প্রশ্নোত্তর    ( বার পঠিত)

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৮১) : সুমাইয়া (রাঃ) ঈমান আনার কারণে আবু জাহল প্রকাশ্যে তাকে উলঙ্গ করে হত্যা করেছিল। এ কথা কি প্রমাণিত? এ ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরেও কেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাত দিয়ে বাঁধা না দিয়ে ইয়াসির পরিবারকে ধৈর্যধারণের উপদেশ দিলেন?
-যিয়াউর রহমান
পাতাড়ী, সাপাহার, নওগাঁ।


উত্তর : আবু জাহল তার গুপ্তাঙ্গে বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছিল, এটা প্রমাণিত (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা হা/৩৪৫৭০; বায়হাক্বী, দালায়েলুন নবুঅত ২/২৮২; আল-বিদায়াহ ৩/৫৯)। তবে তাকে উলঙ্গ করে হত্য করেছিল, এমনটি পাওয়া যায় না। অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার সামর্থ্য থাকলে বাধা দান করতে হবে। অন্যথায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে এটাই শরী'আতের শিক্ষা (আবুদাঊদ হা/৪৩৩৮; মিশকাত হা/৫১৪২ 'আমর বিল মা'রূফ' অনুচ্ছেদ)। রাসূল (ছাঃ)-এর তখন অত্যাচার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিল না। তাই ধৈর্যধারণের উপদেশ দিয়েছিলেন। এতে বুঝা যায়, জিহাদের জন্য সক্ষমতা প্রয়োজন।

প্রশ্ন (২/৮২): নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করার পর আমি এক মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে আবেদন করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমার নিকটে ৭ লক্ষ টাকা দাবী করছে। এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানেই আবেদন করি না কেন সেখানেই এরূপ অর্থ দাবী করছে। এক্ষণে এ অর্থ প্রদান করে চাকুরী নিলে কি আমার সারা জীবনের উপার্জন হারাম হয়ে যাবে? জনৈক আলেম বললেন, সঊদী ওলামায়ে কেরাম এক্ষেত্রে গোনাহের দায়ভার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত দলীলভিত্তিক জানিয়ে বাধিত করবেন।
আব্দুল্লাহ
মান্দা, নওগাঁ।


উত্তর : সঊদী আলেমগণ বিশেষ প্রেক্ষিত বিবেচনায় যে ফৎওয়া দিয়েছেন তা সঠিক (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ৪/৩০২)। তবে শর্ত হ'ল তা যুলুম প্রতিরোধের জন্য হবে এবং প্রার্থী সর্বাধিক যোগ্যতা সম্পন্ন হবে। নইলে উক্ত চাকুরী তার জন্য হারাম হবে। কেননা তা হবে অন্যায়ভাবে অন্যের হক নষ্ট করার শামিল। ইবনু হাযম (রহঃ) বলেন, যাকে তার হক থেকে বঞ্চিত করা হবে, তার জন্য যুলুমকে প্রতিহত করার জন্য অর্থ প্রদান করা মুবাহ। তবে এক্ষেত্রে গ্রহণকারী হবে মহাপাপী (মুহাল্লা ৮/১১৮ মাসআলা নং ১৬৩৮)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, গ্রহণকারীর জন্য এটি হারাম এবং দাতার জন্য যুলুম প্রতিরোধের স্বার্থে জায়েয' (মাজমূ' ফাতাওয়া ৩১/২৮৬)
প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই চাকুরীর ক্ষেত্রে একমাত্র শর্ত। এর বাইরে চাকুরীদাতা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা যে নামেই অর্থ আদায় করুন না কেন, তা হবে অন্যায় শর্ত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সকল শর্ত যা আল্লাহ্র কিতাবে নেই, তা বাতিল, যদিও তা শতাধিক শর্ত হৌক না কেন' (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৮৭৭ 'ক্রয়-বিক্রয়' অধ্যায়)। স্মর্তব্য যে, একজন মুত্তাকী মুসলমানের জন্য স্বেচ্ছায় এমন পেশা গ্রহণ করা মোটেই তাকওয়ার পরিচায়ক নয়।

প্রশ্ন (৩/৮৩) : রাবেয়া বছরী (রাঃ) সম্পর্কে একটি বইয়ে লেখা হয়েছে, তিনি চির কুমারী ছিলেন। হজ্জ পালন করতে গেলে কা'বা ঘর তাকে সম্মান জানানোর জন্য এগিয়ে আসে। রাতের অন্ধকারে আলোর জন্য শাহাদাত আঙ্গুলে ফুঁক দিলে ঘর আলোকিত হ'ত ইত্যাদি। লেখকের উক্ত দাবী কি সঠিক?

মুহাম্মাদ মনীরুযযামান
কেশবপুর, যশোর।


উত্তর : উক্ত কাহিনী ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বিভ্রান্ত ছূফীরা এসব কল্প কাহিনী রচনা করেছে।

প্রশ্ন (৪/৮৪) : অতি দরিদ্র হওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ আনছারী ও তার স্ত্রীর একটাই কাপড় ছিল। ঘরের মধ্যে গভীর গর্তে স্ত্রীকে উলঙ্গ অবস্থায় রেখে মসজিদে ছালাত আদায় করতে যেতেন। ছালাত আদায় করে আসলে তিনি তার স্ত্রীকে কাপড় দিয়ে দিতেন আর তিনি উলঙ্গ হয়ে গর্তে ঢুকে পরেন। তখন স্ত্রী ঐ কাপড়ে ছালাত আদায় করতেন। উক্ত ঘটনা কি সঠিক?
-সোহেল
মুরারীপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত ঘটনা ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (৫/৮৫) : কোন ব্রাহ্মণ মূর্তিপূজা করার দরুন যে সকল জিনিস-পত্র পায় (যেমন গামছা, শাড়ী ইত্যাদি) সেগুলো ক্রয় করা যাবে কি?- আব্দুস সাত্তার
মণিগ্রাম, বাঘা, রাজশাহী।


উত্তর : যাবে। কারণ কোন বস্ত্তর ক্ষেত্রে মূলনীতি হ'ল বস্ত্তটি হালাল, যে পর্যন্ত না তাতে হারামের দলীল পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইহুদী ও পৌত্তলিকদের সাথে বৈষয়িক লেনদেন করেছেন। তবে অমুসলিমদের মেলায় ও পূজায় যাওয়া যাবে না। কারণ তাতে শিরককে উৎসাহিত করা হবে।

প্রশ্ন (৬/৮৬) : কারো উপর ফিতরা ফরয হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিছাব আছে কি? পাগলের উপর ফিতরা আদায় করা কি ফরয?
-আবুল হুসাইন মিয়া
কাঞ্চন, রুপগঞ্জ।


উত্তর : ফিৎরার কোন নিছাব নেই। কারণ গোলামের উপরও ফিৎরা ফরয করা হয়েছে (বুখারী হা/১৫১১; মিশকাত হা/১৮১৫)। পাগলের অভিভাবক তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবে। আর অভিভাবকহীন পাগলের ক্ষেত্রে তার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করতে হবে। আর সম্পদ না থাকলে আদায় করার প্রয়োজন নেই। কারণ ফিতরা পুরুষ-নারী, দাস-দাসী, ছোট-বড় সকলের উপর ফরয' (বুখারী হা/১৫০৩, মুসলিম হা/৯৮৪; মিশকাত হা/১৮১৫, 'ছাদাক্বাতুল ফিৎর' অনুচ্ছেদ)।

প্রশ্ন (৭/৮৭) : বর্তমানে টিভি পর্দায় ইসলামী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার বাজানো হচ্ছে। এটা কি শরী'আত সম্মত?
-মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম
সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।


উত্তর : ইসলামে বাদ্যযন্ত্র হারাম (লোকমান ৬; বুখারী হা/৫৫৯০, মিশকাত হা/৫৩৪৩)। যারা আল্লাহ্র সুন্দর নাম বাজনার সাথে উচ্চারণ করছে, ক্বিয়ামতের দিন তারা আরো কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।

প্রশ্ন (৮/৮৮) : ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা যার হজ্জ কবুল করেছেন, তিনি তার বংশের ৪০০ জন লোককে সুফারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন। উক্ত কথার সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।
-আতাউর রহমান
বান্দাইখাড়া, নওগাঁ।


উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মুনকার বা যঈফ (যঈফ তারগীব হা/৬৮৯; সিলসিলা যঈফাহ হা/৫০৯১)।

প্রশ্ন (৯/৮৯) : দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে যারা জীবন দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক নেতা মারা গেলে তাদের কবরে ফুল দিয়ে জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করা হয়। এটা কি শরী'আত সম্মত? কাউকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করা যাবে কি?
-আব্দুর রহমান
সিংরাটি, আড়াই হাযার, নারায়ণগঞ্জ।


উত্তর : জন্ম ও মৃত্যুদিবস পালন করা, কবরে ফুল দিয়ে সম্মান জানানো, দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা সবই অমুসলিমদের অনুকরণ। ইসলামে এসবের কোনই অনুমোদন নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে' (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)
শহীদ সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হয়, সে শহীদ' (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৮১১, 'জিহাদ' অধ্যায়)। তিনি আরো বলেন, আল্লাহই সর্বাধিক অবগত কে আল্লাহ্র রাস্তায় শহীদ হয়েছে (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৮০২)। ওমর ফারূক (রাঃ) একদা খুৎবায় বলেন, তোমরা বলে থাক যে, অমুক শহীদ, অমুক শহীদ। তোমরা এরূপ বলো না। বরং ঐরূপ বলো যেরূপ রাসূল (ছাঃ) বলতেন। তা হ'ল : যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেছে বা নিহত হয়েছে, সে ব্যক্তি শহীদ' (আহমাদ হা/২৮৫, সনদ হাসান; ফাৎহুল বারী 'জিহাদ' অধ্যায় ৬/৯০)।

প্রশ্ন (১০/৯০) : অনেক মাদরাসায় বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ফলের বীজ দিয়ে দো'আ ইউনুস পড়া হয়। অতঃপর সবাই পানির পাত্রে ফুঁক দেয়। শেষে উপস্থিত সকলকে নিয়ে ঐ ব্যক্তির জন্য সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দো'আ করা হয় এবং তবারক বিতরণ করা হয়। উক্ত পদ্ধতি কি শরী'আত সম্মত? উক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া যাবে কি?
-হাবীবা আখতার
মহিলা আলিম মাদরাসা, পাবনা।


উত্তর : দো'আ ইউনুস পড়ার এরূপ রীতি হাদীছ সম্মত নয়। ইসলামের নামে এগুলো বিদ'আতী রসম মাত্র। এ সমস্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করা ও সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ (মায়েদাহ ২)। তবে যেকোন বিপদে দো'আয়ে ইউনুস পড়লে আল্লাহ তাকে তা থেকে উদ্ধার করবেন এবং তার দো'আ কবুল করবেন (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৭৪৪; তিরমিযী হা/৩৫০৫)।

প্রশ্ন (১১/৯১) : ছারছীনা প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত বুখারীর ৯৯৯ নং হাদীছে উল্লে¬খ করা হয়েছে যে, তাবীয ও ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণ করা যাবে। বুখারীতে তাবীয ব্যবহার করা যাবে মর্মে কোন হাদীছ আছে কি?
-মোয়াযযম
কেরানজি, সিঙ্গাপুর।


উত্তর : ছহীহ বুখারীতে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক জনৈক গোত্রপতিকে সূরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করা এবং তার বিনিময় গ্রহণ করা সম্পর্কে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (বুখারী হা/২২৭৬, ৫৭৩৬)। তাবীয ব্যবহার করা যাবে মর্মে শুধু বুখারী নয় বরং কোন হাদীছ গ্রন্থেই কোন প্রমাণ নেই। বরং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তাবীয লটকালো সে শিরক করল' (আহমাদ হা/১৭৪৫৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৯২)

প্রশ্ন (১২/৯২) : মহিলা মাইয়েতকে বুক সমান এবং পুরুষ মাইয়েতকে কোমর সমান গভীর করে কবর খনন করার প্রচলিত প্রথা কি শরী'আত সম্মত? এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কি?
-মুহাম্মাদ ফেরদৌস
ভাঁড়ালীপাড়া, রাজশাহী।


উত্তর : উক্ত প্রথার কোন ভিত্তি নেই। মূলতঃ কবরের গভীরতার কোন মাপজোক নেই। কোন জীব-জন্তু যাতে লাশের কোন ক্ষতি করতে না পারে, সে পরিমাণ কবর গভীর করাই স্বাভাবিক নিয়ম। এজন্য মধ্যম উচ্চতার পুরুষের কোমর পরিমাণ খনন করা উত্তম (ফাতাওয়া ইবনে বায ১৩/১৮৯ পৃঃ)।

প্রশ্ন (১৩/৯৩) : অনেকে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে। এ ধরনের বেআইনী ব্যবসা ও উপার্জিত অর্থ বৈধ হবে কি?
-তৌফিক আমান
মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

উত্তর : সরকারের কোন আইন ইসলামী আইন বিরোধী না হ'লে এবং জনকল্যাণকর হ'লে সে আইন মেনে চলা ওয়াজিব (আবুদাঊদ হা/২৬২৬; তিরমিযী হা/৩৭০৭)। অতএব উক্ত ধোঁকাবাজির ব্যবসা ও তার উপার্জিত অর্থ বৈধ হবে না।

প্রশ্ন (১৪/৯৪) : সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যারা কুরবানী করেনি, তাদেরকে সমাজের অংশ থেকে গোশত দেওয়া যাবে কি? কুরবানী দাতারা ফক্বীর-মিসকীনদের অংশ থেকে পুনরায় গোশত নিতে পারবে কি?
-আব্দুল লতীফ
রাজপুর, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : সমাজের অংশ মূলতঃ তাদের জন্যই নির্ধারিত, যারা কুরবানী করেননি। সামর্থ্যবান হওয়া না হওয়া শর্ত নয়। কুরবানীদাতা লিল্লাহ্র গোশত থেকে পুনরায় নিতে পারেন না। কেননা হাদিয়া ফিরিয়ে নেয়া যায় না (ছহীহ আবুদাঊদ হা/৩৫৩৮, ৩৫৪০; ইবনু মাজাহ হা/২৩৯১)।

প্রশ্ন (১৫/৯৫) : অসুখের জন্য দো'আ চাইতে গেলে জনৈক আলেম সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা নাস, ফালাক্ব, বাক্বারা, আলে-ইমরান, হাশর, মুমিনূন, জীন প্রভৃতি সূরার কিছু কিছু আয়াত পড়ে বুকে ফুঁ দেন। এটি কি শরী'আত সম্মত?
-সোহরাব
রিযায, সঊদী আরব।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (ইবনু মাজাহ হা/৩৫৪৯, আহমাদ হা/২১২১২)। তবে পবিত্র কুরআনের যেকোন অংশ পড়ে ফুঁক দেওয়া যাবে। কেননা কুরআনকে আল্লাহ 'শিফা' বা 'আরোগ্য' বলেছেন (বনু ইসরাঈল ১৭/৮২)।

প্রশ্ন (১৬/৯৬) : মসজিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মসজিদ স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন পুরাতন মসজিদের জায়গা বিক্রি করা যাবে কি?
-সারোয়ার
দেলোয়াবাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : শারঈ কারণবশতঃ মসজিদ স্থানান্তর করলে পূর্বের জায়গা বিক্রি করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ নতুন মসজিদে ব্যয় করা যাবে। ওমর (রাঃ)-এর যুগে কূফার দায়িত্বশীল ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)। একদা মসজিদ হ'তে বায়তুল মাল চুরি হ'লে সে ঘটনা হযরত ওমর (রাঃ)-কে জানানো হয়। তিনি মসজিদ স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। ফলে মসজিদ স্থানান্তরিত হয় এবং পূর্বের স্থান খেজুর বিক্রির বাজারে পরিণত হয় (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ৩১/২১৭)। একদা ইমাম আহমাদ (রহঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ'লে তিনি বলেন, যদি মসজিদে স্থান সংকুলান না হয় এবং স্থানটি সংকীর্ণ হওয়ার কারণে তার চাইতে প্রশস্ত স্থানে মসজিদ স্থানান্তর করা হয়, অথবা মসজিদটি জীর্ণ ও বিনষ্ট হয়ে যায়, তাহ'লে ঐ মসজিদ ও তার মাটি বিক্রি করে অন্যত্র নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তা ব্যয় করতে হবে। যা আগের চাইতে অধিক কল্যাণকর হয়। এক্ষেত্রে 'মাছলাহাত'-কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, 'প্রয়োজন'-কে নয়। যা অনেকসময় নিষিদ্ধ বস্ত্তকে সিদ্ধ করে। অতএব বাধ্য না হ'লেও অধিকতর কল্যাণ বিবেচনায় মসজিদ স্থানান্তর করা যাবে। যেমন সংকীর্ণ ও ঘিঞ্জি এলাকা থেকে মসজিদ সরিয়ে খোলা ও প্রশস্ত এবং রাস্তা সংলগ্ন স্থানে পুনঃস্থাপন করা। সেক্ষেত্রে পুরানো মসজিদ ও তার মাটি বিক্রি করে নতুন মসজিদে লাগাবে। কারণ এর মধ্যেই ওয়াকফকারীর জন্য অধিক নেকী রয়েছে। এমতাবস্থায় বিক্রীত জমিতে যেকোন বৈধ স্থাপনা করা যাবে (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ৩১ খন্ড ২১৬, ২২৪, ২২৭, ২৩৩ পৃঃ)।

প্রশ্ন (১৭/৯৭) : পরিবারের সকলেই বিবাহের ব্যাপারে একমত। কিন্তু কনে অসম্মত। এক্ষণে কনের অসম্মতিতে বিবাহ কি জায়েয হবে? দলীল ভিত্তিক জানিয়ে বাধিত করবেন।
-আব্দুন নূর
কোটালী, রংপুর।

উত্তর : বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি যেমন শর্ত, তেমনি সাবালিকা মেয়ের সম্মতিও অপরিহার্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'স্বামীহীন মহিলাকে তার পরামর্শ ছাড়া বিবাহ দেয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেয়া যাবে না। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী মেয়ের অনুমতি কিভাবে হবে? উত্তরে তিনি বললেন, 'চুপ থাকাই তার অনুমতি' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৬, ৩১২৭)। অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জনৈকা মহিলার অনুমতিবিহীন বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করেন (বুখারী হা/৫১৩৮, মিশকাত হা/৩১২৮)।

প্রশ্ন (১৮/৯৮) : চার রাক'আত বিশিষ্ট ছালাতের ১ম তাশাহহুদের পর দাঁড়ানোর সময় যমীনের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে, না হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে?
-যহীরুল ইসলাম
উত্তরা, ঢাকা।
উত্তর : সুস্থিরভাবে বসে মাটিতে ভর দিয়ে উঠতে হবে। মালেক বিন হুওয়াইরিছ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলু্ল্লাহ (ছাঃ)-কে এভাবে ছালাত আদায় করতে দেখেছেন যে, তিনি ছালাতের মধ্যে যখন বেজোড় রাক'আতে পৌঁছতেন, তখন সিজদা থেকে উঠে সুস্থিরভাবে না বসে দাঁড়াতেন না (বুখারী হা/৮২৩; মিশকাত হা/৭৯৬)। একই রাবীর অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এ সময় তিনি মাটির উপর (দু'হাতে) ভর দিতেন। অতঃপর দাঁড়াতেন' (বুখারী, ফৎহ সহ হা/৮২৪)। উল্লেখ্য যে, সিজদা থেকে উঠে না বসে তীরের মত সোজা দাঁড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কে ত্বাবারাণী কাবীরে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা 'জাল' এবং উক্ত মর্মে বর্ণিত সকল হাদীছই 'যঈফ' (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৬২, ৯২৯, ৯৬৮; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১১৪)।

প্রশ্ন (১৯/৯৯) : মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি?
-নাঈম
কেন্দুয়ার, নরসিংদী।

উত্তর : মৃত ব্যক্তির নামে পৃথকভাবে কুরবানী দেওয়ার কোন ছহীহ দলীল নেই। আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অছিয়ত হিসাবে তাঁর জন্য পৃথক একটি দুম্বা কুরবানী দিয়েছেন বলে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা অত্যন্ত যঈফ (আবুদাঊদ হা/২৭৯; মিশকাত হা/১৪৬২)।

প্রশ্ন (২০/১০০) : রাসূল (ছাঃ) দু'জন ছালাত আদায়রত মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, সিজদার সময় তোমরা শরীরের কিছু অংশ মাটির সাথে মিলিয়ে নাও। কারণ মহিলাদের সিজদা পুরুষদের মত নয় (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৩৩২৫)। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ?
-মুহাম্মাদ রফীক
বিপ্রবর্থা, গাযীপুর।

উত্তর : উক্ত হাদীছ যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/২৬৫২)। মূলতঃ ছালাতের পদ্ধতিগত ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১১৩, ১৪৩)।

প্রশ্ন (২১/১০১) : জনৈক ইমাম জুম'আর দিনে প্রায় ১ ঘন্টা খুৎবা প্রদান করেন। কিন্তু খুব সংক্ষেপে ছালাত শেষ করেন। এ ব্যাপারে শরী'আতে কোন নির্দেশনা আছে কি?
-আব্দুল হাদী
মধ্য বাড্ডা, ঢাকা।

