প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪০১) : বিপদের সময় দো‘আ ইউনুস পড়া যাবে কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান, শাফীপুর, গাযীপুর।

উত্তর : বিপদের সময় দো‘আ ইউনুস পাঠ করা যাবে। আল্লাহ বলেন, অতঃপর সে (মাছের পেটে) ঘন অন্ধকারের মধ্যে আহবান করল, لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ‘(হে আল্লাহ!) তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র। আমি সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত’। ‘অতঃপর আমরা তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করলাম। আর এভাবেই আমরা বিশ্বাসীদের মুক্তি দিয়ে থাকি’ (আম্বিয়া ২১/৮৭-৮৮)

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘এই দো‘আ ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে পড়েছিলেন। যে কোন মুসলিম ব্যক্তি যে কোন সমস্যায় দো‘আটি পড়লে আল্লাহ তা কবুল করেন’ (তিরমিযী হা/৩৫০৫; মিশকাত হা/২২৯২)। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি কোন কষ্ট বা মুছীবতে নিপতিত হবে, অতঃপর দো‘আ ইউনুস পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিপদ দূর করে দিবেন’ (হাকেম হা/১৮৬৪; ছহীহাহ হা/১৭৪৪)। উল্লেখ্য যে, এক লক্ষ বার দো‘আ ইউনুস পাঠ করলে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করা যায় মর্মে যে ধারণা প্রচলিত আছে, তা ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (২/৪০২) : আমাদের দেশে সরকারীভাবে সুস্থ শিশুকে রোগ না হওয়ার আগেই প্রতিষেধক হিসাবে পোলিও সহ বিভিন্ন টিকা দেওয়া হয়। এসব টিকা গ্রহণ করা যাবে কি?

-আব্দুল্লাহ, ঢাকা।

উত্তর : যাবতীয় কল্যাণ বা অকল্যাণ সংঘটিত হয় আল্লাহ্র হুকুমে। এরূপ আক্বীদা পোষণ করে যাবতীয় হালাল চিকিৎসা বা প্রতিষেধক গ্রহণে শরী‘আতে কোন বাধা নেই (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ৪/৪২৭)। উপরোক্ত টিকাগুলি যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিকর হিসাবে প্রমাণিত হয়, তবে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্ন (৩/৪০৩) : বার্ধক্যের কষ্ট থেকে মুক্তির কোন উপায় শরী‘আতে আছে কি?

-ডা. ফযলুল হক, শফীপুর, গাযীপুর।

উত্তর : বার্ধক্য জনিত কারণে কষ্ট হলে তা থেকে মুক্তি লাভের ব্যাপারে আল্লাহ্র নবী (ছাঃ) কিছু দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি হ’ল ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল জুব্নে ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখ্লে ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন আরযালিল ‘উমুরে; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিৎনাতিদ দুন্ইয়া ওয়া ‘আযা-বিল ক্বাবরে’। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! (১) আমি

আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হ’তে (২) আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হ’তে (৩) আশ্রয় প্রার্থনা করছি চরম বার্ধক্যের বয়স হ’তে এবং (৪) আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হ’তে ও (৫) কবরের আযাব হ’তে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৯৬৪)। এছাড়া আরো দো‘আ রয়েছে। এগুলি বারবার পাঠ করলে বার্ধক্যের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (৪/৪০৪) : যারা ছালাত আদায় করে না বা শিরকে লিপ্ত, তাদের জানাযা পড়া যাবে কি?

-ফীরোয, গোপালপুর, দুর্গাপুর রাজশাহী।

উত্তর : মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত তরককারী অথবা ছালাত ফরয হওয়াকে অস্বীকারকারী এবং শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি কাফির ও চিরস্থায়ী জাহান্নামী। ঐ ব্যক্তি ইসলাম হ’তে বহিষ্কৃত। তাদের জানাযা পড়া যাবে না (তওবা ৮৪, ১১৩)। মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফনও করা যাবে না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১০/২৫০)। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান রাখে, অথচ অলসতা ও ব্যস্ততার অজুহাতে ছালাত তরক করে, সে ব্যক্তি কবীরা গোনাহগার। তার জানাযা কোন বড় আলেম পড়াবেন না (মুসলিম হা/৯৭৮)। আর যে ব্যক্তির অবস্থা অজ্ঞাত এবং যার ব্যাপারটা অস্পষ্ট ও সন্দেহযুক্ত, তার জানাযা পড়া যাবে (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল, পৃঃ ৩২-৩৫)

প্রশ্ন (৫/৪০৫) : আমি কলেজ ছাত্র। ছালাতের সময় আমার ক্লাস থাকে। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?

-হেলাল, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : ক্লাসের সময় পরিবর্তনের আবেদন করতে হবে এবং সাধ্যমত ছালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিতভাবে এরূপ দেরী করানো হলে ক্লাস বাদ দিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ ঐসব মুছল্লীর জন্য, যারা তাদের ছালাত থেকে উদাসীন’ (মাঊন ১০৭/৫)

প্রশ্ন (৬/৪০৬) : আকীকার সময় নবজাতকের ২টি নাম রাখা যায় কি?

-নূরুন্নবী, কাশিমপুর, গাযীপুর।

[নাম পরিবর্তন করে ‘আব্দুন নূর’ রাখুন (স.স)]

উত্তর : নাম, উপনাম ও লকব একত্রে রাখা যায় । যেমন আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নাম আব্দুর রহমান হওয়া সত্ত্বেও তার লকব ছিল আবু হুরায়রা’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, তুহফাতুল মাওলূদ ১৩৪-১৪৪ পৃঃ)

প্রশ্ন (৭/৪০৭) : নিজের বোনের নাতনীকে বিবাহ করা যাবে কি?

-আবু রায়হান

মহারাজনগর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : নিজ বোনের নাতনীকে বিবাহ করা হারাম (নিসা ২৩)। তাছাড়া এ সম্পর্ক যত নীচেই যাক, সবই হারাম (ফাৎহুলবারী ৯/১৫৪-৫৫, হা/৫১০৪-এর পরে ‘যে সকল মহিলা হালাল ও হারাম’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৮/৪০৮) : জনৈক প্রবাসীর গৃহে পাঠদানের সুবাদে গৃহকত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরী হয়। পরবর্তীতে তার মেয়ের সাথে আমার সামাজিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের পরও পূর্বের ন্যায় অনৈতিক সম্পর্ক চলতে থাকে। বর্তমানে আমি দুই সন্তানের পিতা। ছহীহ আক্বীদা গ্রহণ করার পর সব বুঝতে পেরে গত আড়াই বছর যাবৎ নিজ স্ত্রী থেকে দূরে রয়েছি। এক্ষণে আমার করণীয় কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখতে কোন বাধা নেই। কারণ হারাম সম্পর্ক কোন হালালকে হারাম করতে পারে না। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যেনা বৈবাহিক বন্ধনকে হারাম করে না‘ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, বায়হাক্বী, ইরওয়া হা/১৮৮১, ৬/২৮৭ পৃঃ)। অতএব আপনি নিজের কৃত মহাপাপের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহ্র নিকটে তওবা করুন এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে শ্বাশুড়ী থেকে দূরে অবস্থান করুন।

প্রশ্ন (৯/৪০৯) : আমরা আমাদের সমিতির মাধ্যমে সকলের সম্মতিক্রমে কোন চাকুরীজীবি ব্যক্তিকে পঞ্চাশ হাযার টাকা বিনিয়োগ প্রদান করি ১২ টি চেকের পাতার বিনিময়ে। যার দ্বারা আমরা ১২ মাসে মোট ৬০ হাযার টাকা গ্রহণ করি। এরূপ বিনিয়োগ পদ্ধতি জায়েয হবে কি?

-কামাল হোসাইন, ইসলামপুর, জামালপুর।

উত্তর : এরূপ বিনিয়োগ পদ্ধতিতে একই জিনিসের বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা হয়, যা সূদ এবং সম্পূর্ণরূপে হারাম (বাক্বারাহ ২/২৭৫; মুসলিম হা/১৫৯৮, ইরওয়া হা/১৩৯৭)

প্রশ্ন (১০/৪১০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, ওযূ করার জন্য যে পানির পাত্র ব্যবহার করা হয়, তা পেশাব-পায়খানায় ব্যবহার করলে চল্লিশ দিনের ইবাদত কবুল হবে না। এর কোন ভিত্তি আছে কি?

-আব্দুন নূর সরকার, কুঠিরপাড়া, রংপুর।

উত্তর : বক্তব্যটি কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (১১/৪১১) : আমাদের সমাজে ৫০টি পরিবারে ২৩১ জন লোক। আমরা কুরবানীর গোশত এক জায়গায় জমা করে ২৩১ ভাগ করে যে পরিবারে যত লোক সেই কয় ভাগ তাদেরকে দেই। এভাবে গোশত বণ্টন করা যাবে কি?

-জাহাঙ্গীর আলম

বানেশদী, নকলা, শেরপুর।

উত্তর : এরূপ কোন বিধান শরী‘আতে নেই। আল্লাহ বলেন, ‘(কুরবানীর গোশত) তোমরা নিজেরা খাও, যারা চায় না তাদের খাওয়াও এবং যারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে তাদের খাওয়াও’ (হজ্জ ৩৬)। অতএব কুরবানী দাতাগণ স্ব স্ব কুরবানীর গোশতের এক-তৃতীয়াংশ একস্থানে জমা করে মহল্লায় যারা কুরবানী করতে পারেনি, তাদের তালিকা করে সুশৃংখলভাবে তাদের মধ্যে বিতরণ করবেন ও প্রয়োজনে তাদের বাড়ীতে পৌঁছে দিবেন। বাকী এক-তৃতীয়াংশ ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করবেন (দ্রঃ মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীক্বা’ বই, পৃঃ ২৩)

প্রশ্ন (১২/৪১২) : আলু, কলা ও পানের ওশর দিতে হবে কি?

-শামস সাহেলা, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

উত্তর : দিতে হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘শাক-সবজিতে কোন যাকাত (ওশর) নেই’ (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, ছহীহুল জামে‘ হা/৫৪১১; মিশকাত হা/১৮১৩)। তবে এসবের ব্যবসার অর্থ যদি নিছাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর সঞ্চিত থাকে, তাহ’লে উক্ত অর্থের ১/৪০ ভাগ যাকাত দিবে (আবুদাঊদ হা/১৫৭৩-৭৪)। অর্থাৎ শতকরা আড়াই টাকা হিসাবে। তবে ঐসব ফসল উঠানোর সময় গরীব-মিসকীনকে কিছু দান করবে (বুখারী হা/২৩৩৭)

প্রশ্ন (১৩/৪১৩) : পুরুষদের জন্য আংটি ব্যবহার করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? রাসূল (ছাঃ) কি সোলায়মানী পাথরের আংটি ব্যবহার করতেন?

-ডা. আহসান, ইটাগাছা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : পুরুষের জন্য বিনা প্রয়োজনে আংটি পরিধান করা অপসন্দনীয় কাজ। ৬ষ্ঠ হিজরীর যুলক্বা‘দাহ মাসে হোদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদনের পর ৭ম হিজরীর মুহাররম মাসে বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানের নিকটে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে রাসূল (ছাঃ) পত্র প্রেরণ করেন। তখন সেযুগের নিয়ম অনুযায়ী সীলমোহর হিসাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ নাম খোদাইকৃত আংটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদীনও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আংটি ব্যবহার করেন (বুখারী হা/৫৮৬৬, ৫৮৭০; ফাৎহুলবারী, ১০/৩২৫ ‘আংটি ব্যবহার’ অনুচ্ছেদ)। তবে আলী (রাঃ) থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় রুপার আংটি ব্যবহার করেছেন (মুসলিম হা/২০৯৫)। সুতরাং এটি জায়েয।

রাসূল (ছাঃ) সোলায়মানী পাথরের আংটি ব্যবহার করতেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাছাড়া ‘সোলায়মানী’ শব্দটি বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, যা ভিত্তিহীন। কেননা সোলায়মান (আঃ)-এর ব্যবহৃত কোন আংটির অস্তিত্ব দুনিয়াতে নেই।

প্রশ্ন (১৪/৪১৪) : আমাদের এলাকা হানাফী অধ্যুষিত। আমি কি তাদের সাথে ৬ তাকবীরে ঈদের ছালাত পড়ব, না ছালাত আদায় থেকে বিরত থাকব?

-ফরীদুদ্দীন, নন্দীগ্রাম, বগুড়া।

উত্তর : ঈদায়নের ছালাতে ১২ তাকবীরের হাদীছগুলি ছহীহ(আবুদাঊদ হা/১১৫০; ইবনু মাজাহ হা/১২৮০, দারাকুৎনী হা/১৭০৪, ১৭১০, সনদ ছহীহ)। সেকারণ ১২ তাকবীরে ঈদের ছালাত হয়, এমন জামা‘আতে শরীক হওয়া যরূরী। তবে সম্ভব না হ’লে ৬ তাকবীরের জামা‘আতেই শরীক হবে। কেননা এতে সুন্নাত অনুসরণ না হলেও ছালাত বাতিল হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ইমামগণ তোমাদের ছালাতে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এক্ষণে তারা সঠিকভাবে ছালাত আদায় করালে তোমাদের জন্য নেকী রয়েছে। আর তারা ভুল করলে তোমাদের জন্য রয়েছে নেকী, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে গোনাহ’ (বুখারী হা/৬৯; মিশকাত হা/১১৩৩)

প্রশ্ন (১৫/৪১৫) : বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলের জন্য ওয়ালীমা করা সুন্নাত। এক্ষণে মেয়ের বাড়ীতে যে ভোজের আয়োজন করা হয়, তা কি শরী‘আত সম্মত?

-আফযাল, মাটিয়ানী, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

উত্তর : ছেলেপক্ষ বিয়ে করতে যায় এবং মোহরানা দিয়ে বিয়ে করে। সেখানে মেয়েপক্ষের কোনরূপ খরচ করার কথা নয়। এরপরেও যেটা করা হয় সেটা স্রেফ সৌজন্যমূলক আপ্যায়ন মাত্র। যা শরী‘আতসম্মত (বুখারী হা/৬০১৮)। বিয়ের পর বাসর যাপন শেষে ছেলের পক্ষ থেকে ওয়ালীমা করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি ওয়ালীমা কর। একটি বকরী দিয়ে হ’লেও’ (বুখারী হা/২০৪৮, মিশকাত হা/৩২১০)। অথচ বর্তমান যুগে ওয়ালীমার এই সুন্নাত বর্জনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে গুনাহের শামিল।

প্রশ্ন (১৬/৪১৬) : অমুসলিমদের প্রদত্ত ইফতার খাওয়া জায়েয হবে কি?

-শফীকুল ইসলাম, মান্দাই, সিঙ্গাপুর।

উত্তর : অমুসলিমদের প্রদত্ত ইফতার খাওয়া জায়েয। রাসূল (ছাঃ) অমুসলিমদের দাওয়াত খেয়েছেন এবং তাদের উপহার গ্রহণ করেছেন (বুখারী হা/২৬১৫-১৮, ‘মুশরিকদের নিকট থেকে হাদিয়া গ্রহণ’ অনুচ্ছেদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫৯৩১)। তবে তাদের যবহ কৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না (বাক্বারাহ ১৭৩)

প্রশ্ন (১৭/৪১৭) : একাকী ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে আযান দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল ওয়ারেছ, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : খোলা ও নির্জন স্থানে একাকী মুছল্লীর জন্য আযান দেওয়া মুস্তাহাব। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি সমতল স্থানে থাকা অবস্থায় ওযূ বা তায়াম্মুম করে যদি কেবল ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করে, তবে তার সাথে দু’জন ফেরেশতা ছালাত আদায় করে। আর যদি আযান ও ইক্বামত দেয়, তবে আল্লাহ্র একদল সৈন্য তার পিছনে ছালাত আদায় করে, যা সে দেখতে পায় না (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, ছহীহ আত-তারগীব হা/২৪৯)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, পাহাড়ের উঁচু স্থানে আযান দিয়ে ছালাত আদায়কারী রাখালকে দেখে আল্লাহ তা‘আলা বিস্মিত হয়ে বলেন, আমার বান্দার দিকে দেখ, সে আমার ভয়ে আযান দেয় এবং ছালাত কায়েম করে। অতএব আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম (আবুদাউদ হা/১২০৩; ছহীহাহ হা/৪১; মিশকাত হা/৬৬৪)। ইমাম শাওকানী বলেন, এ হাদীছের মধ্যে একাকী মুছল্লীর জন্য আযান দেওয়া সুন্নাত হওয়ার দলীল রয়েছে (নায়লুল আওত্বার ২/৪৩)

প্রশ্ন (১৮/৪১৮) : জনৈক আলেম বলেন, মাটি পুড়িয়ে ইট প্রস্ত্তত করা হয়। তাই ইটের ভাটার ব্যবসা করা হারাম। একথা কি ঠিক?

-মুকুল, মুরাদপুর, সাতক্ষীরা।

[আরবীতে সুন্দর নাম রাখুন (স.স)]

উত্তর : কথাটি মনগড়া ও ভিত্তিহীন। মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরী করা এবং তা দ্বারা নির্মাণ কাজ করা এসব দুনিয়াবী প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুই মানুষের ব্যবহারের জন্য সৃষ্টি করেছেন (হজ্জ ২২/৬৫)। এছাড়া শরী‘আতে প্রাণীকে পুড়িয়ে মারতে নিষেধ করা হয়েছে (বুখারী হা/৩০১৬-১৭) মাটি, গাছ ইত্যাদি কোন জড় বস্ত্তকে নয়।

প্রশ্ন (১৯/৪১৯) : রংপুর হারাগাছে বিড়ি-তামাকের ব্যাপক ব্যবসা থাকায় স্থানীয় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়ায মাহফিল ঐসব ব্যবসায়ীদের প্রদত্ত অর্থে পরিচালিত হয়ে থাকে। এক্ষণে এসব দানে দাতার কোন নেকী হবে কি? গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে পারবে কি?

-আল-আমীন, হারাগাছ, রংপুর।

উত্তর : বিড়ি-তামাক ইত্যাদি নেশাকর দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। এগুলির উৎপাদন ও ব্যবসা দু’টিই হারাম। আর হারাম উপার্জন থেকে দান করলে তাতে দাতার কোন নেকী হবে না। কারণ আল্লাহ হারাম বস্ত্ত কবুল করেন না (মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০)। তবে উক্ত অর্থ অন্যের জন্য নিষিদ্ধ নয়। কেননা আল্লাহ বলেন, একজনের পাপের বোঝা অন্যে বইবে না’ (আন‘আম ৬/১৬৪ প্রভৃতি)

প্রশ্ন (২০/৪২০) : আমার জীবিত পিতা আমাদের দশ ভাইবোনের মধ্যে ভাইদের কাউকে বেশী কাউকে কম জমি লিখে দিয়েছেন এবং বোনদের কোন জমি দেননি। এক্ষণে তার করণীয় কি?

-ছানাউল্লাহ, মচমইল, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : ওয়ারিছগণ কে কতটুকু পাবে তা স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন (নিসা ৭, ১১)। সুতরাং বণ্টনের ক্ষেত্রে উক্ত নীতির ভিত্তিতেই ভাগ করতে হবে। এক্ষেত্রে মেয়েদেরকে অংশ না দেওয়া এবং ছেলেদের মধ্যে কমবেশী করা নিঃসন্দেহে কাবীরা গুনাহ এবং তা হক বিনষ্টের শামিল। তারা ক্ষমা না করলেও আললাহ তা‘আলা উক্ত পাপ ক্ষমা করবেন না। কিয়ামতের দিন পিতার নেকী থেকে নিয়ে সন্তানদের হক পূরণ করে দেওয়া হবে। যদি তার নেকীতে না কুলায়, তাহ’লে সন্তানদের পাপসমূহ পিতার আমলনামায় যোগ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ (বুখারী হা/২৪৪৯, মিশকাত হা/৫১২৬-২৭)

এক্ষণে উক্ত পিতার করণীয় হ’ল, সন্তানদেরকে বুঝিয়ে সকল সম্পদ ফেরত নেওয়া এবং শরী‘আত মোতাবেক তা বণ্টন করা। পিতার সদিচ্ছার পরেও যদি সন্তানগণ ফিরিয়ে দিতে রাযী না হয়, তাহ’লে তারাও কঠিন গোনাহগার হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত পরিমাণ যমীন যুলুম করে নেয়, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত তবক যমীন বেড়ী পরানো হবে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৯৩৮)। অন্য হাদীছে এসেছে, ক্বিয়ামতের দিন ঐ মাটির বোঝা তার গর্দানে চাপিয়ে দেওয়া হবে’ (আহমাদ, ছহীহাহ হা/২৪২)। কোন পথ না পেলে পিতা শরী‘আত মোতাবেক সম্পত্তি বণ্টন করে অছিয়ত নামা (উইল) লিখে যাবেন। এর মাধ্যমে পিতা তার পাপ থেকে বাঁচতে পারবেন ইনশাআল্লাহ

প্রশ্ন (২১/৪২১) : ডাচ-বাংলা ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হয়ে উক্ত ব্যাংকগুলিতে কারো একাউন্ট খুলে দিলে যে মজুরী পাওয়া যায় তা বৈধ হবে কি? উল্লেখ্য ঐ একাউণ্টে সূদ জমা হয়।

-রেযওয়ানুল ইসলাম, তাহেরপুর, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত কাজে মজুরী গ্রহণ করা জায়েয (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩, মিশকাত হা/৩৭৪৮) কারণ এটা একাউণ্ট খোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার বিনিময় স্বরূপ প্রদান করা হয় মাত্র। আর ইসলামী বা সাধারণ সকল ব্যাংক একাউণ্টেই সূদ জমা হয়। সুতরাং তাতে জমা হওয়া সূদ নেকীর উদ্দেশ্য ছাড়াই দান করে দিলে সূদ গ্রহণের পাপ থেকে বাঁচা যাবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (২২/৪২২) : হাদীছে বর্ণিত জামা‘আত বলে কি বুঝায়? হকপন্থী তথা নাজাতপ্রাপ্ত জামা‘আতের বৈশিষ্ট্য কি?

-আকমাল হোসাইন, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : জামা‘আত অর্থ দল। আর হাদীছে বর্ণিত জামা‘আত বলতে ছাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের আক্বীদা, আমল ও রীতি-পদ্ধতির সনিষ্ঠ অনুসারীদের বুঝায় (মির‘আত ১/২৭৮, মিশকাত হা/১৭১-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। খ্যাতনামা ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে রাসূল (ছাঃ) বর্ণিত ‘আল-জামা‘আত’ অর্থ কি- একথা জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, ‘হক-এর অনুগামী দলই জামা‘আত, যদিও তুমি একাকী হও’ (তারীখু দিমাশ্ক্ব, সনদ ছহীহ; হাশিয়া মিশকাত আলবানী, হা/১৭৩)

এক্ষণে নাজাতপ্রাপ্ত জামা‘আতের বৈশিষ্ট্যসমূহ হ’ল- (১) তারা সর্বদা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের প্রকাশ্য অর্থের অনুসারী হবেন এবং ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী শরী‘আত ব্যাখ্যা করবেন (তিরমিযী হা/২৬৪১; মিশকাত হা/১৭১)। বিশেষতঃ আল্লাহ্র নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে তারা কোন রূপক অর্থের আশ্রয় নিবেন না। (২) আক্বীদার ক্ষেত্রে তারা সর্বদা মধ্যপন্থী হবেন এবং কখনোই চরমপন্থী বা শৈথিল্যবাদী হবেন না (বাক্বারাহ ২/১৪৩)। (৩) তাঁরা সংস্কারক হবেন (আহমাদ, মিশকাত হা/১৫৯, ১৭০; ছহীহাহ হা/১২৭৩)। (৪) তারা কুফর ও কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ও শক্তিশালী থাকেন এবং নিজেদের মধ্যে সর্বদা রহমদিল ও আল্লাহ্র প্রতি বিনীত থাকেন (ফাৎহ ৪৮/২৯, হজ্জ ২২/৩৪)। (৫) তারা জামা‘আতবদ্ধভাবে আল্লাহ্র রাস্তায় সংগ্রাম করেন এবং কখনোই উদ্ধত ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী হন না (ছফ ৬১/৪, তিরমিযী হা/২১৬৫)। (৬) তাঁরা যেকোন মূল্যে সুন্নাতকে অাঁকড়ে থাকেন ও বিদ‘আত হ’তে দূরে থাকেন (ছহীহুল জামে‘ হা/২২৩৪, মিশকাত হা/১৬৫)। (৭) তারা আপোষহীনভাবে সমাবেতভাবে হাবলুল্লাহকে ধারণ করে থাকেন এবং কখনোই তা থেকে বিচ্ছিন্ন হন না (আলে ইমরান ৩/১০৩)। (৮) তারা মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করেন এবং আপোষে মহববতের সম্পর্ক অটুট রাখেন। (৯) তারা ব্যাখ্যাগত মতভেদ-কে লঘু করে দেখেন এবং কখনোই তাকে দলীয় বিভক্তিতে পরিণত করেন না। (১০) তারা সর্বদা উত্তম মুমিন হওয়ার জন্য চেষ্টিত থাকেন এবং এজন্য সর্বদা আল্লাহ্র সাহায্য প্রার্থনা করেন (বিস্তারিত দ্রঃ ‘ফিরক্বা নাজিয়াহ’ বই ২৫ ও ৫৪ পৃঃ)

প্রশ্ন (২৩/৪২৩) : ‘বড় পীর’ বলে খ্যাত আব্দুল কাদের জীলানী (রহঃ) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। তাঁর সম্পর্কে যেসব কাহিনী শোনা যায়, তার কোন ভিত্তি আছে কি?

