প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪০১) : জিন-ইনসানকে আল্লাহ ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইয়াজুজ, মাজুজ এবং দাজ্জালকে কি নাফরমানী করার জন্য সৃষ্টি করেছেন? মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দাজ্জালের হাতে জান্নাত-জাহান্নাম দিলেন কেন?
-আব্দুল মতীন, সিরাজগঞ্জ
উত্তর : ইয়াজূজ, মাজূজ এবং দাজ্জাল পৃথক কোন সম্প্রদায় নয় তারাও মানুষের অন্তর্ভুক্ত (বুখারী, মিশকাত হা/৫৪৭৫; মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৮২)। মানুষের ঈমান পরীক্ষা করার জন্য এদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আর দাজ্জাল জান্নাত ও জাহান্নামের মত (مِثْلَ الجَنَّةِ وَالنَّارِ) কিছু নিয়ে আসবে। সে এর মাধ্যমে জাদুর ফাঁদ পাতবে ও মানুষকে বিভ্রান্ত করবে (বুখারী হা/৩৩৩৮; মুসলিম হা/২৯৩৬)
প্রশ্ন (২/৪০২) : রাসূল (ছাঃ) মাইয়েতকে তাড়াতাড়ি দাফন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর দাফনে তিন দিন দেরী হ’ল কেন?
-আইনুল হক, বি-ব্লক, বগুড়া।
উত্তর : খলীফা নির্বাচনে দেরী হওয়ায় কাফন-দাফনে প্রায় ৩২ ঘণ্টা দেরী হয়েছিল’ (মানছুরপুরী, রহমাতুললিল আলামীন, ১/২৫৩)
প্রশ্ন (৩/৪০৩) : একজন আলিম গায়রে মাহরাম মহিলাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এটা কি কাবীরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়? এমন লোকের পিছনে ছালাত হবে কি?
-আব্দুল মালিক
রাজপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : বেপর্দা অবস্থায় এটা করলে গোনাহ হবে। মহিলারা পর্দার মধ্যে থাকা অবস্থায় শিক্ষা দান করলে গোনাহ হবে না। রাসূল (ছাঃ) একটি বাড়ী নির্ধারণ করে সেখানে মহিলাদেরকে শিক্ষা দিতেন (বুখারী, মিশকাত হা/১৭৫৩)। এমন আলেমের পিছনে ছালাত আদায় করতে বাধা নেই। কারণ ইমামের পাপ মুক্তাদীর উপর বর্তায় না। তবে ইমামের সংশোধন হওয়া উচিত। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তির ছালাত কবুল হয় না। তার মধ্যে একজন হ’ল ঐ ইমাম যাকে মুছল্লীরা পসন্দ করে না (তিরমিযী প্রভৃতি, মিশকাত হা/১১২২-২৩, ২৮)
প্রশ্ন (৪/৪০৪) : ‘মাসআলা ও হাকীকত’ নামক বইয়ে জনৈক লেখক লিখেছেন, দাড়ির সর্বোচ্চ পরিমাণ এক মুষ্টি। এর অতিরিক্ত লম্বা দাড়ি রাখা হারাম। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা দাড়ি অল্প লম্বা কর। অনুরূপ চুল-দাড়িতে কালো খেযাব, কালো মেহেদী ব্যবহার করা সুন্নাত। আবুবকর, ওমর, ওছমান (রাঃ) সহ অনেক ছাহাবী কালো কলপ ব্যবহার করেছেন। কালো খেযাব ব্যবহার করার বিরুদ্ধে যেসব হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সবই জাল, যঈফ। লেখকের উক্ত দাবী কি সঠিক?
-আব্দুল্লাহ, সিলেট।
উত্তর : উক্ত দাবী বিভ্রান্তিমূলক। কেননা দাড়ি লম্বা করা সম্পর্কে যত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে أعفوا، أوفروا، وفروا، أوفوا ارخوا، ارجوا،  ইত্যাদি শব্দ এসেছে। যার অর্থ দাড়িকে (কোন প্রকার কাটছাট ছাড়াই) স্বীয় অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২১; মুসলিম হা/৬২৫-২৬)। অতএব ‘অল্প লম্বা কর’ এধরনের অর্থ করাটা মনগড়া। রাসূল (ছাঃ) কখনো দাড়ি ছোট করেছেন মর্মে কোন ছহীহ দলীল নেই। অতএব তাঁর উম্মত হিসাবে আমাদেরকেও দাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।
তিরমিযীতে আমর ইবন শু‘আইব তার পিতা ও দাদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ থেকে কাট-ছাট করতেন বলে যে বর্ণনা এসেছে তা জাল। সুতরাং এটি গ্রহণযোগ্য নয় (তিরমিযী হা/২৭৬২; মিশকাত হা/৪৪৩৯; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮৮)। অনুরূপভাবে হজ্জ বা ওমরা করার সময় ইবনু ওমর (রাঃ) এক মুষ্টির অধিক দাড়ি কেটে ফেলতেন মর্মে যে বর্ণনা এসেছে সেটা তার ব্যক্তিগত আমল। অন্য সময়ে তিনি এরূপ করতেন না। সুতরাং তা দলীল হিসাবে গ্রহণীয় নয় (ফাতহুল বারী ১০/৪২৮-২৯, হা/৫৮৯২-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)
রাসূল (ছাঃ) কালো কলপ ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে বলেছেন (মুসলিম হা/৫৬৩১; মিশকাত হা/৪৪২৪)। অন্য হাদীছে এসেছে, যারা কালো কলপ ব্যবহার করবে তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না (আবুদাঊদ হা/৪২১২; মিশকাত হা/৪৪৫২, সনদ ছহীহ)। আবুবকর ও ওমর (রাঃ) সহ অন্যরা কালো কলপ ব্যবহার করতেন বলে প্রশ্নে যে দাবী করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বরং আবুবকর (রাঃ) মেহেদী ও ‘কাতাম’ ঘাস দিয়ে কলপ করতেন। কাতাম হল এক ধরনের ইয়ামেনী ঘাস, যা দ্বারা কলপ করলে লাল ও কালো রঙের মিশ্রণ হয়। আর ওমর (রাঃ) শুধুমাত্র মেহেদী দ্বারা কলপ করতেন (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/৩৫৫, হা/১৮০৬-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)
উল্লেখ্য যে, আরবদের মধ্যে প্রথম কালো কলপ ব্যবহার করেন রাসূল (ছাঃ)-এর দাদা আব্দুল মুত্ত্বালিব। আর সাধারণভাবে প্রথম কালো কলপ ব্যবহার করে ফেরাউন (ফাৎহুল বারী ১০/৪৩৫, হা/৫৮৯৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। সুতরাং লেখকের উক্ত দাবী সঠিক নয়।
প্রশ্ন (৫/৪০৫) : শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে ই‘তিকাফকারী সেদিন বাড়ী আসবে না পরের দিন সকালে ঈদ পড়ে আসবে?
-মুঈনুল ইসলাম
মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : আবু সাঈদ খুদরী হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আমার সাথে ই‘তিকাফ করতে চায়, সে যেন রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে’ (বুখারী হা/২০২৭)। ইসলামে রাত থেকেই দিন গণনা শুরু হয়। সে হিসাবে ২১ রামাযানের মাগরিবের পূর্বে মসজিদে ই‘তিকাফ স্থলে প্রবেশ করবে এবং ঈদের আগের দিন মাগরিবের পরে বেরিয়ে আসবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ; সিলসিলা যঈফাহ হা/১৪৫২)
প্রশ্ন (৬/৪০৬) : ছালাতে দাঁড়ানোর সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত দু’টি কাঁধ বরাবর উঠালে দুই হাতের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী থাকবে না সোজা থাকবে?
-আরিফুল ইসলাম
বাটরা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : আঙ্গুলগুলো খোলা থাকবে এবং হাতের তালু ক্বিবলার দিকে সোজা থাকবে (যাদুল মা‘আদ ১/৫১ পৃঃ)
প্রশ্ন (৭/৪০৭) : প্রচলিত আছে, মহল্লায় কেউ মারা গেলে তার পরিবারে ৪ দিন রান্না করা যাবে না। প্রতিবেশীরা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ৪ দিন গোশত, বিরিয়ানী ও পানীয় ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এটা কি শরী‘আত সম্মত?
-আব্দুল জববার
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
উত্তর : মৃত্যুর পরে মৃতের প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের কর্তব্য হ’ল, মৃতের পরিবারের লোকদেরকে কমপক্ষে এক দিন ও এক রাত পেট ভরে খাওয়ানো। জাফর বিন আবু তালিব (রাঃ) শহীদ হলে রাসূল (ছাঃ) তার প্রতিবেশীদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন (তিরমিযী হা/৯৯৮; মিশকাত হা/১৭৩৯; তালখীছ, পৃঃ ৭৪)
প্রশ্ন (৮/৪০৮) : যে ব্যক্তি ছিয়াম না রেখে ইফতার করে সে কি ছিয়ামের নেকী পায়? ঢাকায় অনেকে এভাবে শুধু ইফতার করে। এক ইমামকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, এ ধরনের ব্যক্তি ইফতারে শরীক হলে ছিয়ামের নেকী পাবে। উক্ত জবাব কি সঠিক?
-এনামুল হক, বংশাল, ঢাকা।
উত্তর : ইফতার ছিয়াম পালনকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট। যার ছিয়াম নেই, তার ইফতারও নেই (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫৯)
প্রশ্ন (৯/৪০৯) : মেয়েদের কাপড় পায়ের কতটুকু নীচে নামানো যাবে?
-মুহাম্মাদ ফারূক
হলিধানী, ঝিনাইদহ।
উত্তর : উম্মে সালামাহ (রাঃ)-এর অনুরূপ এক প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যতটুকুতে পা ঢাকবে ততটুকু নীচে নামাবে (আবুদাঊদ, নাসঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪৩৩৪-৩৫)
প্রশ্ন (১০/৪১০) : ‘রাযীতু বিল্লাহি রববাঁও ওয়াবিল ইসলামি দ্বী-নাঁও ওয়া বি মুহাম্মাদিন নাবিইয়া’ দো‘আটি সকাল সন্ধ্যায় কতবার পাঠ করতে হবে? উক্ত দো‘আ পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের পর পাঠ করা যাবে কি?
-অধ্যাপক আনোয়ার
আড়ানী মহিলা কলেজ, বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : সকাল-সন্ধ্যা বা যেকোন সময় যতবার ইচ্ছা ততবার পড়তে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি উক্ত দো‘আ বলবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে (আবুদাঊদ হা/১৫২৯)। উল্লেখ্য যে, উক্ত দো‘আ সন্ধ্যায় পড়বে মর্মে যে হাদীছ তিরমিযীতে এসেছে তা যঈফ (যঈফ তিরমিযী হা/৩৩৮৯)
প্রশ্ন (১১/৪১১) : সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে দু’হাত রেখে সিজদায় যাওয়ার হাদীছটি আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে আগে হাঁটু রাখার কথা রয়েছে। কোনটি সঠিক?
-মুহাম্মাদ রফীকুল ইসলাম
মালিপাড়া, মাদরা, বগুড়া।
উত্তর : ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছটি যঈফ। এর সনদে শারীক নামক একজন রাবী রয়েছেন, যিনি যঈফ। তিনি এককভাবে বর্ণনা করার কারণে হাদীছটি যঈফ (ইরওয়া হা/৩৫৭; সিলসিলা যঈফাহ হা/৯২৯)
প্রশ্ন (১২/৪১২) : টাকার বিনিময়ে জমি লিজ বা খায়খালাসী নেয়া যাবে কি?
-আব্দুল আলীম, পঞ্চগড়।
উত্তর : যাবে। রাফে‘ ইবনে খাদীজ (রাঃ) বলেন, আমার দুই চাচা নবী করীম (ছাঃ)-এর যুগে জমি বর্গা দিতেন এভাবে যে, নালার পাশে যে শস্য হবে তা তাদের অথবা জমির মালিক শস্য নেয়ার জন্য কিছু কিছু জমি নির্দিষ্ট করে দিতেন। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ) এরূপ করতে নিষেধ করলেন। হানযালা (রাঃ) বলেন, আমি রাফে ইবনে খাদীজ (রাঃ)-কে বললাম, স্বর্ণমুদ্রা ও রোপ্যমুদ্রার বিনিময়ে জমির ভাড়া দেয়া যাবে কি? তিনি বললেন, এতে কোন আপত্তি নেই (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৯৭৪)
প্রশ্ন (১৩/৪১৩) : ই‘তিকাফকারী তারাবীহর ছালাত জামা‘আতের সাথে পড়বে, না একাকী পড়বে?
-ইকরামুল ইসলাম
শার্শা, যশোর।
উত্তর : জামা‘আতের সাথে পড়াই উত্তম হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত জামা‘আতের সাথে রাত্রির ছালাত আদায় করবে, তার জন্য সারা রাত্রি ছালাত আদায়ের নেকী লেখা হবে (তিরমিযী হা/৮০৬; নাসাঈ হা/১৩৬৪. সনদ ছহীহ; ফাতাওয়া উছায়মীন, ২০/২১৩)
প্রশ্ন (১৪/৪১৪) : আত-তাহরীক পড়ে জানতে পারলাম রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরী নন, মাটির তৈরী। তাহলে ওছমান (রাঃ) ‘যিন নুরাইন’ বলা হয় কেন? রাসূল (ছাঃ)-এর ২ কন্যার সাথে বিবাহ হওয়ার কারণেই যদি তাকে যিন নুরাইন বলা হয় তাহলে রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরী। একথা কি সঠিক?
-মুহাম্মাদ আমীর
কোরপাই, কুমিল্লা।
উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক নয়। মূলতঃ কন্যাদ্বয়ের মর্যাদার দিকে লক্ষ্য করে এই উপনাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর দ্বারা প্রকৃত ‘নূর’ উদ্দেশ্য নয়। যেমন আদর করে সন্তানকে বলা হয় কলিজার টুকরা, নয়নের মণি ইত্যাদি। এমনকি রাসূল (ছাঃ) তার কন্যা ফাতিমাকে ‘নিজের অংশ’ বলেছেন (মুসলিম হা/২৪৪৯)
প্রশ্ন (১৫/৪১৫) : জনৈক ব্যক্তি নগদে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি গরুর গোশত বিক্রয় করে। আর বাকীতে বিক্রয় করে ২৬০ টাকা কেজি। উক্ত টাকা উঠাতে তার ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগে। এধরনের ব্যবসা কি বৈধ?
-আব্দুছ ছামাদ, পঞ্চগড়।
উত্তর : উভয়ের সম্মতি থাকলে এধরনের ব্যবসা জায়েয (তিরমিযী হা/১২৩১; মিশকাত হা/২৮৬৮)
প্রশ্ন (১৬/৪১৬) : জনৈক আলেম বলেন, একজন আলেমকে সম্মান করলে ২৫ জন নবী-রাসূলকে সম্মান করা হয়। একথা সত্য কি?
-দিদার বখশ
খানপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ডাহা মিথ্যা। এতে নবী-রাসূলগণের চেয়ে আলেমের সম্মান ২৫ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে প্রকৃত আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিছ। তাঁরা অন্যদের চেয়ে অনেক গুণে সম্মানী (তিরমিযী হা/২৬৮২; মিশকাত হা/২১২, সনদ হাসান)
প্রশ্ন (১৭/৪১৭) : আমার মামাতো ভাইয়েরা আমার মা-খালাকে এক বিঘা জমি দিয়েছে। এখন আমার মা বেঁচে আছেন এবং আমার খালার দু’মেয়ে আছে। এ জমি কিভাবে বণ্টন হবে।
-আমীর হামযা
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : এক বিঘা জমির অর্ধেক মা পাবে। বাকী অর্ধেকের তিন ভাগের দুই ভাগ দুই বোনের মাঝে বণ্টন হবে। বাকী এক ভাগ মৃত খালার পিতা-মাতা বা ভাই-বোন কিংবা ভাই-বোনের ছেলে মেয়েদের মাঝে আছাবা সূত্রে অংশহারে বণ্টন হবে।
প্রশ্ন (১৮/৪১৮) : ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকা অবস্থায় কতবার দো‘আ ইউনুস পাঠ করেছিলেন?
-সফিউদ্দীন, নরসিংদী।
উত্তর : কতবার পড়েছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে আল্লাহ বলেন, অন্ধকার সমূহের ভিতর হতে ইউনুস ডাক দিয়ে বললেন, لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ- ‘আপনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি। আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত’ (আম্বিয়া ৮৭)। সা‘দ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, কোন মুসলিম কোন বিষয়ে উক্ত দো‘আ পড়লে আল্লাহ তার দো‘আ কবুল করবেন (তিরমিযী হা/৩৫০৫)
প্রশ্ন (১৯/৪১৯) : যাকাতের মাল দ্বারা মাদরাসার ছাত্রদের আবাসিক ব্যবস্থা করা যাবে কি?
-আব্দুল্লাহ ফারূক, উপশহর, রাজশাহী।
উত্তর : যাবে। যাকাত বণ্টনের খাতগুলোর মধ্যে একটি খাত আছে ‘ফী সাবীলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তা (তওবা ৬০)। আর আল্লাহর দ্বীন টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে দ্বীনী প্রতিষ্ঠান। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হয়, সেসব প্রতিষ্ঠান যাকাতের বড় হকদার। যেখানে কোন সরকারী অনুদান দেওয়া হয় না।
প্রশ্ন (২০/৪২০) : রাসূল (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পড়ার সময় সাইয়িদিনা বলা যাবে কি?
-ফারূক, রাজশাহী।
উত্তর : দরূদের সাথে সাইয়িদিনা শব্দ বলার কোন প্রমাণ নেই। দরূদে ইবরাহীমী এবং সংক্ষিপ্তভাবে ‘ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৯১৯, ৯২১)
প্রশ্ন (২১/৪২১) : প্রচলিত তাবলীগ জাম‘আতের ‘ফাযায়েলে আমাল’ বইয়ের ‘হেকায়াতে ছাহাবা’ অংশে দু’জন ছাহাবী কর্তৃক রাসূল (ছাঃ)-এর দেহ নির্গত রক্ত পানের দু’টি ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, ‘হুজুরে পাক (ছাঃ)-এর মল-মুত্র, রক্ত সবকিছু্ পাক-পবিত্র। এর সত্যতা জানতে চাই।
-আব্দুল ওয়াজেদ
পাঁচদোনা, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।
উত্তর : উক্ত মর্মে যত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে সবই জাল ও যঈফ। তবে মুস্তাদরাকে হাকেমে (হা/৬৩৪৩) ছাহাবী আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের কর্তৃক রাসূল (ছাঃ)-এর শিঙ্গা লাগানোর রক্ত গোপনে পান করার একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরে এজন্য রাসূল (ছাঃ) তাকে দু’বার নিন্দা করেছেন। যাহাবী উক্ত হাদীছের ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। ইবনু হাজার সমস্ত দুর্বলতা বর্ণনার পর বলেন, এর কোন ভিত্তি থাকতে পারে’(তালখীছুল হাবীর ১/১৬৯)। তবে উক্ত বিরল ঘটনা দ্বারা রক্ত পান জায়েয প্রমাণিত হয় না। কেননা এতে রাসূল (ছাঃ)-এর অনুমোদন নেই। দ্বিতীয়তঃ পবিত্র কুরআনে প্রবাহিত রক্ত পান করা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে (আন‘আম ১৪৫)। অতএব ফাযায়েলে আমাল বইয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর রক্ত ও মল-মূত্র পাক হওয়া সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশ্ন (২২/৪২২) : মেয়েদের উপর কত বছর বয়সে পর্দা ফরয হয়?
-রাবেয়া ও খাদীজা
রসুলপুর, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : প্রাপ্ত বয়স্কা হলে তাদের উপর পর্দা ফরয হয় (নূর ৫৯; ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, পৃঃ ২৬৫)
প্রশ্ন (২৩/৪২৩) : জনৈক ব্যক্তি শস্য ক্রয় করে ঘরে রেখে বিক্রি করে। বাকীতে বিক্রয় করলে নগদ মূল্যের চেয়ে কিছু বেশী ধরে। এভাবে ব্যবসা করা যাবে কি?
-উজ্জ্বল, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁ।
উত্তর : বাজারের স্বাভাবিক যোগান ও সরবরাহ নীতির মধ্যে থেকে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এর বাইরে অস্বাভাবিক কিছু করা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা নাজায়েয। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে মওজুদ করল, সে পাপী’ (মুসলিম হা/৪২০৬; মিশকাত হা/২৮৯২)। বাকী ক্রয়-বিক্রয়ে যদি তাতে যুক্তি যুলুম না থাকে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা মূল্য বেশী ধরা হয়, উভয়ে যদি সন্তুষ্ট থাকে, তবে জায়েয হবে (তিরমিযী হা/১২৩১; মিশকাত হা/২৮৬৮)
প্রশ্ন (২৪/৪২৪) : আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্ক করে অশ্লীল কাজে জড়িয়ে পড়ছে। পরে অনেকের বিবাহ হচ্ছে, অনেকের হয় না। এর পরিণতি কি?
-জিসান, চন্দ্রা, গাজীপুর।
উত্তর : পরবর্তীতে বিবাহ হোক আর না হোক এ কাজ কবীরা গোনাহ। যা তওবা ব্যতীত মাফ হবে না। এমন মানুষ অবিবাহিত হলে তার শাস্তি হচ্ছে একশ’ বেত্রাঘাত (নূর ২)। আর বিবাহিত হলে শারঈ ফায়ছালা অনুযায়ী তাকে রজম করতে হবে (বুখারী হা/৬৮৩১; মিশকাত হা/৩৫৫৬ ও ৩৫৫৭ ‘দন্ডবিধি’ অধ্যায়)। যেটি আদালতের দায়িত্ব।
প্রশ্ন (২৫/৪২৫) : জনৈক ব্যক্তি ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে দেখে জামা‘আত চলছে। এ সময় সে সুন্নাত পড়বে, না জামা‘আতে শরীক হবে? ছালাতের পরে সুন্নাত পড়া যাবে কি?
-আব্দুল মালেক
কাকরাইল, ঢাকা।
উত্তর : এ সময় জামা‘আতে শরীক হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ছালাতের জন্য ইক্বামত দেয়া হলে উক্ত ফরয ছালাত ব্যতীত আর কোন ছালাত নেই (মুসলিম, মিশকাত হা/১০৫৮)। পরে সুন্নাত পড়ে নিতে হবে (আবুদাঊদ হা/১২৬৭; মিশকাত হা/১০৪৪)। এজন্য সূর্য ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। তবে এটা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়। তাহ’লে গোনাহগার হতে হবে। কেননা ফজরের সুন্নাত আগে পড়াই সুন্নাত।
প্রশ্ন (২৬/৪২৬) : কোন দোকানীকে ৫০,০০০/= (পঞ্চাশ হাযার) টাকা এই শর্তে কর্য দেয়া যাবে কি যে, প্রতি মাসে দাতাকে ৭০০ টাকার চাউল, ডাল, তেল ইত্যাদি দিবে?
-অহীদুযযামান
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : উক্ত নিয়মে কর্য নেয়া যাবে না। কারণ এটা সূদের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ টাকার লাভ চুক্তি হারে গ্রহণ করলে জায়েয হবে। আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেন, তিনি ওছমান (রাঃ)-এর সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করতেন। আর লাভ উভয়ের মাঝে চুক্তি হারে বণ্টন করা হত (দারাকুৎনী, বুলূগুল মারাম হা/৮৪১)। যাকে শরীকানা ব্যবসা বলা হয়।
প্রশ্ন (২৭/৪২৭) : বন্ধক গ্রহীতা বন্ধকী জমি ও তার ফসল ভোগ করতে পারবে কি?
-আব্দুল্লাহ, লাখাই, হবিগঞ্জ।
উত্তর : বন্ধক গ্রহীতা বন্ধকী জমি ভোগ করতে পারবে না। এটা পরিষ্কার সূদ। এভাবে জমি নিলে চাষের খরচ ব্যতীত বাকী শস্য মালিকের কাছে ফেরত দিতে হবে। কারণ এটা একটা কর্য। আর কর্যের লাভ ভোগ করা যায় না। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, যে কর্ম লাভ বহন করে সে কর্য গ্রহণ করতে ছাহাবীগণ নিষেধ করতেন (ইরওয়া হা/১৩৯৭)
প্রশ্ন (২৮/৪২৮) : ডাঃ যাকির নায়েক বলেছেন, যে সমস্ত নারী জান্নাতে যাবে আর স্বামী জাহান্নামে যাবে ঐ নারীদেরকে জান্নাতে পুরুষ হুর দেওয়া হবে। যেমন ফেরাউন ও আসিয়া। অথচ অন্যান্য আলেমগণ এর বিরোধিতা করছেন। কোনটি সঠিক?
-ডাঃ বযলুর রশীদ
চন্ডিপুর, যশোর।
উত্তর : ‘হূর’ (حُوْرٌ ) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ। এটি জান্নাতী পুরুষদের জন্য নির্ধারিত। তবে জান্নাতী মহিলাদের জন্য অবশ্যই জান্নাতী স্বামী হবেন। যদিও তাদেরকে হূর বলা হবে না। নারীদের প্রতি পুরুষদের অধিক আসক্তির কারণে কুরআনে পুরুষদের জন্য হূরের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু জান্নাতী নারীদের জন্য তাদের স্বামীর ব্যাপারে কুরআন চুপ রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, তাদের কোন স্বামী থাকবে না। বরং বনু আদমের মধ্য থেকেই তাদের স্বামী থাকবেন (ফাতাওয়া উছায়মীন নং ১৭৮, ২/৫৩)। যেমন আল্লাহ সেদিন বলবেন, ‘তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীগণ সন্তুষ্টচিত্তে জান্নাতে প্রবেশ কর’ (যুখরুফ ৪৩/৭০)। দুনিয়াতে নারী ও পুরুষ পরস্পরের কাম্যবস্ত্ত হিসাবে জান্নাতেও প্রত্যেকে তা পাবে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে, যা কিছু তোমাদের মন চাইবে এবং যা তোমরা দাবী করবে’ (হা-মীম সাজদাহ ৩১)। অতএব জান্নাতে নারীগণ তাদের চাহিদা অনুযায়ী পুরুষ স্বামী পাবেন।
প্রশ্ন (২৯/৪২৯) : মৃতব্যক্তি দুনিয়ার লোকদের কাজকর্ম দেখতে ও শুনতে পায় কি?
-মাহে আলম
জগৎপুর, বুড়িচং, কুমিল্লা।
উত্তর : মৃতব্যক্তি জীবিতদের কর্মকান্ড দেখতে বা তাদের কথাবার্তা শুনতে পায় না। আল্লাহ স্বীয় রাসূল (ছাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মৃতদেরকে শুনাতে পারেন না’ (নামল ৮০, রূম ৫২)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আপনি কবরবাসীদেরকে শুনাতে সক্ষম নন’ (ফাত্বির ২২)। তবে অনেকে রাসূল (ছাঃ)-এর একটি হাদীছ দ্বারা শুনার উপর দলীল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, মানুষ যখন দাফন সেরে চলে আসে, কবরে মৃত ব্যক্তি তাদের সেন্ডেল বা জুতার আওয়ায শুনতে পায় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১২৬ ‘ঈমান’ অধ্যায় ‘কবর আযাব’ অনুচ্ছেদ)। এর উত্তরে শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, যখন ফেরেশতাগণের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য মৃত ব্যক্তিকে জীবিত হয়, সেসময় সে জুতার আওয়াজ শুনতে পায়, অন্য সময়ে নয় (সিলসিলা যঈফাহ হা/১১৪৭-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
প্রশ্ন (৩০/৪৩০) : পুরুষেরা মাথার মাঝখানে সিঁথি করতে পারে কি? কয় পদ্ধতিতে চুল রাখা যায়?
-শাহাদত
শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজ, বাগবাড়ী, বগুড়া।
উত্তর : পুরুষেরা মাথার মাঝখানে সিঁথি করতে পারে (বুখারী হা/৫৯১৭; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২৫)। আর মাথার চুল লম্বা রাখা বা ছোট করে রাখা উভয়টিই জায়েয। এটি ‘সুনানুয যাওয়ায়েদ’ বা অভ্যাসগত সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সুন্নাতকে প্রতিষ্ঠা করা ভাল। তবে ছেড়ে দেওয়া অপসন্দনীয় নয়’ (শরীফ জুরজানী, কিতাবুত তা‘রীফাত, বৈরূত ছাপা ১৪০৮/১৯৮৮ ‘সুন্নাতের বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ১২২)
বড় চুল তিন পদ্ধতিতে রাখা যায়। যথা (১) ওয়াফরা, যা কানের লতি পর্যন্ত (আবুদাঊদ হা/৪২০৬) (২) লিম্মা, যা ঘাড়ের মধ্যস্থল পর্যন্ত (মুসলিম হা/২৩৩৭) (৩) জুম্মা, যা ঘাড়ের নীচ পর্যন্ত (নাসাঈ হা/৫০৬৬)
ছাহাবী ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) একদিন লম্বা চুল নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এলেন। তখন রাসূল (ছাঃ) মাছি বসবে, মাছি বসবে বলে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। ফলে তিনি ফিরে গিয়ে পরে চুল কেঁটে খাট করে এলেন। তখন রাসূল (ছাঃ) এটি সুন্দর (هذا أحسن ) (আবুদাঊদ হা/৪১৯০; ইবনু মাজাহ হা/৩৬৩৬; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ১/৭৩-৭৪ পৃঃ চুল ছাটা ও মুন্ডনের হুকুম অনুচ্ছেদ)
প্রশ্ন (৩১/৪৩১) : সন্তানের সৎ আমলের অংশ বিশেষ মৃত বাবা ও মা পেয়ে থাকে। তাহলে পাপ কাজের অংশ বিশেষ ও কি তারা পাবেন?
-আমেনা, মোল্লাহাট, বাগেরটহাট।
উত্তর : সন্তানের সৎকর্ম বা অসৎকর্মের জন্য পিতা-মাতার আমলনামায় নেকী বা গোনাহ যুক্ত হবে এমনটি পাওয়া যায় না। কেননা আল্লাহ বলেন, একের বোঝা অন্যে বইবে না (আন‘আম ৬/১৬৪)। বরং সৎ সন্তান পিতা-মাতার জন্য দো‘আ করলে তা তাদের আমলনামায় যুক্ত হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩)। তবে যদি পিতা-মাতা সন্তানকে প্রতিপালনের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্বপালন না করেন এবং সেকারণে সে অসৎকর্মে লিপ্ত হয়, তাহ’লে দায়িত্বে অবহেলার কারণে অবশ্যই তাদেরকে পরকালে আল্লাহর নিকটে জবাবদিহী করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, জেনে রেখ, তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং তোমরা প্রত্যেকে স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। ব্যক্তি তার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৮৫)
প্রশ্ন (৩২/৪৩২) : যে ইমাম ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিয়েছে সে ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-সফিউদ্দীন আহমাদ
পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : ঐ ইমাম ফাসিক। কিন্তু কাফির নয়। অতএব তার পিছনে ছালাত হবে। তবে সেটা অপসন্দনীয় হবে। আল্লাহ বলেন, তোমার রুকূকারীর পিছনে রুকূ কর (বাক্বারাহ ৪৩)। হাসান বাছরী বলেন, তুমি তার পিছনে ছালাত আদায় কর। বিদ‘আতের গোনাহ বিদ‘আতীর উপর বর্তাবে। মূলতঃ এই ধরনের ব্যক্তিকে ইমাম নিয়োগ করাই অনুচিত। যুহরী বলেন, বাধ্যগত অবস্থায় ব্যতীত আমরা এটা জায়েয মনে করতাম না (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৪র্থ সংস্করণ, পৃঃ ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তিন শ্রেণীর মানুষের ছালাত কবুল হয় না ... (তাদের একজন হচ্ছে) সেই ইমাম লোকেরা যাকে অপসন্দ করা সত্ত্বেও সে ইমামতি করে’ (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১১২৩ ‘ইমামত’ অনুচ্ছেদ; ছহীহ তিরমিযী হা/৩৬০)
প্রশ্ন (৩৩/৪৩৩) : কুরআন ও হাদীছের মধ্যে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল বুঝার মাপকাঠি কি?
কামাল আহমাদ
রাজাবাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : শরী‘আতের দৃষ্টিতে ইবাদত দু’প্রকার : ফরয ও নফল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬)। অর্থাৎ আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক। সুন্নাত-নফল ঐচ্ছিতের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে প্রশ্নে বর্ণিত পরিভাষাগুলি আলোচিত হ’ল।-
১. ফরয : শরী‘আতের যেসব হুকুম অপরিহার্য এবং অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। যা অস্বীকার করলে কাফির হতে হয় এবং ঐ ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাত, রামাযানের ছিয়াম, যাকাত হজ্জ ইত্যাদি।
২. ওয়াজিব : যা ফরযের কাছাকাছি এবং আমল করা আবশ্যিক। তবে অনেক বিদ্বান বলেছেন, ফরয ও ওয়াজিব একই। যেমন ছালাতের তাকবীর সমূহ, হজ্জের জন্য মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধা, বিদায়ী তাওয়াফ করা ইত্যাদি।
৩. সুন্নাত : যা আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) সর্বদা করেছেন। তবে কখনো কখনো ছেড়েছেন। যেমন ফরয ছালাতের আগে-পরের সুন্নাত সমূহ ও মেসওয়াক করা ইত্যাদি।
৪. নফল : অর্থ অতিরিক্ত। যা করলে নেকী আছে, ছাড়লে গোনাহ নেই। যেমন, ইশরাকের ছালাত, আছর ও এশার পূর্বে ৪ রাক‘আত ছালাত, আইয়ামে বীয-এর নফল ছিয়াম রাখা ইত্যাদি।
প্রশ্ন (৩৪/৪৩৪) : আল্লাহর নামে যিকির করার ছহীহ পদ্ধতি কোনটি? উচ্চৈস্বরে ‘ইল্লাল্লাহ’ ‘ইল্লাল্লাহ’ বলে যিকির করা যাবে কি?
-হাসনা হেনা
পাঁচদোনা হাই স্কুল, নরসিংদী।
উত্তর : আল্লাহর যিক্র করতে হবে নীরবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আপনি আপনার প্রভুকে সকাল-সন্ধ্যায় আপন মনে অত্যন্ত বিনীত ও ভীত সন্ত্রস্তভাবে স্মরণ করুন, উচ্চ শব্দে নয়’ (আ‘রাফ ২০৫)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের প্রভুকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং সংগোপনে ডাক’ (আ‘রাফ ৫৫)। একদা এক সফরে ছাহাবীগণ আওয়াজ করে তাসবীহ পাঠ করলে রাসূল (ছাঃ) তাদের চুপে চুপে তাসবীহ পাঠ করতে বলে বলেন ‘তোমরা এমন সত্তাকে ডাকছ যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৩০৩)
গোলাকার হয়ে একত্রে যিকর করা যাবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ (রাঃ) একদল মুছল্লীকে মদীনার মসজিদে গোলাকার হয়ে তাসবীহ-তাহলীল করতে দেখে বলেন, ‘হে মুহাম্মাদের উম্মতগণ! কত দ্রুত তোমাদের ধ্বংস এসে গেল’? (দারেমী, সনদ ছহীহ)। ‘আল্লাহু’ ‘আল্লাহু’ বা ‘ইল্লাল্লাহ’ শব্দে কোন যিক্র নেই। উক্ত মর্মে যে হাদীছটি রয়েছে তার অর্থ হ’ল ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫১৬)। শায়খ আলবানী বলেন, ‘শুধু আল্লাহ শব্দে যিকর করা বিদ‘আত। সুন্নাতে যার কোন ভিত্তি নেই’ (মিশকাত ১৫২৭ পৃঃ ১ নং টীকা)। সর্বোত্তম যিক্র হচ্ছে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৩০৬)
প্রশ্ন (৩৫/৪৩৫) : মেয়েরা কত বছর বয়সে মাথার চুল রাখবে? চুল যদি বেশী বড় হয় তাহলে ছোট করতে পারবে কি?
-ডাঃ বযলুর রশীদ
চন্ডিপুর, যশোর।
উত্তর : কত বছর বয়স থেকে মেয়েরা মাথার চুল রাখবে এ ব্যাপারে কোন ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই। মহিলাদের মাথায় চুল লম্বা থাকাই শরী‘আত সম্মত। বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় মহিলাদের মাথায় লম্বা চুল থাকত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৩৪)। তবে অস্বাভাবিক লম্বা হ’লে কিছু কেটে স্বাভাবিক লম্বা রাখতে পারে। মনে রাখতে হবে, চুল হ’ল নারীদের সৌন্দর্যের প্রতীক। এটি আল্লাহর এক অমূল্য নে‘মত। একে কেটে ছেটে অসুন্দর করা যাবে না। বিশেষ করে অমুসলিম, ফাসিক নারী-পুরুষদের অনুকরণ করা একেবারেই নিষিদ্ধ। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি যে কওমের সাদৃশ্য বরণ করবে, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। এ বিষয়ে আলোচনা দ্রষ্টব্য : মির‘আত ৯/২৬৭-৬৮ ‘মানাসিক’ অধ্যায় ৮ অনুচ্ছেদ হা/২৬৭৬-এর ব্যাখ্যা; মুসলিম হা/৭৫৪)
প্রশ্ন (৩৬/৪৩৬) : এ্যালকোহলযুক্ত সেন্ট মেখে ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-আফসার
উমরপুর, ঘোড়াশাল, মুর্শিদাবাদ
উত্তর : এ্যালকোহল তথা মাদকদ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য-পানীয় নিঃসন্দেহে হারাম (মায়েদা ৫/৯০-৯১)। তবে আহার্য ব্যতিরেকে বাহ্যিক ব্যবহার্য বস্ত্ততে মাদকের সংস্পর্শ থাকলে তা হারাম হবে কি না এ নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মতদ্বৈততা রয়েছে। যেহেতু সেন্টে বা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত বস্ত্ততে মিশ্রণকৃত এ্যালকোহল শরীরের অভ্যন্তরে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, এজন্য একে সরাসরি হারাম বলা যায় না। তাই মিশ্রণের পরিমাণ স্বল্প হলে তা ব্যবহারে আপত্তি নেই। এটা মেখে ছালাত আদায় শুদ্ধ হবে। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম’ (ফাতাওয়া উছায়মীন নং ২৮৭; ১২/৩৭০)
প্রশ্ন (৩৭/৪৩৭) : আমি সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। আমাদের গভর্নিং বডি সম্প্রতি মাত্র ৫.৫% সূদে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সামান্য সূদে উক্ত টাকা গ্রহণ করা যাবে কি?
-তাওফীকুর রহমান
ম্যানেজার, টাকশাল, গাযীপুর।
উত্তর : সূদের ক্ষেত্রে এর হার কম হোক বেশী হোক সবই সমান। সূদ প্রসঙ্গে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সূদের যে অংশ বাকী আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হও। যদি তোমরা তা না করো তাহ’লে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর পক্ষ হ’তে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে রাখ (বাক্বারাহ ২/২৭৮-৭৯)। সূদের লেনদেন ও সূদের সাথে সংশ্রব রাখা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, যারা সূদ খায়, সূদ দেয়, সূদের হিসাব লেখে এবং সূদের সাক্ষ্য দেয়, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের উপর লা‘নত করেছেন এবং অপরাধের ক্ষেত্রে এরা সকলেই সমান’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২৮০৭)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, ‘সূদের (পাপের) সত্তুরটি স্তর রয়েছে। যার নিম্নতম স্তর হ’ল মায়ের সাথে যেনা করার পাপ’ (ইবনু মাজাহ, হা/২২৭৪, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/২৮২৬)। আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি এক দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) রিবা বা সূদ জ্ঞাতসারে গ্রহণ করে, তাতে তার পাপ ছত্রিশ বার ব্যভিচার করার চেয়েও অনেক বেশী হয়’ (আহমাদ, মিশকাত হা/২৮২৫, সনদ ছহীহ)
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘সূদের দ্বারা সম্পদ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন তার শেষ পরিণতি হ’ল নিঃস্বতা’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৮২৭, সনদ ছহীহ)। উক্ত হাদীছ সমূহ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় সূদ ইসলামে সম্পুর্ণরূপে হারাম এবং এর শেষ পরিণতি নিঃস্বতা। তাই কম হোক বেশী হোক সকল প্রকার সূদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা একান্ত যরূরী।
প্রশ্ন (৩৮/৪৩৮) : আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম-এর ফয়সালা কিভাবে করবেন? মানুষের পাপের চেয়ে পুণ্যের পাল্লা ভারী হলেই কি সে জান্নাতে যাবে? নাকি তার পাপের কারণে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করার পর পুণ্যের কারণে জান্নাতে যাবে?
-রুসাফী, গাংনী, মেহেরপুর।
উত্তর : যদি কোন পাপী মুসলমান শিরক ও কুফর থেকে বিরত থেকে ঈমানের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (বাক্বারাহ ২১৭, মায়েদা ৭২) এবং বান্দার হক্ব নষ্ট না করে (বুখারী, মিশকাত হা/৫১২৬)। সাথে সাথে সে পাপ থেকে খালেছ নিয়তে তওবা করে, তবে আল্লাহর অনুগ্রহে সে নিষ্পাপ অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে (ফুরক্বান ৭০)। আর যদি তওবা না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সেক্ষেত্রে ৩টি অবস্থা হতে পারে- হয় পাপের পাল্লা হালকা হওয়ার কারণে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সে পাপের শাস্তি ভোগ না করেই জান্নাতে প্রবেশ করবে (আ‘রাফ ৮) অথবা পাপ ও পুণ্য সমান হওয়ার কারণে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে আল্লাহর অনুগ্রহের অপেক্ষায় থাকবে (আ‘রাফ ৪৬-৪৯), নতুবা পাপের পাল্লা পুণ্যের চেয়ে ভারী হওয়ার কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এবং পাপ অনুযায়ী নির্ধারিত শাস্তি ভোগের পর রাসূল (ছাঃ), অন্যান্য নবী-রাসূল, ফেরেশতা এবং মুমিনগণের সুফারিশে জান্নাতে প্রবেশ করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৭৯)
আর কুরআনের বর্ণনায় সুস্পষ্ট হয় যে, পুণ্যের পাল্লা ভারি হলে মানুষ তার পাপ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে এবং সরাসরি জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করবে (আ‘রাফ ৮, ক্বারি‘আহ ৬-৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ বান্দাকে তাঁর নিকটবর্তী করবেন এবং তার কৃত পাপসমূহ তার সামনে পেশ করবেন, যা তিনি দুনিয়াতে গোপন করে রেখেছিলেন। তারপর বলবেন, তুমি কি তোমার অমুক পাপটি চিনতে পারছ? অমুক পাপটি চিনতে পারছ? তখন সে একে একে সব অপরাধ স্বীকার করতে থাকবে এবং ধ্বংস হওয়ার আশংকায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার অপরাধ গোপন রেখেছিলাম, আর আজ তা ক্ষমা করে দিলাম (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৫৫১)।            
প্রশ্ন (৩৯/৪৩৯) : মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুললাহ (সঃ) বলেছেন, আললাহ তা‘আলা শা‘বান মাসের পনের তারিখ রাতে সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে এবং সকলকে ক্ষমা করে দেন, তবে মুশরিক এবং হিংসুক ব্যতীত (ত্বাবারাণী)। শবেবরাতের ফযীলত প্রমাণে উপস্থাপিত এই হাদীছটি কি ছহীহ?
