প্রবন্ধ


১৬ মাসের  মর্মান্তিক  কারা স্মৃতি

[২০০৫ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারী থেকে ২০০৬ সালের ৮ই জুলাই। ১ বছর ৪ মাস ১৪ দিন]

অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম*
সাধারণ সম্পাদক, আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ।

(৪র্থ কিস্তি)

তিন দিনের রিম্যান্ড শেষে আমরা সিরাজগঞ্জ থেকে নওগাঁ কারাগারে গেলাম। স্যার এবার কিছুদিন আমাদের সঙ্গে থাকলেন। এসময় তিনি ‘ইনসানে কামেল’ বইটি লিখলেন। তিনি সারা দিন পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকতেন। বিশেষ করে আযীযুল্লাহর পিএইচ.ডি থিসিসের বিষয়বস্ত্ত প্রিন্সিপ্যাল ইব্রাহীম খাঁর প্রায় সাড়ে ছয়শো পৃষ্ঠার বইটি তিনি পড়ে শেষ করে ফেলেন। একদিন তিনি এক মনে বই পড়ছিলেন। সুবেদার ছাহেব এসে তাঁর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি সালাম দিলে স্যার মাথা উঁচু করে তার সালামের জবাব দেন। সুবেদার ছাহেব সেদিন বিস্মিত হয়ে অনেক প্রশংসামূলক কথা বলেছিলেন। ঐ সময় মাসিক আত-তাহরীক আগস্ট’০৫ সংখ্যায় ‘আমার আববুর মুক্তি চাই’ শিরোনামে স্যারের কনিষ্ঠ পুত্র নওদাপাড়া মারকাযের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকিরের একটি কবিতা বের হয়। যা পড়ে আমরা কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। সুবেদার ছাহেব বলেছিলেন, বাপ কা বেটা। রক্তের তেজ এগুলি’। ইতিপূর্বে এপ্রিল’০৫ সংখ্যায় আমীরে জামা‘আতের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব-এর ‘আমার আববাকে কেন গ্রেফতার করা হ’ল!’ শিরোনামে লেখাটি বের হয়। যা ঐ সময় দৈনিক ইনকিলাব ৪ঠা মার্চ’০৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া আমাদের মুক্তির পক্ষে লিখিত ড. সাখাওয়াত হোসাইন, মুযাফফর বিন মুহসিন, শামসুল আলম, শিহাবুদ্দীন আহমাদ এবং অন্যান্যদের লিখিত প্রবন্ধ, কবিতা ও বক্তৃতা সমূহ কারাগারের জীবনে আমাদের জন্য সান্ত্বনার বস্ত্ত ছিল।

১৭ই আগস্ট’০৫ তারিখে দেশব্যাপী ৬৩ যেলায় একযোগে জেএমবিদের বোমা হামলার পরে ৩১শে আগস্টের পত্রিকায় স্যারের ভাগিনা ছদরুল আনাম-এর গ্রেফতারের খবর পড়ে স্যার খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত হন। ৩০শে আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১১-টার দিকে চট্টগ্রামে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  আমরা সবাই তার জন্য প্রাণভরে দো‘আ করি। তিনি ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর চট্টগ্রাম যেলা সভাপতি। পরে জেনেছি, তার বিরুদ্ধে ৫টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। সবগুলি প্রাথমিক তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি এফআরটি পান এবং সবশেষ একটিতে চূড়ান্ত বিচারে তিনি বেকসুর খালাস পান। অতঃপর ২ বছর ৩ মাস ২০ দিন পর ২০.১২.০৭ইং  বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায়  ঈদুল  আযহার এক দিন পূর্বে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। ফালিল্লাহিল হামদ

স্যার বাদে আমাদের সকল কর্মীদের মধ্যে তিনিই সবচাইতে বেশী দিন কারা যন্ত্রণা ভোগ করেন। আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে এর উত্তম বদলা দান করুন- আমীন!

স্যার এসময় তার জন্য বিশেষভাবে দো‘আ করতেন। যেমনটি মূসা (আঃ) তাঁর ভাই হারূনের জন্য করতেন। আল্লাহ বলেন, ‘মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি শুধু নিজের উপর ও আমার ভাইয়ের উপর অধিকার রাখি। অতএব তুমি আমাদের উভয়ের ও এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ফায়ছালা করে দাও’ (মায়েদাহ ৫/২৫)। স্যার ভাই-এর স্থলে ‘আমার ভাগিনা’ বলতেন। তিনি আমাদের সঙ্গে দুঃখ করতেন এরূপ নিরীহ নির্দোষ ছেলেকে যারা কষ্ট দিচ্ছে, আল্লাহ তাদের কখনই ছাড়বেন না।

তিনি প্রায়ই বলতেন, আমাদের কারাবন্দী প্রায় ৪০ জন নেতা-কর্মীর সকলের মুক্তির পরেই যেন আমার মুক্তি হয়। আল্লাহ সেটাই কবুল করেন এবং তিনি মুক্তি পান সবার শেষে ৩ বছর ৬ মাস ৬ দিন পর ২০০৮ সালের ২৮শে আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়া যেলা কারাগার থেকে।

হাইকোর্টে যামিন হ’ল না : নওগাঁ জেলের সুবেদার ছাহেব ১লা সেপ্টেম্বর’০৫ এসে স্যারকে বললেন, আজকের পত্রিকায় দেখলাম আপনার যামিন হয়েও হ’ল না। জ্যেষ্ঠ বিচারক আপনাকে যামিন দিয়েছিলেন। দু’দিন পরে এসে কনিষ্ঠ বিচারক ভিন্নমত পোষণ করেন। ফলে দ্বিধাবিভক্ত রায়ের কারণে যামিন হ’ল না। কথাগুলি শুনে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত হ’লাম। যেখানে চোর-দস্যুরা যামিন পায়, সেখানে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর যামিন পান না, এটা কেমন হাইকোর্ট? কে না জানে যে, কনিষ্ঠ বিচারক সর্বদা সরকারের স্বার্থ দেখে থাকেন। হ্যাঁ, সেদিনকার সেই যামিন না হওয়ার খেসারত স্যারকে দিতে হ’ল ৩ বছর ৬ মাস ৬ দিন কারা নির্যাতন ভোগের মাধ্যমে। কি চমৎকার বিচার বিভাগ ও কি চমৎকার গণতন্ত্র!

এসময় স্যারকে ‘ডিভিশন’ নেওয়ার জন্য আমরা পরামর্শ দেই। তখন তিনি বলেন, সেটা নিলে তো আমাকে সেখানে তোমাদের ছেড়ে একাই থাকতে হবে। তার চাইতে যেভাবে আছি, এটাই কি ভাল নয়? তখন তিনি বা আমরা কেউই জানতাম না যে, স্যারকে আমাদের থেকে সত্বর অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত করা হবে। স্যার বললেন, এসব আবেদন করে কোন লাভ হবে না। কারণ যে দেশের হাইকোর্ট আমাকে যামিন দেয়নি, সে দেশের কোন আদালত আমাকে ‘ডিভিশন’ দিবে না।

স্মর্তব্য যে, উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ কারাগারে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা পান ও তাদেরকে কারাগারের ভাষায় ‘ডিভিশন’ দেওয়া হয়। যেখানে তাদের কিছুটা উন্নতমানের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদেরকে দৈনিক পত্রিকা পাঠের সুযোগ দেওয়া হয়। এ নিয়ম বৃটিশ আমল থেকে চলে আসছে। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে এটার নিরপেক্ষ প্রয়োগ নেই।   

উল্লেখ্য যে, আমরা একটানা নওগাঁ জেলে থাকলেও আমীরে জামা‘আতের মামলা ছিল বিভিন্ন যেলায়। ফলে তাঁকে প্রতিটি মামলার হাযিরার দিনে চলে যেতে হ’ত। এভাবে তাঁকে মোট ৭টি জেলখানায় নেওয়া হয়। তাঁকে স্থির হয়ে এক জায়গায় বেশী দিন থাকতে দেওয়া হ’ত না। এমনকি অন্য জেলখানায় নেওয়ার আগের রাতেও তাঁকে বলা হ’ত না। হঠাৎ এসে বলা হ’ত প্রস্ত্তত হন। হয়তোবা এটাও ছিল তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সরকারের অন্যতম ষড়যন্ত্র।

মোসলেম মোল্লা বেকসুর খালাস :

মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের কারাগারে আগমনে নওগাঁ  জেলখানার হাজতী, কয়েদী এমনকি কারারক্ষীরাও রাগে-দুঃখে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তাদের অনেকের মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে আসে যে, এ সরকারের পতন আসন্ন। নির্দোষ আলেমের হৃদয়ের আকুতি ও মযলূমদের চোখের অশ্রু বৃথা যেতে পারে না। তবে কয়েদীরা নির্দোষ আমীরে জামা‘আতকে পেয়ে কিছুটা আশ্বস্ত  হয়েছিল এই ভেবে যে, তারা তাদের মনের গহীনে জমানো কথাগুলি আমীরে জামা‘আতকে বলে মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং তাঁর কাছ থেকে দো‘আ নিতে পারবে। এই ধরনের একজন ছিলেন নওগাঁর হাসাইগাড়ীর মোসলেম মোল্লা। যিনি মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের মুক্তির দাবীতে নওগাঁ যেলা ‘আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত মিছিলে যোগদান করেছিলেন। তিনি তার সমস্ত ঘটনা খুলে বললে আমীরে জামা‘আত তাকে জেল আপীল করার পরামর্শ দেন এবং তার মুক্তির জন্য প্রাণখোলা দো‘আ করেন। ফলে আল্লাহর রহমতে আমরা জেলখানায় থাকা অবস্থাতেই হাইকোর্ট থেকে তার মুক্তির কাগজ-পত্র নওগাঁ জেলখানায় এসে পৌঁছে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তার নির্দোষিতার খবর সারা জেলখানায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন আমীরে জামা‘আতের দো‘আ নেওয়ার জন্য নির্দোষ অনেকেই ভীড় করতে লাগল। এমনকি কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আমাদের সেলে কাজ করার অনুমোদন নিত। ঠিক তেমনি একজন নির্দোষ কয়েদী ছিল মুন্সী আবেদ আলী ও তার ভাতিজা সুরমান।

মুন্সী আবেদ আলীর মুক্তি লাভ :

সুরমান কয়েদীর বয়স প্রায় ২০ বছর। আমাদের থালা-বাটিগুলি খুব যত্ন সহকারে পরিষ্কার করত। কাজের ফাঁকে তাকে জেলখানায় আসার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, স্যার আমি ও আমার চাচা নির্দোষ। পরের উপকার করতে গিয়ে এখন আমরা জেলখানায়। এরপর সে তাদের ঘটনা বলতে লাগল যে, ‘আমার বাড়ীর পাশেই একটি বিবাহ অনুষ্ঠান চলছিল। পিতার অনুমতি ছাড়াই ১৫ বছরের একটি মেয়ের বিয়ে হচ্ছে তার চাচার বাড়ীতে। কোন ইমাম বিয়ে পড়াতে রাযী হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে একজন ছালাত পড়ত। সে বিয়ে পড়িয়ে নাম দিল আমার চাচা আবেদ আলী মুন্সীর। বিবাহ শেষ। তারা সুন্দরভাবে সংসার-ধর্ম করছে। কোন বাক-বিতন্ডা বা ঝক্কি-ঝামেলা নেই। মাসখানেক পরে শুনলাম, অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হয়েছে এই মর্মে মেয়ের বাবা বিয়ে পড়ানো ইমাম, ইমামের ছেলে, বর ও কণে পক্ষের সাক্ষী সহ মোট ৭ জনের নামে আদালতে মামলা করেছে। পরে যামিন নিয়ে এক বছর কেইস চলার পর রায়ে ইমাম ও বরের ১০ বছর এবং আমাদের ৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড হ’ল। রায়ের আগে আমার চাচা ইমাম ছাহেব হাত জোড় করে অশ্রুসজল চোখে মিনতি করলেন যে, বাবা আমি কিছুই জানি না। ওরা আমার নাম দিয়েছে মাত্র। কিন্তু আদালত সেদিকে কর্ণপাত করেনি। ঘটনা বলতে বলতেই ইমাম আবেদ আলী মুন্সী এসে হাযির। আমীরে জামা‘আতের হাতে মুছাফাহা করে বললেন, স্যার বিনা দোষে তিন বছর জেল খাটছি। আপিল করেছি। সম্ভবতঃ এ মাসেই রায় হবে। দো‘আ করবেন, যাতে আল্লাহ আমাকে মাফ করে দেন। সত্তুরোর্ধ বয়সের পরহেযগার মুন্সী ছাহেবের কান্না দেখে আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না। আমীরে জামা‘আত তাকে সান্ত্বনা দিয়ে দো‘আ করলেন। অতঃপর আমরা জেলখানায় থাকা অবস্থাতেই তিনি নির্দোষ সাব্যস্ত হয়ে মুক্তি পান।

আমীরে জামা‘আতের বৃক্ষ রোপণ :

কালের আবর্তে আমাদের বন্দী জীবনের মেয়াদ বৃদ্ধি পেতে থাকল। ফেব্রুয়ারী, মার্চ, এপ্রিল, মে গত হয়ে আমাদের জীবনের উপর জোয়ার হয়ে জুনকে ডেকে আনলো। অবিরতভাবে ঝড়-বৃষ্টি আরম্ভ হ’ল। মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বললেন, ‘ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ’ হিসাবে আমাদের ওয়ার্ডে কিছু গাছ ও ফুলের চারা রোপণ করব। সুবেদার ছাহেব আসলে আমীরে জামা‘আত তার নিকট প্রস্তাব দিলেন যে, যদি কিছু ফুল ও ফলজ গাছের চারা এনে দেন, তাহ’লে আমি নিজ হাতে তা রোপণ করব। তিনি ব্যবস্থা করে দিলেন। আমীরে জামা‘আত নিজ হাতে সেখানে হাস্নাহেনা ফুলের গাছ, রকমারি টাইম ফুল, গাঁদা ফুল ও সঊদী খেজুরের বীচি রোপণ করলেন। তাঁর সঙ্গে মিলে আমরা প্রতিদিন বিকালে এগুলির পরিচর্যা করতাম। জেল থেকে বের হওয়ার অনেক পরে একজন পরিচিত কারারক্ষীর সঙ্গে  দেখা হ’লে তিনি জানালেন যে, আমীরে জামা‘আতের লাগানো সেই খেজুর গাছে ফল ধরেছে। ঐ গাছগুলি দেখলেই আমাদের মনে আমীরে জামা‘আতের কথা ভেসে ওঠে। তাঁর  খোলা-মেলা ও সহজ-সরল আচরণ আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাঁর শিক্ষা ও দো‘আ আমাদের ইহকাল-পরকালের পাথেয় হবে ইনশাআল্লাহ

পরে জেনেছি, বগুড়া জেলখানায় গিয়েও তিনি তাঁর ফাঁসির সেলের আঙ্গিনায় ফুলবাগান লাগান। তাঁর ২য় পুত্র নাজীবকে দিয়ে রাজশাহী থেকে কাগজী লেবুর কলম ও অন্যান্য ফুলের গাছ কিনে এনে লাগান। কয়েদী খাদেমদের মাধ্যমে জেলখানার আদম সার ও গোবর সার এনে নিজ হাতে বাগান পরিচর্যা করতেন। একদিন সুপার ও জেলার ছাহেব তাঁর এই কাজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলে তিনি বলেন, সরকার যদি আমাকে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দেয়, তাহ’লে আপনারা আমাকে ফুল বাগান পরিচর্যার কাজ দিবেন’। তিনি সেখানে পাথরকুচির গাছ লাগান। যাতে তার পাতা খাইয়ে আমাশয়ের রোগী বন্দীদের সুস্থ করতে পারেন। প্রতি রাতে ডিউটিতে আসা কারারক্ষীরা বলত, আমরা সেলে ডিউটি নিতে চাই স্যারের  উপদেশ শোনার জন্য এবং তাঁর লাগানো হাস্নাহেনা ও রজনীগন্ধা ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য। তিনি ‘ডিভিশন’ পেলে সেখানেও হাস্নাহেনা ও কামিনী ফুলের গাছ লাগান ও সঊদী খেজুরের বীচি রোপণ করেন।

এক রজনীর উপহার ‘ইনসানে কামেল’ :

