মুসলিম জাহান

গাজার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে মিসর

মিসর সরকার দেশটি থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা অভিমুখী ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ জোরদার করেছে। এসব টানেল দিয়ে নিজেদের প্রাত্যহিক চাহিদা মেটায় গাজাবাসী। ২০১১ সালের গণবিপ্লবের পর মোহাম্মাদ মুরসির নেতৃত্বে ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গাজাবাসী মনে করেছিল, তাদের ওপর আরোপিত অবরোধের যুগ হয়তো শেষ হতে চলেছে। গাজাবাসীর আশা ছিল, তাদেরকে আর ভূগর্ভস্থ টানেল নয়, বরং মিসরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিং দিয়েই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আমদানি করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। উপরন্তু এবার মুবারক সরকারের মতো মুরসি সরকারও এসব টানেল বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, টানেল বন্ধ করে দেয়ার ফলে অবরুদ্ধ গাজায় তেল ও সিমেন্টের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।

[জি! আমেরিকার বিশ্বস্ত মুরসি তার বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন এবং বিশ্বের বৃহত্তম কারাগার গাজাবাসীর সর্বনিম্ন সুযোগটুকুও বন্ধ করে দিয়েছেন। লিবারেল মোবারকের চাইতে ইসলামপন্থী মুরসি ইসলাম ও মুসলিমের স্বার্থের বিরুদ্ধে আরেক কাটা বেশী হবেন, এ ভবিষ্যদ্বাণী আমরা মুরসি ক্ষমতায় আসার পর আগস্ট’১২ ‘দিশারী’ কলামে করেছিলাম (স.স.)]

মিসরে সেনা ক্যু : প্রেসিডেন্ট মুরসির বিদায়

মিসরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে দিয়েছে সেদেশের প্রভাবশালী সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশের সংবিধান স্থগিত করে প্রধান বিচারপতি আদলি মানছূরকে প্রেসিডেন্ট এবং মোবারক সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী হাযেম আল-বেবলায়ীকে প্রধানমন্ত্রী, এবং এল বারাদীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে। আর মুরসি সহ ব্রাদারহুডের উর্ধ্বতন কিছু নেতাকে অজ্ঞাত স্থানে বন্দী রাখা হয়েছে এবং আরো ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের জানুয়ারীতে পার্লামেন্ট নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আদলি মানছূর।

উল্লেখ্য, গত ৬০ বছর কার্যত সেনাবাহিনীই মিসর শাসন করেছে। ২০১১ সালে তাহরীর স্কয়ারে বিশ্ব কাঁপানো এক বিপ্লবে পতন ঘটে সেনাশাসক হোসনী মোবারকের এবং ক্ষমতায় আরোহণ করেন প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি। অতঃপর ঠিক এক বছরের মাথায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করায় সেনাবাহিনীর পক্ষে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠেছে মিসরের জনগণ। এদিকে ঘটনার পর মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে এসেছে এবং সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।

[ইসলামের লেবাস পরে গণতন্ত্রী সাজতে গিয়ে মুরসি ও তার দল একূল-ওকূল দু’কূল হারালো। মর্কিন আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় এলেও তাদের পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হওযায় তাদেরই পোষ্য সেনাবাহিনী ও বিরোধী দলীয় নেতাদের মাধ্যমে মুরসিকে সুকৌশলে বিদায় করা হ’ল। অথচ গণতান্ত্রিক বিশ্ব নীরব। ইসলামপন্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করবেন কি? (স.স.)]

গ্যাস মজুদের দিক থেকে ইরান বিশ্বে এক নম্বর

ইরানেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশী গ্যাসের মজুদ রয়েছে। ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় জ্বালানি কোম্পানি বিপি তার এক রিপোর্টে এ কথা ঘোষণা করেছে। বিপি’র এ রিপোর্টের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের গ্যাস জায়ান্ট রাশিয়াকে পেছনে ফেলে গ্যাস-সমৃদ্ধ এক নম্বর দেশে পরিণত হলো ইরান। বিপি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে সর্বোচ্চ ৩৩.৬ ট্রিলিয়ন ঘন মিটার গ্যাসের মজুদ রয়েছে। আর রাশিয়াতে রয়েছে ৩২.৯ ট্রিলিয়ন ঘন মিটার গ্যাসের মজুদ। গত বছর রাশিয়ার মজুদের পরিমাণ বলা হয়েছিল ৪৪.৬ ট্রিলিয়ন ঘন মিটার। বিপি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১২ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে গ্যাসের মোট মজুদ রয়েছে ১৮৭.৩ ট্রিলিয়ন। বিপি’র নতুন হিসাব মতে, ইরান ও ইরাকের তেল মজুদের পরিমাণও কয়েক বিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে।