বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

ক্যান্সার চিকিৎসায় ন্যানো কণা

ন্যানো কণা ধ্বংস করতে পারবে ক্যান্সার কোষ। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল সম্প্রতি এ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। চুম্বকের মাধ্যমে ন্যানো কণা প্রয়োগে টিউমারের কোষ আপনা থেকেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে এতে ক্যান্সার-আক্রান্ত যেসব কোষ তাদের কোন ক্ষতি হবে না।

এই পদ্ধতিতে ন্যানো কণা কোষের উপরে স্থাপন করা যা কোষের ভেতরে প্রবেশ করার মাধ্যমে তার জৈব অণুগুলো ভেঙে তাকে ধ্বংস করে ফেলে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মানবদেহের ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হবে। বিশেষ করে কেমোথেরাপী ও রেডিওথেরাপীর বিকল্প হিসাবে ন্যানো কণার ব্যবহার মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমে মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়

অতিরিক্ত ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যায় বলে নতুন এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবয়সীদের জন্য বেশী ঘুম অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। আবার কম ঘুমও ভালো নয় বলে তারা মনে করছেন। তারা বলেন, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়স্ক যেসব ব্যক্তি দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি বা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য ব্যাপকভাবে কমে যায়।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা প্রায় ৯ হাযার লোকের উপর সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গবেষক ড. মাইকেল মিলার বলেন, বয়সের সাথে সাথে ঘুমের প্রয়োজনে পরিবর্তন আসে। যথাযথ ঘুমের মাধ্যমে কর্মশক্তি অটুট রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, মস্তিষ্ককে সর্বোচ্চ মাত্রায় কর্মক্ষম রাখতে প্রতি রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ইতিপূর্বে আরেক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, প্রতি রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

লাখ লাখ মানুষের পুষ্টি জোগাবে নতুন আবিষ্কৃত ‘সুপার কলা’

বিজ্ঞানীরা ‘সুপার ব্যানানা’ নামে প্রথমবারের মতো এক ধরনের উন্নতমানের কলা আবিষ্কার করেছেন। এ কলা সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভাবন করা নতুন জাতের ‘সুপার ব্যনানা’র পুষ্টিমান মানুষের উপর প্রথমবারের মতো পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা। এই কলায় আছে আলফা ও বেটা ক্যারোটিন। মানবদেহ এ দু’টিকে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত করে। বর্তমানে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জীন উগান্ডায় পাঠানো হয়েছে, যা সেখানকার কলায় প্রবিষ্ট করানো হবে। ২০২০ সাল নাগাদ উগান্ডায় কৃষকেরা এ কলা উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচেছ। প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক জেমস ডেল বলেন, প্রতি বছর ভিটামিন ‘এ’-র অভাবে বিশ্বে সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ শিশু মারা যায়। তিন লাখ শিশু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়। এটি মানবদেহে ভিটামিন ‘এ’-র মাত্রা কত দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে ছয় সপ্তাহের মধ্যে তা জানা যেতে পারে।

প্রকল্প প্রধান আশা করছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ তারা চূড়ান্ত ফল  দেখতে পাবেন। সাধারণ কলার খাবার অংশ ক্রিম বর্ণের হ’লেও সুপার কলার এ অংশ কমলা রঙের। এতেই এর ভিটামিনসমৃদ্ধ অবস্থার বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে।