প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩৬১) : প্রচলিত হালখাতা প্রথা শরী‘আত সম্মত কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান

কচাকাটা, কুড়িগ্রাম।

উত্তর : হালখাতায় যদি গান-বাজনা বা কোন শরী‘আত বিরোধী কাজ না করা হয়, কোন প্রকার প্রতারণা বা যুলুম না থাকে একমাত্র পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যে হয়, তাহ’লে তা বৈধ হবে। পরিশোধের লক্ষ্যে কর্য বা বাকী নিলে আল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কর্য পরিশোধের আশায় কর্য গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে কর্য পরিশোধ করার সুযোগ দান করেন। আর যে ব্যক্তি এই আশায় কর্য গ্রহণ করে না, আল্লাহ তার কর্য পরিশোধের সুযোগ করে দেন না’ (বুখারী, মিশকাত হা/২৯১০)

প্রশ্ন (২/৩৬২) : ছালাতরত অবস্থায় উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করলে ছালাতের কোন ক্ষতি হয় কি?

-রণি হক, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : উচ্চৈঃস্বরে নয়, অনুচ্চ শব্দে অথবা মধ্যম স্বরে কাঁদবে (আ‘রাফ ৭/২০৫; ইসরা ১৭/১১০)। আর ছালাতে ক্রন্দন করা অধিক আল্লাহভীরু সৎকর্মশীল লোকদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়চিত্ততা আরও বৃদ্ধি পায়’ (ইসরা ১৭/১০৯)। মুত্বাররিফ ইবনে শিখখীর স্বীয় পিতা হ’তে বর্ণনা করেন, আমি একদা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আসলাম। এমতাবস্থায় তিনি ছালাত আদায় করছিলেন এবং ফুটন্ত পানির ডেগের শব্দের ন্যায় কাঁদছিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, চাক্কীর শব্দের ন্যায় শব্দ করে কাঁদছিলেন (আহমাদ, আবুদাঊদ, নাসাঈ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১০০০)

প্রশ্ন (৩/৩৬৩) : অনেক ইসলামী সঙ্গীত সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন গানের সুর ও ছন্দ নকল করে গাওয়া হয়। এরূপ নকলে কোন বাধা আছে কি?

-আমীর হামযা

শেরপুর, রায়পুরা, নরসিংদী।

উত্তর : নিজস্ব সুরে ইসলামী গান গাওয়াই বাঞ্ছনীয়। এছাড়া পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক ধর্মীয় কথা বা অশ্লীলতামুক্ত যে কোন কথা ছন্দাকারে গাওয়া জায়েয। এতে যদি কারু সুরের সাদৃশ্য হয়ে যায়, তাতে কোন দোষ নেই। দেখার বিষয় হ’ল গানের কথা ও মর্ম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘এটি  হ’ল  কথা।  এর  সুন্দরটি  সুন্দর  এবং  মন্দটি  মন্দ’ (দারাকুৎনী হা/৪৩৫৯ সনদ হাসান; মিশকাত হা/৪৮০৭)। বনু কুরায়যার যুদ্ধের দিন নবী করীম (ছাঃ) কবি হাস্সান বিন ছাবিত (রাঃ)-কে বলেছিলেন, ‘হাস্সান! তুমি আমার পক্ষ থেকে কাফেরদের প্রতি ব্যঙ্গ কবিতা বল’। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি হাস্সানকে কাফেরদের জবাব দেওয়ার জন্য জিবরীল-এর মাধ্যমে তাকে শক্তিশালী কর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৭৮৯, ‘বক্তৃতা প্রদান ও কবিতা বলা’ অনুচ্ছেদ)। হাস্সান বিন ছাবিতের কবিতা আবৃত্তির জন্য মসজিদে নববীতে একটি মিম্বর রাখা হয়েছিল যার উপর দাঁড়িয়ে তিনি কবিতা বলতেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৮০৫; ‘মসজিদে কবিতা আবৃত্তি’)

প্রশ্ন (৪/৩৬৪) : ছালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর পর কোন বয়স্ক মুরববীকে উক্ত স্থান ছেড়ে দিলে প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের নেকী পাওয়া যাবে কি?

-এস,এম, আকাশ

আহমাদ নগর, মিরপুর, ঢাকা।

উত্তর : পাবে। কেননা জ্ঞানী ও সম্মানী ব্যক্তিদের সামনের কাতারে ধারাবাহিকভাবে দাঁড়ানোর কথা হাদীছে এসেছে (মুসলিম, মিশকাত হা/১১০৮)। অতএব উক্ত হাদীছের প্রতি আমলের জন্য যদি কেউ কোন জ্ঞানী ও বয়স্ক ব্যক্তিকে সামনের কাতার ছেড়ে দিয়ে পেছনের কাতারে চলে আসে, তবে সে সামনের কাতারে ছালাত আদায়ের নেকী পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (৫/৩৬৫) : ট্রাফিক জ্যামের কারণে অধিকাংশ সময় মাগরিবের ছালাত সঠিক সময়ে আদায় করতে না পারায় আছরের সাথে মাগরিবের ছালাত আদায় করি। এটা সঠিক হবে কি?

-ফারযানা যামান

৩২ কামাল এভিনিউ, ঢাকা।

উত্তর : মাগরিবের ছালাত আছরের সাথে হবে না। তবে কোন সমস্যার কারণে অথবা সফরে মাগরিব-এশা একসাথে এবং যোহর-আছর একসাথে পড়া যাবে (বুখারী, মিশকাত হা/১৩৩৯)

ছালাত জমা করার নিয়ম হ’ল, যোহর ও আছর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে জমা তাক্বদীম অথবা জমা তাখীর করা। অর্থাৎ শেষের ছালাত আগে এনে বা আগের ছালাত শেষে নিয়ে জমা করা। মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাবূক যুদ্ধে মনযিল ত্যাগের পূর্বে সূর্য ঢলে গেলে যোহর ও আছর-এর ছালাত একত্রে পড়তেন। যদি সূর্য ঢলার পূর্বে প্রস্থান করতেন, তখন যোহরকে বিলম্ব করে যোহর ও আছর একত্রে পড়তেন। মাগরিবেও তিনি এরূপ করতেন। অর্থাৎ যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে প্রস্থান করতেন, তখন মাগরিব ও এশা জমা করতেন। আর যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে প্রস্থান করতেন, তখন মাগরিবকে বিলম্ব করে মাগরিব ও এশা জমা করে পড়তেন (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৪৪, ইরওয়াউল গালীল ৩/২৮ পৃঃ, বিস্তারিত দেখুন : ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘সফরের ছালাত’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৬/৩৬৬) : ছবিযুক্ত টাকা ও পরিচয়পত্র পকেটে রেখে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-রাসেল মাহমূদ, সোনাতলা, বগুড়া।

উত্তর : যাবে। কেননা ওটা দেখা যায় না এবং সামনে বা পাশে টাঙানো থাকে না। (বিস্তারিত দেখুন : ‘ছবি ও মূর্তি’ বই)

প্রশ্ন (৭/৩৬৭) : কুরআন তেলাওয়াত ও শ্রবণ করায় সমান নেকী অর্জিত হবে কি?

-ইশতিয়াক আহমাদ

বাবুইপাড়া, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : কুরআন তেলাওয়াত করলে অক্ষর প্রতি ১০ নেকী হয় (তিরমিযী, মিশকাত হা/২১৩৭)। তবে আল্লাহ কুরআন মনোযোগ সহকারে শুনার জন্য আদেশ করেছেন। অতএব ছওয়াবের আশায় শুনলে ছওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়’ (আ‘রাফ ৭/২০৪)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে এর বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকী রয়েছে’ (আন‘আম ৬/১৬০)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেক নেক আমলের দশগুণ হ’তে সাতশত গুণ ছওয়াব প্রদান করা হয়..’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৯/১৯৫৯)

প্রশ্ন (৮/৩৬৮) : যে ব্যক্তি মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলবে তার ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত হাদীছের সত্যতা সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুর রহীম

গন্ধর্বপুর, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (তাযকিরাতুল মাওযূ‘আত, আবুল ফযল আল-মাক্বদেসী, ৩৯ পৃঃ, হা/৪০)। তবে মসজিদে অপ্রয়োজনীয় দুনিয়ারী কথা-বার্তা বলা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। ওমর ফারূক (রাঃ) দুনিয়াবী কথা-বার্তা থেকে বিরত থাকার জন্য মসজিদে নববীর পার্শ্বে বুতাইহা নামক একটি চত্বর তৈরী করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি অনর্থক কথা, কবিতা পাঠ কিংবা উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে চায়, সে যেন ঐ স্থানে চলে যায়’ (মুওয়াত্ত্বা মালেক, মিশকাত হা/৭৪৫)

হাসান বছরী বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘এমন এক যুগ আসবে যখন মানুষ মসজিদে দুনিয়াবী বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করবে। তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না। তাদের সাথে আল্লাহ তা‘আলার কোন আবশ্যকতা নেই’ (বায়হাক্বী, শো‘আব, মিশকাত হা/৭৪৩ ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ)। হাফেয ইরাকী (রহঃ) বলেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ (দ্রঃ আলবানী, মিশকাত ঐ-টীকা)

প্রশ্ন (৯/৩৬৯) : সুন্নাত ছালাত আদায় রত অবস্থায় ফরয ছালাত শুরু হয়ে গেলে উক্ত মুছল্লীর জন্য করণীয় কি?

-ইকবাল শেখ, উত্তরখন্ড, ভারত।

উত্তর : সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে ফরয ছালাতে যোগ দিবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছালাতের জন্য ইক্বামত দেয়া হ’লে উক্ত ফরয ছালাত ব্যতীত আর কোন ছালাত নেই’ (মুসলিম হা/৭১০, মিশকাত হা/১০৫৮)

প্রশ্ন (১০/৩৭০) : আমাদের গ্রামে আযানের সময় মহিলারা মাথায় কাপড় দেয়। শরী‘আতে এরূপ কোন বিধান আছে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

যুগীপাড়া, বাগাতীপাড়া, নাটোর।

উত্তর : এরূপ কোন বিধান নেই। এর দ্বারা যদি কোন মহিলা বিশেষ ছওয়াব কামনা করে কিংবা ফেরেশতা দেখবে বলে মনে করে, তাহ’লে তা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত হবে। এসময় আযানের জওয়াব প্রদান করা ও শেষে আযানের দো‘আ পাঠ করাই সুন্নাত।

প্রশ্ন (১১/৩৭১) : সুন্নাতে খাৎনার নিয়ম কিভাবে প্রবর্তন হয়? এর উদ্দেশ্য কি? এর নিয়ম-কানূনগুলি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?

-কাওছার আহমাদ হিমেল

দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

উত্তর : হযরত ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম ৮০ বছর বয়সে আল্লাহ্র হুকুমে এই সুন্নাত পালন করেছিলেন (বুখারী হা/৬২৯৮, মুসলিম হা/২৩৭০, মিশকাত হা/৫৭০৩ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অনুচ্ছেদ)। আমাদের নবী (ছাঃ)ও এটি জারী রাখেন। খাৎনা দেওয়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। এটি সকল নবীর সুন্নাত। হাদীছে একে ফিৎরাতে ইসলামের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে (বুখারী ‘গোঁফ কর্তন’ অধ্যায় হা/৫৮৮৯)। এর উপকারিতা হ’ল এতে লজ্জাস্থানে ময়লা জমে না, পেশাবের কোন অংশ তার মধ্যে অবশিষ্ট থাকে না এবং এটি সহবাসের জন্য অধিক তৃপ্তিদায়ক (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৫৬০)। আর এর নিয়ম-কানূন ইবরাহীম (আঃ)-এর সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত একইভাবে চলে আসছে এবং এটি মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশকও বটে।

প্রশ্ন (১২/৩৭২) : সকল আসমানী কিতাব কি আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে?

-কাবীর

আড়ানী বাজার, বাঘা, রাজশাহী।

উত্তর : সকল আসমানী কিতাব আরবী ভাষায় নাযিল হয়নি। আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক রাসূলকে তার স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন, তাদেরকে আল্লাহ্র বিধান সমূহ ব্যাখ্যা করে বুঝাবার জন্য’ (ইবরাহীম ৪; আহমাদ হা/২১৪৪৮, ছহীহাহ হা/৩৫৬১)। সুতরাং তাদের নিকটে প্রেরিত কিতাবসমূহ সেই জাতির ভাষাতেই প্রেরণ করেছেন। যেমন তাওরাত হিব্রু ভাষায়, ইঞ্জীল সুরিয়ানী এবং কুরআন আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৬/৫২২)

প্রশ্ন (১৩/৩৭৩) : মাস্টার্স শেষ হওয়া উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ‘র‌্যাগ ডে’ নামক যে অনুষ্ঠান হয়ে থাকে এতে অংশগ্রহণ করা বা আর্থিকভাবে সাহায্য করা শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-ফারূক আযম, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর : এটি অমুলিম কালচার থেকে আগত একটি অসভ্য প্রথা। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় পূর্ণ এরূপ অনুষ্ঠানে যোগদান করা বা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য কর এবং গোনাহ ও সীমালংঘনের কাজে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ২)। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (১৪/৩৭৪) : মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-ওমর ফারূক

ধুলিয়ান, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। আবুবকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ওফাতের পর তাঁকে চুম্বন করেছিলেন (বুখারী হা/১২৪১, ৪৪৫৫-৫৭, মিশকাত হা/১৬২৪)। ওছমান বিন মায‘ঊন (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে রাসূল (ছাঃ) কাঁদতে কাঁদতে তাকে চুম্বন করেছিলেন (তিরমিযী হা/৯৮৯, সনদ ছহীহ)। তবে মহিলাদের জন্য স্বামী এবং মাহরাম ভিন্ন অন্য কাউকে চুম্বন করা জায়েয নয়। এছাড়া পুরুষরাও স্ত্রী এবং মাহরাম ব্যতীত কাউকে চুম্বন করতে পারবে না।

উল্লেখ্য যে, ‘স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর পক্ষে তাকে দেখা হারাম’ মর্মে প্রচলিত এ কথাটি কুসংস্কার মাত্র। কারণ ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত যে, স্ত্রী স্বামীকে আর স্বামী স্ত্রীকে মৃত্যুর পর গোসল করাতে পারবে (ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/১২০৫-০৬, ‘জানাযা’ অধ্যায়; বায়হাক্বী ৩/৩৯৭; দারাকুৎনী হা/১৮৩৩ সনদ হাসান; ইরওয়া হা/৭০০)

প্রশ্ন (১৫/৩৭৫) : আমি সর্বদা পর্দার মধ্যে থাকি। এক্ষণে আমি মাথার সামনের চুল সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কেটে সাইজ করে রাখতে চাচ্ছি। গৃহাভ্যন্তরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এভাবে চুল ছাটা শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-আতিয়া ফাওযিয়া আঁখি

সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : গৃহাভ্যন্তরে নারী যেকোন সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে পারে। তাই বলে চুল কেটে সাইজ করা নয়। কেননা চুল লম্বা রাখাই মহিলাদের জন্য সৌন্দর্য। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘পুরুষের সাথে মহিলার এবং মহিলার সাথে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীকে আল্লাহ অভিসম্পাৎ করেছেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৪২৯)।

প্রশ্ন (১৬/৩৭৬) : বোরক্বা না পরে ‍ফুল হাতা কামীজ পরে মাথায় স্কার্ফ দিয়ে চলাফেরা করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-হালীমা খাতুন, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : কেবল ফুলহাতা কামীজ ও মাথায় স্কার্ফ দেওয়ার মাধ্যমে পরিপূর্ণ পর্দা হয় না। বরং এতে শরীরের গড়ন প্রকাশ পায়। অতএব ঢিলাঢালা বোরক্বা পরে মাথায় বড় স্কার্ফ দিয়ে চলাফেরা করাই কর্তব্য (বুখারী হা/৪৭৫৮, ফাৎহুল বারী ৮/৪৯০)। 

প্রশ্ন (১৭/৩৭৭) : একাধিক পোষাকের ব্যাপারে শরী‘আতের নির্দেশনা কি? যেমন একেক দিন একেক বোরক্বা পরিধান করা যাবে কি? এটা কি অপচয়ের মধ্যে গণ্য হবে?

-লিপি

রাজশাহী নার্সিং কলেজ, রাজশাহী।

উত্তর : প্রয়োজন ছাড়া এভাবে দৈনিক পোষাক পরিবর্তন করা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন (ইসরা ২১১)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যা খুশী খাও এবং যা খুশী পরিধান কর। তবে এ বিষয়ে তোমাকে দু’টি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাহ’ল অপচয় ও অহংকার (বুখারী, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৩৮০-৮১ ‘পোষাক’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (১৮/৩৭৮) : প্রচলিত আছে যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমার কাছে দু’টাকা থাকলে এক টাকা দিয়ে খাদ্য ক্রয় কর আরেক টাকা দিয়ে ফুল ক্রয় কর। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-ওমর ফারূক

হায়দারপুর, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য বানাওয়াট ও ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (১৯/৩৭৯) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন আমল করেছে, কিন্তু অন্য মানুষকে কখনো দ্বীনের দাওয়াত দেয়নি। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। উক্ত বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?

-আব্দুল্লাহ

মহিষালবাড়ী, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : ইসলামের মূল দর্শন হ’ল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা দান। মানব সমাজে আল্লাহ্র দ্বীনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কুরআন ও হাদীছে মুসলিম উম্মাহকে জোরালো নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি যদি একটি আয়াতও কেউ জানে, তা প্রচার করার জন্য রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, মিশকাত হা/১৯৮)। সুতরাং দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ থেকে কারো পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। বরং কেউ যদি শারঈ ওযর ব্যতীত দৈনন্দিন ব্যস্ততার অজুহাতে বা অলসতাবশতঃ তাবলীগ বা দ্বীনের প্রচার না করে, তাহ’লে সে নিঃসন্দেহে গোনাহগার হবে (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪০, সনদ হাসান)। তবে এর জন্য আল্লাহ তাকে  জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন এমনটি নয়। কেননা একদিন ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল (ছাঃ)-কে সর্বোত্তম মুমিন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যে মুমিন আল্লাহ রাস্তায় জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে। ছাহাবীগণ বললেন, অতঃপর কে? তিনি বললেন, যে মুমিন আল্লাহ্র ভয়ে পাহাড়ের কোন গুহায় আশ্রয় নিয়ে আল্লাহ্র ইবাদত করে এবং স্বীয় অনিষ্ট থেকে লোকদেরকে নিরাপদ রাখে (বুখারী হা/২৭৮৬, মুসলিম হা/১৮৮৮)

প্রশ্ন (২০/৩৮০) : আয়না দেখে কোন হারানো বস্ত্ত বের করার বিষয়টি সমাজে প্রচলিত রয়েছে এবং তার বাস্তবতাও রয়েছে। এক্ষণে এতে বিশ্বাস করা যাবে কি?

-শামসুল আলম

চষুডাঙ্গা, লালপুর, নাটোর।

উত্তর : যে ব্যক্তি আয়না চালক অথবা অনুরূপ কোন গণৎকারের নিকট যাবে এবং তার কার্যকলাপকে বিশ্বাস করবে সে কাফের হয়ে যাবে। জাদুর বাস্তবতা আছে। কিন্তু তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমান হারানোর এবং কাফির হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন গায়েব সম্পর্কে সংবাদ দানকারী অথবা জ্যোতিষীর নিকট এসে সে যা বলবে তা বিশ্বাস করবে, সে মুহাম্মাদ-এর প্রতি যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার সাথে কুফরী করল’ (আহমাদ হা/৯৫৩২, ছহীহুল জামে‘ হা/৫৯৩৯)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তার চল্লি­শ দিনের ছালাত কবূল হবে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫৯৫)। অতএব এসবে বিশ্বাস স্থাপন করা বা এগুলি করে হারানো বস্ত্ত খোঁজা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (২১/৩৮১) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, গাছ-গাছড়া তাবীয হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে কুরআনের আয়াত তাবীয হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-আব্দুর রহমান

নারায়ণজোল, সাতক্ষীরা।

উত্তর : কুরআনের আয়াত হৌক বা গাছ-গাছড়া হৌক সকল প্রকার তাবীয ব্যবহার করাই শিরক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলালো সে শিরক করল’ (আহমাদ হা/১৬৯৬৯; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৯২; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৩৯৪)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদের স্ত্রী যয়নব (রাঃ) বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ আমার গলায় সুতা দেখে বললেন, এটা কি? আমি বললাম, ‘সুতা’ যা আমাকে পড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সেটা ছিঁড়ে ফেললেন। অতঃপর বললেন, তোমরা আব্দুল্লাহ্র পরিবার। তোমরা অবশ্যই শিরক হ’তে মুক্ত। আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই ঝাড়-ফুঁক করা, কোন কিছু ঝুলানো এবং স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্য যেকোন মাধ্যম অবলম্বন করা শিরক’ (আহমাদ, আবুদাঊদ হা/৩৮৮৩, মিশকাত হা/৪৫৫২)। ঈসা ইবনু হামযাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইমের নিকট গেলাম। তখন তাঁর শরীরে লাল ফোসকা পড়ে আছে। আমি বললাম, আপনি তাবীয ব্যবহার করবেন না? উত্তরে তিনি বলেন, ওটা হ’তে আল্লাহ্র কাছে পানাহ চাই। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন কিছু ঝুলাবে, তাকে তার প্রতি সোপর্দ করে দেওয়া হবে’ (তিরমিযী হা/২০০৫; মিশকাত হা/৪৫৫৬)। সাঈদ ইবনু জুবায়ের (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন মানুষের তাবীয কেটে দিল, সে একটি গোলাম আযাদ করার সমান নেকী পেল (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ফাতাওয়া উছায়মীন ৯/১৭৯)। তবে ছহীহ হাদীছে বর্ণিত দো‘আ এবং কুরআনের আয়াত দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয। যেমন সূরা ফাতিহা, নাস ও ফালাক্ব দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা (বুখারী, মিশকাত হা/২৯৮৫; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৫৩২)

প্রশ্ন (২২/৩৮২) : উত্তর মেরুতে অবস্থিত সুইডেনের কিরুনা শহরে রামাযানের ১৫-২০ দিন সূর্যাস্ত হবে না। এক্ষণে এ অঞ্চলে অবস্থানকারী মুসলিমগণ কিভাবে ছিয়াম রাখবেন?

-রাকীব আহমাদ

রসায়ন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

উত্তর : যদি কোন স্থানে সূর্য একেবারেই না ডুবে বা দিন-রাত্রির পার্থক্য সুস্পষ্ট না করা যায়, সেক্ষেত্রে সর্বনিকটবর্তী দেশ বা শহর যেখানে দিন-রাত্রির পার্থক্য স্পষ্ট করা যায় সেখানকার হিসাবে দিন-রাত্রি ভাগ করে ছিয়াম পালন করতে হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে বায ১৫/২৯২/৩০০)। দাজ্জালের আবির্ভাবের সময়ে তার প্রথম দিন বর্তমানের এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। বাকী ৩৭ দিন বর্তমান দিনের সমান হবে মর্মে রাসূল (ছাঃ) হাদীছ বর্ণনা করলে ছাহাবীগণ এক বছরের সমান দিনে ৫ ওয়াক্ত ছালাতই যথেষ্ট হবে কি-না জিজ্ঞেস করলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, না বরং তোমরা এক দিনকে ভাগ করে নিয়ে ছালাত আদায় করবে’ (মুসলিম হা/২৯৩৭, তিরমিযী হা/২২৪০, আবুদাঊদ হা/৪৩২১)

প্রশ্ন (২৩/৩৮৩) : হারাম শরীফের এলাকার মধ্যে কোন মসজিদে ছালাত আদায় করলে হারামে আদায় করার নেকী পাওয়া যাবে কি?

-মুহাম্মাদ রাণা

মক্কা, সঊদী আরব।

উত্তর : হারাম এলাকার অন্য মসজিদে উক্ত নেকী পাওয়া যাবে না। কারণ হাদীছে মসজিদুল হারাম বলতে মসজিদুল কা‘বাকে বুঝানো হয়েছে (মুসলিম হা/১৩৯৬, নাসাঈ হা/৬৯১)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তিনটি মসজিদ ব্যতীত (ছওয়াবের উদ্দেশ্যে) সফর করা যায় না। সেগুলো হ’ল. মসজিদুল কা‘বা, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আক্বছা’ (বুখারী হা/১১১৫; মুসলিম হা/১৩৯৭; মিশকাত হা/৬৯৩)। মসজিদুল হারামের চত্বর যত বিস্তৃত হৌক, সকল মুছল্লী এক জামা‘আতভুক্ত বলে গণ্য হবেন এবং হারামে ছালাত আদায়ের নেকী পাবেন। পৃথক কোন স্থানে বা মসজিদে আদায় করলে সে ছওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ তাতে স্থানিক ঐক্য থাকে না।

প্রশ্ন (২৪/৩৮৪) : রামাযান মাসে পূর্বে ছুটে যাওয়া এক ওয়াক্ত ক্বাযা ছালাত আদায় করলে কি ৭০ ওয়াক্ত ছালাতের ক্বাযা আদায় হয়ে যায়? এরূপ কোন হাদীছ আছে কি?

-রাহাত জামান, বগুড়া।

উত্তর : উক্ত মর্মে কোন হাদীছ নেই। তবে রামাযান মাসে একটি ফরয আদায় করলে অন্য মাসে ৭০টি ফরয আদায়ের নেকী পাওয়া যায় মর্মে একটি হাদীছ এসেছে, যা যঈফ বা মুনকার (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৫, সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৭১)

প্রশ্ন (২৫/৩৮৫) : এশার পরে নফল ছালাত আদায় করতে চাইলে তা কি বিতর ছালাতের পূর্বে না পরে পড়তে হবে?

-রাহাত যামান, বগুড়া।

উত্তর : বিতর ছালাতের পূর্বে সকল নফল ছালাত শেষ করাই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা রাতের শেষ ছালাত হিসাবে বিতর আদায় কর’ (বুখারী হা/৯৯৮, মুসলিম হা/৭৫১, মিশকাত হা/১২৫৮)। তিনি বলেন, ‘রাতের নফল ছালাত দুই দুই। অতঃপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাবার আশংকা করবে, তখন সে যেন এক রাক‘আত পড়ে নেয়। যা তার পূর্বেকার সকল নফল ছালাতকে বিতরে পরিণত করবে’ (বুখারী হা/৯৯০; মিশকাত হা/১২৫৪)। তবে ঘুম না ভাঙ্গার আশংকা থাকলে রাতের প্রথম ভাগে বিতর ছালাতের পর দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করলে সেটাই তার রাত্রির নফল ছালাতের স্থলাভিষিক্ত হবে (দারেমী, মিশকাত হা/১২৮৬; ছহীহাহ হা/১৯৯৩)

প্রশ্ন (২৬/৩৮৬) : অমুসলিমের রক্ত মুসলমানের দেহে প্রবেশ করানো যাবে কি? এছাড়া অমুসলিমকে রক্তদানে কোন বাধা আছে কি?

-আব্দুল হালীম, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : যরূরী অবস্থায় অমুসলিমের রক্ত কোন মুসলমানের দেহে প্রবেশ করানোতে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। মুশরিকগণ আক্বীদাগত তথা বিশ্বাসগত দিক দিয়ে অপবিত্র (তওবা ৯/২৮), কিন্তু শারীরিক দিক দিয়ে নয়। এছাড়া অমুসলিমদের রক্ত দান করতেও কোন বাধা নেই। বরং মানুষ হিসাবে মুসলিম-অমুসলিম তথা সকল মানুষের প্রতি উদার সহযোগিতাই ইসলামের শিক্ষা।

প্রশ্ন (২৭/৩৮৭) : পাখির গোশত ভক্ষণের ক্ষেত্রে শরী‘আতের নির্দেশনা কি? কোয়েল পাখির গোশত বা ডিম খাওয়া শরী‘আত সম্মত হবে কি?

-মেহেদী, কানসাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তীক্ষ্ণ দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র জন্তু এবং ধারালো নখ বিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১০৫)। অতএব হাঁস, মুরগী, তিতির, হুদহুদ, রাজহাঁস, বক, সারস, উটপাখি, ময়ুর, চড়ুই, কোয়েল, ঘুঘু, কবুতর, পানকৌড়ী ইত্যাদি পাখি প্রজাতির প্রাণী ভক্ষণ করায় কোন বাধা নেই। কেননা এগুলি নখ দিয়ে শিকার করে না। পক্ষান্তরে যেসব শিকারী পাখি থাবা বা নখর দিয়ে শিকার করে সেসব পাখি যেমন- ঈগল, চিল, শকুন, কাক, পেঁচা, বাজ পাখি ইত্যাদির গোশত ও ডিম খাওয়া নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন (২৮/৩৮৮) : মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর নিয়ম জানতে চাই। এ সময় পৃথকভাবে কুলুখ ব্যবহারের কোন বিধান শরী‘আতে আছে কি?

-আব্দুল আউয়াল

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : মাইয়েতকে গোসল দেয়ার সময় পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং পূর্ণ শালীনতা ও পরহেযগারীর সাথে কুলপাতা দেওয়া পানি অথবা সুগন্ধি সাবান দিয়ে গোসল করাবে। সুন্নাতী তরীকা মোতাবেক গোসল করাতে সক্ষম এমন নিকটাত্মীয় বা অন্য কেউ মাইয়েতকে গোসল করাবে। পুরুষ পুরুষকে এবং মহিলা মহিলাকে গোসল করাবে। তবে মহিলাগণ শিশুদেরকে গোসল করাতে পারবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৬৮)। স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে বিনা দ্বিধায় গোসল করাবে (ইবনু মাজাহ হা/১৪৬৫; বায়হাক্বী ৩/৩৯৭; দারাকুৎনী হা/১৮৩৩, সনদ হাসান)

গোসলের সময় গোসলদানকারী প্রথমে একটি কাপড় দিয়ে মাইয়েতের সতর ঢেকে দিবে এবং তার শরীরের পরিধেয় কাপড়গুলো খুলে ফেলবে। এরপর পেটে হালকাভাবে চাপ দিবে, যাতে কিছু থেকে থাকলে বেরিয়ে যায় এবং হাতে একটি ভিজা ন্যাকড়া পেঁচিয়ে নিয়ে লজ্জাস্থানের দিকে না তাকিয়ে তা পরিষ্কার করে দিবে। এরপর ‘বিসমিল্ল­াহ’ বলে ডান দিক থেকে ছালাতের ওযূর ন্যায় ওযূর অঙ্গ সমূহ ধৌত করাবে। তারপর তিনবার বা তার বেশী বেজোড় সংখ্যায় সমস্ত শরীরে পানি ঢালবে। গোসল শেষে সুগন্ধি বা কর্পূর লাগাবে। মাইয়েত মহিলা হ’লে চুল খুলে দিবে। অতঃপর তিনটি ভাগে বেনীবদ্ধ করে পিছনে ছড়িয়ে দিবে(বুখারী হা/১২৬৩; মুসলিম হা/৯৩৯; আবুদাঊদ হা/৩১৪২, ৩১৪৫; মিশকাত হা/১৬৩৪; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল পৃঃ ২২৭)

মৃতব্যক্তিকে পৃথকভাবে কুলুখ করানোর কোন বিধান নেই। বরং পানি দ্বারাই সবকিছু করতে হবে। পানির অবর্তমানে কুলুখ ব্যবহার করা যাবে। ইমাম তিরিমিযী বলেন, বিদ্বানগণ (পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে) পানিকেই যথেষ্ট মনে করেন। পানি না পেলে কুলুখ নিবে (তিরমিযী হা/১৯ আলোচনা দ্রঃ)

প্রশ্ন (২৯/৩৮৯) : কুরআনের আরবী শব্দাবলী বুঝার জন্য বাংলা অক্ষরে উচ্চারণ করে লেখা যাবে কি? এছাড়া অন্য ভাষাতে লেখা যাবে কি?

-রাকীবুল ইসলাম

নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : উচ্চারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে বা সহজে বুঝার জন্য এরূপ লেখায় কোন বাধা নেই। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি আয়াতের উচ্চারণ ও মাখরাজের বিশুদ্ধতার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং উস্তাদের নিকট মাশক্ব করতে হবে। নতুবা ভুল উচ্চারণে অর্থের পরিবর্তন ঘটার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যাবে।

প্রশ্ন (৩০/৩৯০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, সূরা ইয়াসীনের ২১ নং আয়াত অনুযায়ী বিনিময় নিয়ে ছালাত আদায় করানো ইমামের পিছনে ছালাত হবে না। এ বক্তব্যের কোন সত্যতা আছে কি?

-আরাফাত হোসাইন

 রংপুর।

উত্তর : কোনরূপ বিনিময় ছাড়াই ইমামতি বা অনুরূপ কোন ধর্মীয় কার্য সম্পাদন করা উত্তম। কেননা নবীগণ স্ব স্ব দ্বীনী দাওয়াতের বিনিময়ে কোনরূপ মজুরী গ্রহণ করেননি (ফুরক্বান ৫৭)। ইমামতি বা অনুরূপ কোন ধর্মীয় কাজের দায়িত্বশীল নিয়োগ করা হ’লে তার দায়িত্বের বিনিময়ে সম্মানজনক রূযীর ব্যবস্থা সমাজকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যাকে আমরা কোন দায়িত্বে নিয়োগ করি, আমরা তার রূযীর ব্যবস্থা করে থাকি। এর বাইরে যদি সে নেয়, তবে তা খেয়ানত হবে’ (আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, হা/ ৩৫৮৮; মিশকাত হা/৩৭৪৮ ‘নেতৃত্ব ও পদমর্যাদা’ অধ্যায়, ‘দায়িত্বশীলদের ভাতা’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩১/৩৯১) : টিভি, রেডিও বা মোবাইলে সিজদার আয়াত শ্রবণ করলে সিজদা করা যরূরী হবে কি?

-ইশতিয়াক আহমাদ

বাবুইপাড়া, গোদাগাড়ী, বগুড়া।

উত্তর : এমতাবস্থায় সিজদা দেওয়া উত্তম। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন সিজদার আয়াত পড়তেন এবং আমরা তাঁর নিকটে থাকতাম তখন তিনিও সিজদা করতেন আমরাও সিজদা করতাম’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১০২৫, ‘তেলাওয়াতে সাজদাহ’ অনুচ্ছেদ)। ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে, নবী করীম (ছাঃ) সূরা নাজম তেলাওয়াতের সময় সিজদা করলে তার সাথে মুসলিম, মুশরিক, জিন ও ইনসান সবাই সিজদা করেছিল (ছহীহ বুখারী হা/১০৭১, মিশকাত হা/১০৩৩)। তবে এটি যরূরী নয়। কেননা যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা না করলে রাসূল (ছাঃ)ও সিজদা দেননি (আবুদাউদ হ/১৪০৪; তিরমিযী হা/৫৭৬)

প্রশ্ন (৩২/৩৯২) : প্রতি ওয়াক্ত ছালাতের ইক্বামতের পূর্বে ইমাম ছাহেব কাতার সোজা করা, পায়ে পা ও কাঁধে কাঁধ মিলানো এবং ইক্বামতের জবাব দানের জন্য মুছল্লীদের প্রতি আহবান জানান। এটা কি শরী‘আতসম্মত?

-জালালুদ্দীন, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) ইকামতের পূর্বে নয়; বরং পরে পায়ে পা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করে দাঁড়াতে বলতেন। কিন্তু এ সময় ইকামতের জবাব দিতে বলতেন মর্মে দলীল পাওয়া যায় না। তবে আযান ও ইক্বামত দু’টিকেই যেহেতু হাদীছে আযান বলে অভিহিত করা হয়েছে, সেহেতু ইক্বামতেরও জবাব দিতে হবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৮৮)। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সোজা কর, আমি তোমাদেরকে পিছন থেকে দেখতে পাই’। তিনি (আনাস) বলেন, আমরা কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়াতাম’ (বুখারী, হা/৭২৫)। আবু শাজারা বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সোজা কর। তোমরা সারিবদ্ধ হও, ফেরেশতাদের সারিবদ্ধ হওয়ার মত। তিনি আরও বলেন, তোমরা কাঁধ সামনা-সামনি কর। মধ্যের ফাঁকা বন্ধ কর। শয়তানের জন্য ফাঁকা ছেড়ে দিয়ো না। যারা কাতার মিলিয়ে দাঁড়ায় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন (সিলসিলা ছহীহাহ হা/৭৪৩)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা কাতারের মধ্যের ফাঁকা বন্ধ কর। কেননা শয়তান কালো বকরীর বাচ্চার ন্যায় তোমাদের কাতারের ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করে’ (আহমাদ, মিশকাত হা/১১৩১)। উদ্ধৃত হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ছালাতে পায়ের সাথে পা, কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধ প্রাচীরের ন্যায় দাঁড়াতে রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিতেন।

প্রশ্ন (৩৩/৩৯৩) : খুৎবার আযান মসজিদের ভিতরে দাঁড়িয়ে মাইকে দেওয়া যাবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-ক্বামারুযযামান

সোনাপুর, মহাদেবপুর, নওগাঁ।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় মসজিদের বাইরে কোন উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হ’ত। উদ্দেশ্য ছিল, দূরে আযানের আওয়াজ পৌঁছানো। উরওয়া ইবনুয যুবায়ের (রাঃ) বানু নাজ্জারের এক মহিলা হ’তে বর্ণনা করেন, মসজিদের নিকটে আমার বাড়িই সর্বাপেক্ষা উঁচু ছিল। বেলাল তার উপরে উঠে ফজরের আযান দিতেন (ছহীহ্ আবুদাঊদ হা/৫১৯, সনদ হাসান)। অতএব মাইক থাকলেও দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া উত্তম। অবশ্য সুবিধামত স্থানে দাঁড়িয়ে মাইকে আযান দেওয়ায় বাধা নেই।

প্রশ্ন (৩৪/৩৯৪) : কবর খনন করার পদ্ধতি ও ফযীলত এবং লাশ রাখার নিয়ম বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আরীফুল ইসলাম

 বিরামপুর, দিনাজপুর।

উত্তর : কবর খনন করা নিঃসন্দেহে নেকীর কাজ। এজন্য ঐ ব্যক্তি অশেষ ছওয়াবের অধিকারী হবেন। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘নেকীর কাজে তোমরা পরস্পরে সহযোগিতা কর...’ (মায়েদাহ ২)

কবর প্রশস্ত, গভীর ও সুন্দর হ’তে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমরা কবর খনন কর এবং প্রশস্ত, গভীর ও সুন্দর কর’ (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৭০৩, সনদ ছহীহ, ‘জানাযা’ অধ্যায়)। গভীরতার পরিমাণ সম্পর্কে ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হ’তে মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্তে একটি রেওয়ায়াত এসেছে, যেখানে মানুষের দৈর্ঘ্য পরিমাণ গভীর করতে বলা হয়েছে। ইমাম শাফেঈও সেকথা বলেন। খলীফা ওমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) থেকে ‘নাভী’ পর্যন্ত গভীর করার কথা এসেছে। ইমাম ইয়াহ্ইয়া ‘বুক’ পর্যন্ত বলেন। তিনি বলেন, এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হ’ল যাতে লাশ ঢাকা পড়ে এবং হিংস্র জন্তু থেকে হেফাযত হয়। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, কবরের গভীরতার কোন সীমা নেই’ (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৫/৯৪ পৃঃ)। উপরের আলোচনা শেষে বলা চলে যে, কবর উত্তর-দক্ষিণে লম্বা, গভীর, প্রশস্ত, সুন্দর ও মধ্যস্থলে বিঘত খানেক উঁচু করে দু’দিকে ঢালু হওয়া বাঞ্ছনীয়। অধিক উঁচু করা নাজায়েয। ‘লাহদ’ ও ‘শাক্ব’ দু’ধরনের কবর জায়েয আছে। যাকে এদেশে যথাক্রমে ‘পাশখুলি’ ও ‘বাক্স কবর’ বলা হয়। তবে ‘লাহদ’ উত্তম।  

মাইয়েতকে কবরে নামানোর দায়িত্ব পুরুষদের। মাইয়েতের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিকটবর্তীগণ ও সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিগণ এই দায়িত্ব পালন করবেন, যিনি পূর্বরাতে (বা দাফনের পূর্বে) স্ত্রী সহবাস করেননি। পায়ের দিক দিয়ে মোর্দা কবরে নামাবে (অসুবিধা হ’লে যেভাবে সুবিধা সেভাবে নামাবে)। মোর্দাকে ডান কাতে ক্বিবলামুখী করে শোয়াবে। এই সময় কাফনের কাপড়ের গিরাগুলি খুলে দেবে (বুখারী, মিশকাত হা/১৬৯৫; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৯০)

কবরে শোয়ানোর সময় ‘বিসমিল্লা-হি ওয়া ‘আলা মিল্লাতে রাসূলিল্লা-হ’ (অর্থ: ‘আল্লাহ্র নামে ও আল্লাহ্র রাসূলের দ্বীনের উপরে’) বলবে। এই সময় কোন সুগন্ধি বা গোলাপ পানি ছিটানো বিদ‘আত। কবর বন্ধ করার পরে উপস্থিত সকলে (বিসমিল্লাহ বলে) তিন মুঠি করে মাটি কবরের মাথার দিক থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে দেবে। এ সময় ‘মিনহা খালাক্বনা-কুম ওয়া ফীহা নু‘ঈদুকুম ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা’ (ত্বোয়াহা ২০/৫৫) পড়ার কোন ছহীহ দলীল নেই (আহমাদ হা/২২২৪১, সনদ যঈফ)। অনুরূপভাবে আল্লা-হুম্মা আজিরহা মিনাশ শায়ত্বা-নি ওয়া মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরে... পড়ার কোন ছহীহ ভিত্তি নেই (ইবনু মাজাহ হা/১৫৫৩, সনদ যঈফ)

