সংগঠন সংবাদ

আন্দোলন

নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী সফরে আমীরে জামা‘আত

গত ২৫ হ’তে ৩০শে জুন পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নরসিংদী,  নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা যেলার বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক সফরে গমন করেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণ পেশ করেন। বিস্তারিত রিপোর্ট নিম্নরূপ :

মাধবদী, নরসিংদী ২৫শে জুন বৃহস্পতিবার : অদ্য ভোর ৫-টায় রাজশাহী হ’তে ঢাকা কোচ যোগে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও তাঁর সফরসঙ্গী ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন নরসিংদীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সকাল সাড়ে দশটায় তারা ঢাকার বাইপাইল স্টপেজে নামলে সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষমাণ ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব ও অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর মাইক্রো যোগে তারা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

নরসিংদী পৌঁছে তাঁরা যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র উদ্যোগে সদর উপযেলাধীন মাধবদী পৌরসভার রমনী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যোগদান করেন। যেলা ‘আন্দোলন’ -এর সভাপতি কাযী আমীনুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযাম এমনকি চার ইমামের উপদেশধন্য নির্ভেজাল ইসলামী আন্দোলনের নাম। এ আন্দোলন পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে সমাজের সার্বিক সংস্কার সাধন করতে চায়। আমাদের দাওয়াত নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠীর প্রতি নয়। বরং প্রত্যেক আদম সন্তানের প্রতি। যেন তারা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পায়। যেকোন ব্যক্তি বা সংগঠন আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মূলনীতি এবং কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতির সাথে ঐক্যমত পোষণ করবেন, তাদের সাথে আমাদের আদর্শিক ঐক্য হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাযী আব্দুল্লাহ শাহীন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব, ঢাকা যেলা ‘যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক শফীকুল ইসলাম, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক দেলাওয়ার হোসাইন, প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামূন, যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা আব্দুর রহীম (বাগেরহাট) ও পাঁচদোনা শাখা ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র সহ-সভাপতি ছিফাত হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন।

প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেও বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সুধীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলে। বাদ মাগরিব সাধারণ শ্রোতাদের এবং কয়েকটি ব্যবসায়ী ও ইসলামী সংগঠনের যেলা নেতৃবৃন্দের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী মুহাম্মাদ বাকের ছাহেবের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। অতঃপর রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

মাদারটেক, ঢাকা ২৬শে জুন শুক্রবার : নরসিংদী থেকে ঢাকা পৌঁছে আমীরে জামা‘আত মাদারটেক থানাধীন মাদারটেক আহলেহাদীছ জামে মসজিদ কমিটির সদস্য জনাব জালালুদ্দীনের আমন্ত্রণে তার বাসায় ওঠেন। পরদিন শুক্রবার  তিনি অত্র মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। অতঃপর বাদ জুম‘আ থেকে মসজিদে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে সমবেত সুধীবৃন্দের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, আহলেহাদীছ জামা‘আত নিজেদের মধ্যকার অনৈক্যে ঘুণে ধরা বাঁশের মত হয়ে গেছে। তাদেরকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ইমারতের অধীনে সুনির্দিষ্ট ইসলামী লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হ’তে হবে। কলুষিত ও বিভক্ত অন্তর নিয়ে রাফ‘উল ইয়াদায়েন করে ছালাত আদায়ে কোন লাভ হবে না। তিনি কোনরূপ প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

মসজিদ কমিটির সভাপতি জনাব তমীযুদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, আল-মারকাযুল ইসলামী আসসালাফী নওদাপাড়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, অত্র মসজিদের খতীব মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, অত্র মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা শামসুর রহমান আযাদী প্রমুখ। ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জামীলুর রহমান, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মাদ আহসান, সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ২৭শে জুন শনিবার : অদ্য বাদ যোহর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ নারায়ণগঞ্জ যেলার উদ্যোগে রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন ভরত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা শফীকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, দেশী ও বিদেশী নানা মতাদর্শে জাতি বিভক্ত। অথচ জাতি চায় সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে। তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার একটা ভিত্তি উপস্থাপন করেছে। আর তা হ’ল পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ। অতএব সবকিছু ছেড়ে সেদিকে ফিরে যাওয়াই আমাদের প্রধান কর্তব্য হবে। তিনি বলেন, সংগঠনই শক্তি। অতএব আসুন! আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের সমাজকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে গড়ে তুলি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাযী আব্দুল্লাহ শাহীন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, মাদারটেক আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, ঢাকা যেলা ‘যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক শফীকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক মাহফূযুর রহমান। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্জ আবুল হাশেম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ছফিউল্লাহ খান, অর্থ সম্পাদক মুমিনুদ্দীন মাষ্টার, কাঞ্চন এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মাদ মিলন, যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি মুহাম্মাদ মুস্তাফীযুর রহমান সোহেল প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, দিনব্যাপী অবিরাম বর্ষণের মধ্যে শত শত কর্মী ও সুধী ছাতা মাথায় কাদা মাড়িয়ে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সম্পূর্ণ ত্রিপল দিয়ে ঢাকা দু’হাযার চেয়ার বিশিষ্ট বিশাল প্যান্ডেলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেককে দাঁড়িয়ে এবং স্কুলের বারান্দায় বসে বক্তব্য শ্রবণ করেন। আহলেহাদীছ আন্দোলনের দাওয়াতে বৃষ্টি-কাদার মধ্যেও মানুষের ঢল দেখে সকলে বিস্মিত হয়েছেন এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। মহান আল্লাহ এই আন্দোলনকে কবুল করুন-আমীন!

বেরাইদ, ঢাকা ২৮শে জুন রবিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ বেরাইদ এলাকার উদ্যোগে বেরাইদ পূর্বপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক আলোচন সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি আলহাজ্জ মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, এই বিশাল মসজিদে হাযারো মুছল্লীর সাথে উদ্বোধনী জামা‘আতে শরীক হ’তে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। সেই সাথে সকলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যেন এটি আহলেহাদীছ আন্দোলনের মারকায হয়। কোনরূপ শিরক ও বিদ‘আত যেন এখানে দানা বাঁধতে না পারে। সেজন্য চাই সচেতন ও যোগ্য আহলেহাদীছ কমিটি ও নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’ -এর সহ-সভাপতি এম.এ. কেরামত, বেরাইদ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ মাহফূযুর রহমান, অত্র মসজিদের খতীব মাওলানা সারওয়ার হোসাইন প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, বাড্ডা থানাধীন বেরাইদ পূর্বপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদটি বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্মাণাধীন। ৬ তলা ফাউন্ডেশনের বিশালায়তন এই মসজিদটির তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ প্রায় সমাপ্তির পথে। স্থানীয় মুছল্লীদের মতামতের ভিত্তিতে নির্মাণাধীন নতুন মসজিদেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় এবং মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের ইমামতিতে আছরের ছালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে মসজিদটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। ফালিল্লা-হিল হাম্দ। অতঃপর মাগরিবের ছালাতের পর আমীরে জামা‘আত জনাব মোশাররফ হোসাইনের বাসায় দায়িত্বশীলদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। এ সময়ে তিনি সংগঠনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এখানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মাদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার।

এ সময়ে নারারণগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মাওলানা কেরামত আলীর শ্বশুর জনাব মুহাম্মাদ যহীরুদ্দীন মিয়াঁ পূর্বাচল নতুন টাউনে তার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ও ৫ কাঠার দু’টি প্লট সহ ৩০ শতক জমি ‘আন্দোলন’-এর নামে লিখে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাতে উপস্থিত সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। আলহামদুলিল্লাহ

ধামালকোট, ঢাকা ২৯শে জুন সোমবার : অদ্য বাদ আছর ভাসানটেক থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ধামালকোট আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদের  মুতাওয়াল্লী জনাব আব্দুল হান্নান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, মাদারটেক আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ধামালকোট জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মরহূম মাওলানা আমানুল্লাহর কথা স্মরণ করেন ও তাঁর রূহের মাগফেরাতের জন্য দো‘আ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, রড-সিমেন্ট ও বালুবিহীন শুধু ইটের দেওয়াল যেমন টিকে না। ইমারত ও সংগঠন বিহীন আহলেহাদীছ জামা‘আত তেমনি শক্তভাবে টিকে না। তিনি বলেন, আপনাদের দান-ছাদাক্বা যেন বিদ‘আত প্রসারে ব্যয় না হয়ে ছহীহ হাদীছের সংগঠন ও আন্দোলন প্রসারে ব্যয় হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