-সাকলাইন শাহরিয়ার, ঢাকা।

উত্তর : তাঁর নাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের বিন মূসা বিন আব্দুল্লাহ। তিনি ৪৭০ হিঃ মোতাবেক ১০৭৭ খৃষ্টাব্দে বর্তমান ইরানের অন্তুর্ভুক্ত তাবারিস্তানের জীলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি ৪৮৮ হিজরীতে বাগদাদ গমন করেন। সেখানে বিভিন্ন বিদ্বানগণের নিকট কুরআন-হাদীছ ,ফিক্বহ, আদব, নাহু সহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন।

ইবনুল আছীর, ইমাম যাহাবী, সাম‘আনী প্রমুখ বিদ্বানগণ তাঁকে সৎ, পরহেযগার, ফক্বীহ, যাহেদ ও হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হিসাবে অভিহিত করেছেন (আল-কামেল ৯/৩২৬; যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ৩৯/৮৯; সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ২০/৪৩৯-৪১)। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, তাঁর সুন্দর সুনাম ছিল... তাঁর মাঝে দুনিয়াবিমুখতা অধিক ছিল। তাঁর ব্যাপারে তাঁর অনুসারী ও সাথীদের অনেক বক্তব্য রয়েছে। তারা তার অনেক কথা, কর্ম ও কাশফ-কারামাতের কথা উল্লেখ করেন, যার অধিকাংশই বাড়াবাড়ি বৈ কিছুই নয়। বরং তিনি সৎ ও পরহেযগার ছিলেন। তিনি আল-গুনিয়াহ ও ফুতূহুল গায়েব গ্রন্থদ্বয় রচনা করেছেন। তাতে অনেক সুন্দর বিষয় রয়েছে। তবে তাতে তিনি বহু যঈফ ও জাল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (আল-বিদায়াহ ১২/৭৬৮)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে আব্দুল কাদের জীলানীর কবরে শিরকী কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে শায়খ আব্দুল কাদের এ সব কর্মকান্ড করতে বলেননি এবং তিনি এ ব্যাপারে নির্দেশও দেননি। তার ব্যাপারে যারা এ সব কথা বলবে তারা মিথ্যাবাদী। বরং শিরকী ও চরমপন্থী একদল লোক এসব বিদ‘আত আবিষ্কার করেছে’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়াহ ২৭/১২৭)। তিনি ৫৬১ হিজরী মোতাবেক ১১৬৬ খৃষ্টাব্দে ইরাকের বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য যে, তিনি মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময় ১৮ পারা কুরআন মুখস্থ করেছিলেন মর্মে যে বক্তব্য প্রচলিত আছে, তা ভিত্তিহীন(দ্রঃ প্রশ্নোত্তর ৩/১২৩, জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী’১৪)।

প্রশ্ন (২৪/৪২৪) : ভাড়া পাওয়ার জন্য মসজিদের ছাদে মোবাইল টাওয়ার স্থাপনে কোন বাধা আছে কি?

-আসাদুল্লাহ, জামালপুর।

উত্তর : মোবাইল টাওয়ার গাছ-পালা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই অর্থের প্রয়োজনে এরূপ ক্ষতিকর বস্ত্ত স্থাপন করা হ’তে বিরত থাকা আবশ্যক (দ্রঃ ‘সম্পাদকীয়’ জুন ২০১৪)

প্রশ্ন (২৫/৪২৫) : ওশরের ধান থেকে ইমাম-মুওয়াযযিনকে কিছু দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল হাই, ভারুয়াখালী, জামালপুর।

উত্তর : যাকাত বণ্টনের যে নির্ধারিত খাত সমূহ রয়েছে, তা ব্যতীত অন্য খাতে যাকাত বণ্টন করা যাবে না (তাওবাহ ৯/৬০)। মসজিদের ইমাম-মুওয়াযযিন উক্ত খাতগুলির অন্তর্ভুক্ত নন। অতএব তাদেরকে তা দেওয়া যাবে না। তবে তারা নিতান্ত গরীব হ’লে কিছু দেওয়া যাবে (আবুদাঊদ হা/১৬৩৫, মিশকাত হা/১৮৩৩)। উল্লেখ্য যে, মসজিদ কমিটির উচিৎ হবে ইমাম-মুওয়াযযিনের জন্য এমন ভাতা নির্ধারণ করা যাতে তাদের অভাব দূরীভূত হয় (আবুদাঊদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮)

প্রশ্ন (২৬/৪২৬) : মাগরিবের আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিইয়াতুল মাসজিদ পড়তে হবে না বসে থেকে আযানের পর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করতে হবে?

-সাঈদুর রহমান, হারাগাছ, রংপুর।

উত্তর : আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করার মত সময় থাকে, তবে তা আদায় করে বসবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দু’রাক‘আত ছালাত আদায় ব্যতীত না বসে’ (বুখারী হা/৪৪৪; মুসলিম হা/৭১৪; মিশকাত হা/৭০৪)। তবে সময় না থাকলে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। অতঃপর মাগরিবের পূর্বের দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করবে (বুখারী হা/১১৮৩, মিশকাত হা/১১৬৫)

প্রশ্ন (২৭/৪২৭) : দরিদ্রতার কারণে স্ত্রীর কাছে মোহরানার টাকা মাফ চাইলে এবং স্ত্রী সন্তুষ্টচিত্তে তা মাফ করে দিলে দায়মুক্ত হওয়া যাবে কি?

