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মাওলানা আহমাদুল্লাহর ছেলে হাকীম আব্দুল হামীদ ‘শাহরে আশূব’ (গন্ডগোলের মাস) নামে ফার্সীতে একটি মছনবী লিখেছিলেন। যেখানে ঐ সকল কষ্ট-পরীক্ষার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেছিলেন। এই মছনবীতে মাওলানা আহমাদুল্লাহর ছোট ভাই মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলীর উক্ত সাজার কথাও মর্মস্পর্শী ভাষায় বর্ণনা করেছেন। ১ বছর পূর্বে যে সাজা আম্বালায় প্রদান করা হয়েছিল।

১২৮১ হিজরীর ২৯শে রামাযানে (২৭শে ফেব্রুয়ারী ১৮৬৫ খ্রিঃ) মাওলানা আহমাদুল্লাহর সাজার হুকুম জারী করা হয়েছিল। প্রথমে সম্পত্তি বাযেয়াফ্তকরণ ও ফাঁসির সাজা শুনানো হয়েছিল। পরে এটাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড সহ কালিপানিতে নির্বাসনে রূপান্তরিত করা হয়। ফাঁসির দন্ডাদেশে মাওলানা মোটেই বিচলিত হননি। ছোট ভাই মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলীর মতোই তিনিও সাজা শুনে আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলেন।

সম্পত্তি বাযেয়াফ্তকরণ ও নিলাম :

সম্পত্তি বাযেয়াফ্তকরণ ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশের কারণে তাঁদের কোন চিন্তা ছিল না। এ জাতীয় সকল কষ্ট তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সাথে সহ্য করতে পারতেন। আসল চিন্তা ও কষ্ট ছিল পরিবার-পরিজনকে নিয়ে। সম্পত্তি বাযেয়াফ্তকরণের কারণে যারা বাস্ত্তহারা হয়ে গিয়েছিলেন এবং মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই তাদের ছিল না। দিন গুযরানের ছিল না কোন ব্যবস্থা। তাঁদের অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের প্রশ্ন সামনে আসলে আযীমাবাদের (পাটনা) মুসলমানগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উক্ত ডাকে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। সেজন্য প্রতিশোধ পরায়ণতায় উন্মত্ত হয়ে ইংরেজরা লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদকে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। নিলামের ৭৭ বছর পর ১৯৩৫ সালে ইন্ডিয়া এ্যাক্টের অধীনে ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বিহার প্রদেশে কংগ্রেস সরকার গঠন করলে ১৯৩৯ সালে হাজীপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মিঃ বদরুল হাসান বিহার এ্যাসেম্বেলীতে ঐ সম্পদের মূল্য ও নিলাম সম্পর্কে প্রশ্ন তুললে সরকারের একজন মন্ত্রী ঐ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন। যা ১২৮১ হিজরীর রামাযান মাসে (ফেব্রুয়ারী ১৮৬৫ খ্রিঃ) ইংরেজরা বাযেয়াফ্ত করেছিল।

এখানে এটা খোলাছা করা আবশ্যক যে, অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ঐ তিন ভাইয়ের (মাওলানা আব্দুর রহীম, মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী ও মাওলানা আহমাদুল্লাহ) বইপত্র, আসবাবপত্র, ঘোড়ার গাড়ি, ঘোড়া, পালকি, অলংকার প্রভৃতি বহু মূল্যবান সামগ্রী শামিল ছিল। যেগুলো খুবই কম মূল্যে নিলাম হয়েছিল।

এরপর তাঁদের বাড়ি-ঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের মহল্লা ছাদেকপুরকে আযীমাবাদ (পাটনা) পৌরসভা কমিটিকে দিয়ে দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ঐ স্থানও অন্তর্ভুক্ত ছিল যাকে ‘কাফেলা’ বলা হত। সেটিকে এজন্য ‘কাফেলা’ বলা হত যে, ওখানে মুজাহিদগণ এবং ঐ জামা‘আতের সদস্যগণ অবস্থান করতেন। এই পুরো জায়গায় পাটনা পৌরসভা কমিটির ভবন নির্মিত হয়।[15]

নারী ও শিশুদের সঙ্গীন অবস্থা :

মাওলানা আহমাদুল্লাহর পরিবার-পরিজনকে ঈদের দিন তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। নারী-শিশু নির্বিশেষে সবাই অত্যন্ত পেরেশানীর মধ্যে ছিল। থাকার জন্য ছিল না কোন স্থান এবং ব্যবহারের জন্য ছিল না কোন আসবাবপত্র। একটি সুখী পরিবার চরম অসহায়ত্বের শিকার হয়ে গিয়েছিল। মাওলানা আহমাদুল্লাহর ছেলে হাকীম আব্দুল হামীদ- যিনি অত্যন্ত যোগ্য আলেম ও কবি ছিলেন, ‘শাহরে আশূব’ মছনবীতে বিস্তারিতভাবে এটি উল্লেখ করেছেন।

উক্ত মছনবীর কতিপয় পংক্তির অনুবাদ নিম্নরূপ :

‘যখন ঈদের রাত শেষ হল এবং আমাদের পরিবার-পরিজন সকাল বেলায় উপনীত হল, তখন সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হল। সকল সহায়-সম্পদ বাযেয়াফ্ত ও উজাড় হল। নগদ অর্থ, শস্য, আসবাবপত্র, কৃষিক্ষেত সবকিছু নিঃশেষ হয়ে গেল। আমাদের জন্য আহ্ বলাটাও কঠিন অপরাধ ছিল। আসবাবপত্রের মধ্যে সুঁই পর্যন্ত তুলে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। আমি একা ছিলাম না, আমার সাথে অনেক মানুষও ছিল। ছিল নারী-শিশু ও তাদের আর্তনাদ। সরকারের দৃষ্টিতে অপরাধী ছিলেন আহমাদুল্লাহ। কিন্তু নিষ্পাপ শিশুদের কী অপরাধ ছিল? আমাদের জীবনের পুঁজি মৃত্যুর আসবাব হয়ে গিয়েছিল। ... আমাদের ঈদ মুহাররমের চাঁদ হয়ে গিয়েছিল। আমি ছিলাম জীবন্মৃত। আমার জন্য প্রশস্ত যমীন সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল’।

মছনবী লেখক হাকীম আব্দুল হামীদ চিকিৎসা করতেন এবং তাঁর সুন্দর দাওয়াখানা ছিল। সেটাও সরকার ক্রোক করে নিয়েছিল। অর্থাৎ জীবনযাপনের কোন কিছুই তাঁর নিকট অবশিষ্ট রাখেনি। বইপত্র, কাপড়-চোপড় প্রভৃতি কোন কিছুই তাঁর আয়ত্তে ছিল না। বইপত্র জব্দ করার কারণে তিনি বিশেষ ভাবে অত্যন্ত কষ্ট পান। তিনি বলছেন-

كتب ملت مسلماناں *  رفت  در دست حرف  ناخواناں

‘মুসলমানদের ধর্মীয় বইপুস্তক মূর্খ লোকদের হাতে চলে গিয়েছিল’।

মাওলানা আহমাদুল্লাহকে কালিপানিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কখন আযীমাবাদ (পাটনা) থেকে রওয়ানা দেয়া হয়েছিল তার সঠিক তারিখ জানা যায়নি। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তিনি মাওলানা ইয়াহ্ইয়া আলী, মাওলানা আব্দুর রহীম, মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফর থানেশ্বরী এবং মিয়াঁ আব্দুল গাফফারের অনেক পূর্বে ১৮৬৫ সালের ১০ই জুনে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

(ক্রমশঃ)


[1]. অগ্রগামী বাহিনী, দক্ষিণ বাহু, বামবাহু, রসদবাহী দল ও মূল বাহিনী সহ পাঁচটি বাহিনীতে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথক আমীরের দায়িত্বে সোপর্দ করে সাইয়িদ আহমাদের জন্মস্থান অযোধ্যার রায়বেরেলীর ‘তাকিয়া’ গ্রাম হতে মুজাহিদ বাহিনী আল্লাহর নামে রওয়ানা হয়। দ্রঃ আহলেহাদীছ আন্দোলন (পিএইচ.ডি থিসিস), পৃঃ ২৬৩।-অনুবাদক

[2]. এই ঐতিহাসিক যুদ্ধে প্রায় ৩০০ জন মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন এবং ৭০০ শিখ সৈন্য নিহত হয়। দ্রঃ আহলেহাদীছ আন্দোলন, পৃঃ ২৮৪।-অনুবাদক।

[3]. ফাতাওয়া আযীযিয়া ১/১৭

[4]. ঐ ১/১০৫

[5]. তিতুমীরের সহযোদ্ধা সাজন গাযী ‘তিতুমীরের গান’-এ এদিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘নামাজ পড়ে দিবারাতি/কি তোমার করিল খেতি/কেনে কল্লে দাড়ির জরিমানা’। উদ্ধৃত : দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিস্মৃত ইতিহাস, ২য় খন্ড (ঢাকা : ইফাবা, ১৯৯৭), পৃঃ ৮৯।-অনুবাদক।

[6]. ১৮৩১ সালের ১৯শে নভেম্বর সঙ্গী-সাথীসহ নিছার আলী তিতুমীর নারিকেলবাড়িয়ার ঐতিহাসিক ‘বাঁশের কেল্লা’-র যুদ্ধে ছালাতরত অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেন। সেনাপতি গোলাম মা‘ছূমসহ বাকী সাড়ে তিনশত সাথী গ্রেফতার বরণ করেন (দ্রঃ গোলাম রাসূল মেহের, সারগুযাশতে মুজাহিদীন, পৃঃ ২০৪-২০৮; আহলেহাদীছ আন্দোলন, পৃঃ ৪১৮)। ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান ব্রিটিশ সূত্রের আলোকে উল্লেখ করেছেন যে, এদের মধ্যে ৩৩৩ জনকে ১৮৩৩ সালের ২২শে নভেম্বরে আলীপুর জেল সুপারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অবশিষ্ট ১৭ বা ২০ জনকে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদীপথে পাঠানো হয়। বন্দীদের মধ্যে ১৯৭ জনকে ৫টি মামলায় জড়ানো হয়। এদের মধ্যে ৪ জন বিচারকার্য শুরু হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। উন্মাদ অবস্থায় ১ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। তাছাড়া কমিটি ৩ জনকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে। মোট ১৮৯ জন বন্দীর বিচার কোর্ট সমাধা করে। এদের মধ্যে ৪৯ জনকে কোর্ট নির্দোষ এবং অবশিষ্ট ১৪০ জনকে অপরাধী সাব্যস্ত করে। ১৪০ জনের মধ্যে তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি গোলাম মা‘ছূমকে (৩০) মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয় এবং মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসাবে তাঁর লাশ নারিকেলবাড়িয়ায় ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। তাছাড়া অন্য ৩ জনকে অপরাধী সাব্যস্ত করলেও কোন সাজা প্রদান করা হয়নি। অবশিষ্ট ১৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে ১১ জনকে যাবজ্জীবন, ৯ জনকে ৭ বছর কারাদন্ড, ৯ জনকে ৬ বছর, ১৬ জনকে ৫ বছর, ৩৫ জনকে ৪ বছর, ৩৪ জনকে ৩ বছর এবং ২২ জনকে (সর্বমোট ১৩৬) ২ বছর কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দ্রঃ ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান, ব্রিটিশ ভারতীয় নথিতে তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীগণ (Titumir and his followers in British Indian Records) অনুবাদ : ড. গোলাম কিবরিয়া ভূইয়া (ঢাকা : বাংলা একাডেমী, ১ম প্রকাশ, ১৯৯৯), পৃঃ ৩৬-৩৮।-অনুবাদক।

[7]. ১৮৫৭ সালের জুলাই মাসে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে জিহাদ আখ্যা দিয়ে যে ফৎওয়া জারী করা হয়েছিল তাতে মোট ১৪ জন আলেম স্বাক্ষর করেছিলেন। এদের মধ্যে মিয়াঁ ছাহেবের নাম ছিল সর্বাগ্রে। ঐ আলেমগণের তালিকা ‘যাফরুল আখবার’ ও ‘ছাদিকুল আখবার’ নামে তদানীন্তন দু’টি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তাছাড়া ১৮৫৭’র মহাবিপ্লবের ঝান্ডাবাহী জেনারেল বখত খাঁও আহলেহাদীছ ছিলেন। দ্রঃ আব্দুর রশীদ ইরাকী, হায়াতে নাযীর (লাহোর : নাশরিয়াত, ২০০৭), পৃঃ ৬৬।-অনুবাদক।

[8]. মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভীর বিরুদ্ধে বিরোধীরা ইংরেজ সরকারের নিকট অভিযোগ করে যে, তাঁর নিকটে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পত্র আসে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বাড়ি তল্লাশি করা হলে অনেক পত্র পাওয়া যায়। যেগুলো কোন মাসআলা জানার জন্য বা ধর্মীয় পুস্তকের সন্ধান জানার জন্য তাঁর নিকটে প্রেরিত হয়েছিল। মিয়াঁ ছাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার নিকটে এত পত্র আসে কেন? তিনি নির্দ্বিধায় জবাব দেন, এই প্রশ্ন পত্র প্রেরকদেরকে করা উচিত, আমাকে নয়? উদ্ধারকৃত পত্রগুলির মাঝে একটিতে লেখা ছিল, ‘নুখবাতুল ফিকার’ (نخبة الفكر) পাঠাবেন। গোয়েন্দা বলে যে, এটি একটি বিশেষ পরিভাষা। যার মর্ম অন্য কিছু। এরা পত্রে পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করে। মিয়াঁ ছাহেব এই কথা শুনে অগ্নিশর্মা হয়ে বলেন, নুখবাতুল ফিকার কি কামান, বন্দুক, না গোলা-বারুদ? অতঃপর তিনি ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, জনাব আপনি আমার মামলা কোন মূর্খের সামনে পেশ করেছেন। আপনি আপনার কোন ইউরোপীয় বা দেশীয় আলেমকে জিজ্ঞেস করুন যে, ‘নুখবাতুল ফিকার’ কোন বইয়ের নাম কি-না? এরপর তাকে দিল্লী থেকে রাওয়ালপিন্ডি নিয়ে যাওয়া যায়। সেখানকার জেলে তিনি এক বছর বন্দী থাকেন। জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায় মিয়াঁ ছাহেব সরকারী লাইব্রেরী থেকে বইপত্র পড়ার অনুমতি নেন। অধ্যয়নেই তাঁর বেশির ভাগ সময় কাটত। মিয়াঁ ছাহেবকে ফাঁসানোর অনেক চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ হাযির করতে না পেরে ১ বছর পর তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়। দ্রঃ হায়াতে নাযীর, পৃঃ ৬৩-৬৫; মাওলানা ফযল হুসাইন, আল-হায়াত বা‘দাল মামাত (দিল্লী : আল-কিতাব ইন্টারন্যাশনাল, ২০০৪), পৃঃ ৯৮-৯৯।-অনুবাদক।