ত্রিমোহিনী, ঢাকা ৩০শে জুন মঙ্গলবার : অদ্য বাদ আছর যেলার খিলগাঁও থানাধীন ত্রিমোহিনী হাজী রুস্তম আলী মাষ্টার আহলেহাদীছ জামে মসজিদে ত্রিমোহিনী শাখা ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ ও মসজিদ কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদের মুতাওয়াল্লী জনাব আব্দুল হাফীয ছাহেবের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত অত্র ইফতার মাহফিলে যোগদান করেন। প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফিরক্বায়ে নাজিয়াহ হ’ল আহলেহাদীছ জামা‘আত। কিন্তু প্রকৃত তা‘লীম ও নিয়মিত সাংগঠনিক পরিচর্যা না থাকায় আমরা পিছিয়ে গেছি। আমাদেরকে পরকালে জান্নাত পাওয়ার লক্ষ্যে যেকোন ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তিনি ঢাকাতে প্রস্তাবিত ‘দারুল হাদীছ বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জমি দানের জন্য জনাব আব্দুল হাফীয ও স্থানীয় ভূমি মালিকদের প্রতি আহবান জানান

মুতাওয়াল্লী ছাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ আহসান, মাদারটেক আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, নয়াবাজার বায়তুল মা‘মূর আহলেহাদীছ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শামসুর রহমান আযাদী প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে আমীরে জামা‘আত স্থানীয় ডা. যামান ছাহেবের বাসায় অতিথ্য গ্রহণ করেন। অতঃপর সেখান থেকে মাদারটেক সিসিলি গার্মেন্টস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মনযূর মোরশেদ-এর আমন্ত্রণে তার অফিসে গমন করেন। আমীরে জামা‘আত এখানে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকটে সংক্ষিপ্তভাবে আহলেহাদীছ আন্দোলনের মৌলিক দাওয়াত তুলে ধরেন। এ সময়ে ঢাকা যেলার পক্ষ থেকে আমীরে জামা‘আতের রচিত এক সেট বই তাকে উপহার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, জনাব মনযূর মোরশেদ-এর সহযোগিতায় সিসিলি গার্মেন্টস-এর সম্মুখস্থ প্রশস্ত জায়গায় বিগত প্রায় ১০ বছর যাবত আহলেহাদীছ জামা‘আতের ১২ তাকবীরে ঈদের ছালাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

রাজশাহী প্রত্যাবর্তন : সপ্তাহব্যাপী সফর শেষে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও তাঁর সফরসঙ্গী ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন রাত ১১-টার কোচ যোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং পরদিন ভোর সোয়া ৬ টায় রাজশাহী পৌঁছেন। আমীরে জামা‘আতকে কল্যাণপুর বাসষ্ট্যান্ডে এসে বিদায় জানান ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার, অর্থ সম্পাদক কাযী হারুনুর রশীদ ও মাদারটেক আহলেহাদীছ জামে মসজিদ কমিটির সদস্য জনাব জালালুদ্দীন।

তোমরা আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হও

-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১লা জুলাই বুধবার : অদ্য বাদ আছর ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে কাজলাস্থ হাদীছ ফাউন্ডেশন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সমবেত ছাত্র ও যুবকদের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ আল্লাহ প্রেরিত অহি-র বিধান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। পবিত্র কুরআন এ মাসেই নাযিল হয়েছে। যেকারণে রামাযানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যে জাতি কুরআনকে সার্বিক জীবনে লালন করবে, তাদের মর্যাদা তেমনি বৃদ্ধি পাবে। তিনি মুক্তবুদ্ধি চর্চার নামে শয়তানী প্রবৃত্তির গোলাম না হওয়ার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, আমাদের ভাষা হবে বিশুদ্ধ তাওহীদী বাংলা। যা সকল কুফরী বাংলা এবং ইসলামের নামে শিরকী ও বিদ‘আতী বাংলার দূষণ হ’তে মুক্ত থাকবে। তিনি সকল প্রকার অনৈসলামী সংস্কৃতি হ’তে বিরত থাকার এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুসরণের আহবান জানান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র সভাপতি আরবী ৪র্থ বর্ষ সম্মান-এর ছাত্র কাওছার আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ মুস্তাক্বীম, রাজশাহী মহানগর ‘যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক নাজীদুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন’ জামে মসজিদের খতীব মুহাম্মাদ হায়দার আলী। অনুষ্ঠানে প্রায় ছয়শ’ ছাত্র ও সুধী অংশগ্রহণ করেন।

পার্থিব তাড়না দমন করে আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয়ে ব্রতী হও

-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

রাজশাহী মহানগরী ৩রা জুলাই শুক্রবার : অদ্য বাদ আছর ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ রাজশাহী মহানগরী ও রাজশাহী সরকারী কলেজ শাখার যৌথ উদ্যোগে নগরীর সাফাওয়াং চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব সমবেত ছাত্র ও যুবকদের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, এ দু’টি বস্ত্ত হ’ল মানবজাতির নিকট শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর রেখে যাওয়া অমূল্য আমানত। উক্ত আমানতের খিয়ানত না করা এবং তার যথাযথ হক আদায় করার মধ্যেই আমাদের সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাই তারুণ্যের জোয়ার থাকতেই এবং জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যেন আমরা সকলে সচেষ্ট হই, সে ব্যাপারে তিনি ছাত্র-যুবক ও সুধীবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

রাজশাহী মহানগর ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, রাজশাহী মহানগর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক গিয়াছুদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মবিনুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর ‘যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক নাজীদুল্লাহ, রাজশাহী সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর একরামুল হক, রাজশাহী কলেজ শাখা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি রবীউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চৌদ্দ শতাধিক ছাত্র ও সুধী অংশগ্রহণ করেন।

আমীরে জামা‘আতের পাবনা সফর

পাবনা ২রা জুলাই বৃহস্পতিবার : অদ্য সকাল সোয়া ১০-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত যরূরী সফরে পাবনা গমন করেন। সফরের পূর্ণ বিবরণ নিম্নরূপ :

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও বর্তমান পাবনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রধান উপদেষ্টা জনাব রবীউল ইসলাম (৭৭)-এর স্ত্রী বিয়োগের খবর পেয়ে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গী অফিস সহকারী মুফাক্ষার হোসাইনকে সাথে নিয়ে পাবনা শালগাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সেখানে তিনি বেলা ২-টায় অনুষ্ঠিত জানাযার ছালাতে অংশগ্রহণ করেন। জানাযায় পাবনা শহরের সর্বস্তরের মুছল্লী ছাড়াও ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র আশপাশের শাখাসমূহ এবং চাটমোহর, আতাইকুলা, ঈশ্বরদী প্রভৃতি এলাকা থেকে বহু কর্মী জানাযায় যোগদান করেন। অতঃপর দাফন কার্য শেষে তিনি পাবনা সদর উপযেলা সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ রেযাউল করীমের বাসায় গমন করেন। সেখান থেকে শহরের ‘মুজাহিদ ক্লাব’ সংলগ্ন শিবরামপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে আছরের ছালাত আদায় করেন। সেখানে সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে প্রথমে জনাব রবীউল ইসলাম নাতিদীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। অতঃপর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত তাঁর ভাষণ পেশ করেন।

পাবনা যেলা জমঈয়তে আহলেহাদীছের সাবেক সভাপতি মরহূম আফযাল হোসায়েন (খোকা, মৃ. ১১/২/১৯৮৬)-এর পুত্রগণ ও ছোট ভাই জনাব আনোয়ারুল ইসলাম কামাল-এর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সেখানে গমন করেন।

চাঁদমারী ইফতার মাহফিল :

‘মুজাহিদ ক্লাব’ সংলগ্ন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে প্রোগ্রাম শেষ করে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত পাবনা যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’ কর্তৃক শহরের চাঁদমারী আহলেহাদীছ জামে মসজিদের দোতলায় আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিলে যোগদান করেন। যেখানে ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতার আগেই উপস্থিত হয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। সবশেষে আমীরে জামা‘আত ও জনাব রবীউল ইসলাম সেখানে পৌঁছেন। অতঃপর রবীউল ইসলাম ছাহেবের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর আমীরে জামা‘আত তাঁর ভাষণ পেশ করেন। অতঃপর ইফতার ও ছালাত শেষে তিনি পুনরায় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন।

প্রোগ্রাম শেষে চাঁদমারী থেকে ফিরে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও সংগঠনের দায়িত্বশীলগণ মরহূম আফযাল হোসায়েন-এর কবর যিয়ারত করেন। অতঃপর তাঁর বাড়ীতে আতিথ্য গ্রহণ করেন। সবশেষে রাত্রি সোয়া ৯-টায় তিনি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ও পৌনে ১২-টায় মারকাযে পৌঁছে যান। ফালিল্লাহিল হাম্দ