-আল-আমীন, সাতক্ষীরা।

উত্তর : নিরূপায় অবস্থায় স্বামী মোহর পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়লে এবং স্ত্রী স্বেচ্ছায় কিছু ছাড় দিলে, তা গ্রহণযোগ্য হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে ফরয মোহরানা প্রদান কর। তবে যদি তারা সেখান থেকে স্বেচ্ছায় তোমাদের কিছু প্রদান করে, তাহ’লে তা হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ কর(নিসা ৪)

প্রশ্ন (২৮/৪২৮) : ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা...’ মর্মে বর্ণিত দো‘আটি বিতরের কুনূত হিসাবে পাঠ করা যাবে কি?

-নাজমুল হাসান, বাঁশদহা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : বিতর ছালাতের কুনূত হিসাবে উপরোক্ত দো‘আটি না পড়ে ‘আল্লা-হুম্মাহ্দিনী ফীমা হাদাইতা...’ মর্মে বর্ণিত ছহীহ দো‘আটি পড়তে হবে (আবুদাঊদ হা/১৪২৫; তিরমিযী হা/৪৬৪; মিশকাত হা/১২৭৩)। ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা...’ দো‘আটি কুনূতে নাযেলায় পড়ার ব্যাপারে এসেছে (বায়হাক্বী ২/২১০, হা/২৯৬৩)। আলবানী (রহঃ) বলেন, আমি এ দো‘আটি বিতরের কুনূতে পড়ার ব্যাপারে কোন রেওয়ায়াত পাইনি’ (ইরওয়া হা/৪২৫ ২/১৭২ পৃঃ)

প্রশ্ন (২৯/৪২৯) : আমাদের দেশে গভীর রাত পর্যন্ত ইসলামী সম্মেলন হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? উক্ত সম্মেলনে মহিলারা যেতে পারে কি?

-ফারীহা, কেশবপুর, যশোর।

উত্তর : শ্রোতাদের চাহিদার ভিত্তিতে জালসার সময় ও সময়সীমা নির্ধারিত হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, হে জনগণ! তোমরা তোমাদের সাধ্যমত আমল করে যাও। কেননা আল্লাহ বিরক্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত হও (বুখারী হা/৫৮৬১; মিশকাত হা/১২৪৩)। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) প্রতি বৃহস্পতিবার তা‘লীমী বৈঠক করতেন। লোকেরা প্রতিদিন এটা দাবী করলে তিনি বলেন, আমি তোমাদের বিরক্তি উৎপাদন করাকে অপসন্দ করি। রাসূল (ছাঃ) আমাদের বিরক্তির ভয়ে আমাদেরকে মাঝে-মধ্যে ওয়ায করতেন’  (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২০৭)। ইবনু আববাস (রাঃ) জুম‘আর দিন নছীহত করতেন। লোকেরা তাকীদ দিলে তিনি সপ্তাহে দুই বা তিন দিন তা‘লীমী বৈঠক করার ব্যাপারে নির্দেশ দেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/২৫২)। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও পর্দার ব্যবস্থা থাকলে নারীরা এসব মাহফিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আল্লাহ বলেন, তুমি উপদেশ দাও। কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকার করে’ (যারিয়াত ৫১/৫৫)। এই উপদেশ মুমিন পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূল (ছাঃ) নারীদের উপদেশ দেওয়ার জন্য তাদের দাবীক্রমে পৃথক একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/১৭৫৩)

অতএব দিনে বা রাতে যখনই যতটুকু সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জালসা বা সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করবেন, সে হিসাবে স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় সম্মেলন পরিচালিত হবে।

প্রশ্ন (৩০/৪৩০) : রামাযান মাসে কবরের আযাব স্থগিত থাকে কি?

-মোহেববুল্লাহ, চট্টগ্রাম।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আলবানী, আহকামুল জানায়েয ২৪৬ পৃঃ; ইবনু রজব, আহওয়ালুল কুবূর ১/১০৫)। স্মর্তব্য যে, ‘রামাযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দ্বারা কেউ কেউ কবরের আযাব মাফ হওয়ার ব্যাখ্যা করে থাকেন, যার প্রমাণে কোন দলীল নেই। বরং হাদীছটির ব্যাখ্যা হ’ল- রামাযান মাসে বান্দার আনুগত্যের পথ অধিক সহজ করে দেওয়া হয় যা জান্নাত লাভের উপায় এবং পাপকর্ম থেকে বান্দার চিন্তা-চেতনাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা তার জন্য জাহান্নামের দরজা বন্ধ হওয়ার উপায়’ (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ৪/১১৪, হা/১৮৯৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ; উছায়মীন, ফাতাওয়া ইসলামিয়া ২/১৬২)

প্রশ্ন (৩১/৪৩১) : জুম‘আর দ্বিতীয় খুৎবায় কুরআন তেলাওয়াত, দরূদ পাঠ ও নিজ ভাষায় দো‘আ করা যাবে কি?

-কাওছার, বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর : জুম‘আর দ্বিতীয় খুৎবায় খতীব ছাহেব হাম্দ ও দরূদ সহ সকল মুসলমানের জন্য দো‘আ করবেন (জুম‘আ ৬২/১১; মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৫, ১৫, ১৬; নাসাঈ হা/১৪১৮, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৩৪; মির‘আত ২/৩০৮)। প্রয়োজনে এই সময় কিছু নছীহতও করা যায় (নাসাঈ হা/১৪১৭-১৮, তিরমিযী হা/৫০৬)। এছাড়া মাতৃভাষায় খুৎবা দেওয়ার ন্যায় এসময় মাতৃভাষায় দো‘আও করা যায় (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৯৬-১৯৮ পৃঃ)।

প্রশ্ন (৩২/৪৩২) : পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে বহুতল ভবন তৈরী করে সেখানে মসজিদ, বইয়ের মার্কেট, গাড়ির গ্যারেজ, গবেষণাগার, মাদ্রাসা ইত্যাদি করতে চাই। এটা শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-মেহরাব আলম তাকী

 মালতিনগর, বগুড়া।

উত্তর : মসজিদের মান অক্ষুণ্ণ রেখে এরূপ করা জায়েয (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ৩১/২১৮ পৃঃ; মুগনী ৬/১৬৮)। স্মর্তব্য যে, উক্ত মসজিদের জমি ওয়াকফকৃত হলে এসব থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ মসজিদের আয় হিসাবেই গণ্য হবে। ওয়াকফকারী সেখান থেকে কোন উপকার ভোগ করতে পারবেন না।

প্রশ্ন (৩৩/৪৩৩) : সাধ্যমত চেষ্টা করেও কোন চাকুরী না পাওয়ায় ছেলে সূদী ব্যাংকে চাকুরী নিয়েছে। তাকে শর্ত দিয়েছি যে, হালাল রূযির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব এ চাকুরী ছাড়তে হবে। এক্ষণে ছেলের উক্ত উপার্জন ভোগ করা পিতা-মাতার জন্য বৈধ হবে কি?