মুহতারাম আমীরে জামা‘আত একদিন বিকালে আমাকে ডাকলেন। সে সময় আমরা সেলের আঙিনায় হেঁটে বেড়াচ্ছিলাম। তিনি বললেন, ‘নূরুল ইসলাম! সরকারের যে মনোভাব দেখা যাচ্ছে, তাতে আমাদের সহজে ছাড়বে না। আমাদের কর্মী, শুভাকাংখী ও সাধারণ সমর্থকদের প্রতি আমাদের কিছু নছীহত থাকা দরকার। আমি স্যারের কথা সমর্থন করে বললাম, আমাদের নেতা-কর্মীদের কার্যকর দিক-নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই লকআপ-এর ঘণ্টা পড়ে গেছে। ফলে আমীরে জামা‘আতের রাতের খাবার তাঁর কক্ষে ঢেকে রেখে আমরা তিনজন পাশেই আমাদের রুমে চলে গেলাম।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, আমীরে জামা‘আত নওগাঁ জেলখানায় আসার পর তিনি সহ আমরা চারজন প্রথম কয়েকদিন এক রুমেই ছিলাম। পরে আমাদের ইবাদত ও আমলের হাল-অবস্থা দেখে উনি তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত পাশের রুমে চলে গেলেন। দিনের খাবার ও ছালাত এক সঙ্গে হ’ত। তারপর সন্ধ্যায় আমরা যার যার রুমে চলে যেতাম। সেদিনও তাই হ’ল। ফজরের ছালাতের পর লকআপ খুললে স্যারের রুমে গিয়ে দেখি রাতের খাবার যেভাবে ঢেকে রেখেছিলাম সেভাবেই আছে। বললাম, স্যার একি অবস্থা? বললেন, খাবার কথা মনেই নেই। তোমরা শোন, এই আমার নছীহত। নছীহতনামাটি আযীযুল্লাহ পড়তে লাগল, আমরা শুনলাম। স্যার মাঝে-মধ্যে বুঝিয়ে দিলেন। কি চমৎকার উপদেশমালা! ‘ইনসানে কামেল’ নামে এক রাতেই শেষ করা তাঁর এই লেখাটিকে আমরা আল্লাহর রহমত হিসাবে গ্রহণ করলাম। স্যার বললেন, লেখাটি খুব সাবধানে মারকাযে পাঠানোর ব্যবস্থা কর। ওরা রেফারেন্সগুলো নম্বরসহ লিখে দিবে।

পরে লেখাটি ‘আত-তাহরীক’ ৯ম বর্ষ অক্টোবর ও নভেম্বর’০৫ পরপর দু’সংখ্যায় বের হয়। আরও পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে সেটি ৩২ পৃষ্ঠার বই আকারে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন’ প্রকাশ করে। উক্ত লেখাটি পাঠানোর পর আমীরে জামা‘আত ‘আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল : শিকড়ের সন্ধানে’ নামক আর একটি বৃহৎ প্রবন্ধ লেখেন। যা ‘আত-তাহরীক’ ৯ম বর্ষ জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী এবং মার্চ ও এপ্রিল’০৬ পরপর তিন সংখ্যায় বের হয়। একইভাবে তিনি বগুড়া কারাগারে বসে লিখেছিলেন ‘আহলেহাদীছ-এর নিদর্শন’। যা ‘আত-তাহরীক’ ১০ম বর্ষ জানুয়ারী’০৭ সংখ্যায় দরসে হাদীছ কলামে বের হয়। যা ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে তিনি কারাগারে বসেও খুবই রিস্ক নিয়ে ‘আত-তাহরীক’-এর জন্য লেখা পাঠাতেন।

আব্দুল মজীদ ডাকাতের সাক্ষাৎকার :

নওগাঁ জেলখানায় আমাদের পাশের সেলে ছিল ফাঁসির আসামী আব্দুল মজীদ ডাকাত। খুব উচ্চৈঃস্বরে যিকর করত। আবার পুলিশদের গালি-গালাজ করত। সুবেদারের নিকট জানতে পারলাম সে একজন কুখ্যাত ডাকাত। তার সাথে সাক্ষাৎ করার খুব আগ্রহ প্রকাশ করলে সুবেদার অনুমতি দিলেন। আব্দুল মজীদ ফাঁসির আসামী। তাই দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেলের মধ্যে বন্দী থাকে। শুধু খাবার দেওয়ার সময় ছোট গেইট খুলে সতর্কতার সাথে পুলিশের সাহায্যে খাবার দেওয়া হয়। একদিন তার সেলের গেইটে রড ধরে দাঁড়িয়ে তার সাথে যে কথোপকথন হয়েছিল তা নিম্নে প্রদত্ত হ’ল।-

