স্বদেশ-বিদেশ

স্বদেশ

 বিডিআর বিদ্রোহের নযীরবিহীন রায় নেপথ্যের নায়করা ধরাছোঁয়ার বাইরে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে ২৫৬ জনের সাজা ও ২৭১ জন খালাস

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ তারিখে ঢাকার পিলখানাস্থ বিডিআর হেডকোয়ার্টারে ঘটে যাওয়া বিশ্ব কাঁপানো ও বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে মোট ১৫২ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর এ মামলার বিচারে গঠিত বিশেষ আদালত এ রায় ঘোষণা করে। রায়ে আরো ১৬১ জনের যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে ২৫৬ জনের সাজা ও ২৭১ জনকে খালাস প্রদান করা হয়। এই সময়ে নিরাপত্তা হেফাযতে অমানুষিক নির্যাতনে ১২ জনের অধিক লোক নিহত হন বলে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়।

উল্লেখ্য, আদালতের বিচার ছাড়াও এর আগে বিজিবির নিজস্ব আইনে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারে মোট ৬,০০০ জওয়ানকে চাকুরীচ্যুত, ৩৮৭ জনকে অব্যাহতি এবং ৪,৮৭৮ জনকে বিভিন্ন শাস্তি প্রদান করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক ড. আখতারুয্যামান বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ছিল মর্মান্তিক। আমি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট পড়ে শিউরে উঠেছি। লাশের প্রতি যে সম্মান দেখানো দরকার ছিল, তার ন্যূনতম কোন সম্মান দেখানো হয়নি। এমনকি হত্যার পর লাশ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টাও করেছে ঘাতকরা। এরপর বিচারক রায় ঘোষণার সাথে সাথে এ রায় নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ ও সুফারিশ ঘোষণা করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে পিলখানা হত্যাকান্ডের প্রাথমিক বিচার সম্পন্ন হ’লেও মেলেনি অনেক প্রশ্নের উত্তর। বিশেষ করে ইতিহাসের নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞের নেপথ্য নায়করা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের সময় সরকার সেনা কর্মকর্তাদের রক্ষায় তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এটি যেমন সত্য, তেমনি সত্য তৎকালীন সেনাপ্রধানও কোন জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সাথে যারা পরোক্ষভাবে জড়িত বা নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করেছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে বের করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা না হ’লে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। উল্লেখ্য যে, রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ময়দানে বিশেষ আদালত স্থাপন করা হয় এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

২২ বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত আড়াই হাযার

হরতালে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ ১৫০০ কোটি টাকা

রাজনৈতিক সহিংসতায় গত ২২ বছরে মোট ২,৫১৯ জন নিহত এবং প্রায় দেড় লক্ষ লোক আহত হয়েছে। ১৯৯৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ৪৬ দিন হরতাল হয়েছে। সে হিসাবে গড়ে দিনে দেড় হাযার কোটি টাকা হিসাবে বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৬৯ হাযার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর হরতালের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। আরো লক্ষ্যণীয় যে, ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রত্যেক নির্বাচনী বছরগুলিতে জিডিপির হার অন্য বছরের তুলনায় কমে যায়। বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে বিষয়গুলি উঠে এসেছে।

সাতক্ষীরার প্রবীণ রাজনীতিক মমতাজ আহমদের ইন্তেকাল

সাতক্ষীরার প্রবীণ রাজনীতিক  মমতাজ আহমদ সরদার গত ৩রা নভেম্বর রবিবার ৯৬ বছর বয়সে কলারোয়ার বোয়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘উন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ স্ত্রী, ৮ পুত্র ও ৬ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৪৫ সালে যশোর এমএম সিটি কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসাবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী মমতাজ আহমদ আজীবন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে এম.এল.এ এবং ১৯৭০ সালে গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। তিনি শিক্ষানুরাগী ও নিঃস্বার্থ সমাজকর্মী ছিলেন।

[আমরা মাইয়েতের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। -সম্পাদক]

ড. এরশাদুল বারীর ইন্তেকাল

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. এম এরশাদুল বারী (৬১) গত ৯ নভেম্বর রাতে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘উন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনীজনিত রোগে ভুগছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয় এবং রংপুরে তাঁর দাফন হয়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং ‘বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলেহাদীস’-এর সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল বারীর বড় জামাতা ছিলেন।

