প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪০১): নারী উন্নয়নের জন্য প্রণীত নারী নীতিমালা কি শরী‘আত সম্মত? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
-হাসান
মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।
উত্তর : সরকারের গত মার্চ ’১১-তে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতিমালা শরী‘আতের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক। নারী অধিকার সংরক্ষণের নামে উক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও এর দ্বারা নারীদেরকে আরো হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের ‘নারী নির্যাতন বিরোধী আইন’ যেমন পুরুষ নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, বর্তমান মহাজোট সরকারের ‘নারী উন্নয়ন নীতি মালা’ তেমনি বুমেরাং হয়ে নারী নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হবে। এর দ্বারা নারীকে পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী বানানো হয়েছে। যা কখনোই নারীর মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হবে না। বরং আরও ক্ষতির কারণ হবে। অথচ ইসলাম নারী ও পুরুষের জন্য যে সুষম নীতিমালা দিয়েছে, তাই হ’ল বিশ্বমানবতার জন্য চিরন্তন কল্যাণময় নীতিমালা। তার বাইরে গেলে বিপর্যয় নিশ্চিত (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : সম্পাদকীয় এপ্রিল ’১১)

প্রশ্ন (২/৪০২) : ঘুমানোর সময় বা অন্য সময় ক্বিবলার দিকে পা রাখা যাবে কি? অনেক আলেম এটাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মুছত্বফা
সোনামণি ছাত্রাবাস, পবা, রাজশাহী।
উত্তর : ক্বিবলার দিকে পা রেখে ঘুমানোতে শরী‘আতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কিবলাকে সামনে রেখে কিংবা পেছনে রেখে টয়লেটের বাইরে খোলা স্থানে পেশাব-পায়খানা করতে নিষেধ করা হয়েছে (বুখারী হা/৩৯৪; মিশকাত হা/৩৩৪-৩৫)

প্রশ্ন (৩/৪০৩) : দেশে প্রচলিত লম্বা জামা ও টুপি কি সুন্নাতী পোষাক? দলীলভিত্তিক জানিয়ে বাধিত করবেন?
-শাহেদ
লাকসাম, কুমিল্লা।
উত্তর : সুন্নাতী পোষাক কোনটি তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। কারণ সবদেশের আবহাওয়া ও পোষাক এক হওয়ার কথা নয়। তবে ইসলাম পোষাকের যে মূলনীতির কথা বলেছে লম্বা জামা ও টুপি সেই মূলনীতির মধ্যে পড়ে যায়। তাছাড়া মাথা ঢাকা বা টুপি পরা বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য (বুখারী হা/১১৯৮ ও ৩৮৫-এর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা; আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা যঈফাহ হা/২৫৩৮, ৬/৫১ পৃঃ)। মূলনীতিগুলো হল, (১) পোষাক পরিধানের উদ্দেশ্য থাকবে  দেহকে  আবৃত  করা,  যেন  পোষাক  পরা  সত্ত্বেও
লজ্জাস্থান সমূহ অন্যের চোখে প্রকাশ না হয়ে ওঠে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৪)। (২) ভিতরে-বাইরে তাক্বওয়াশীল হতে হবে। এজন্য ঢিলেঢালা, ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন পোষাক পরিধান করতে হবে। হাদীছে সাদা পোষাক পরিধানের নির্দেশ এসেছে (আ‘রাফ ২৬; মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১০৮, ৪৩৫০ ও ৪৩৩৭)। (৩) পোষাক যেন অমুসলিমদের সাদৃশ্য না হয় (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। (৪) পুরুষরা রেশম কাপড়ের পোষাক পরিধান করতে পারবে না (ছহীহ্ নাসাঈ হা/৫২৬৫; মিশকাত হা/৪৩৪১) (৫) পোষাক যেন টাখনুর নীচে না যায় (নাসাঈ (হা/৫৩৩১)। (৬) পুরুষের পোষাক মহিলার পোষাকের এবং মহিলার পোষাক পুরুষের পোষাকের সাদৃশ্যপূর্ণ না হয় (আবুদাঊদ হা/৪০৯৮; মিশকাত হা/৪৪৬৯; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩য় সংস্করণ, ৩৬-৩৮ পৃঃ)

প্রশ্ন (৪/৪০৪) : সূরা ইখলাছ একবার পড়লে পবিত্র কুরআন একবার খতম করার ছওয়াব পাওয়া যায়। উক্ত মর্মে ছহীহ হাদীছ আছে কি? সূরা ইখলাছের ফযীলত সম্পর্কে জানতে চাই।
-আশরাফ
উত্তরপুর, ঘোড়াশালা, মুর্শিদাবাদ, ভারত।
উত্তর : উক্ত মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় না। তবে সূরা ইখলাছ একবার পড়লে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সমান ছওয়াব হবে মর্মে ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে (বুখারী হা/৫০১৩; মিশকাত হা/২১২৭)। এছাড়া যে ব্যক্তি দশবার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন (আহমাদ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৫৮৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪৭২)। যে ব্যক্তি সূরা ইখলাছকে পসন্দ করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে (তিরমিযী হা/১৯০১; মিশকাত হা/২১৩০)। এর তাৎপর্য হ’ল তাওহীদকে সঠিকভাবে বুঝা ও সে অনুযায়ী আমল করা। উল্লেখ্য যে, সূরা ইখলাছ সম্পর্কে বহু বানোয়াট ও যঈফ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (তিরমিযী, মিশকাত হা/২১৫৮-৫৯)