উত্তর : জুম'আর খুৎবার ব্যাপারে শরী'আতের নির্দেশনা হ'ল- ছালাত ও খুৎবা উভয়ই মধ্যম হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫)। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী খুৎবা দীর্ঘ করাতেও কোন বাধা নেই। উম্মে হিশাম বলেন, আমি সূরা ক্বাফ মুখস্ত করেছি রাসূল (ছাঃ)-এর মুখ থেকে শুনে, যা তিনি প্রতি জুম'আয় খুৎবা দানকালে পাঠ করতেন' (মুসলিম হা/৮৭৩; মিশকাত হা/১৪০৯)। উল্লেখ্য যে, প্রতি জুম'আয় পাঠ করা ওয়াজিব নয়, বরং ঐচ্ছিক। কারণ এর মধ্যে ওয়ায ও উপদেশসমূহ নিহিত রয়েছে (মির'আত ৪/৪৯৮)। সূরা ক্বাফ পাঠ করা ছাড়াও রাসূল (ছাঃ) মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতেন। এসময় তাঁর কন্ঠস্বর উঁচু হ'ত, চক্ষু লাল হয়ে যেত, ক্রোধ ভীষণ হ'ত। যেন তিনি কোন সৈন্যদলকে সতর্ক করছেন' (মুসলিম হা/৮৬৭; মিশকাত হা/১৪০৭)। এতে বুঝা যায়, সূরা ক্বাফ পাঠ করা এবং এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সময়সীমা অবশ্যই ছালাতের সময়সীমার চাইতে দীর্ঘ হ'ত। অতঃপর 'খুৎবা সংক্ষিপ্ত ও ছালাত দীর্ঘ করা'র হাদীছের (মুসলিম হা/৮৬৯, মিশকাত হা/১৪০৬) ব্যাখ্যা এই যে, খুৎবা কখনো কখনো খুবই সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হ'ত। সুতরাং প্রয়োজন মত খুৎবা দীর্ঘ করা যায়। তবে সর্বাবস্থায় খুৎবা সংক্ষিপ্ত হওয়াটাই উত্তম, যা খতীবের বিচক্ষণতার পরিচায়ক।

প্রশ্ন (২২/১০২) : জনৈক আলেম বলেন, ফজরের সুন্নাত পরে পড়া যাবে না বরং সূর্য উঠার পরে পড়তে হবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-আব্দুল্লাহ
নীচা বাজার, নাটোর।

উত্তর : ছুটে যাওয়া সুন্নাত ফরয ছালাতের পরপরই পড়া যাবে (তিরমিযী হা/৪২২,; ইবনু মাজাহ হা/১১৫১ সনদ ছহীহ; বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১০৪৩)। তবে সূর্য ওঠার পরেও পড়া যাবে (তিরমিযী হা/৪২৩, ছহীহাহ হা/২৩৬১)।

প্রশ্ন (২৩/১০৩) : কারো গায়ে পা লেগে গেলে কি তাকে সালাম দিতে হবে? যদি সালাম না দেওয়া যায় তবে কী করণীয়?
-শরীফুল ইসলাম
সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : এক্ষেত্রে সালাম দেয়ার কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে এ জন্য অনুতপ্ত হওয়া ও দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। কারণ ঐ ব্যক্তি একে তাচ্ছিল্য ভাবতে পারে। আর কাউকে অসম্মান করা শরী'আতে নিষিদ্ধ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫৯)।

প্রশ্ন (২৪/১০৪) : একজন আল্লাহ্র অলী পঞ্চাশ হাযার ফেরেশতা হ'তে উত্তম। উক্ত বক্তব্যের কোন ভিত্তি আছে কি?
-আলতাফ
সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন ও বানাওয়াট।

প্রশ্ন (২৫/১০৫) : গভীর সমুদ্রে ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে চল্লিশ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর এক দ্বীপে প্রখর রৌদ্রের মধ্যে ক্ষুধার্ত ও অচেতন অবস্থায় মাছ উগরে ফেলে দেয়। আল্লাহ সেখানে একটি লাউ গাছ সৃষ্টি করেন এবং সুস্বাদু লাউ ফলান। এক পর্যায়ে একটি বকরী এসে তাঁর পাশে দাঁড়ালে তিনি প্রাণ ভরে দুধ পান করলেন। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।
-মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম
সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।

উত্তর : ইউনুস (আঃ)-এর মাছের পেটে অবস্থান কালের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। যেমন- এক ঘণ্টা, ৩, ৭, ২০, ৪০ দিন। অথবা সকাল বেলা পেটে নিয়ে বিকেল বেলা উগরে দিল (তাফসীর কুরতুবী, ইবনে কাছীর)। সেখানে আল্লাহ তা'আলা একটি লাউ জাতীয় গাছ সৃষ্টি করে দিলেন কথাটি সঠিক (ছাফফাত ১৪৬)। যা খেয়ে তিনি পুষ্ট হন। একটি পাহাড়ী বকরী এসে সকাল-বিকাল তাঁকে দুধ পান করিয়ে যেত (তাফসীর ফৎহুল কাদীর ৪/৪১১)। এসব বক্তব্য ইহুদী গল্পকারদের সৃষ্টি। কাজেই উক্তিগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ঘটনা আল্লাহ ভাল জানেন (নবীদের কাহিনী ২/১১৪, ১১৭)।

প্রশ্ন (২৬/১০৬) : রামাযানে হাফেয ছাহেবদের পিছনে ৩০ পারা কুরআন তেলাওয়াত শোনার জন্য ২০ রাক'আত তারাবীহর জামা'আতে শরীক হয়ে সুন্নাত হিসাবে ৮ রাক'আত এবং নফল হিসাবে ১২ রাক'আত করেছি। উক্ত নিয়ত বৈধ হবে?
-নকীব ইমাম
ধানমন্ডি, কলাবাগান, ঢাকা।

উত্তর : তারাবীহ ছালাতই নফল ছালাত। কাজেই সেই ছালাতের কিছু অংশকে সুন্নাত আর কিছু অংশকে নফল বলার অবকাশ নেই। ৩০ পারা তেলাওয়াত শোনার আশায় এরূপ করারও প্রয়োজন নেই। কেননা তারাবীহ ছালাত ৮ রাক'আত যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (বুখারী হা/২০১৬)। ২০ রাক'আত তারাবীহ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছ জাল। তাই নেকী অর্জনের জন্য সুন্নাত পরিত্যাগ না করে ৮ রাক'আত পড়ে তারাবীহ শেষ করাই উত্তম হবে।

প্রশ্ন (২৭/১০৭) : আজকাল বিবাহের পূর্বে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে গায়ে হলুদের নামে জমকালো অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। সেখানে উভয়পক্ষ এক অপরকে হলুদ মাখাচ্ছে। প্রশ্ন হ'ল এ ধরনের অনুষ্ঠান করা কি শরী'আতসম্মত?
-কামরুল হাসান
মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

উত্তর : উক্ত অনুষ্ঠান শরী'আত সম্মত নয়। এগুলো সব কুসংস্কার ও বিজাতীয় সংস্কৃতি। এগুলো বর্জন করা আবশ্যক (আবুদাঊদ হা/৪০৩১)। তবে বর-কনে চাইলে নিজেরা হলুদ মাখতে পারে (বুখারী হা/২০৪৮, মুসলিম হা/১৪২৭, মিশকাত হা/৩২১০ 'ওয়ালীমা' অনুচ্ছেদ)।

প্রশ্ন (২৮/১০৮) : মনে মনে এবং সরবে কুরআন তেলাওয়াত করার মাঝে কোন পার্থক্য আছে কি? এতে ছওয়াবের কোন কমবেশী হবে কি?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
উত্তর: কোন পার্থক্য নেই। তবে অন্যের ছালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হ'তে পারে এমনভাবে তেলাওয়াত করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'তোমরা একে অপরের চেয়ে উঁচু কণ্ঠে তেলাওয়াত কর না' (আহমাদ; মিশকাত হা/৮৫৬, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (২৯/১০৯) : মাসবূকের ছালাত কেমন হবে? বাকী ছালাত উচ্চৈঃস্বরে আদায় করবে না নিম্নস্বরে? মাসবূক কখন বাকী ছালাতের জন্য দাঁড়াবে?
-আলমগীর কবীর
চকদেব, নওগাঁ।

উত্তর : কেউ ইমামের সাথে ছালাতের কিছু অংশ পেলে তাকে 'মাসবূক্ব' বলে। মুছল্লী ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, সে অবস্থায় ছালাতে যোগদান করবে (তিরমিযী হা/৫৯১; মিশকাত হা/১১৪২)। অতঃপর ইমাম সালাম ফিরানোর পরে মাসবূক্ব ছালাতের যে অংশটুকু বাদ পড়বে, সেটুকু পূর্ণ করবে' (মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮৬)। মাসবূক ব্যক্তি নিম্নস্বরে ক্বিরাআত করবে যাতে অন্য মুছল্লীর সমস্যা না হয় (আহমাদ; মিশকাত হা/৮৫৬, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্ন (৩০/১১০) : কুরআন হাত থেকে পড়ে গেলে করণীয় কি? জনৈক ব্যক্তি বললেন, কুরআনের ওজনে চাউল দান করতে হবে।
-রবীউল ইসলাম
ভাদুরিয়া, দিনাজপুর।
উত্তর : এ জন্য অনুতপ্ত হতে হবে এবং এভাবে যেন না পড়ে তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থ (বুরূজ ২২)। তবে কুরআনের ওযনে চাউল দিতে হবে এ কথা সঠিক নয়।

প্রশ্ন (৩১/১১১) : প্রশ্ন : মহিলারা ছালাতে ইমামতি করার সময়ে সরবে ক্বিরাআত পড়তে পারবে কি?
-হাসিনা খাতুন
ধুলিয়ান, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর: পারবে। তবে এমনভাবে যা কেবল অপর মহিলা মুছল্লীরা শুনতে পায়। যেন পরপুরুষেরা তাদের কণ্ঠ শুনতে না পায় (আহযাব ৩২)।

প্রশ্ন (৩২/১১২) : দেশী-বিদেশী টাকা লেনদেন অর্থাৎ মানি চেঞ্জিং-এর মাধ্যমে ব্যবসা করা কি শরী'আত সম্মত?
-মুস্তাফীযুর রহমান
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

উত্তর : মানি চেঞ্জিং-এর মাধ্যমে ব্যবসা করা অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে রিয়াল অথবা ডলার কিংবা ডলারের বিনিময়ে টাকা ক্রয় করা শরী'আত সম্মত যদি তা নগদ বা হাতে হাতে হয়। কেননা টাকা, ডলার ও রিয়াল, মানের দিক থেকে এক নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যদি একটি অপরটি থেকে ভিন্ন হয় তাহ'লে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করতে পার যদি তা নগদ বা হাতে হাতে হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/২৮০৮)। আব্দুর রহমান ইবনু মুত্ব'ইম (রাঃ) বলেন, আমার ব্যবসায়ের একজন অংশীদার কিছু দিরহাম বাজারে নিয়ে বাকীতে বিক্রি করে। আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! এমন কেনাবেচা কি জায়েয? তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ, আমি তা খোলা বাজারে বিক্রি করেছি। কিন্তু তাতে কেউ আপত্তি করেননি। এরপর আমি বারা ইবনে আযেব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী (ছাঃ) যখন মদীনায় আসলেন তখন আমরা এ রকম বাকীতে কেনাবেচা করতাম। তখন তিনি বললেন, যদি নগদ হয়, তবে তাতে কোন বাধা নেই। আর বাকীতে হলে তা জায়েয হবে না (বুখারী হা/৩৯৩৯ 'আনছারগণের মর্যাদা' অধ্যায়)।

প্রশ্ন (৩৩/১১৩) : সরকারী আইন অনুযায়ী ছেলেদের ও মেয়েদের বিবাহের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছর। এর পূর্বে বিবাহ করলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এক্ষণে এই আইন কি শরী'আত সম্মত? শরী'আতে বিবাহের শর্ত কি কি?
-আরশাদ মিয়া
রসূলপুর, গাইবান্ধা।

উত্তর : ইসলামী শরী'আতে বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন বয়স কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং আয়েশা (রাঃ)-এর ছয় বছর বয়সে রাসূল (ছাঃ) তাঁকে বিবাহ করেছিলেন এবং নয় বছর বয়সে বাসর করেছিলেন। (বুখারী, 'বিবাহ' অধ্যায়, হা/৫১৫৮)। সূরা তালাক ৪ নং আয়াতেও এর দলীল পাওয়া যায়। ছাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এ রীতি চালু ছিল। অতএব সরকারী আইন অনুযায়ী ছেলেদের ও মেয়েদের যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছর নির্দিষ্ট করা শরী'আত সম্মত নয়। ইসলামী শরী'আতে বিবাহ বৈধ হওয়ার শর্ত হল, (১) পরস্পরে বিবাহ বৈধ এমন দু'জন ছেলে ও মেয়ে থাকা। (২) ঈজাব এবং কবূল। (৩) ছেলে ও মেয়ে উভয়ের সম্মতি (বুখারী, 'বিবাহ' অধ্যায়, হা/৫১৩৬)। (৪) মেয়ের অলী থাকা। (আবুদাউদ হা/২০৮৫)।

প্রশ্ন (৩৪/১১৪) : জনৈক আলেম বলেন, ওমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে পারস্যের শাসনকর্তা স্থানীয় ভাষায় খুৎবা প্রদান করতে চাইলে ওমর (রাঃ) তাকে অনুমতি দেননি। এ ঘটনা প্রমাণ করে মাতৃভাষায় খুৎবা প্রদান করা যাবে না। বক্তব্যটি কি সঠিক?
-ড. ওমর ফারুক
বহরমপুর, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। খুৎবা মাতৃভাষায় এবং অধিকাংশ মুছল্লীদের বোধগম্য ভাষায় হওয়া যরূরী। কেননা খুৎবা অর্থ ভাষণ, যা শ্রোতাদের বোধগম্য ভাষায় হওয়াই স্বাভাবিক। আল্লাহ বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُوْلٍ إِلاَّ بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ 'আমরা সকল রাসূলকেই তাদের স্বজাতির ভাষা-ভাষী করে প্রেরণ করেছি, যাতে তিনি তাদেরকে (আল্লাহ্র দ্বীন) ব্যাখ্যা করে দেন' (ইবরাহীম ১৪/৪)। আমাদের রাসূল (ছাঃ) স্বীয় মাতৃভাষায় খুৎবা দিতেন।

প্রশ্ন (৩৫/১১৫) : আমি একজন ডাক্তার। আমার কাছে অবৈধ গর্ভবতী মহিলারা সন্তান নষ্ট করতে আসে। এক্ষেত্রে করণীয় কী?
-ডা. যাকির
মহাদেবনগর, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : সন্তান নষ্ট করা অর্থ সন্তান হত্যা করা। যা শরী'আতে হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে তোমরা হত্যা করো না শরী'আতসম্মত কারণ ব্যতীত' (আন'আম ১৫১)। ডাক্তার হিসাবে এ কাজে সহযোগিতা করা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'তোমরা নেকী ও আল্লাহভীতির কাজে একে অন্যের সহযোগিতা কর এবং পাপকার্যে ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য কর না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা কঠোর শাস্তি প্রদানকারী' (মায়েদাহ ২)। হাদীছে বিনা কারণে মানুষ হত্যা করাকে কবীরা গোনাহ্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (বুখারী, মিশকাত হা/৫০ 'কাবীরা গোনাহ ও মুনাফিকের আলামত' অনুচ্ছেদ)। এছাড়ার এরূপ সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যভিচারের বিস্তারেও সহায়তা করা হয়।

প্রশ্ন (৩৬/১১৬) : একজন দ্বীনদার ব্যক্তির পক্ষে ব্যাংকে চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করা বৈধ হবে কি?
-আফসানা ইয়াসমীন
রোতৈল, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : স্পষ্ট সূদী বা সন্দেহযুক্ত সূদী ব্যাংকে চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করা বৈধ হবে না। সূদী কারবারে যে চার শ্রেণীর লোক সমানভাবে জড়িত, তারা হ'ল (ক) সূদ দাতা (খ) সূদ গ্রহীতা (গ) সাক্ষী (ঘ) লেখক (বুখারী হা/৫৯৬২, মুসলিম হা/১৫৯৮, বুলুগুল মারাম হা/৮১৬)। এমন ব্যাংকে চাকুরীরতগণ হারাম কাজে সহযোগিতা করছেন, যা আল্লাহ তা'আলা নিষেধ করেছেন (মায়েদাহ ৫/২)।

প্রশ্ন (৩৭/১১৭) : কয়েকটি ইসলামী সংগঠন আমাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করে বলেন যে, আহলেহাদীছ আন্দোলনের বই পুস্তক ও আক্বীদা বিশুদ্ধ। কিন্তু রাষ্ট্র কায়েম না হওয়া পর্যন্ত তা আমলযোগ্য নয় এবং কিছু সংগঠন বলে তাদের সব ঠিক। কিন্তু জিহাদী চেতনা নেই। উক্ত দাবী কি সঠিক?
-মাযহারুল ইসলাম
পন্ডুল, সিঙ্গাপুর।

উত্তর : প্রথমত : ইসলামী আক্বীদা ও আমল প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দু'টি ভিন্ন বিষয়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে যারা দ্বীনের মৌলিক উদ্দেশ্য বলে ধারণা করে থাকেন, বা ধর্মই রাজনীতি বলে প্রচারণা চালান, তারা দ্বীনকে সম্পূর্ণ ভুল অর্থে গ্রহণ করেছেন। মূলতঃ ইসলামী আক্বীদা ও আমল নিজের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেকের উপর ফরয দায়িত্ব। আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিষয়টি আল্লাহ্র হাতে। নিজের জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা যেমন ফরয দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যাবতীয় বৈধ প্রচেষ্টা চালানোও প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্র কায়েম করাই ইসলাম এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন করাই হল ইক্বামতে দ্বীন বা দ্বীনের বিজয়, এটি হ'ল চরমপন্থী খারেজীদের আক্বীদা। ইসলামের মৌলিক আক্বীদা-বিশ্বাসের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
দ্বিতীয়ত : জিহাদ বলতে উক্ত ব্যক্তিরা সম্ভবত ক্বিতাল বা 'সশস্ত্র সংগ্রাম'কে বুঝিয়েছেন। মূলতঃ কিতাল বা সশস্ত্র সংগ্রাম করার জন্য বিশেষ কিছু শর্ত রয়েছে, যা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কিতাল 'ফরয' হয় না। শর্তগুলো হল- একজন প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত আমীর থাকা, উপযুক্ত প্রতিপক্ষ থাকা, জিহাদের প্রকাশ্য ঘোষণা থাকা। এ সকল শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিতাল ফরয হয় না, যেমনভাবে নিছাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে যাকাত ফরয হয় না। সুতরাং একজন মুসলিম হিসাবে সর্বদা বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদের চেতনা থাকা এবং শহীদ হওয়ার আকাংখা থাকা অবশ্যই যরূরী। কিন্তু একক ও বিচ্ছিন্নভাবে জিহাদের নামে অস্ত্রবাজি করা অবৈধভাবে মানুষ হত্যা করার পর্যায়ভুক্ত হবে। বস্ত্ততঃ তাওহীদের মর্মবাণীকে জনগণের নিকটে পৌঁছে দেওয়া ও তাদের মর্মমূলে প্রোথিত করাই হ'ল প্রকৃত দাওয়াত এবং জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে আপোষহীন জিহাদই হ'ল দ্বীন কায়েমের সঠিক পদ্ধতি। আর আক্বীদা ও আমলের সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজের সার্বিক সংস্কার সাধন সম্ভব। এটাই হ'ল নবীগণের চিরন্তন তরীকা। 'আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ' সেপথেই সংগ্রাম করে থাকে। (এবিষয়ে আত-তাহরীকে প্রকাশিত দরসে কুরআন 'জিহাদ ও ক্বিতাল' (ডিসেম্বর ২০০১) এবং হা,ফা,বা প্রকাশিত 'ইক্বামতে দ্বীন' বইটি পাঠ করুন)।

প্রশ্ন (৩৮/১১৮) : জনৈক মুফতী বলেছেন, কুরআনের কিছু আয়াত হাদীছ দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যেমন সূরা নূরের ২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারিণীর শাস্তি হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত এবং ১ বছর কারাদন্ড। কিন্তু ছহীহ বুখারীর হাদীছে আছে তার শাস্তি হবে পাথর মেরে হত্যা করা। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ইমদাদুল হক
আল-আরাফাহ ব্যাংক লিঃ, খুলনা।

উত্তর : এখানে হাদীছ দ্বারা কুরআনের আয়াতকে রহিত করা হয়নি। বরং বিবাহিত যেনাকারদের জন্য খাছ করা হয়েছে মাত্র। কুরআনের আয়াতে উল্লেখিত শাস্তির বিধান অবিবাহিত যেনাকারী এবং যেনাকারীনীর জন্য প্রযোজ্য এবং বিবাহিত নারী ও পুরুষ উক্ত অপকর্ম করলে তার জন্য শাস্তি হল হাদীছে বর্ণিত পাথর মেরে হত্যা করা। এখানে হাদীছ দ্বারা কুরআনের উক্ত ব্যাপক ভিত্তিক আয়াতকে বিবাহিতদের জন্য খাছ করা হয়েছে; রহিত করা হয়নি। উল্লেখ্য যে, সূরা নূর-এর উক্ত আয়াতে এক বছরের কারাদন্ডের কথা নেই।

প্রশ্ন (৩৯/১১৯) : বিভিন্ন সূদী ব্যাংক ইসলামী শাখা খুলছে। এ সব ব্যাংকে ডি.পি.এস খোলা যাবে কি?
-আলমগীর কবীর
চকদেব, নওগাঁ।

উত্তর : সূদী ব্যাংকগুলোর ইসলামী ব্যাংকিং শাখা স্রেফ প্রতারণা মাত্র। আর ইসলামী ব্যাংকগুলির ব্যাংকিং কার্যক্রম ১০০% সূদমুক্ত নয়। তাই সকল ব্যাংকেই ডি.পি.এস খোলা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রশ্ন (৪০/১২০) : কুনূতে রাতেবা পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতে বিশেষ করে ফজরের ছালাতে নিয়মিত পাঠ করা যাবে কি?
-আবুল কালাম
শিক্ষক, মাকলাহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওগাঁ

উত্তর : কুনূতে রাতেবা হ'ল যা বিতরের ছালাতে পড়া হয়। ফরয ছালাতে কুনূতে রাতেবা পড়া ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। ফজরের ছালাতে রাসূল (ছাঃ) কুনূতে রাতেবা পড়েছেন মর্মে যে হাদীছটি এসেছে তা যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১২৩৮)। আর কুনূতে নাযেলা যা যুদ্ধ, শত্রুর আক্রমণ প্রভৃতি বিপদের সময় অথবা কারুর জন্য বিশেষ কল্যাণ কামনায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বিশেষভাবে দো'আ পাঠ করতে হয়। এটি যেকোন ফরয ছালাতে পড়া যায় (মুসলিম হা/৬৭৮, নাসাঈ হা/১০৭৬)।

***