[9]. সীরাত ইবনে হিশাম ২/১৭৬; বুখারী হা/৩৯৮৯।

[10]. ব্যাপক ওহাবী ধরপাকড়ের সময় যে পাঁচজন সেরা মুজাহিদ আমৃত্যু সকল নির্যাতনের মুখে হিমাদ্রির ন্যায় অবিচল ছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন কুষ্টিয়া যেলার কুমারখালীর দুর্গাপুর কাযীপাড়ার বীর সন্তান কাযী মিয়াঁজান। ১২৮১ হিঃ মোতাবেক ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ৬০ বছর বয়সে পাঞ্জাবের আম্বালা জেলখানায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দ্রঃ আহলেহাদীছ আন্দোলন, পৃঃ ৪২২।-অনুবাদক।

[11]. মাওলানা মুহাম্মাদ জা‘ফর থানেশ্বরী, কালাপানি, পৃঃ ৬৮

[12]. যেমন হান্টার বলেছেন, মুজাহিদগণকে শাহাদাতের অমৃতসুধা হতে বঞ্চিত করার জন্য কারাদন্ড ও দ্বীপান্তর ছিল ইংরেজ বিচারকদের একটি সূক্ষ্ম পলিসি। যাতে তারা জিহাদে নিরুৎসাহ হয়ে পড়ে। দ্রঃ দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস (বঙ্গানুবাদ), পৃঃ ৮৩; আহলেহাদীছ আন্দোলন, পৃঃ ৪১২।-অনুবাদক।

[13]. কালাপানি, পৃঃ ৬৮

[14]. উপরোক্ত বর্ণনায় ১৮৬৪ সনের স্থলে ১৮৬৫ এবং ১৮৬৫ সনের স্থলে ১৮৬৬ হবে। দ্রঃ ড. কিয়ামুদ্দীন আহমাদ, হিন্দুস্তান মেঁ ওয়াহাবী তাহরীক (The Wahabi Movement in India), উর্দূ অনুবাদ : প্রফেসর মুহাম্মাদ মুসলিম আযীমাবাদী (করাচী, পাকিস্তান: নাফীস একাডেমী, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮০), পৃঃ ২৭৪; Ritu Chaturvedi and S.R. Bakshi, Bihar through the Ages, Vol. 3 (New Delhi : Sarup & sons, 2007), p. 313.-অনুবাদক

[15]. ১৮৬৪ সালে বৃটিশ সরকার ছাদিকপুরী পরিবারের উপরে এক আকস্মিক অভিযান চালিয়ে নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার, তাদের সম্পত্তি বাযেয়াফ্ত করা ছাড়াও সমস্ত ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ভিটা উচ্ছেদ করে সেখানে লাঙল চালানো হয়। মাওলানা ফারহাত হুসাইনসহ ছাদিকপুরী পরিবারের বুযুর্গ ব্যক্তিদের কবরস্থান সমান করে সেখানে হিন্দু হরিজনদের শূকর পোষার আখড়া এবং শহরের পায়খানা ফেলার গাড়ী রাখার জায়গা বানানো হয়। কিছু অংশে মহিলাদের মীনাবাজার বসানো হয়। বাকী অংশে পৌরসভার বিল্ডিংসমূহ নির্মিত হয়েছে। দ্রঃ আহলেহাদীছ আন্দোলন, পৃঃ ৩১৪; ‘আমীরে জামা‘আতের ভারত সফর’, আত-তাহরীক, জুলাই ’৯৮, পৃঃ ৫২।-অনুবাদক।


HTML Comment Box is loading comments...