দাফনের পরে মাইয়েতের ‘তাছবীত’ অর্থাৎ মুনকার ও নাকীর (দু’জন অপরিচিত ফেরেশতা)-এর সওয়ালের জওয়াব দানের সময় যেন তিনি দৃঢ় থাকতে পারেন, সেজন্য ব্যক্তিগতভাবে সকলের দো‘আ করা উচিত। যেমন এ সময় ‘আল্লা-হুম্মাগফির লাহূ ওয়া ছাবিবতহু’ (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন ও তাকে দৃঢ় রাখুন’) বলবে (আবুদাঊদ হা/৩২২১)। এছাড়া আললাহুম্মাগফিরলাহু ওয়ার হামহু.. মর্মে বর্ণিত দো‘আটিও পড়তে পারে (মুসলিম হা/৩৩৬)। কিন্তু দাফনের পরে একজনের নেতৃত্বে সকলে সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে দো‘আ করা ও সকলের সমস্বরে ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলার প্রচলিত প্রথার কোন ভিত্তি নেই (দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ২৩০-৩২ পৃঃ

প্রশ্ন (৩৫/৩৯৫) : সরকার বর্তমানে মালয়েশিয়া যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এমতাবস্থায় চোরাইপথে সেখানে গিয়ে অর্থ উপার্জন করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-ফয়ছাল আহমাদ

কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : চোরাইপথে উপার্জন করা, ব্যবসা-বাণিজ্য করা নিষিদ্ধ। কেননা শরী‘আতবিরোধী না হ’লে যে কোন রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করা জনগণের উপর অবশ্য কর্তব্য (নিসা ৫৯)। অতএব রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ভঙ্গ করে চোরাইপথে মালয়েশিয়া গিয়ে অর্থ উপার্জন করা জায়েয হবে না।

প্রশ্ন (৩৬/৩৯৬) : সন্তান প্রসবকালীন সময়ে কোন মহিলা মৃত্যুবরণ করলে তিনি কি শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন?

-মাযহার হোসাইন

রায়গঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : হ্যাঁ। সন্তান প্রসবকালীন সময়ে কোন মুমিন মহিলা মারা গেলে শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন (আহমাদ হা/২২৭৩৭; মিশকাত হা/১৫৬১)

প্রশ্ন (৩৭/৩৯৭) : ছিয়াম অবস্থায় অনেক মানুষ এমনকি কোন কোন আলেমও দাঁতে গুল দেন এবং বলেন এতে ছিয়ামের কোন ক্ষতি হবে না। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

-মুহাম্মাদ আসীফ

পাকুড়, ঝাড়খন্ড, ভারত।

উত্তর : তামাক বা তামাকজাত যে কোন দ্রব্য, যা দেহের মধ্যে খাদ্যের ন্যায় তৃপ্তি যোগায়, তা খাদ্য হিসাবে গণ্য হবে। যেমন গুল, জর্দা, বিড়ি-সিগারেট সহ সকল প্রকার নেশাদার দ্রব্য। এছাড়া গুল মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত, যা খাওয়া বা ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মাদকতা আনয়নকারী প্রত্যেক বস্ত্তই মদ এবং প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যার বেশী পরিমাণে মাদকতা আসে, তার কম পরিমাণও হারাম’ (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩৬৪৫, সনদ ছহীহ )

প্রশ্ন (৩৮/৩৯৮) : কোন হাদীছে এসেছে ক্বিয়ামতের দিন মানুষ উলঙ্গ অবস্থায় এবং কোন হাদীছে এসেছে যে কাপড়ে দাফন হবে সে কাপড়ে পুনরুত্থিত হবে। উভয় হাদীছের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান কি?

-বযলুর রশীদ

যশোর।

উত্তর : ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে বস্ত্রহীন অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করা হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৩৬)। কোন হাদীছে বলা হয়নি যে, কাফন পরা অবস্থায় উঠবে। কেবল একটি হাদীছে এসেছে, প্রত্যেক বান্দা যে অবস্থায় মারা যাবে তাকে সে অবস্থায় উঠানো হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৩৪৫)। এর সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, দুনিয়াতে ভালো কর্ম করে মারা গেলে ভালো অবস্থায় আর মন্দ কর্ম করে মারা গিয়ে থাকলে মন্দ অবস্থায় উঠবে (মানাবী, ফায়যুল ক্বাদীর ২/৪৪০)। যেমন বলা হয়েছে, ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে তাকে তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় উঠানো হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৬৩৭)

প্রশ্ন (৩৯/৩৯৯) : কুরবানীর বকরী ক্রয়ের কিছুদিন পর বকরীর পায়ের খুর বড় হওয়ায় খুঁড়িয়ে হাটে। এমতাবস্থায় পায়ের ক্ষুর কাটা যাবে কি? অথবা যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় কুরবানী জায়েয হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-শহীদুল্লাহ, বংশাল, ঢাকা।

উত্তর : পশুর চলাফেরা যদি কষ্ট মনে হয়, তবে পায়ের বর্ধিত ক্ষুর কাটা দোষণীয় নয়। তাছাড়া নিখুঁত পশু ক্রয়ের পর যদি নতুন করে খুঁৎ হয় বা পুরনো কোন দোষ বেরিয়ে আসে, তবে ঐ পশু দ্বারাই কুরবানী জায়েয হবে (মির‘আত ২/৩৬৩; ফিকহুস সুন্নাহ ১/৭৩৮ পৃঃ; বিস্তারিত দেখুন : মাসায়েলে কুরবানী পৃঃ ৬)

প্রশ্ন (৪০/৪০০) : কুরবানীর পশু অন্যের মাধ্যমে যবেহ করে নেওয়া যায় কি?

-মিলন হোসাইন

নাটোর ডিগ্রী কলেজ, নাটোর।

উত্তর : কুরবানীর পশু নিজ হাতে যবেহ করা সুন্নাত (ছহীহ ইবনে মাজাহ হা/২৫৭১)। তবে অন্যের মাধ্যমেও যবেহ করা যায়। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কিছু উট নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং কিছু উট অন্যের মাধ্যমে যবেহ করালেন (ছহীহ নাসাঈ হা/৪৪৩১; আত-তাহরীক, অক্টোবর ’০১, ১৪/৮৬)

 

 

HTML Comment Box is loading comments...