আহমাদুল্লাহ, ধানমন্ডি, ঢাকা।
উত্তর : হাদীছটির সকল সূত্র যঈফ মিশকাতে (হা/১৩০৬ ‘রামাযানে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ) শায়খ আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। অতঃপর বলেন, তবে হাদীছটি আমার নিকটে ‘শক্তিশালী’ (قوى ) এ কারণে যে, এর সমার্থক (শাওয়াহেদ) কিছু হাদীছ রয়েছে। উক্ত সমার্থক বর্ণনাগুলি তিনি সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৪৪ ও ১৫৬৩-তে এনেছেন। যার সংখ্যা ৭টি। যার সবগুলিই তাঁর তাহকীক মতে যঈফ। অতঃপর মন্তব্যে বলেন, এই সকল সূত্র সমূহের ফলে হাদীছটি ছহীহ নিঃসন্দেহে’ (ছহীহাহ হা/১১৪৪)। মুসনাদে আহমাদের ভাষ্যকার আহমাদ শাকের (১০/১২৭) ও শু‘আয়েব আরনাঊত্ব হাদীছটিকে একই কারণে ‘ছহীহ লেগায়রিহি’ বলেছেন (হা/৬৬৪২)। কিন্তু ছহীহ বলা সত্ত্বেও এ রাত উপলক্ষে বিশেষ কোন আমল করাকে শায়খ আলবানী কঠোরভাবে বিদ‘আত বলেছেন (ফাতাওয়া আলবানী (অডিও)  ক্লিপ নং ১৮৬/৬)। উক্ত যঈফ ও মওযূ হাদীছগুলির উপর ভিত্তি করে আরও অনেক বিদ্বান এই রাতের বিশেষ ফযীলত এবং এই রাতে বিশেষ ইবাদত করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন (দ্রঃ তুহফাতুল আহওয়াযী, হা/৭৩৬-এর ব্যাখ্যা; মির‘আত হা/১৩১৪-এর ব্যাখ্যা, ৪/৩৪০-৪২; শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম ১/২৩১; ইবনু তায়মিয়াহ, মজমূ‘ ফাতাওয়া ২৩/১৩১; ইবনু রাজাব, লাত্বাইফুল মা‘আরিফ ১/১৩৮)। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য :
(১) হাদীছটি যঈফ এবং একই মর্মের অন্য হাদীছটি ‘মওযূ’ (যঈফাহ হা/১৪৫২) হওয়ার কারণে আমলযোগ্য নয়। (২) এরূপ হাদীছের উপর ভিত্তি করে কোন ইবাদত প্রতিষ্ঠা করা যায় না। (৩) হাদীছটি বুখারী-মুসলিম সহ বহু গ্রন্থে বর্ণিত ছহীহ হাদীছ সমূহের বিরোধী। (৪) সকল ছহীহ হাদীছে এসেছে যে, আল্লাহ প্রতি রাতের তৃতীয় প্রহরে নিম্ন আকাশে অবতরণ করেন এবং ফজর পর্যন্ত বান্দাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আছ কি কোন আহবানকারী, আমি তার আহবানে সাড়া দেব... (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২২৩; মুসলিম হা/৭৫৮)। অথচ অত্র যঈফ হাদীছে উক্ত আহবানকে ১৫ই শা‘বানের রাতের জন্য খাছ করা হয়েছে। (৫) এই হাদীছটির সুযোগ নিয়ে বিদ‘আতীরা এই রাতে ইবাদতের নামে হাযারো রকম বিদ‘আতের সৃষ্টি করেছে। (৬) এই রাতে বা দিনে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম কোনরূপ বাড়তি ইবাদত করেননি। (৭) তাবে তাবেঈ বা অন্য বিদ্বানগণের ব্যক্তিগত কোন মতামত বা আমল উম্মতের জন্য অবশ্য পালনীয় নয়। (৮) মতভেদের সময় রাসূল (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত কঠিনভাবে আকড়ে ধরার নির্দেশ রয়েছে (আবুদাঊদ, তিরমিযী প্রভৃতি, মিশকাত হা/১৬৫)। ১৫ই শা‘বান উপলক্ষে তাঁদের কোন বিশেষ আমল বা ইবাদত নেই বিধায় এ রাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কোন শারঈ কারণ নেই। (৯) রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে, যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (মুসলিম হা/১৭১৮)। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।
প্রশ্ন (৪০/৪৪০) : কোন ব্যক্তি যদি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ্‌ অনুযায়ী ছালাত, ছিয়াম, যাকাত, হজ্জ এবং হালাল রুযি ভক্ষণ করে। কিন্তু সে যদি কুরআন-সুন্নাহ্‌র তাবলীগ না করে বা দ্বীনের দাওয়াত মানুষের মাঝে প্রচার না করে, তা হলে এর জন্য কি তাকে জাহান্নামে যেতে হবে? 
টিপু সুলতান
ঝিকরগাছা, যশোর।

উত্তর : ইসলামের মূল দর্শন হল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠাদান। মানব সমাজে আল্লাহর দ্বীনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কুরআন ও হাদীছে মুসলিম উম্মাহ্কে বহু বার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি যদি একটি আয়াতও কেউ জানে, তা প্রচার করার জন্য রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, মিশকাত হা/১৯৮)। সুতরাং দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ থেকে কারো পিছিয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে ফিৎনার যে ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং সঠিক দ্বীন প্রচারকের সংখ্যাও যেহেতু খুবই কম, সে কারণে দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করা এখন ‘ফরযে আইন’ হয়ে পড়েছে। সুতরাং কেউ যদি শরঈ ওযর ব্যতীত দৈনন্দিন ব্যস্ততার অজুহাতে বা অলসতাবশতঃ তাবলীগ বা দ্বীনের প্রচার না করে, তাহলে সে নিঃসন্দেহে গোনাহগার হবে (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪০, সনদ হাসান)

HTML Comment Box is loading comments...