ভাই আপনার নাম কি? মুহাম্মাদ আব্দুল মজীদ। ঠিকানা কি? বদলগাছী থানা সদরে, শেখপাড়া। পেশা কি? ডাকাতি! ডাকাতরা কি নিজেদের ডাকাত বলে পরিচয় দেয়? সে বলল, যারা নিজের পেশাকে গোপন রাখে তারা তো চোর। চুরি তো নিকৃষ্ট পেশা। চোরেরা তো ধনী-দরিদ্র, ফকীর-মিসকীন, অসহায় সবার নিকট থেকে সুযোগ পেলেই গোপনে চুরি করে। এই দেখেন, আমরা বন্দী, অসহায়। আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত আটা, চাল, তেল, লবণ, সাবান, সোডা, যা দিয়ে কোন মতে জীবন বাঁচানো যায়, সেই বরাদ্দকৃত জিনিস থেকেও যারা চুরি করে তারা কত নিকৃষ্ট চোর। এজন্যই আল্লাহ ওদের হাত কেটে দিতে বলেছেন।

কোন কেইসে আপনার ফাঁসির রায় হয়েছে? সে বলল, আমি শুনেছি আপনারা ভদ্রলোক, খাঁটি আল্লাহভীরু, কলেজের অধ্যাপক। তাই আপনাদের কাছে আমার মনের কথাগুলি খুলে বলি। যদি কোন দিক-নির্দেশনা পাওয়া যায়। শুনুন! আমি বাপের একমাত্র ছেলে। এইচএসসি পাশ করে রাজনৈতিক কারণে আর লেখাপড়া করতে পারিনি। আমার আলীশান বাড়ী আর দরাজ কণ্ঠ দেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের মিছিলে আমাকে ডাকা হ’ত। আমাকে সামনে দিয়ে নেতারা পিছনে থাকতো। শ্লোগান সবসময় আমাকেই দিতে হ’ত। সেদিন জাতীয় এক নেতার জন্মদিবস এবং আরেক নেতার মৃত্যু দিবসে দুই দল থেকে ডাক পড়লে আমি জন্ম দিবসের আনন্দ মিছিলে যোগ দেই এবং শ্লোগান দিতে থাকি। হঠাৎ আড়াল থেকে গুলি এসে আমার পাশের দুই তরুণের বক্ষ ভেদ করে। অতঃপর গুলি এসে আমার হাতে লাগে। আমরা রাস্তায় লুটিয়ে পড়লাম। আর নেতারা পালিয়ে গেল। পরে হাসপাতাল থেকে শুনলাম যে, নেতারা আমার চিকিৎসা ও নিহত তরুণ দুই ভাইয়ের দাফন-কাফনের জন্য অর্থ এনে নিজেরা আত্মসাৎ করেছে।

আমি এক নেতার ছাত্রাবাসে গিয়ে আমার চিকিৎসার খরচ চাইলাম। সে আমার দিকে চোখ পাকিয়ে অস্ত্র উঠালো। আমি আত্মরক্ষার্থে তার হাত চেপে ধরে পা দিয়ে জোরে ওর পেটে লাথি মারতেই সে মেঝেতে পড়ে যায়। তারপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। ছুটির দিন ছাত্রাবাসে কেউ ছিল না। সময় ছিল রাত ৮-টা। পরের দিন সকালে ঘোষণা হ’ল সন্ত্রাসীরা তাহেরকে হত্যা করেছে। এই হ’ল আমার অপরাধ জগতে আসার ইতিহাস। শুরু হ’ল আমার জীবনে মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের সংগ্রাম। এইভাবে আমার জীবনে শতাধিক বড় মাপের ঘটনা ঘটেছে। কোনটাতেই জেল-জরিমানা হয়নি। একটি মিথ্যা কেইসে আমার ফাঁসির রায় হয়েছে। এখানে বসেই বাইরে আমি আমার গ্যাং পরিচালনা করি ও পরিবার পালন করি। প্রশাসনের লোকেরা আমাকে ভয় পায়। আমার কাছ থেকে তারা অনেক কাজ নেয়।

তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি উচ্চৈঃস্বরে যিকর করেন কেন? সে বলল, মিথ্যা কেইসে ফাঁসির রায়ের পরে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, আল্লাহর বিচার সঠিক ও নির্ভুল। অনেক মার্ডার কেইসে আমি খালাস পেয়ে গেছি। যেখানে ফাঁসি হওয়া সঠিক ছিল। কিন্তু তা না হয়ে হ’ল মিথ্যা কেইসে ফাঁসি। এটাই হ’ল আল্লাহর বিচার। পাপ করলে দুনিয়া ও আখেরাতে তার শাস্তি পেতেই হবে। এটাই আমি শিখেছি। তাই আমি আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে সর্বদা তাঁকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকি।

আমি বললাম, এটা ঠিক নয়। আল্লাহকে নিম্নস্বরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডাকতে হয়। তিনি আপনার গর্দানের শিরার চাইতেও নিকটে রয়েছেন। তিনি আপনার সব কথা শুনছেন ও আপনাকে দেখছেন’। সে আমার কথা মেনে নিল।

অতঃপর বললাম, আপনার মিথ্যা কেইসটি কি? সে বলল, সেতো এক আজব ঘটনা! সন্ত্রাসীরা এক মোটরসাইকেল আরোহীকে হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি পুকুরে ফেলে দেয়। প্রায় তিন মাস পর এক কৃষক ঐ পুকুরে গোসল করা অবস্থায় সেটি পেয়ে আমার মোটরসাইকেল সারাইয়ের দোকানে মেরামত করার জন্য রেখে যায়। গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে সেটি ঐ মৃত ব্যক্তির বলে শনাক্ত হ’লে আমাকে এক নম্বর আসামী করে পুলিশ মামলা দায়ের করে। আমি জানতে পেরে ঢাকায় পালিয়ে যাই এবং একটি দোকানে কাজ নেই। প্রায় পাঁচ বছর পর খবরের কাগজে দেখলাম উক্ত কেইসে পলাতক আসামী আব্দুল মজীদকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। সেটি দেখে ঢাকাতেই জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেই। সে মোতাবেক ওখানে বিয়ে করে অবস্থান করতে থাকি। এভাবে সাত বছর কেটে গেল। হঠাৎ সবার অজান্তে ছদ্মবেশে বাদ মাগরিব বাড়ী এসে ভোরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই, যাতে কেউ জানতে না পারে। কিন্তু ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। রাতেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেলাম। এখন ফাঁসির সেলে।

আব্দুল মজীদ : স্যার আমাকে ইবাদতের নিয়ম শেখাবেন কি? আমি তো সারা মাস রোযা রাখি। আর সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়ি ও যিকর করি।

জবাবে আমি বললাম, না ভাই! আপনার ইবাদতের পদ্ধতি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী হচ্ছে না। আল্লাহ কুরআনে সূরা মুযযাম্মিলে বলেন, হে চাদরাবৃত! তুমি রাত্রিতে দন্ডায়মান হও কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধ্ব রাত্রি অথবা তার চেয়ে কিছু কম’ (মুযযাম্মিল ৭৯/১)। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছওমে বেছাল (অর্থাৎ একটানা ছিয়াম পালন) করতে নিষেধ করেছেন।

আব্দুল মজীদ বলল, আপনি কি ঠিক বলছেন, জেলখানার মৌলভী ছাহেব তো আমাকে এই নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন। আপনি ঠিক, না হুযূর ঠিক? আমার কাছে কুরআন শরীফ আছে। খুলে দেখি এই আয়াতগুলো সূরা মুযযাম্মিলে আছে কি-না। এরপর সে কুরআন মাজীদ খুলে সূরা মুযযাম্মিলের আয়াতগুলোর অনুবাদ দেখে আমার কথা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করল। অতঃপর সে বলল, আমি সুবেদারের কাছে শুনলাম আপনাদের সাথে একজন বড় আলেম আছেন। তাঁর নাম ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। খুব আল্লাহভীরু মানুষ। তাঁকে নাকি বগুড়ার জনৈক প্রফেসর খুব অত্যাচার করছে। তারই চক্রান্তে নানাবিধ মিথ্যা মামলায় নাকি উনি সহ আপনারা জেলখানায়। তার নাম-ঠিকানা বলবেন কি? আমার উনিশটি হয়েছে, ওকে হত্যা করে বিশ পূর্ণ করতে চাই’।

আমি বললাম, আপনি তো জেলখানায়? ওসব কাজ কিভাবে করবেন? সে বলল, স্যার চিন্তা করবেন না। আমার বহু কেরামতি আছে। আপনি নাম-ঠিকানা বলুন। কালকে দেখবেন খবরের কাগজে প্রকাশ হবে ‘বগুড়ার এক প্রফেসরকে তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে’। বলুন, তার নাম-ঠিকানা। ভয় করবেন না। আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানবে না কিভাবে ঘটনা ঘটল।

আমি বললাম, থামুন! চিন্তা-ভাবনা করে পরে জানাব। পরে আমীরে জামা‘আতের কাছে এসে এই ঘটনা বললে আমীরে জামা‘আত গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘আমরা দুনিয়াতে নিজ হাতে কারু বিচার তুলে নিতে চাই না। আমরা আল্লাহর উপরে বিচারের ভার অর্পণ করেছি। খবরদার! কখনও ঘুর্ণাক্ষরেও ঐ ধরনের চিন্তা মাথায় আনবে না’।

আমি আব্দুল মজীদের কাছে আমীরে জামা‘আতের উক্ত জবাব শুনালে আব্দুল মজীদ চিৎকার করে বলে উঠল, উনি সত্যিকারের আল্লাহর ওলী। যিনি হাতের কাছে প্রতিশোধের সুযোগ পেয়েও গ্রহণ করলেন না। আল্লাহ তাঁকে মুক্তি দিবেন ও বিজয়ী করবেন ইনশাআল্লাহ। পরবর্তীতে সে ছহীহ-শুদ্ধভাবে ইবাদত শুরু করে। আমীরে জামা‘আতের সুফারিশে পায়ের বেড়ীমুক্ত হয় এবং প্রতিদিন বিকালে ফাঁসির সেল থেকে আঙিনায় বের হবার সুযোগ পায়।

আযীযুল্লাহর পুত্র সন্তান লাভের খবর :

১০ই সেপ্টেম্বর’০৫ আযীযুল্লাহর প্রথম সন্তান জন্মের খবর নিয়ে হাসতে হাসতে সুবেদার ছাহেব আসেন। দিনটি ছিল আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। সবাই মিলে তার সন্তানের জন্য দো‘আ করি। স্যার তার নাম রাখলেন ‘ছালেহ’ (সৎকর্মশীল)।

পরে একদিন আযীযুল্লাহর শ্যালক এসে জেল গেইটে দেখা করার জন্য স্লিপ পাঠালো। স্লিপ পেয়ে আযীযুল্লাহ খুব দ্রুত জেল গেইটে গিয়ে দেখা করল। অতঃপর হাতে মিষ্টির প্যাকেট ও কিছু ফল-মূল নিয়ে ফিরে আসল। হাসতে হাসতে বলল, আজকে আমার এ.এস.এম. আযীযুল্লাহ নাম স্বার্থক হ’ল। আপনারা আমার ছেলের জন্য দো‘আ করুন। আমরা দো‘আ করলাম এবং কিছুদিন পর আমি তাকে নীচের কবিতাটি উপহার দিলাম।-

হে ছালেহ! তোমাকে আহলান!

শান্তির জান্নাত ছেড়ে

মর্তের সংগ্রাম নীড়ে

তোমার আগমন

তোমাকে সাহলান।

বিশ্ব বিধাতার তুমি নে‘মত,

মোদের মমতায় তুমি আমানত,

এযে মহান প্রভুর বিশেষ অবদান

তোমাকে আহলান, সাহলান।

প্রাচীরে ঘেরা মাযলূম মোরা

হাতে নেই কিছু দ্বীন ও দো‘আ ছাড়া

এ শুভ দিনে দো‘আ করি খুশী মনে,

 তোমাকে যেন পাই পাঞ্জেরীসম

আহলেহাদীছ আন্দোলনে \

 

 (ক্রমশঃ)

HTML Comment Box is loading comments...