বিজ্ঞান ও বিস্ময়

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরী হ’ল কম্বাইন্ড হারভেস্টার

একসঙ্গে ধানকাটা, মাড়াই, ঝাড়া ও বস্তাবন্দী করার যন্ত্র তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃষক আনোয়ার হোসেন (৫০)। যন্ত্রটি দিয়ে এ বছর দিনাজপুরের কয়েকটি এলাকায় বোরো ধান কেটে ঘরেও তুলেছেন কৃষকেরা। যন্ত্রটি ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ নামে পরিচিত। এতে ধান কাটায় প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় সময় ও খরচ অনেক কম লাগে। আর মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে অনেক ধানের অপচয়ও হয় না।

কৃষক যাকির হায়দার বলেন, যন্ত্রটি দিয়ে দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে এক একর জমির ধান কাটা-মাড়াই-ঝাড়া ও বস্তায় ভরা যাচ্ছে। টাকা দিতে হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার। যন্ত্রটি ভাড়ায় নেওয়ার জন্য তার মত অনেক কৃষকই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কারণ শ্রমিক দিয়ে কাজ করালে টাকাও দ্বিগুণ লাগে, ধানেরও অপচয় হয়। তাছাড়া শ্রমিকও পাওয়া যায় না। কিন্তু এ যন্ত্রে অপচয়ের বালাই নেই। তিনি ১৫ দিন আগে যোগাযোগ করে যন্ত্রটি ভাড়া পেয়েছেন।

যন্ত্রটির নির্মাতা আনোয়ার হোসেন জানান, এই প্রথম দেশীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে কম্বাইন্ড হারভেস্টার তৈরি করা হলো। কোরিয়ার তৈরি হারভেস্টারের চেয়ে তাঁর তৈরি যন্ত্রে কৃষকের অর্ধেকেরও বেশী টাকা সাশ্রয় হবে। কোরিয়ার যন্ত্রটির দাম প্রায় ২৯ লাখ টাকা হলেও তাঁর খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ টাকা। তবে যন্ত্রটি আরও দক্ষ, টেকসই করতে হলে খরচ হবে মোট প্রায় নয় লাখ টাকা।

কোরিয়ার কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে এক একর জমির ধান কাটা-মাড়াই-ভাড়া ও বস্তায় ভরতে সময় লাগে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। ডিজেল লাগে ১৫-১৬ লিটার। যন্ত্রটির গতি কম হওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিতে আলাদা গাড়ি লাগে। খুচরা যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যায় না। বড় শহরে পাওয়া গেলেও দাম বেশি। কিন্তু আনোয়ারের তৈরি কম্বাইন্ড হারভেস্টারে একই পরিমাণ জমির কাজে সমান সময় লাগলেও ডিজেল খরচ পাঁচ-ছয় লিটার। গতি বেশী হওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজেই নেওয়া যায়। ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশও সহজলভ্য। তিন দিন প্রশিক্ষণ দিলে যে কেউ এই যন্ত্র চালাতে পারেন।

সময় বাঁচানোর রুটির যন্ত্র লাইবা রুটি মেকার

গৃহস্থালি কাজে সাহায্য করতে দ্রুত রুটি বানাতে নতুন এক ধরনের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন মাগুরার হুমায়ুন কবীর। এই যন্ত্র দিয়ে মিনিটে এক সঙ্গে ১০/১৫টি রুটি বানানো যায়। উদ্ভাবক এর নাম দিয়েছেন ‘লাইবা রুটি মেকার’। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রুটি বানানোর জন্য এক ধরনের ফুডপেপার (ইংল্যান্ড অথবা জাপান থেকে আমদানি করা) দিয়ে যন্ত্রটি মোড়ানো হয়। এতে খাবার স্বাস্থ্যসম্মত থাকে। এ কাঠযন্ত্রের সাহায্যে সিদ্ধ আটার রুটি, ময়দা লুচি, সিদ্ধ চালের গুড়ার রুটি, সবজি রুটি, দিল্লিকা-রোটি, এগ-পরোটা, কিমা পরোটা, কলিজার রুটি, মাসকলাই ডালের রুটি, বার্লি রুটি, তাল রুটিসহ বিভিন্ন ধরনের রুটি সহজেই তৈরি করা যায়।

তবে কাঁচা আটার রুটি তৈরি করতে গেলে রুটি পেপারের ওপর এক/দুই ফোঁটা তেল ব্যবহার করতে হয়। এ যন্ত্রের বিশেষত্ব হচ্ছে, এক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি রুটি তৈরি করা যাবে।

উদ্ভাবক হুমায়ুন কবীর জানান, বাজারে ইন্ডিয়ান ইলেকট্রিক মেশিন আছে। তবে তা ব্যবহারে হাতে বানানো রুটির মতো স্বাদ ও মান থাকে না। এছাড়া তাতে সিদ্ধ আটার রুটি হয় না।