বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

রোবটের হাতে মানুষ খুন

রোবট নিঃসন্দেহে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদ। বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার থেকে রান্নাঘর, সব জায়গায় চলে এসেছে রোবট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে জটিল কাজকে আরো সহজ করার জন্য রোবটের সৃষ্টি। কিন্তু আশংকার বিষয় হ’ল সম্প্রতি মানুষের তৈরী রোবট মানুষকেই হত্যা করেছে। ঘটনা ঘটেছে জার্মানীর বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং গ্রুপ ভক্সওয়াগনের একটি কারখানায়। সেখানে রোবট স্থাপনের সময় সে একজন কনট্রাক্টরকে ধরে ফেলে। অতঃপর তাকে একটি ধাতবপাতের সঙ্গে চেপে ধরে মেরে ফেলে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেছেন, রোবট ইচ্ছা করে কাউকে খুন করতে পারে না। হয়ত তার জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামে কোন ত্রুটি ছিল। ফলে সে ভুলবশতঃ মানুষকে ধরে মেরে ফেলেছে। এখন রোবটের হাতে মানুষের খুন হওয়ার পর বেকায়দায় পড়েছে পুলিশ। মামলা হবে কার নামে? এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি তারা।

আসছে উড়ুক্কু যান

যানজটে আটকা পড়ে যাঁদের জীবন অতিষ্ঠ তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরী হতে চলেছে উড়ুক্কু যান। নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মার্টিন এয়ারক্র্যাফট জানিয়েছে, উড়ুক্কু যান আর কল্পনার কোনো বিষয় নয়। দেড় লাখ মার্কিন ডলার খরচ করলেই একটি উড়ুক্কু জেটপ্যাক কিনে ফেলা সম্ভব। পেট্রোল চালিত এই যানটি তিন হাযার ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৬ মাইল। এটি আধঘণ্টারও বেশী এক নাগাড়ে উড়তে পারে।

এই উড়ুক্কু যানটি চালকের জন্য নিরাপদ। কারণ চালকের চারপাশে আছে সুরক্ষা বেড়া ও প্যারাসুট সিস্টেম। যানটি মূলত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে কাজে লাগানোয় বেশী উপযোগী হবে বলে মনে করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। গত তিন দশক ধরে এই জেটপ্যাক তৈরীতে গবেষণা করেছে তারা। গবেষণা সফল হওয়ায় আগামী বছর থেকে এর বাজারজাত শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। স্মর্তব্য যে, উড়ুক্কু যানের ধারণা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল মূলতঃ ১৯৮১ সালে।

বিশ্বের প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড অফিস তৈরী হবে দুবাইতে

বিশ্বের প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টারে তৈরী অফিস বিল্ডিং তৈরী হচ্ছে দুবাইতে। এর ফলে খরচ ও সময়ের অপচয় দুই-ই কমবে বলে জানা গিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্যাবিনেট বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মাদ আল গেরগাওয়ি বলেন, আমরা সবসময় বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করি মানুষের জীবনযাপনকে আরও মসৃণ করতে এবং একইসঙ্গে দেশের আর্থিক বিকাশ ঘটাতে। আনুমানিক ২ হাজার বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট এই অফিসের বিভিন্ন স্তর ২০ ফুট লম্বা থ্রি-ডি প্রিন্টার দিয়ে তৈরী করা হবে। তারপর সেগুলিকে যুক্ত করা হবে, যা শেষ করতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগবে। আল গেরগাওয়ি জানান, একটা সময়ে ত্রিমাত্রিক ছাপা প্রযুক্তির স্বপ্নতুল্য ছিল। কিন্তু, এখন তা বাস্তবে পরিণত। এই বিল্ডিংটি থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার এক নিদর্শন হয়ে থাকবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নির্মাণ ও স্থাপত্যশিল্পকে নতুন দিগন্ত দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্রি-ডি প্রিন্টিংয়ের ফলে যে কোনও বিল্ডিং নির্মাণের সময় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম ব্যয় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ কমতে পারে এবং নির্মাণের অপচয় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমতে পারে।