-সুলতান আহমাদ, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।

উত্তর : ছেলের উক্ত উপার্জন হারাম। অতএব তা পিতার জন্য ভক্ষণ করাও হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানগণ তোমাদের উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত’ (আবুদাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৭৭০)। এক্ষণে পিতা-মাতা যদি নিঃস্ব, অচল ও নিরুপায় হয়, তখন বাধ্যগত অবস্থায় সন্তানের হারাম উপার্জন থেকে জীবন বাঁচানোর মত খেতে পারবে। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি বাধ্য হয় এবং বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য তা ভক্ষণে কোন পাপ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (বাক্বারাহ ১৭৩)

প্রশ্ন (৩৪/৪৩৪) : ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় না খেয়ে ছিয়াম রাখায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-জামাল, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।

উত্তর : ইচ্ছাকৃতভাবে সাহারী না করে ঘুমিয়ে থাকা সুন্নাতের বরখেলাফ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা সাহারী খাও। কেননা তাতে বরকত রয়েছে’ (বুখারী হা/১৯২৩, মুসলিম হা/১০৯৫)। তিনি বলেন, ‘আমাদের ও আহলে কিতাবদের ছিয়ামের পার্থক্য হ’ল সাহারী করা’ (মুসলিম হা/১০৯৬)। অর্থাৎ ইহূদী-নাছারারা সাহারী করে না, আমরা করি। তিনি আরও বলেন, সাহারী বরকতপূর্ণ খাদ্য। অতএব তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। বরং একঢোক পানি হলেও তোমরা তা পান করো। কেননা  আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ সাহারী গ্রহণকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করেন (আহমাদ, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬৮৩)। তবে বাধ্যগত কারণে সাহারী খেতে না পারলেও ছিয়ামের নিয়ত করলে ছিয়াম আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (বুখারী, ফাৎহুল বারী ৪/১৭৫ হা/১৯২২-এর আলোচনা দ্রঃ ‘সাহারী ওয়াজিব নয়’ অনুচ্ছেদ; নায়লুল আওত্বার ২/২২২)

প্রশ্ন (৩৫/৪৩৫) : ওয়াহদাতুল উজূদে বিশ্বাসী ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-ওমর আব্দুল্লাহ, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : জেনে-শুনে ওয়াহদাতুল উজূদে বিশ্বাসী কোন ইমামের পিছনে ছালাত বৈধ নয়। কেননা এটি সম্পূর্ণ কুফরী আক্বীদা। ওয়াহদাতুল উজূদ বলতে অদ্বৈতবাদী দর্শন বুঝায়, যা বান্দার সত্তাকে আল্লাহ্র সত্তায় বিলীন করে দেয়। এই আক্বীদার অনুসারী ছূফীরা স্রষ্টা ও সৃষ্টিতে কোন পার্থক্য করে না। তাদের দৃষ্টিতে সবই আল্লাহ এবং সব সৃষ্টিই আল্লাহ্র অংশ। তাদের মতে, আল্লাহ নিরাকার। তিনি আরশে নন, বরং সর্বত্র বিরাজমান। অতএব যে ব্যক্তি মূর্তিপূজা করে কিংবা গাছ, পাথর, মানুষ, তারকা ইত্যাদি পূজা করে, সে মূলতঃ আল্লাহকেই পূজা করে। সবকিছুর মধ্যে আল্লাহর নূর বা জ্যোতির প্রকাশ রয়েছে। সুতরাং মানুষের মধ্যে মুমিন ও কাফের-মুশরিক বলে কোন পার্থক্য নেই। তাদের ধারণায় খৃষ্টানরা কাফের এজন্য যে, তারা কেবল ঈসা (আঃ)-কেই প্রভু বলেছে। যদি তারা সকল সৃষ্টিকেই আল্লাহ বলত, তাহ’লে তারা কাফের হ’ত না। বলা বাহুল্য এটাই হ‘ল হিন্দুদের ‘সর্বেশ্বরবাদ’। বর্তমানে এই আক্বীদাই মা‘রেফাতপন্থী ছূফীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। অতএব জেনে-শুনে এরূপ নষ্ট আক্বীদাসম্পন্ন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। তবে না জেনে যদি কেউ তাদের ইক্তেদা করে, তবে তার ছালাত হয়ে যাবে।   

প্রশ্ন (৩৬/৪৩৬) : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য স্ত্রীর মধ্যে কি কি গুণ থাকা আবশ্যক?

-ছালেহা, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য স্ত্রীর মধ্যে প্রধানতঃ যে গুণগুলি থাকা আবশ্যক তা হ’ল (১) স্বামীর সাথে সর্বদা হাসি মুখে কথা বলা (২) স্বামীর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যদি তা শরী‘আতের পরিপন্থী না হয় (৩) নিজের ইয্যত রক্ষা করা (৪) স্বামীর ধন-সম্পদ হেফাযত করা (৫) অল্পে তুষ্ট থাকা। আল্লাহ বলেন, সতী-সাধ্বী স্ত্রীগণ হয় (স্বামীর) অনুগত এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে’ (নিসা ৩৪)। রাসূল (ছাঃ) সর্বোত্তম স্ত্রী সম্পর্কে বলেন, উত্তম স্ত্রী সেই, যার দিকে তাকিয়ে স্বামী আনন্দিত হয়। স্বামী কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং নিজের ক্ষেত্রে ও নিজ সম্পদের ক্ষেত্রে স্বামী যা অপসন্দ করেন, সে তা করেনা’ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২৭২)

প্রশ্ন (৩৭/৪৩৭) : এ্যালকোহলযুক্ত সেন্ট মাখা যাবে কি?