ড. এরশাদুল বারী ১৯৫২ সালে বগুড়া যেলার পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাষ্টার্স করেন। পরে এল.এল.বি পাস করে ১৯৭৯ সালে আইন বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। অতঃপর ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি পাঁচবার নির্বাচিত ডীন হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি মালয়েশিয়ার মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সাথে যুক্ত ছিলেন।

[আমরা মাইয়েতের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। -সম্পাদক]

ভাওয়াল গড়ে এশিয়ার বৃহত্তম সাফারি পার্ক

ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কি.মি. দূরে দেশের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়ালের গড়ে ৩,৬৯০ একর জমির উপর ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। গত ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্কটি উদ্বোধন করেন। এর প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন এরই মধ্যে প্রকল্পের ৬০% কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে আরো দু’বছর সময় লাগবে।

২৬ কিলোমিটার মাষ্টার বাউন্ডারী ওয়ালে ঘেরা এ পার্কে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতিবীক্ষণ কেনদ্র, বন্যপ্রাণী হাসপাতাল, কুমির পার্ক, লিজার্ড পার্ক, ধনেশ পাখিশালা, মেরিন এ্যাকোরিয়াম, অর্কিড হাউজ, প্রজাপতি বাগান, ঝুলন্ত ব্রীজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বাঘ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, কচ্ছপ প্রজনন কেনদ্র, এলিফেন্ট শো গ্যালারী, বার্ড শো গ্যালারি ইত্যাদি। অচিরেই এ পার্কে মনোরেল এবং ক্যাবল কারও চালু হ’তে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে আছে ২৬ প্রজাতির কয়েক হাযার পশু-পাখি,

যার মধ্যে আছে ১১টি বাঘ, তিনটি সাদা সিংহসহ ১০টি সিংহ, ১০০টি ময়ূর, দুই শতাধিক হরিণ, চারটি জিরাফ, ছয়টি জেব্রা, ১৩টি বন গরু, চারটি হাতী, পাঁচটি ভল্লুক ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এরা এখন পার্কে উনমুক্ত বিচরণ করছে। পার্কটিতে পর্যটকরা বাস ও জীপে করে প্রাকৃতিক পরিবেশে উন্মুক্ত বিচরণরত বাঘ, সিংহ ও ভল্লুক সহ সকল প্রাণী দেখতে পারবেন।

ঢাকায় মেট্রো রেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজ অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। গত ৩১শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম মেট্রো রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা তৃতীয় ফেজ থেকে পল্লবী রোকেয়া সরণির পশ্চিম দিক এবং ফার্মগেট, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত নির্মিত হবে। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকার এই প্রকল্প ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এমআরটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মেট্রো রেলে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। এতে গাযীপুর ও উত্তরা থেকে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেট্রো রেলে প্রতি কিলোমিটার ভ্রমণের জন্য যাত্রীকে ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হবে, যা হয়ত অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।

নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে বন্ধ হচ্ছে খেজুরের রস বিক্রি

প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শীতকালে খেজুর গাছের কাঁচা রস খেয়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। গত বছর দেশব্যাপী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছিল আশঙ্কাজনক। তাই এ বছর শীত আসার পূর্ব থেকেই এ ভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নিষিদ্ধ করা হচ্ছে খেজুরের রস বিক্রি। একই সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় কেউ নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এলাকার খেজুর গাছের মালিক ও গাছিদের দায়ী করা হবে এবং যথাযথ তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাদুড়ের খাওয়া ফল রসের হাঁড়িতে পড়ে গিয়ে কিংবা রস পান করার সময় বাদুড়ের লালায় থাকা নিপাহ ভাইরাস রসে মিশে যায়। এ ছাড়াও রসের হাঁড়িতে বাদুড় মলমূত্র ত্যাগ করলে তার মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিপা ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়। তাই সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে পান করা হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না। গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর-এর দেওয়া তথ্য মতে, ভাইরাসটি শনাক্তের পর গত দশ বছরে দেশের ২১টি যেলায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৭৭ জনের মধ্যে ১৩৭ জনই প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বেনযীর আহমেদ বলেন, এ রোগ হলে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সাধারণত নওগাঁসহ দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের যেলাগুলিতে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশী। তাই এসব এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

আইইডিসিআর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, নিপা ভাইরাস সাধারণত যেসব এলাকায় খেজুর গাছ রয়েছে, সেসব এলাকাতেই এর সংক্রমণ হয়। তবে যশোর যেলা খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, যশোরের বাদুড় এ ভাইরাস বহন করে না বলে হয়ত বা এমনটি হ’তে পারে।

বিদেশ

৩৪ বছর কারাভোগের পর নির্দোষ প্রমাণিত!

১৯৭৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের কেশ ডেলানো রেজিস্টার নামে এক ব্যক্তি খুনের মিথ্যা অভিযোগে ৩৪ বছর কারাভোগের পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দেয় পুলিশ। তিনি ১৯ বছর বয়সে জেলে ঢুকে বের হয়েছেন ৫৩ বছর বয়সে। কারাগার থেকে বের হয়ে ডেলানো সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখন আর কোন অনুভূতি বোধ করছি না। আপনারা জানেন, ঘটনাটি সত্য ছিল না। আমিও জানতাম, আমি এর সাথে যুক্ত ছিলাম না। কিন্তু সত্যটিকে প্রমাণ করতে পারিনি। যাক, এখন আমার ভাল লাগছে এই ভেবে যে, অন্তত সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

[উন্নত দেশের বিচার ব্যবস্থায় যদি সত্য প্রমাণিত না হয়, তাহ’লে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিচার ব্যবস্থা কেমনভাবে চলছে, সহজেই অনুমেয় (স.স.)]

২০১৩ সালে নোবেল পেলেন যারা

সুইডিশ রসায়নবিদ, প্রকৌশলী আলফ্রেড নোবেলের নামে প্রবর্তিত পাশ্চাত্য বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কারের জন্য  ২০১৩ সালে ৬টি শাখায় মোট ১২ জন এবং ১টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে। কোষ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্বীকৃতি হিসাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী, যথা যুক্তরাষ্ট্রের জেমস রথম্যান ও র‌্যান্ডি শেকম্যান এবং জার্মানীর টমাস সুডহফ। রাসায়নিক সমীকরণকে কম্পিউটার পদ্ধতির মাধ্যমে দৃশ্যমান করার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করায় রসায়নে নোবেল পেয়েছেন মার্টিন কারপ্লাস, মাইকেল লেভিট ও আরেই ওয়ারশেল  নামে  মার্কিন  তিন  বিজ্ঞানী। ‘হিগস-বোসন’ কণার অস্তিত্বের ধারণা দেয়ায় পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে বিজয়ী হয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী পিটার হিগস ও বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কোইস অ্যাংলার্ট। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ছোটগল্পের জন্য বিশ্বব্যাপী নন্দিত কানাডীয় সাহিত্যিক এলিস মুনরো। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে তদারকির জন্য শান্তিতে নোবেল পেয়েছে আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষক ‘অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিকেল ওয়েপন্স’ (ওপিসিডব্লিউ) এবং সম্পদ মূল্যের প্রায়োগিক বিশ্লেষণ দেওয়ার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন ইউজিন এফ. ফামা, লার্স পিটার হানসেন ও রবার্ট জে শিলার নামে তিন মার্কিন অর্থনীতিবিদ।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে গত এক বছরে মারা গেছে ৩০ হাযার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর নিউটাউনের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে ৩০ হাযারের বেশী মানুষ নিহত হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলায় ২১ জন স্কুল শিক্ষার্থীসহ ২৮ জন নিহত হয়। নিউটাউনের ঐ মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৩০,০৭৫ জন মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রজনিত ৬০ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে আত্মহত্যার কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন ব্রাডি ক্যাম্পেইনের এর আগে দেয়া তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুদ্রাস্ত্রের গুলিতে প্রতিদিন গড়ে ৩২ জন মানুষ মারা যায়। আহত হয় অন্তত ১৪০ জন।

[পৃথিবীর সেরা ধনী দেশের মানুষ কিসে এত অসুখী যে, তাদের ৬০ শতাংশ আত্মহত্যা করে ও বাকীরা অন্যের গুলি খেয়ে মরে? সেক্যুলার লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করবে কি? (স.স.)]