প্রশ্ন (৫/৪০৫) : বিশ্ব ইজতেমায় যোগদান করা যাবে কি?
-নূরে আলম, আমেরিকা।
উত্তর : ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রচার করার লক্ষ্যে যেকোন মাহফিল বা ইজতেমার আয়োজন করা ও সেখানে যোগদান করা যায়। কিন্তু যদি ইসলামের নামে জাল, যঈফ ও বানোয়াট হাদীছের এবং ভিত্তিহীন ফাযায়েল ও কেচ্ছা-কাহিনী শোনার দাওয়াত দেয়া হয়, বিদ‘আতী আক্বীদা ও আমল প্রচার করা হয়, তাহলে সেখানে যোগদান করা যাবে না। চাই সেটা বিশ্ব ইজতেমা হোক বা অন্য কোন ইজতেমা হোক। কারণ বিদ‘আতীদের সঙ্গ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিদ‘আতী লোকেরা ক্বিয়ামতের দিন হাউয কাওছারের পানি পান করতে পারবে না (ছহীহ মুসলিম হা/৪২৪৩)। উল্লেখ্য যে, তাবলীগ জামা‘আত কথিত বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে থাকে। আর তাদের মধ্যে উপরে বর্ণিত বিষয়গুলি অধিকহারে রয়েছে। তারা ছালাত শিখলেও তা কখনোই ছহীহ হাদীছের ছালাত নয়। বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মুনাজাতের বিদ‘আত চালু করে তারা এককভাবে দো‘আ করার ছহীহ তরীকা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে নিয়েছে। মানুষ এখন ফরয ছালাত আদায়ের চাইতে আখেরী মুনাজাতে যোগদান করাকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। অতএব এইসব বিদ‘আতী ইজতেমা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৬/৪০৬) : পবিত্র কুরআন মুখস্থ তেলাওয়াত করা ও দেখে তেলাওয়াত করার মধ্যে ছওয়াবের কোন তারতম্য আছে কি?
-সুরাইয়া, পাঁচদোনা, নরসিংদী।
উত্তর : কোন তারতম্য নেই। কুরআন দেখে পড়া হোক বা মুখস্থ পড়া হোক প্রতি হরফে দশটি করে নেকী হবে (তিরমিযী হা/২৯১০; মিশকাত হা/২১৩৭)। উল্লেখ্য, আমার উম্মতের সর্বোত্তম আমল হল কুরআন দেখে পড়া মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (যঈফুল জামে‘ হা/১০৪৮ ও  ৩৯৮০)

প্রশ্ন (৭/৪০৭) : সূরা মায়েদার ১৫ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নূর এসেছে এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে। উক্ত নূর দ্বারা মুহাম্মাদ (ছাঃ) যে নূরের তৈরি সে কথা বুঝানো হয়েছে। এ বক্তব্য কি সঠিক?
-আল-আমীন, মাদারটেক, ঢাকা।
উত্তর : উক্ত ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কারণ এখানে ‘নূর’ দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন শিরকের অন্ধকার হতে মানুষকে তাওহীদের আলোর পথে বের করে আনে। এখানে ‘কিতাবুল মুবীন’  (كتابٌ مبينٌ) ‘নূর’ (نُوْرٌ) -এর উপর عطف بيان হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, ‘তোমাদের নিকট আল্লাহ্র নিকট থেকে এসেছে একটি জ্যোতি ও সমুজ্জ্বল গ্রন্থ’ (মায়েদাহ ১৫)। দু’টির অর্থ একই। এর পরের আয়াতেই যার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে يَهْدِيْ بِهِ اللهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلاَمِ ‘এর দ্বারা আল্লাহ শান্তির রাস্তাসমূহ প্রদর্শন করেন ঐ ব্যক্তির জন্য, যে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে’.. (মায়েদাহ ১৬)। ১৫ আয়াতে বর্ণিত ‘নূর’ ও ‘কিতাব’ যদি দু’টি বস্ত্ত হ’ত, তাহ’লে ১৬ আয়াতে يَهْدِيْ بِهِ না বলে بَهْدِىْ بِهِمَا বলা হ’ত। অর্থাৎ ঐ দু’টির মাধ্যমে। যেমন পূর্ববর্তী সূরা নিসা-র শেষদিকে ১৭৪ আয়াতে বলা হয়েছে, হে মানবজাতি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে بُرْهَان (দলীল) এসেছে এবং আমরা তোমাদের উপর নাযিল করেছি نُوْرًا مُبِيْنًا (উজ্জ্বল জ্যোতি)। এখানে ‘বুরহান’ ও ‘নূর’ যে একই বস্ত্ত, তা পরবর্তী আয়াতেই বলে দেওয়া হয়েছে। যেমন,فَأَمَّا الَّذِيْنَ آمَنُوْا بِاللهِ وَاعْتَصَمُوْا بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِيْ رَحْمَةٍ مِّنْهُ ‘অতএব যারা আল্লাহ্র উপর ঈমান এনেছে এবং কুরআনকে অাঁকড়ে ধরেছে। সত্বর তিনি তাদেরকে তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন’ (নিসা ১৭৫)। এখানে وَاعْتَصَمُوْا بِهِ বলা হয়েছে, وَاعْتَصَمُوْا بِهِمَا বলা হয়নি। একইভাবে মায়েদা ১৫ আয়াতে ‘নূর’ ও ‘কিতাবুম মুবীন’ অর্থ কুরআন মজীদ। যার মাধ্যমে আল্লাহ ঈমানদারগণকে স্বীয় নির্দেশে অন্ধকার হ’তে বের করে আলোর দিকে পথ প্রদর্শন করেন (মায়েদাহ ১৬)
কোন কোন বিদ্বান ‘নূর’ অর্থ রাসূল (ছাঃ) অথবা ‘ইসলাম’ বলেছেন। তিনটির সারমর্ম একই। অর্থাৎ যদি কুরআন ও ইসলাম নিয়ে শেষনবীর আগমন না ঘটত, তাহলে মানুষ শিরকের অন্ধকার থেকে তাওহীদের আলোর পথ খুঁজে পেত না’ (তাফসীরুল মানার)
উল্লেখ্য যে, اَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُوْرِى ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর পয়দা করেন’ বলে যে হাদীছ প্রচলিত আছে তা মওযূ বা জাল (সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্রঃ)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন না। বরং আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসূল! তুমি বলে দাও যে, আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ... (কাহফ ১১০)

প্রশ্ন (৮/৪০৮) : পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্ জাতির আগমন ঘটে? শয়তানের উৎপত্তি কোথা থেকে এবং সে কোন্ জাতির অন্তর্ভুক্ত?
-রায়হান
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর : মানুষ সৃষ্টির পূর্বে পৃথিবীতে জিন জাতির বসবাস ছিল (হিজ্র ২৭)। তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল (বাক্বারাহ ৩০)। শয়তানকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে (আ‘রাফ ১২) এবং তারা হ’ল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত (কাহফ ৫০)। আর জিন জাতি আগুন দ্বারা সৃষ্ট (রহমান ১৫)

প্রশ্নঃ (৯/৪০৯): কোন্ দুই ব্যক্তি রাসুল (ছাঃ)-এর সুফারিশ ছাড়াই জান্নাতে যাবে? তারা দুনিয়াতে কী ধরনের আমল করতেন?
-আযীযুল হক সরকার
গন্ধর্ব বাড়ী, গাইবান্ধা।
উত্তর : উক্ত মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না। বরং দুই শ্রেণীর মানুষ তাঁর শাফা‘আত লাভ করতে সক্ষম হবে না মর্মে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অত্যাচারী শাসক এবং খিয়ানতকারী ব্যক্তি (ত্বাবারাণী, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭৯৮)

