বিজ্ঞান ও বিস্ময়

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

স্পন্দন ছাড়াই কাজ করবে কৃত্রিম হৃদযন্ত্র

অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম হৃদযন্ত্র বা হৃদপিন্ড আবিষ্কার করেছেন, যা কোনো রকম স্পন্দন ছাড়াও রক্ত পাম্প করতে সক্ষম হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে মানবদেহে এই কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা যাবে বলে আশাবাদী গবেষকরা। বর্তমানে কৃত্রিম হৃদযন্ত্রটি পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। ‘বিভাকর’ নামে এই ডিভাইসটির মধ্যে রয়েছে একটি ছোট ব্লেডওয়ালা ডিস্ক, যেটি প্রতি মিনিটে কোনো স্পন্দন ছাড়াই দু’হাযার বার পূর্ণ আবর্তে ঘুরে রক্ত পাম্প করবে। তিনি বলেন, ম্যাগনেটিক লেভিটেশন ব্যবহার করায় এ কৃত্রিম হৃদযন্ত্রটি বহুদিন কাজ করতে সক্ষম হবে।

চিন্তাশক্তি কমায় স্মার্টফোন!

স্মার্টফোন ব্যবহার করে অভ্যস্ত যারা, তাদের চিন্তা-ভাবনায় একধরনের আলসেমী তৈরী হয়। বিশ্লেষণমূলক চিন্তার সামর্থ্য ধীরে ধীরে কমে যায়। কারণ আঙুলের স্পর্শেই অনেক জটিল কাজকর্ম সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় নিজে নিজে চিন্তা করার ব্যাপারটা অজান্তেই এড়িয়ে যায় তারা। আর এভাবেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা নিজের মস্তিষ্কের চেয়ে যন্ত্রের ওপরই বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কানাডার একদল গবেষক একথা জানিয়েছেন। ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী গর্ডন পেনিকুক বলেন, যেসব তথ্য সহজেই পাওয়া যায় এবং শেখা যায়, সেগুলো নিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা চিন্তা-ভাবনা করতে সাধারণতঃ অনিচ্ছুক হয়ে থাকে।

মননিয়ন্ত্রিত বায়োনিক হাত উদ্ভাবন

মানুষের তৈরী হাত বটে, তবে নিছক জড় কোনো বস্ত্ত নয়। মানুষের মন যেমন তার রক্তমাংসের হাত নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি এই বায়োনিক হাতের ওপরও থাকবে মনের নিয়ন্ত্রণ। মননিয়ন্ত্রিত এমন বায়োনিক হাত উদ্ভাবনের দাবী করেছেন একদল ইউরোপীয় শল্যচিকিৎসক ও প্রকৌশলী। রক্তমাংসের প্রতিস্থাপিত অঙ্গের মতোই ঐ হাত কাজ করতে সক্ষম।

গাড়ি ও আরোহণজনিত দুর্ঘটনায় হাত হারানো তিন অস্ট্রেলীয় বিশেষ কৌশলের ঐ বায়োনিক হাতের সুবিধা ভোগ করছেন বর্তমানে। ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের মে মাসের মধ্যে ঐ তিন রোগীর শরীরে এই বায়োনিক হাত যুক্ত করা হয়। যুক্ত করা এই হাত দিয়ে তারা হাতে বল নেওয়া, জগ দিয়ে পানি ঢালা, চাবি ব্যবহার, ছুরি দিয়ে খাবার কাটা, দু’হাত ব্যবহার করে বোতাম লাগানো ইত্যাদি বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজ করতে সক্ষম হন। প্রযুক্তির উদ্ভাবক অস্কার আজমান দাবী করেন, দাতাদের কাছ থেকে নিয়ে প্রতিস্থাপনের চেয়ে এই বায়োনিক হাত কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বায়োনিক হাতে অনুভূতি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নতুন এই কৃত্রিম হাতের দাম ১৭ হাযার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাযার টাকা। এ ছাড়া অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসনে প্রায় একই খরচ পড়ে। রোগীর পর্যাপ্ত স্নায়ু ও মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা এবং পরিবেশ অনুকূলে না থাকলে এই হাত সংযোজন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা।