প্রবন্ধ

মানব জাতির সাফল্য লাভের উপায়

হাফেয আব্দুল মতীন

 (শেষ কিস্তি)

১৯. আল্লাহর উপর ভরসা করা :

মুমিন ব্যক্তি সৎ আমলের মাধ্যমে পরকালে সুখময় জান্নাতের আশা করে। অনুরূপভাবে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ কামনা করে। এজন্য তারা আমলের পাশাপাশি আল্লাহর উপরে ভরসা করে। মহান আল্লাহ বলেন, وَعَلَى اللهِ فَتَوَكَّلُوْا إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ ‘তোমরা আল্লাহর উপরই নির্ভর কর যদি তোমরা মুমিন হও’ (মায়েদা ৫/২৩)। অর্থাৎ ইবাদত ও সৎ আমলের পাশাপাশি আল্লাহর উপর ভরসা ও তাঁর রহমতের আশা করতে হবে। বাড়ীতে নিষ্কর্মা বসে থেকে যেমন কেউ রূযী-রোযগারের আশা করতে পারে না, বরং তাকে কাজে যেতে হয়; কৃষি কাজের জন্য যেমন জমিতে যেতে হয়, তাতে বীজ বপন করার পর ফলের আশা করা যায়, তদ্রূপ কাজ-কর্ম সম্পাদন করে আল্লাহর উপর ভরসা করলে তবেই আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবেন। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَن يَتَّقِ اللهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجاً، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহই তার পথ (মুক্তির পথ) বের করে দেন, আর তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট’ (তালাক ৬৫/২-৩)। প্রকৃত মুমিন যারা, তারাই আল্লাহর উপর ভরসা করে। মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيْمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ، الَّذِيْنَ يُقِيْمُوْنَ الصَّلاَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ، أُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقّاً لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيْمٌ-

‘নিশ্চয়ই মুমিনরা এরূপ যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে। যারা ছালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমরা যা কিছু তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। এরাই সত্যিকারের ঈমানদার, এদের জন্যেই রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট উচ্চ মর্যাদা, আরও রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা’ (আনফাল ৮/২-৪)

তিনি আরো বলেন, الَّذِيْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَاناً وَقَالُوْا حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ ‘যাদেরকে লোকেরা বলেছিল, নিশ্চয়ই তোমাদের বিরুদ্ধে লোকজন সমবেত হয়েছে। অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় কর; কিন্তু এতে তাদের বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক’ (আলে ইমরান ৩/১৭৩)

আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবরাহীম (আঃ)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তখন তাঁর শেষ কথা ছিল, حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক’।[1]

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমার উম্মতের সত্তর হাযার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে এমন লোক যারা ঝাড়-ফুঁকের আশ্রয় নেয় না, শুভ-অশুভ মানে না এবং তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে’।[2]

রাসূল (ছাঃ) বলেন, لَوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَوَكَّلُوْنَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا تُرْزَقُ الطَّيْرُ تَغْدُوْ خِمَاصًا وَتَرُوْحُ بِطَانًا. ‘তোমরা যদি আল্লাহর উপর যথাযথ ভরসা করতে তাহ’লে তোমাদের রিযিক দেওয়া হ’ত সেভাবে যেভাবে পাখিদের রিযিক দেওয়া হয়। তারা বাসা হ’তে খালি পেটে বের হয় এবং পেট ভর্তি করে বাসায় ফিরে আসে’।[3]

২০. ন্যায়বিচার করা :

পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে মানুষ ইহকালীন জীবনে কল্যাণ ও পরকালীন জীবনে মুক্তি পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا كُوْنُوْا قَوَّامِيْنَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِيْنَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيْراً فَاللهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلاَ تَتَّبِعُوْا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوْا وَإِنْ تَلْوُوْا أَوْ تُعْرِضُوْا فَإِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْراً ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সত্য সাক্ষ্য দানকারী হও, সুবিচারে প্রতিষ্ঠিত থাক যদিও এটা তোমাদের নিজের অথবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়, যদি সে সম্পদশালী বা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহই তাদের জন্যে যথেষ্ট। অতএব সুবিচারে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ কর না। আর যদি তোমরা (বর্ণনায়) বক্রতা অবলম্বন কর বা পশ্চাৎপদ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সমস্ত কর্মের পূর্ণ সংবাদ রাখেন’ (নিসা ৪/১৩৫)। প্রত্যেককে স্বীয় সন্তান-সন্ততি তথা পরিবারে ন্যায়পরায়ণ হ’তে হবে। তেমনিভাবে সমাজের বিচার-সালিশে মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণ না করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পবিত্র কুরআনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا كُوْنُوْا قَوَّامِيْنَ لِلّهِ شُهَدَاء بِالْقِسْطِ وَلاَ يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلاَّ تَعْدِلُوْا اعْدِلُوْا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوْا اللهَ إِنَّ اللهَ خَبِيْرٌ بِمَا تَعْمَلُوْنَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকবে, কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর, এটা তাক্বওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে পূর্ণ অবগত’ (মায়েদাহ ৫/৮)। সমাজে সঠিক বিচার না করলে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হ’তে হবে। মহান আল্লাহ দাঊদ (আঃ) সম্বন্ধে বলেন, يَا دَاوُوْدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيْفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلاَ تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ إِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ بِمَا نَسُوْا يَوْمَ الْحِسَابِ ‘হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ কর না। কেননা এটা তোমাকে আল্লাহর পথ হ’তে বিচ্যুত করবে। যারা আল্লাহর পথ পরিত্যাগ করে তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি। কারণ তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে’ (ছোয়াদ ৩৮/২৬)

সুবিচারকারী ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ ছায়াতলে স্থান পাবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন বিশেষ ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক (যে হক্ব বিচার করে) ২. ঐ যুবক, যে তার যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে। ৩. এমন ব্যক্তি যে আল্লাহকে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত হয় ৪. এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে ৫. এমন দু’ব্যক্তি যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে ৬. এমন ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকে আর সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, ৭. এমন ব্যক্তি যে ছাদাক্বা করে এমনভাবে যে, তার বাম হাত জানে না, তার ডান হাত কি দান করেছে’।[4]

২১. জিহবা সংযত রাখা :

কথা-র্বাতা বলার ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করা সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। কারণ মানুষের বলা সব কথাই আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন, مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلاَّ لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে’ (ক্বাফ ৫০/১৮)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِيْنَ، كِرَاماً كَاتِبِيْنَ-  ‘তোমাদের উপর রয়েছে সংরক্ষকগণ, সম্মানিত লেখকগণ’ (ইনফিতার ৮২/১০-১১)

আমলনামায় মানুষের কর্মকান্ড লেখা সম্পর্কে হাদীছে বিশদ বর্ণনা এসেছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ، ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً، فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيْرَةٍ، وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً، فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً.

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ভাল ও মন্দ লিখে দিয়েছেন আর তা সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করে অথচ কাজটা করে না, আল্লাহ তাকে পূর্ণ কাজের নেকী দেন। আর যদি সে সৎ কাজের ইচ্ছা করে আর বাস্তবে তা করে ফেলে, তবে আল্লাহ তার জন্য দশ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত এমনকি এর চেয়েও অধিক নেকী লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, কিন্তু বাস্তবে তা করে না তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ (সৎ কাজের) নেকী দিবেন। পক্ষান্তরে যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করে এবং (তদনুযায়ী) কাজটা করে ফেলে, সেক্ষেত্রে আল্লাহ তার জন্য একটিই মাত্র গুনাহ লিখেন’।[5]

মুখ ও জিহবা সংযত করা অতি যরূরী। কেননা যে ব্যক্তি জিহবা এবং লজ্জাস্থানের অপকর্ম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।

রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ يَضْمَنْ لِىْ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنُ لَهُ الْجَنَّةَ. ‘যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্ত্ত (জিহবা) এবং দু’পায়ের মাঝখানের বস্ত্ত (লজ্জাস্থানের) যিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হব’।[6] মুখ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম দিক হ’ল সত্য কথা বলা এবং মিথ্যাচার পরিহার করা। সেই সাথে অশ্লীল ও অনর্থক কথা থেকে বিরত থাকা। এ মর্মে হাদীছে বহু নির্দেশ রয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ،  ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে নতুবা চুপ থাকে’।[7]

ভাল কথার মাধ্যমেই মানব জাতির ইহলোক ও পরলোক কল্যাণকর হয় এবং মন্দ কথার কারণে ইহলোক ও পরলোকে পরিণতি হয় ভয়াবহ। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,

إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللهِ لاَ يُلْقِى لَهَا بَالاً، يَرْفَعُ اللهُ بِهَا دَرَجَاتٍ، وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللهِ لاَ يُلْقِى لَهَا بَالاً يَهْوِىْ بِهَا فِىْ جَهَنَّمَ.

‘নিশ্চয়ই বান্দা কখনও আল্লাহর সন্তুষ্টির কোন কথা বলে অথচ সে কথা সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই। কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা কখনও আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে ফেলে, যার পরিণতি সম্পর্কে তার জানা নেই। আর সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’।[8]

একে অপরের গীবত ও পরস্পরের প্রতি খারাপ ধারণা করা থেকে আমাদের সকলকে বেঁচে থাকতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اجْتَنِبُوْا كَثِيْراً مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلاَ تَجَسَّسُوْا وَلاَ يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضاً أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيْهِ مَيْتاً فَكَرِهْتُمُوْهُ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ تَوَّابٌ رَّحِيْمٌ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বেঁচে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কর না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা কর না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পসন্দ কর? বস্ত্ততঃ তোমরা এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী, দয়ালু’ (হুজুরাত ৪৯/১২)।

কোন মানুষ সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা এবং অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াতে হাদীছে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيْثِ، وَلاَ تَحَسَّسُوْا، وَلاَ تَجَسَّسُوْا، وَلاَ تَنَاجَشُوْا، وَلاَ تَحَاسَدُوْا، وَلاَ تَبَاغَضُوْا، وَلاَ تَدَابَرُوْا، وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا.

‘তোমরা অবশ্যই ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। কারো দোষ খুঁজে বেড়াবে না, গোয়েন্দাগিরিতে লিপ্ত হবে না, ক্রয়-বিক্রয়ে একে অপরকে ধোঁকা দিয়ো না, পরস্পর হিংসা কর না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ ভাব রেখ না, একজন থেকে আরেকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেয়ো না। বরং তোমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দাহ হিসাবে পরস্পরে ভাই ভাই হয়ে যাও’।[9]

২২. সৎ আমল করা :

আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে সৎ আমল করতে হবে। তাহ’লে ইহকাল ও পরকাল কল্যাণময় হবে। মহান আল্লাহ বলেন, مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِّنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُواْ يَعْمَلُوْنَ ‘মুমিন পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে, নিশ্চয়ই তাকে আমরা আনন্দময় জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রদান করব’ (নাহল ১৬/৯৭)

যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎ আমল করে তারাই সৃষ্টির মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ أُوْلَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ، جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا أَبَداً رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ- ‘যারা ঈমান আনে ও সৎ আমল করে, তারাই সৃষ্টির মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে তাদের জন্য এমন জান্নাত যার পাদদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর উপর সমুতষ্ট। এটা তার জন্য, যে তার প্রতিপালককে ভয় করে’ (বাইয়িনাহ ৯৮/৭-৮)

জান্নাত পেতে হ’লে বেশী বেশী সৎ আমল করতে হবে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,إِنَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلاً، خَالِدِيْنَ فِيْهَا لاَ يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلاً- ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাঊস। সেখানে তারা চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এর পরিবর্তে তারা অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার কামনা করবে না’ (কাহাফ ১৮/১০৭-১০৮)। আল্লাহ আরো বলেন,إِنَّ اللهَ يُدْخِلُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيْهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤاً وَلِبَاسُهُمْ فِيْهَا حَرِيْرٌ ‘যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ-কংকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের’ (হজ্জ ২৩)। আল্লাহর ভালবাসা পেতে হ’লে সৎ আমল করতে হবে, আল্লাহ বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدّاً ‘যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে দয়াময় তাদের জন্যে সৃষ্টি করবেন ভালবাসা’ (মারিয়াম ১৯/৯৬)। আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরকে যে ভালবাসেন এ সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ) বলেন,

إِذَا أَحَبَّ اللهُ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيْلَ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ فُلاَنًا، فَأَحِبَّهُ. فَيُحِبُّهُ جِبْرِيْلُ، فَيُنَادِى جِبْرِيْلُ فِىْ أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ فُلاَنًا، فَأَحِبُّوْهُ. فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوْضَعُ لَهُ الْقَبُوْلُ فِىْ أَهْلِ الأَرْضِ.

‘আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন জিবরাঈল (আঃ)-কে ডেকে বলেন, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন। তুমিও তাকে ভালবাস। তখন জিবরাঈল (আঃ)ও তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন। তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালবাসতে থাকে। তারপর পৃথিবীবাসীর অন্তরেও তাকে গ্রহণীয় ও বরণীয় করে রাখা হয়’।[10]

উল্লেখ্য যে, ছহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী সকল আমল সম্পন্ন করা এবং সকল প্রকার বিদ‘আতী কর্ম থেকে বেঁচে থাকাই হচ্ছে ‘আমলে ছালেহ’ বা সৎ আমল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর শিখানো পদ্ধতিতে ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত সহ শরী‘আতের সকল হুকুম-আহকাম পালন করা, সকল অন্যায়-অশ্লীল কাজ-কর্ম থেকে নিজেকে হেফাযত করা এবং অপরকে বিরত রাখার জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এর মাধ্যমে ইহলোক-পরলোক কল্যাণময় হবে ইনশাআল্লাহ।

২৩. তওবা করা :

মানুষ জেনে না জেনে, বুঝে না বুঝে, জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অনেক পাপ করে থাকে। এসব পাপ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। সে যে কোন গুনাহ করুক না কেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন ও তাকে ক্ষমা করে দিবেন। মহান আল্লাহ বলেন, أَلَمْ يَعْلَمُواْ أَنَّ اللهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ ‘তারা কি এটা অবগত নয় যে, আল্লাহই নিজ বান্দাদের তওবা কবুল করেন’ (তওবা ৯/১০৪)। তিনি আরো বলেন, وَهُوَ الَّذِيْ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُوْ عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ ‘তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন’ (শূরা ৪২/২৫)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, وَمَنْ يَعْمَلْ سُوْءاً أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُوْراً رَّحِيْماً ‘যে কেউ দুষ্কর্ম করে অথবা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করে পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পাবে’ (নিসা ৪/১১০)

আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিক্বদের সম্পর্কে বলেন,إِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِي الدَّرْكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيْراً، إِلاَّ الَّذِيْنَ تَابُواْ وَأَصْلَحُواْ ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে অবস্থান করবে এবং তুমি কখনও তাদের জন্য সাহায্যকারী পাবে না। কিন্তু যারা তওবা করে ও সংশোধন হয় তারা ব্যতীত’ (নিসা ৪/১৪৫-১৪৬)

কাফেরদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, لَقَدْ كَفَرَ الَّذِيْنَ قَالُوْا إِنَّ اللهَ ثَالِثُ ثَلاَثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَـهٍ إِلاَّ إِلَـهٌ وَاحِدٌ وَإِن لَّمْ يَنْتَهُوْا عَمَّا يَقُوْلُوْنَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ، أَفَلاَ يَتُوْبُوْنَ إِلَى اللهِ وَيَسْتَغْفِرُوْنَهُ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ- ‘নিঃসন্দেহ তারাও কুফরী করেছে যারা বলে, আল্লাহ তিনের (অর্থাৎ তিন মা‘বূদের) এক। অথচ এক মা‘বূদ ভিন্ন অন্য কোনই (সত্য) মা‘বূদ নেই। আর যদি তারা স্বীয় উক্তি সমূহ হ’তে নিবৃত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কাফের থাকবে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি গ্রাস করবে। এর পরও কি তারা আল্লাহর নিকটে তওবা করবে না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? অথচ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়’ (মায়েদা ৫/৭৩-৭৪)। তিনি আরো বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوْبُوْا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيْقِ ‘যারা ঈমানদান নর-নারীর উপর যুলুম-নির্যাতন করেছে এবং পরে তওবা করেনি, তাদের জন্যে জাহান্নামের আযাব ও দহন যন্ত্রণা রয়েছে’ (বুরূজ ৮৫/১০)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন, وَتُوْبُوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (নূর ২৪/৩১)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا تُوْبُوْا إِلَى اللهِ تَوْبَةً نَّصُوْحاً عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ  ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর একান্ত বিশুদ্ধ তওবা; যাতে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলোকে মোচন করে দেন এবং তোমাদের প্রবেশ করান জান্নাতে, যার তলদেশে নদী সমূহ প্রবাহিত’ (তাহরীম ৬৬/৮; ইবনু কাছীর, ৭/১০৫)

তওবা ও ইস্তেগফারের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইসতিগফার ও তওবা করে থাকি’।[11]

রাসূল (ছাঃ) এভাবে তওবা-ইসতিগফার করতেন, رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ ‘হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার তওবা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী ও দয়াবান’।[12]

শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সাইয়িদুল ইস্তিগফার হ’ল- اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ، فَاغْفِرْ لِىْ، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক! তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, তুমি আমার প্রতি তোমার যে নে‘মত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই’।

রাসূল (ছাঃ) বলেন,وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوْقِنًا بِهَا، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِىَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهْوَ مُوْقِنٌ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهْوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‘যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইস্তিগফার পড়বে এবং সন্ধ্যা হবার পূর্বে সে মারা যাবে সে জান্নাতবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দো‘আ পড়বে এবং সে ভোর হবার পূর্বে মারা যাবে সেও জান্নাতবাসী হবে’।[13]

রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বলবে, أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ  ‘আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোন হক্ব উপাস্য নেই, যিনি চিরস্থায়ী ও সবকিছুর ধারক এবং আমি তাঁর দিকেই ফিরে যাচ্ছি। তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করে’।[14]

পরিশেষে বলা যায় যে, মানব জীবনের সার্বিক সফলতা নিহিত আছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর আনুগত্য ও যথাযথ অুসরণের মধ্যে। এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। এ পথেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, যা পরকালীন জীবনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের উপায়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর সন্তোষ ও রহমত লাভ করে পরকালে পরিত্রাণ লাভের তাওফীক দান করুন- আমীন!!



[1]. বুখারী হা/৪৫৬৪

[2]. বুখারী হা/৬৪৭২

[3]. তিরমিযী, হা/২৩৪৫, ইবনু মাজাহ হা/৪১৬৪, সনদ হাসান

[4]. বুখারী হা/৬৮০৬

[5]. বুখারী হা/৬৪৯১

[6]. বুখারী হা/৬৪৭৪

[7]. বুখারী হা/৬৪৭৫

[8]. বুখারী হা/৬৪৭৮

[9]. বুখারী হা/৬০৬৬

[10]. বুখারী হা/৬০৪০

[11]. বুখারী হা/৬৩০৭

[12]. আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৩৫২

[13]. বুখারী হা/৬৩০৬

[14]. তিরমিযী, মিশকাত হা/২২৫৩, ছহীহাহ হা/২৭২৭

 

 


 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...