প্রশ্ন (১০/৪১০) : মোর্দাকে দাফন করার পর এক সপ্তাহের মধ্যে কবরস্থানে কুরআন খতম দেওয়া ও বখশানোর কোন দলীল আছে কি? অনুরূপভাবে কবরস্থানে সূরা ইয়াসীন, রহমান, মুল্ক ইত্যাদি পড়া যাবে কি?
-মসরুর আলম, বালুচরা, চট্টগ্রাম।
উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কুলখানী, চেহলাম, কুরআন খানি, কবরস্থানে গিয়ে বিভিন্ন সূরা পাঠ করা, কুরআন বখশানো সবই কুসংস্কার ও বিদ‘আত। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এধরনের কোন প্রথা প্রমাণিত নয় (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃঃ ১৯৪-২০২)

প্রশ্ন (১১/৪১১) : মহিলারা পর্দার মধ্যে থেকে চাকুরী করতে পারবে কি? প্রয়োজনে তারা মাঠে যেতে পারবে কি?
-হনুফা, গৌরনগর, ঢাকা।
উত্তর : বাড়ীতে অবস্থান করাই মহিলাদের কর্তব্য (আহযাব ৩৩)। বের হলেই শয়তান তাদের পিছু নিবে (ছহীহ তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯)। তবে প্রয়োজনে বের হলে নিরাপত্তার সাথে পর্দা সহ বের হবে। অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে বাইরে যেতে পারবে এবং চাকুরীও করতে পারবে। যেমন, (১) জীবিকার জন্য কাজ করতে বাধ্য হলে (২) বাড়ির মধ্যেই কাজ করা যায় এরূপ কোন কাজ না পাওয়া গেলে (৩) সার্বক্ষণিক পর্দার মধ্যে থাকতে হবে (৪) কাজটা যেন ইসলাম বিরোধী না হয় (৫) কাজটি মহিলাদের কাজের উপযোগী হলে (৬) স্বামী, সন্তান এবং গৃহের ব্যাপারে অবহেলা সৃষ্টি না হলে। (৭) কর্মক্ষেত্র যদি সফরের পর্যায়ে পড়ে, তাহলে মাহরাম ছাড়া না যাওয়া। (৮) কাজটি যেন পুরুষদের সাথে মিলিতভাবে না হয় অর্থাৎ কর্মস্থানটি যেন শুধু মহিলাদের হয়।
উল্লেখ্য, এসব শর্তের দ্বারা মহিলাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রশ্ন (১২/৪১২) : আমাদের এলাকায় কোন ধনাঢ্য ব্যক্তি মারা গেলে দাফনের আগে গরু-খাসী যবহ করে জনসাধারণকে খাওয়ানো হয়। অতঃপর দাফন করা হয়। শরী‘আতে এ ধরনের কোন বিধান আছে কি? উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করা ও সেই খানা খাওয়া যাবে কি?
-শামসুয যোহা, সাপাহার, নওগাঁ
উত্তর : মৃত ব্যক্তির দাফনের পূর্বে ও পরে এ ধরনের সকল অনুষ্ঠান বিদ‘আত, যা অবশ্য বর্জনীয়। ইসলামের সোনালী যুগে এসবের কোন প্রমাণ নেই। বরং জাহেলী যুগে দানশীল ও নেককার ব্যক্তিদের কবরের পাশে গরু-ছাগল-মোরগ ইত্যাদি যবহ করা হ’ত। ইসলাম আসার পরে এগুলি নিষিদ্ধ করা হয় (আবুদাঊদ হা/৩২২২; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১৯৪)। বরং এ সময় সুন্নাত হ’ল মৃতের পরিবারকে খাদ্য সরবরাহ করা। কারণ জাফর বিন আবু তালিব (রাঃ) শহীদ হ’লে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা জাফর-এর পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্ত্তত কর। কারণ তারা এখন শোকাহত (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/১৭৩৯ ‘মৃতের উপর ক্রন্দন’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (১৩/৪১৩) : ইসলামী সম্মেলনে জনৈক বক্তা বলেন, কবরে নবী-রাসূল, ছাহাবায়ে কেরাম, পীর-আওলিয়াদের লাশ অক্ষত থাকে। তাঁদের লাশ মাটিতে খায় না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-মজিদুল ইসলাম
গণিত বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর : মুমিনদের মৃত্যুর পর তাদের রূহ আসমানে চলে যায় এবং শরীর মাটিতে খেয়ে নেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আদমের সকল সন্তানকে মাটিতে খেয়ে নিবে শুধু তার মেরুদন্ডের সর্বনিম্ন হাড্ডি (عَجْبُ الذَّنَبِ) ব্যতীত। কারণ তা থেকেই তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা থেকেই তাদের দেহ পুনর্গঠন করা হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫২১)
কিন্তু নবী-রাসূলের লাশ অক্ষত থাকবে। মাটিতে খাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ ‘আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূলদের লাশ খাওয়া মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন’ (ছহীহ আবুদাউদ হা/৯৬২; ইবনে মাজাহ হা/১০৮৫; মিশকাত হা/১৩৬১, ৬৬ ‘জুম‘আ’ অধ্যায়)। তাঁরা ব্যতীত অন্য কারো লাশ মাটিতে খাবে না বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। হতে পারে কারো লাশ দ্রুত খাবে, কার দেরিতে। অনেকের লাশ বহুদিন পরেও স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। এটা সম্পূর্ণ আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। উল্লেখ্য যে, ফেরাঊনের লাশকে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপদেশ গ্রহণের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্তত অক্ষুণ্ণ রাখবেন (ইউনুস ৯২)

প্রশ্ন (১৪/৪১৪) : ছালাতে ইমাম ভুল করলে এবং মুক্তাদী লোকমা না দিলে ছালাত শেষে কি সহো সিজদা দিতে হবে? না ছালাত ফিরিয়ে পড়তে হবে?
-সাইফুল ইসলাম, বি-ব্লক, বগুড়া।
উত্তর : ছালাতে ইমাম ভুল করলে মুক্তাদীরা লোকমা দিবে (আবুদাঊদ হা/৯০৭)। যদি ক্বিরাআতে ভুল হয় তাহলে সহো সিজদা দেওয়া লাগবে না (আবুদাঊদ হা/৯০৮; নায়লুল আওত্বার ২/৩৭২)। তবে রাক‘আত গণনায় ভুল হলে ঐ রাক‘আত পুনরায় পড়ে সহো সিজদা দিতে হবে। রাক‘আতের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কম সংখ্যাকে ধরে নিয়ে বাকী ছালাত আদায় করে সহো সিজদা দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১০১৭)। প্রথম তাশাহ্হুদে বসতে ভুলে গেলে এবং সালাম ফিরিয়ে দিলে পরে দুইটি সহো সিজদা দিবে এবং সালাম ফিরাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১০১৮)

প্রশ্ন (১৫/৪১৫) : নবী ও রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য কী? তাঁদের সংখ্যা কত? তাঁদের উপর কতখানা কিতাব নাযিল হয়েছিল?
-নূরুল হক
চককানু, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর: নবী এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা যাকে নতুন শরী‘আত দিয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান তাঁকে রাসূল বলা হয়।  আর যাকে নতুন শরী‘আত না দিয়ে পূর্বের রাসূলের শরী‘আতই প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠান তাঁকে নবী বলা হয় (আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৬৮, ৬/১৬৭ পৃঃ)। প্রত্যেক নবী রাসূল নন। তবে প্রত্যেক রাসূলই নবী।
নবী ও রাসূলের সংখ্যা বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আপনার নিকট ইতিপূর্বে বহু রাসূলের কথা বর্ণনা করেছি এবং অনেক রাসূলের কথা আপনাকে বলিনি (নিসা ১৬৪)। তবে একটি প্রশ্নের জবাবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, নবীগণের সংখ্যা হল, ১,২৪,০০০। তার মধ্যে ৩১৩ জন, অন্য বর্ণনায় ৩১৫ জন রাসূল (আহমাদ, সনদ হাসান, আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৬৮; ফাৎহুলবারী ১০/১০৪; মিশকাত হা/৫৭৩৭)। চারজন রাসূলের উপর চারটি প্রধান কিতাব নাযিল হয়েছে। মূসা (আঃ)-এর উপরে ‘তাওরাত’, দাঊদ (আঃ)-এর উপরে ‘যাবূর’, ঈসা (আঃ)-এর উপরে ‘ইনজীল’ এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপরে ‘কুরআন’। কোন কোন নবী ও রাসূলের উপর ছহীফা (পুস্তিকা) আকারে কিতাব নাযিল হয়েছে (আ‘লা ১৯)

প্রশ্ন (১৬/৪১৬) : সুন্নাতে খাৎনার অনুষ্ঠান করা কি শরী‘আত সম্মত? অনেক আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিত্বও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন।
-নাঈম, চাঁনগাঁও, নরসিংদী।
উত্তর: খাৎনা করা ইসলামের স্বভাবগত সুন্নাত এবং অন্যতম নিদর্শন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২০)। ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহ্র হুকুমে আশি বছর বয়সে নিজের খাৎনা করেছিলেন (বুখারী হা/৩৩৫৬)। কিন্তু খাৎনার অনুষ্ঠান করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ)-এর স্বর্ণ যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না। হাসান বছরী (রহঃ) বলেন, ওছমান ইবনুল আ‘ছ (রাঃ)-কে এক খাৎনার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে তিনি বললেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে কোন খাৎনার অনুষ্ঠানে যেতাম না, এমনকি ডাকাও হত না (আহমাদ হা/১৭৯০৮; সনদ হাসান, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৭২২-এর আলোচনা দ্রঃ, ২/২২১ পৃঃ)

প্রশ্ন (১৭/৪১৭) : মোহরানা ছাড়া বিবাহ বৈধ কি? যে মোহরানা পরিশোধ করে না তার পরিণাম কী? জনৈক মুফাসসির বলেছেন, তারা হাশরের ময়দানে ব্যভিচারীদের লাইনে দাঁড়াবে। উক্ত বক্তব্যের দলীল জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মশিউর রহমান
ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী কলেজ।
উত্তর: মোহরানা ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, ‘আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা খুশীমনে দিয়ে দাও’ (নিসা ৪)। রাসূল (ছাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে মোহরানা বাবদ লোহার আংটি হলেও নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। অতঃপর সেটাও না পাওয়ায় কুরআন শিক্ষা দেওয়ার শর্তে বিবাহ পড়িয়ে দেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩২০২)। অতএব মোহরানা অপরিহার্য শর্ত। বরের সাধ্য অনুযায়ী মোহরানা ধার্য করবে। সেটা প্রথমেই পরিশোধ করা কর্তব্য। লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণ মোহরানা ধার্য করা এবং পরে স্ত্রীর কাছে মাফ চাওয়া ধোঁকার শামিল। এছাড়া যারা মোহরানা আদায় করে না, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের স্ত্রীদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, বিবাহের সবচেয়ে বড় শর্ত হ’ল মোহর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩ ‘বিবাহ’ অধ্যায়-১৩, অনুচ্ছেদ-৩)। বিবাহের সময় মোহর ফাঁকি দেওয়ার নিয়ত থাকলে তো বিয়েই বৈধ হবে না। তবে প্রশ্নে বর্ণিত উক্ত মুফাসসিরের বক্তব্য ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন (১৮/৪১৮) : মৃত ব্যক্তি কবরে কতদিন শাস্তি ভোগ করবে? জনৈক খতীব বলেন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত শাস্তি হতে থাকবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-সোহেল হাযারী
তালতলী, মণিপুর, গাযীপুর।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। দুনিয়ায়ী আমলের ভাল-মন্দের ফলাফল কবর থেকেই শুরু হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় কবরবাসীকে তার জান্নাত অথবা জাহানণামের ঠিকানা দেখানো হয়। ক্বিয়ামত পর্যন্ত এই রূপ হতে থাকবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/১৩১৩; মিশকাত হা/১২৭)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, বারযাখী জীবনে (কবরে) ভাল মন্দের বদলা দেওয়া  ক্বিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৫৬; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে বায ফাতাওয়া নং ৪২৬২)

প্রশ্ন (১৯/৪১৯) : অনেক মসজিদে ছালাতে দাঁড়ালে সামনের গ্লাসে নিজের ছবি দেখা যায়। এমনকি সিজদায় গেলে টাইলসে মুখও দেখা যায়। এমতাবস্থায় ছালাতের ক্ষতি হবে কি?
-আব্দুল মজীদ, বল্লা, টাঙ্গাইল
উত্তর : মসজিদে এমন গ্লাস বা টাইলস দেওয়া উচিত নয় যাতে মুছল্লীর ছবি দেখা যায়। এমতাবস্থায় সামনে কাপড় টাঙিয়ে ও নীচে কাপড় বিছিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। কারণ যেকোন ছবি বা চিত্র ছালাতের জন্য ক্ষতিকর। যেমন প্রাণীর অংকিত চিত্র, তৈলচিত্র ও কাপড়ের চিত্র কিংবা প্রাণীর ছবি বিশিষ্ট নকশা ইত্যাদি। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রাণীর ছবিযুক্ত কোন কিছু বাড়ীতে দেখলে তা বিনষ্ট করে দিতেন (বুখারী, মিশকাত হা/৪৪৯১ ‘ছবিসমূহ’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (২০/৪২০) : রাসূল (ছাঃ) আল্লাহ তা‘আলাকে স্বপ্নে দেখেছেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-রুহুল আমীন, কুয়েট, খুলনা।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি আমার প্রতিপালককে স্বপ্নে সুন্দরতম আকৃতিতে দেখেছি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, শীর্ষস্থানীয় ফেরেশতাগণ কি বিষয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, আপনি ভাল জানেন... (তিরমিযী হা/৩২৩৪-৩৫; মিশকাত হা/৭২৫; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩১৬৯)। তবে রাসূল (ছাঃ) আল্লাহ্র আকৃতির কোন ব্যাখ্যা দেননি। অনুরূপ তিনি ব্যতীত আর কেউ এমনটি দেখেছেন মর্মেও কোন প্রমাণ নেই।

প্রশ্ন (২১/৪২১) : সুন্নাত ছালাতে সিজদায় গিয়ে কুরআনের আয়াত দ্বারা দো‘আ করা যাবে কি? ছালাতের মধ্যে আমি মন খুলে কিভাবে দো‘আ করব?
-মুহাম্মাদ শাফী, বুয়েট, ঢাকা।
উত্তর : ফরয বা সুন্নাত ছালাতে সিজদায় গিয়ে কুরআনের আয়াত দ্বারা দো‘আ করা যাবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৭৩)। সিজদায় কুরআন ব্যতীত হাদীছে বর্ণিত দো‘আ সমূহ পড়া যায়। আর শেষ বৈঠকে বসে ‘আত্তাহিইয়াতু’ ও ‘দরূদ’ পড়ার পর কুরআন এবং হাদীছ থেকে সব ধরনের দো‘আ পড়া যাবে।
সিজদায় বা শেষ বৈঠকে মন খুলে পড়ার জন্য নিম্নের দো‘আটি পড়তে পারেন, যা আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) অধিকাংশ সময় পড়তেন: আল্লা-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা ‘আযা-বান্না-র’ (হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ায় মঙ্গল দাও ও আখেরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও) (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৪৮৭ ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯)। অথবা অত্র দো‘আটি পড়তে পারেন, যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে শিক্ষা দিয়েছিলেন: আল্লা-হুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া ‘আ-ফেনী, ওয়ারযুক্বনী (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে রহম কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে সুস্থতা দাও এবং আমাকে রূযী দাও’) (মুসলিম, মিশকাত হা/২৪৮৬)

প্রশ্ন (২২/৪২২) : বিলকিস বেগম নামে এক লেখিকা দাবী করেছেন, আদম (আঃ)-এর পূর্বেও পৃথিবীতে মানুষ ছিল। এছাড়া তিনি আরো অনেক নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন (কালের কণ্ঠ ২০ মে ২০১১ পৃঃ ১৭)। এর সত্যতা জানতে চাই।
-শাহীন আলম, দুর্গাপুর, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক নয়। কারণ আদম সৃষ্টির ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, মানুষের আগে আল্লাহ জিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর জিনের পূর্বে ফেরেশতাকে সৃষ্টি করেছেন। আর ফেরেশতারা যা দাবী করেন তাতে আদম প্রথম মানুষ (বাক্বারাহ ৩০)। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ যখন জান্নাতে আদমের আকৃতি তৈরী করলেন এবং যতদিন ইচ্ছা এভাবেই রেখে দিলেন, তখন ইবলীস তার চারেদিকে ঘুরছিল এবং লক্ষ্য করছিল এটা আবার কি? অতঃপর যখন সে দেখল যে এর ভিতরে ফাঁকা রয়েছে তখন সে বুঝল যে এটা এমন সৃষ্টি যে নিজেকে আয়ত্তে রাখতে পারবে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭০২)। অত্র হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইবলীস আদমের মত কোন সৃষ্টিকে এর পূর্বে দেখেনি। এ কারণেই সে চতুর্দিকে ঘুরছিল এবং লক্ষ্য করছিল।

প্রশ্ন (২৩/৪২৩) : জনৈক ইমাম বলেছেন, ওযূ না করে শুধু গোসল করার পর ছালাত আদায় করা যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-সিরাজুদ্দৌলা, বিরামপুর, দিনাজপুর।
উত্তর : ওযূ না করে গোসল করলে ঐ গোসলের পর ছালাত আদায় করা যাবে না। কারণ ছালাতের জন্য ওযূ শর্ত। আর ওযূর জন্য নিয়ত শর্ত। সুতরাং এজন্য গোসলের পূর্বে ওযূ করে নিতে হবে (নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪৫)

প্রশ্ন (২৪/৪২৪) : আযানের সময় যেমন উত্তর দিতে হয়, তেমনি এক্বামতের সময়ও কি একইভাবে উত্তর হবে?
-জাদীদা, কৃষ্ণপুর, পাবনা।
উত্তর : আযান ও এক্বামতের উত্তর একই রকম হবে। কারণ হাদীছে উভয়কেই আযান বলা হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬৬২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তাই বল যা মুওয়াযযিন বলে (মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৭)। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায় আযানের কালেমা দু’বার করে এবং ইক্বামতের কালেমা একবার করে বলা হ’ত কেবল ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাহ ব্যতীত (যা দু’বার বলা হ’ত) (আবুদাঊদ, নাসাঈ, দারেমী, মিশকাত হা/৬৪৩ ‘আযান’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (২৫/৪২৫) : চাচা-চাচী, ভাই-ভাবী মিলে যৌথ পরিবার। এক্ষণে পর্দার বিধান কিভাবে মেনে চলতে হবে?
-আযাদ
ধুরইল, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : হাদীছে সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বলা হয়েছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮০)। মোহরসহ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও বাসস্থান সবই এর অন্তর্ভুক্ত। তাই সম্ভব হলে পৃথক বসবাসের ব্যবস্থা করবে। অন্যথা একই পরিবারে নারী ও পুরুষ প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে ও স্ব স্ব পর্দা রক্ষা করে চলতে হবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, (ভাবীর জন্য) দেবরকে মরণ স্বরূপ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১০২)। অর্থাৎ মরণ যেমন যেকোন সময় আসতে পারে যৌথ পরিবারে তেমনি যেকোন সময়ে সমস্যা আসতে পারে (মিরক্বাত ১০/৫১)

প্রশ্ন (২৬/৪২৬) : একাকী ছালাত আদায় করার পর যদি জামা‘আত শুরু হতে দেখা যায় তাহলে পুনরায় ঐ জামা‘আতে শরীক হওয়া যাবে কি? এবং এর নেকী পাওয়া যাবে কি?
-আবুল কাসেম, শিবপুর, গাযীপুর
উত্তর : অবশ্যই শরীক হতে পারবে এবং তার পূর্ণ নেকী পাবে। পরবর্তী ছালাত তার জন্য নফল হিসাবে গণ্য হবে। আবু যার গিফারী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলেন, যখন তোমাদের আমীরগণ নির্দিষ্ট সময় হতে ছালাত দেরী করে পড়বে তখন কী করবে? আমি বললাম, আমাকে যা আদেশ করবেন তাই করব। তিনি বললেন, তুমি নির্দিষ্ট সময়ে ছালাত আদায় করবে। অতঃপর যদি তাদেরকে পাও, তাহ’লে তাদের সাথে পুনরায় ছালাত আদায় করবে। সেটা তোমার জন্য নফল হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৬০০)

প্রশ্ন (২৭/৪২৭) : জশনে জুলূস কি? ইসলামে কি এ ধরনের অনুষ্ঠানের অস্তিত্ব আছে? এ অনুষ্ঠানে যোগদান করা যাবে কি?
-এনামুল হক
তেলাপাড়া, মাধবপুর, হবিগঞ্জ।
উত্তর : ‘জশন’ ফারসী শব্দ। এর অর্থ উৎসব, আনন্দ। আর ‘জুলূস’ আরবী শব্দ। অর্থ- উপবেশন, বৈঠক, অনুষ্ঠান ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালনের জন্য বাৎসরিক মীলাদ উপলক্ষে যে মিছিল বের করা হয়, তা ‘জশনে জুলূস’ বলে পরিচিত। ইসলামে এধরনের অনুষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব নেই। এ সমস্ত বিদ‘আতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, এতে সহযোগিতা করা ও সেখানে অংশগ্রহণ করা সবই হারাম।

প্রশ্ন (২৮/৪২৮) : ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, তিনটি জিনিসে অকল্যাণ আছে, ঘোড়ায়, নারীতে ও বাড়ীতে। (বুখারী হা/২৮৫৮)। হাদীছটির ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ইবাদুল্লাহ, পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা।
উত্তর : হাদীছটির ব্যাখ্যা হল- কোনকিছুর মধ্যে অকল্যাণ নেই। যদি থাকত তবে ঘোড়া, নারী ও বাড়ীর মধ্যে অকল্যাণ থাকত (আহমাদ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৪২ ও ৯৯৩)। মূল ঘটনা হল, জাহেলী যুগে ধারণা করা হত যে সবকিছুর মধ্যে অকল্যাণ রয়েছে। তারই জবাবে রাসূল (ছাঃ) উক্ত কথা বলেন।

প্রশ্ন (২৯/৪২৯) : জনৈক আলেম বলেন, পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশের সাথে হিন্দুস্থানের যুদ্ধ হবে। ঐ যুদ্ধে যে মুসলিম ব্যক্তি মারা যাবে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। একথার সত্যতা জানতে চাই।
-খালিদ, ঘোনা, সাতক্ষীরা।
উত্তর : হাদীছটি অনুরূপ নয়। ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের দু’টি দলকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তার একটি হচ্ছে যারা হিন্দুস্থানবাসীদের সাথে যুদ্ধ করবে। আর একটি হচ্ছে যারা ঈসা (আঃ)-এর সাথে থাকবে (নাসাঈ হা/৩১৭৫, সনদ ছহীহ)। তবে যঈফ সনদে নিম্নরূপ এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদের সাথে হিন্দুস্থানের যুদ্ধের ওয়াদা করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি সে যুদ্ধ পেলে আমার জান ও মাল দিয়ে যুদ্ধ করব। আর আমি মারা গেলে শহীদদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি হব (নাসাঈ হা/৩১৭৪, সনদ যঈফ)। উক্ত হাদীছের আলোকেই খলীফা ওমর (রাঃ)-এর সময়ে সর্বপ্রথম ১৫ হিজরীতে ছাহাবীগণ হিন্দুস্থান অভিযানে আসেন এবং থানা (মাদ্রাজ), ভ্রুচ (করাচী) ও দেবল (সিন্দুর একটি বন্দর) বন্দর অধিকার করেন। অতঃপর উমাইয়া যুগে ৯৩ হিজরীতে মুহাম্মাদ বিন কাসেম সিন্ধু জয় করেন। তারও পরে আববাসীয় যুগে ৬০২ হিজরীতে দিল্লী ও বাংলা বিজিত হয় এবং সারা ভারত বর্ষে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে।

প্রশ্ন (৩০/৪৩০) : ইয়াজূজ মাজূজ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে চাই। তারা কখন পৃথিবীতে আসবে এবং কি কি কাজ করবে?
-জসীম, নিয়ামতপুর, নওগাঁ।
উত্তর : ইয়াজূজ মাজূজ সম্প্রদায় আদম (আঃ)-এর বংশধর। তারা ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে ঈসা (আঃ)-এর সময় পৃথিবীতে উত্থিত হবে। শাসক যুলক্বারনাইন তাদেরকে এখন প্রাচীর দিয়ে আটকিয়ে রেখেছেন (কাহফ ৯৪-৯৮)। ঐ প্রাচীর ভেঙ্গে তারা সেদিন বেরিয়ে আসবে এবং সামনে যা পাবে সব খেয়ে ফেলবে। তাদের সাথে কেউ লড়াই করতে পারবে না। এক সময় তারা বায়তুল মুক্বাদ্দাসের এক পাহাড়ে গিয়ে বলবে, দুনিয়াতে যারা ছিল তাদের হত্যা করেছি। এখন আকাশে যারা আছে তাদের হত্যা করব। তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাদের তীরে রক্ত মাখিয়ে ফেরত পাঠাবেন। একদা ঈসা (আঃ) তাদের জন্য বদদো‘আ করবেন। এতে তারা সবাই মারা যাবে ও পচে দুর্গন্ধ হবে। আল্লাহ শকুন পাঠাবেন। লাশগুলোকে তারা নাহবাল নামক স্থানে নিক্ষেপ করবে। মুসলিমরা তাদের তীর ও ধনুকগুলো ৭ বছর জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৭৫)

প্রশ্ন (৩১/৪৩১) : এক ব্যক্তি মসজিদে নলকূপ দেয়ার ওয়াদা করে মসজিদ কমিটি ঐ টাকা মসজিদের  বারান্দায় এবং মক্তবে লাগাতে চায়। এমনটি করা যাবে কি?
-ইয়াকুব, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
উত্তর : নলকূপের প্রয়োজন না থাকলে মসজিদের বারান্দায় বা অন্য স্থানে কাজে লাগাতে পারবে। এই মসজিদের দরকার না হলে অন্য মসজিদের কাজে লাগানো যায়। তবে মক্তবে লাগানো যাবে না। কারণ মসজিদের সম্পদ মসজিদের কাজেই ব্যবহার করতে হবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ৪/২৯০)

প্রশ্ন (৩২/৪৩২) : তাসবীহ গণনার নিয়ম কি? ডান হাতের কোন দিক থেকে তাসবীহ গণনা করতে হবে?
-আসাদুযযামান, দারুসা, রাজশাহী।
উত্তর : আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) সকল শুভ কাজ ডাক দিক দিয়ে করা পসন্দ করতেন (মুসলিম হা/৬১৭; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৪৮)। আর ডান হাতের ডান পাশ কড়ে আঙ্গুল দিয়েই শুরু হয়। তাছাড়া এই আঙ্গুল দিয়ে গণনা শুরু করাই সহজ ও স্বভাবজাত।

প্রশ্ন (৩৩/৪৩৩) : সঊদী আরবের সাথে সারা দুনিয়ার মানুষ এক সঙ্গে ছিয়াম পালন করতে পারে কি?
-আহমাদ, মাধবকাটী, দিনাজপুর।
উত্তর : পৃথিবীর সকল স্থানের চাঁদের উদয়স্থল এক নয়। কাজেই সারা দুনিয়ার ছিয়াম রাখা ও ছিয়াম ছাড়া এক সাথে হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, তোমাদের যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন ছিয়াম পালন করে (বাক্বারাহ ১৮৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা চাঁদ দেখে ছিয়াম শুরু কর এবং চাঁদ দেখে ছিয়াম ছাড় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৯৭০)। এতে প্রমাণিত হয় যে, সারা দুনিয়ার মানুষ এক সাথে চাঁদ দেখতে পারে না। কারণ কোন দেশে যখন ফজরের সময় হয় অন্য দেশে তখন গভীর রাত থাকে, (যেমন মক্কার লোকেরা যখন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে বাংলাদেশে তখন ৩ ঘণ্টা রাত হয়ে যায়) তখন কিভাবে তাদের বলা হবে যে, তোমরা চাঁদ না দেখলেও ছিয়াম রাখ? অথচ রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে চাঁদ দেখে ছিয়াম রাখতে বলেছেন (ছালেহ আল-উছায়মীন (সাবেক কেন্দ্রীয় মুফতী, সঊদী আরব), ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, মাসআলা নং ৩৯৩)। অতএব বাংলাদেশে ছিয়াম শুরু হবে পরদিন চাঁদ দেখার পরে। ঈদও হবে একদিন পরে। কেননা যোহরের ছালাত যেমন ফজরের সময় আদায় করা যায় না, তেমনি মক্কার সঙ্গে ঢাকা মিলাতে গিয়ে একদিন পরের ছিয়াম ও ঈদ একদিন আগে করা যায় না। এটি রাসূল (ছাঃ)-এর আদেশের স্পষ্ট লংঘন।

প্রশ্ন (৩৪/৪৩৪) : কেউ যদি এমন দেশে পৌঁছে যেখানে তার দেশের চেয়ে ইফতারের সময় কয়েক ঘণ্টা দেরীতে। তাহ’লে সে কী করবে?
-আব্দুল মাজেদ, গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : সাধ্য থাকলে ঐ দেশের সূর্যাস্ত অনুযায়ী ইফতার করবে। অন্যথা ছিয়াম ছেড়ে দিবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৯৮৫)। কারণ সফর অবস্থায় ছিয়াম তার উপর ফরয নয়। পরে ক্বাযা আদায় করে নিবে (বাক্বারাহ ১৮৪)। তবে কোন দেশে যদি দীর্ঘস্থায়ী দিন বা রাত হয়, তাহলে নিকটবর্তী বা নিজ দেশের সময় হিসাব করে ছিয়াম রাখবে ও ছাড়বে (বুখারী, মিশকাত হা/৫৪৭৫)

প্রশ্ন (৩৫/৪৩৫) : ওলী ছাড়াই এক মেয়ের বিবাহ হয়েছে। বিবাহের এক মাস পর মেয়ের অভিভাবক মৌখিক সম্মতি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ছেলে তিনবারে মেয়েকে তিন তালাক প্রদান করেছে। এক্ষণে প্রশ্ন হল, ওলী ব্যতীত বিবাহ বৈধ হয়েছে কি? বিবাহ শুদ্ধ করার জন্য অভিভাবকের মৌন বা মৌখিক সম্মতিই কি যথেষ্ট? নাকি পুনরায় ঈজাব-কবুল আবশ্যক? উক্ত তালাক কি কার্যকর হয়েছে? মেয়েকে পুনরায় বিবাহের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে কি?
-মুহাম্মাদ উমেদ সরকার
উদবাড়ীয়া, গুরুদাসপুর, নাটোর।
উত্তর : উক্ত বিবাহ সিদ্ধ হয়নি। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে নারী অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করল তার বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল (তিরমিযী হা/১১০২; আবুদাঊদ হা/২০৮৩; মিশকাত হা/৩১৩১)। যেখানে বিয়েই হয়নি সেখানে মৌখিক বা লিখিত সম্মতিতে বৈধতার কোন প্রশ্নই আসে না। অতএব অভিভাবক কর্তৃক সম্মতি দানের পর পুনরায় সুন্নাতী তরীকার নতুন করে বিয়ে করাতে হ’ত। কিন্তু সেটাও করা হয়নি। তাই ছেলে কর্তৃক তালাক দেয়া অর্থহীন। কারণ তাদের বিয়েই হয়নি। তারা ব্যভিচারী। এমতাবস্থায় প্রথমতঃ তাদের কৃতকর্মের জন্য তওবা করতে হবে (যেহেতু ইসলামী শরী‘আতের শাস্তির বিধান আমাদের সমাজে নেই)। দ্বিতীয়তঃ অভিভাবকের সম্মতিতে পুনরায় বিয়ে করতে পারে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এক হাদীছে বলেন, শাস্তিপ্রাপ্ত যেনাকার ব্যক্তি তার মত যেনাকার মহিলার সাথেই বিয়ে করবে (আবুদাঊদ হা/২০৫২)। এখানে তারা উভয়েই শাস্তি প্রাপ্তদের স্থলাভিষিক্ত।