-আফসার, উমরপুর, ঘোড়াশাল, মুর্শিদাবাদ।

উত্তর : এ্যালকোহল তথা মাদক মিশ্রিত খাদ্য ও পানীয় হারাম (মায়েদাহ ৫/৯০-৯১)। সেন্টে ব্যবহৃত এ্যালকোহল খাদ্য বা পানীয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে সামান্য পরিমাণ পরিশোধিত এ্যালকোহল ব্যবহার করা হয় কেবল তা সংরক্ষণের জন্য। এছাড়া সেন্ট শরীরে বা মস্তিষ্কে কোন মাদকতা আনে না। অতএব এসব সেন্ট ব্যবহার করা হারাম নয়।

প্রশ্ন (৩৮/৪৩৮) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘চল্লিশটি (উত্তম) স্বভাব রয়েছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে উন্নত স্বভাব হ’ল দুধেল প্রাণী কাউকে দান করা। যে কোন আমলকারী ঐ স্বভাবগুলির কোনটির উপর ছওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে ও তার জন্য প্রতিশ্রুত প্রতিদানের বিষয়কে সত্য জেনে আমল করবে তাকে অবশ্যই মহান আল্লাহ জান্নাতে দাখিল করবেন’ (বুখারী হা/২৬৩১)। উক্ত হাদীছে বর্ণিত চল্লিশটি স্বভাব কি কি?

-ফেরদৌস মন্ডল, চিলমারী, কুড়িগ্রাম।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লেখিত চল্লিশটি উত্তম স্বভাব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অবগত ছিলেন। কিন্তু তিনি সেগুলির বর্ণনা দেননি। কারণ তাতে উম্মতে মুহাম্মাদী কেবল ঐগুলিই আমল করবে এবং অন্যান্য উত্তম স্বভাবগুলির প্রতি উদাসীন হবে। তবে উক্ত চল্লিশটি উত্তম স্বভাবের মধ্য থেকে কতিপয় উত্তম স্বভাব বিভিন্ন ছহীহ হাদীছ থেকে ইবনু বাত্ত্বাল উল্লেখ করেছেন, যেগুলি নিম্নরূপ :

(১) বকরী দান করা (২) সালামের জবাব দেওয়া (৩) হাঁচির জবাব দেওয়া (৪) রাস্তা হ’তে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে দেওয়া (৫) শিল্প প্রস্ত্ততকারীকে সহায়তা করা (৬) অজ্ঞকে শিক্ষা দান করা (৭) জুতার ফিতা দান করা (৮) মুসলিম ভাইয়ের কোন দোষ গোপন করা (৯) মানহানি থেকে মুসলিম ভাইকে রক্ষা করা (১০) তাকে আনন্দ দান করা (১১) বৈঠকে কেউ আসলে তার জন্য জায়গা করে দেওয়া (১২) উত্তম কাজের পথ প্রদর্শন করা (১৩) উত্তম কথা বলা (১৪) জনকল্যাণে গাছ লাগানো (১৫) চাষাবাদ করা (১৬) অন্যের কল্যাণে সুফারিশ করা (১৭) রোগীকে দেখতে যাওয়া (১৮) মুছাফাহা করা (১৯) আল্লাহ্র জন্যই কাউকে ভালোবাসা (২০) আল্লাহ্র জন্যই কাউকে ঘৃণা করা (২১) আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে পরস্পরে বৈঠক করা (২২) ও সাক্ষাৎ করা (২৩) মানুষের প্রতি শুভ কামনা করা (২৪) অপরের প্রতি অনুগ্রহ করা প্রভৃতি (ফাৎহুল বারী, ৫/৩০৭, হা/২৬৩১-এর আলোচনা ‘দানের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৯/৪৩৯) : কুরআন হেফয করার পর মুখস্থ না রাখতে পারলে গোনাহগার হবে কি? ‘কুরআন ভুলে গেলে ক্বিয়ামতের দিন তাদের মুখের চামড়া থাকবে না’ কথাটির সত্যতা আছে কি?

-শরীফ হোসাইন, হারাগাছ, রংপুর।

উত্তর : কুরআন ভুলে যাওয়া বড়ই মন্দ কাজ। বিশেষতঃ অলসতা বশতঃ এরূপ হলে তা আরো নিন্দনীয়। আবুল ‘আলিয়া (রহঃ) থেকে মওকূফ সূত্রে বর্ণিত আছারে এসেছে, তিনি বলেন, আমরা কোন ব্যক্তির কুরআন শিক্ষার পর তা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখার কারণে ভুলে যাওয়াকে বড় পাপ হিসাবে গণ্য করতাম’ (সনদ জাইয়িদ)। ইবনু সীরীন বলেন, কেউ কুরআন ভুলে গেলে লোকেরা তাকে কঠিন ভাষায় ভৎর্সনা করত’ (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী হা/৫০৩৮-এর আলোচনা, সনদ ছহীহ)। তবে চেষ্টা সত্ত্বেও যদি ভুলে যায়, তবে সে গুনাহগার হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা কুরআনের প্রতি যথাযথভাবে যত্নবান হও। আল্লাহ্র কসম! উট যেমন বাঁধন ছিঁড়ে চলে যায়, কুরআন তার চেয়ে বেশী দ্রুত চলে যায়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২১৮৭)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কষ্টকরভাবে কুরআন পাঠ করে, সে দ্বিগুণ ছওয়াব পায়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২১১২)। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। বরং সে যেন বলে, আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২১৮৮)

‘ক্বিয়ামতের দিন তার মুখের চামড়া থাকবে না’ মর্মে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে ভুলে যাবে সে ক্বিয়ামতের দিন অঙ্গহানী অবস্থায় আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আবুদাঊদ হা/১৪৭৪; মিশকাত হা/২২০০)। এছাড়া ‘কুরআন বা কুরআনের কোন আয়াত ভুলে যাওয়া সবচেয়ে বড় গোনাহ‘ মর্মে বর্ণিত হাদীছটিও যঈফ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৭২০, যঈফুল জামে‘ হা/৩৭০০)

প্রশ্ন (৪০/৪৪০) : ছালাতে আয়াতের জওয়াব সরবে দিতে হবে না নীরবে?

-আব্দুল্লাহ আল-মামূন, ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : আয়াতের জওয়াব নীরবে দিতে হবে। কারণ ছালাতের শুরু হ’তে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র ‘আমীন’ সরবে বলার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় (আবুদাঊদ, তিরমিযী, দারাকুৎনী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৮৪৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মুছল্লী তার প্রতিপালকের সাথে চুপে চুপে কথা বলে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭১০)

 

 

HTML Comment Box is loading comments...