প্রশ্ন (৩৬/৪৩৬) : প্রতিবেশী ও প্রতিবেশীর অধিকার বলতে কী বুঝায়? প্রতিবেশীকে নানাভাবে কষ্ট দেওয়ার পরিণাম জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ছাবিনা আখতার, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
উত্তর : সহযোগিতা ও উত্তম আচরণ পাওয়ার অধিক হকদার নিকটতম প্রতিবেশী। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তির নিকট তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৬৩)। অন্যত্র তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তি মুমিন নয় যে ব্যক্তি পেট ভরে খায়। অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৯৯১)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যে অধিক ছালাত, ছিয়াম ও যাকাত আদায় করে। কিন্তু যবান দ্বারা তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, সে জাহান্নামী (আহমাদ, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৪৯৯২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, আল্লাহ্র কসম! ঐ ব্যক্তি মুমিন নয় (৩ বার), যার অনিষ্টকারিতা হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয় (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৬২)

প্রশ্ন (৩৭/৪৩৭) : ঈদগাহ মাঠ ক্বিবলার দিকে কোনাকুনি হওয়ায় প্রথম সারি ছোট হয়। প্রথম সারি বড় করতে গিয়ে ক্বিবলা একটু পরিবর্তন  হয়ে গেছে। তাতে ছালাত হবে কি?
-হাসানুয্যামান, চুয়াডাঙ্গা।
উত্তর : কাতার বড় করার উদ্দেশ্যে ক্বিবলা পরিবর্তন করা শরী‘আত সম্মত নয়। ছালাত ক্বিবলামুখী হয়েই আদায় করতে হবে। কারণ ছালাত বিশুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত হচ্ছে ক্বিবলামুখী হওয়া (বাক্বারাহ ১৪৪; বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৭৯০)। ১ম কাতার একটু ছোট হলেও দোষ নেই। কেননা প্রথম কাতার ও দ্বিতীয় কাতার সমান হওয়া শর্ত নয়।

প্রশ্ন (৩৮/৪৩৮) : আমরা যে প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি সেখানে অনেক বিধর্মীও চাকুরী করে। আসন্ন রামাযানে খৃষ্টান সহকর্মীরা প্রস্তাব দিয়েছে যে, তারা আমাদের ইফতারে আর্থিকভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং আমাদের সাথে ইফতার করবে। এখন প্রশ্ন হ’ল ইফতার যেহেতু একটি ইবাদত, তাই এতে কি বিধর্মীদের শরীক করা জায়েয হবে?
মুহাম্মাদ আলী, অরচার্ড, সিঙ্গাপুর
উত্তর : ইফতার যদিও ইবাদত, তবে এমন ইবাদত যেখানে সামাজিকতার ব্যাপার রয়েছে। তাই এখানে কাফেরদেরও দাওয়াত করা যেতে পারে, যদি তাতে কাফেরদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করা বা আগ্রহী করার উদ্দেশ্য থাকে। আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) ইহুদী-নাছারাদের কাছ থেকে হাদিয়া গ্রহণ করেছেন (বুখারী ‘হেবা’ অধ্যায় ‘মুশরিকদের নিকট থেকে হাদিয়া গ্রহণ’ অনুচ্ছেদ)।  আল্লাহ বলেন, যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি বা তোমাদেরকে ঘর হতে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচরণে কোন বাধা নেই (মুমতাহিনা ৮)। তবে যদি এ দাওয়াত দ্বারা দ্বীনী কোন উদ্দেশ্য না থাকে, তাহ’লে এতে অযথা অর্থ খরচ না করে তা গরীব আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্র-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করা উচিৎ। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কারো সাথে বন্ধুত্ব করো না এবং আল্লাহ্ভীরু ব্যক্তি ছাড়া তোমার খাদ্য যেন কেউ না খায় (তিরমিযী, আবুদাউদ, মিশকাত হা/৫০১৮)। তাছাড়া হাদীছে এসেছে, তোমরা বিধর্মীদের আগে সালাম দিয়ো না, কেননা এতে তাদের প্রতি সম্মান ও ভালবাসা প্রদর্শিত হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬৩৫)। আর বিধর্মীদেরকে ইফতার বা যে কোন খাবার আয়োজনে দাওয়াত করা সম্মান প্রদর্শনের শামিল। তাই বিশেষ কারণ ছাড়া তাদেরকে ইফতারে বা অন্যান্য আয়োজনে আমন্ত্রণ না করাই উত্তম।

প্রশ্ন (৩৯/৪৩৯) : জনৈক আলেম বলেন, ওহোদ যুদ্ধে দান্দান শহীদ হ’লে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর শরীর থেকে রক্ত বের হ’লে ছাহাবীগণ সেই রক্ত পান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে আমার রক্ত পান করবে, সে জাহান্নামে যাবে না। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।
-আব্দুল মজীদ, কুকুরিয়া, টাঙ্গাইল।
উত্তর : ইমাম বুখারী (রহঃ) উক্ত হাদীছকে ‘মুনকার’ বলেছেন (তাহকীক সীরাতে ইবনে হিশাম ৩/৪১ পৃঃ)। তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মজীদে রক্তকে হারাম ঘোষণা করেছেন (মায়েদাহ ৩)

প্রশ্ন (৪০/৪৪০) : মাসিক আত-তাহরীকের প্রশ্নোত্তর বিভাগে দেখলাম, মৃত ব্যক্তির শোক সংবাদ প্রচার করা জাহেলিয়াত। আবার অন্য পৃষ্ঠায় কয়েক জনের মৃত্যু সংবাদ দেওয়া আছে। এর ব্যাখ্যা জানতে চাই।
-মুহসিন, বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর :  উচ্চৈঃস্বরে (সর্বত্র মাইকে) মৃত ব্যক্তির শোক সংবাদ প্রচার করা জায়েয নয় (তিরমিযী হা/৯৯৫, ইবনু মাজাহ হা/১৪৭৬)। তবে নিকটাত্মীয়, পরিচিত জন ও মুসলিমদের নিকটে সাধারণভাবে (ফোন ও মোবাইলের মাধ্যমে) মৃত্যু সংবাদ জানানো যাবে। হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী মৃত্যু বরণ করলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার মৃত্যু সংবাদ মুসলমানদের জানিয়ে দেন এবং জানাযার ছালাত আদায় করেন’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ৯/১৪২; বুখারী হা/১২৪৫)

HTML Comment Box is loading comments...