প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/২০১) : জানাযার ছালাতের বিধান কত হিজরীতে জারি হয়? খাদীজা (রাঃ)-এর জানাযা না হওয়ার কারণ কি?

-ইউসুফ

হিলটন হোটেল, মক্কা, সঊদী আরব।

উত্তর : জানাযার বিধান কত হিজরীতে জারি হয়েছে তার স্পষ্ট কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে তা মদীনায় ছালাতের বিধান জারি হওয়ার পর চালু হয়। ইবনু হাজার হাইতামী বলেন, খাদীজা (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় জানাযার ছালাতের বিধান জারি ছিল না। কেননা এর বিধান মদীনায় হিজরতের পর নাযিল হয় (তুহফাতুল মুহতাজ ফী শরহে মিনহাজ ৩/১৩১)। আর হিজরতের পূর্বেই খাদীজা (রাঃ)-এর মৃত্যু হওয়ায় তার জানাযা করা হয়নি। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ছালাত ফরয হওয়ার পূর্বেই খাদীজা (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন (ত্বাবারাণী কাবীর হা/১০৯৯)

প্রশ্ন (২/২০২) : স্যালুট প্রদান পদ্ধতির ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

চন্ডীপুর পুলিশ লাইন, ভারত।

উত্তর : এটি একটি অনৈসলামিক কালচার। যা পরিত্যাজ্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা ইহূদী-নাছারাদের অনুকরণে সালাম দিয়ো না। কেননা তারা হস্ততালু, মাথা ও ইশারার মাধ্যমে সালাম প্রদান করে থাকে (দায়লামী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৭৮৩)। তিনি আরো বলেন, তোমরা সালাম প্রদানের ক্ষেত্রে ইহূদী-খৃষ্টানদের অনুকরণ করো না। কেননা ইহূদীরা আঙ্গুল দিয়ে ইশারার মাধ্যমে এবং নাছারারা হস্ততালু দিয়ে ইশারার মাধ্যমে সালাম প্রদান করে (তিরমিযী হা/২৬৯৫, মিশকাত হা/৪৬৪৯, সনদ হাসান)। পক্ষান্তরে অভিবাদনের ইসলামী পদ্ধতি হ’ল সাক্ষাতে পরস্পরকে সালাম করা। এর জন্য কোনরূপ আনুষ্ঠানিকতা হ’লে সেটা বিদ‘আত হবে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে সালাম প্রদান ও সালাম গ্রহণের যে আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে, সেটা অমুসলিমদের থেকে আগত। ইসলামে এর কোন অনুমোদন নেই। বাধ্যবাধকতার ব্যাপারটি ব্যক্তির নিজস্ব বিবেচ্য বিষয়। আল্লাহ বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর (তাগাবুন ৬৪/১৬)

প্রশ্ন (৩/২০৩) : এক ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা করলে ৮০ হুক্ববা জাহান্নামে জ্বলতে হবে- কথাটির সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-পারভেয আল-ফাহাদ

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : বর্ণিত উক্তিটির প্রমাণে কোন হাদীছ নেই। এটি প্রচলিত কথা মাত্র। حُقُبٌ অর্থ যুগ বা দীর্ঘ সময়কাল। আল্লাহ বলেন, ‘অবিশ্বাসীরা জাহান্নামে থাকবে যুগ যুগ ধরে’ (নাবা ৭৮/২৩)। অত্র আয়াতে বর্ণিত أَحْقَابًا অর্থ دُهُوْرٌ مُتَتَابَعَةٌ ‘পরপর যুগসমূহ’। হাসান বছরী বলেন, এর অর্থ خلود বা ‘চিরকাল’। ‘যার কোন সীমা নির্দিষ্ট নেই’। এক হুক্ববার সময়কাল দুনিয়ার হিসাবে ২ কোটি ৮৮ বছর বা তার কম ও বেশী মর্মে যতগুলি বর্ণনা বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়, সবগুলিই হয় ‘বানোয়াট’ অথবা ‘অত্যন্ত দুর্বল’  সূত্রে বর্ণিত (দ্রঃ তাফসীরুল কুরআন, ৩০ তম পারা ৫৭ পৃঃ)

প্রশ্ন (৪/২০৪) : এশার ছালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ বিলম্ব করা উত্তম কি? বিলম্ব করে আদায় করার জন্য একাকী উক্ত সময়ে ছালাত আদায় করা উত্তম হবে কি?

-শাহীন,

আবুধাবী, আরব আমিরাত।

উত্তর : এক-তৃতীয়াংশ বিলম্ব করে একা ছালাত আদায় করার চেয়ে সময়ের মধ্যে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করাই উত্তম। ওমর (রাঃ) বলেন, রাত জেগে ছালাত আদায় করার চেয়ে জামা‘আতবদ্ধ ছালাত আদায় করা উত্তম (মালিক, মিশকাত হা/১০৮০)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের উপর ভারী মনে না করলে রাতের এক-তৃতীয়াংশে অথবা অর্ধরাতে এশার ছালাত আদায় করতে বলতাম (ইবনে মাজাহ, মিশকাত হা/৬১১)। অর্থাৎ এশার ছালাতের জামা‘আতকেই দেরী করে দিতাম।

প্রশ্ন (৫/২০৫) : আছরের ছালাতের পর যোহরের ক্বাযা ছালাত আদায় করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-রেযাউল করীম, বরগুনা।

উত্তর : কোন বাধা নেই। তবে আছরের ছালাতের পূর্বে সময় থাকলে প্রথমে যোহর পড়বেন। আর আছরের জামা‘আত শুরু হয়ে গেলে জামা‘আতে শরীক হয়ে পরে যোহরের ক্বাযা আদায় করবেন। কেননা ক্বাযা ছালাতের কোন নিষিদ্ধ সময় নেই। বরং স্মরণ হওয়া মাত্রই আদায় করতে হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৬০৩, ৬০৪)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) যোহরের সুন্নাত ক্বাযা হওয়ায় তা আছরের পর আদায় করেছেন (বুখারী হা/৪৩৭০, মুসলিম হা/৮৩৪, মিশকাত হা/১০৪৩)

প্রশ্ন (৬/২০৬) : আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে মানুষের নাম বিকৃত করে ডাকা হয়। এ ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

-সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম।

উত্তর : মানুষের নাম বিকৃত করে ডাকা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী হতে উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী যেন অপর নারীকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি অন্যায়ভাবে দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ লকবে ডেকো না; ঈমানের পর ফাসেকী হ’ল সবচেয়ে মন্দ নাম। যারা (এসব থেকে) তওবা করে না তারাই যালিম’ (হুজুরাত ৪৯/১১)। অর্থাৎ ঈমান আনার পরে উপরোক্ত অন্যায় কর্মসমূহ সবই ফাসেকী কাজ।

 প্রশ্ন (৭/২০৭) : জনৈক আলেম বলেন, মাইকে ছালাত আদায় করা যাবে না। এতে তাকবীরে তাহরীমা ভঙ্গ হয়ে যায়। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-সাইফুর রহমান

বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।

উত্তর : মাইকে ছালাত আদায় করা যাবে। এতে তাকবীরে তাহরীমা ভঙ্গ হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং এতে সকল মুছল্লী এক সঙ্গে তাকবীর শুনতে পায় এবং ইমামের সাথে সুষ্ঠুভাবে ছালাত আদায় করতে সুবিধা হয়। এছাড়াও মাইক নিজে কোন ইবাদত নয় বরং ইবাদতের সহায়ক।

বরং এটাই বিধান যে, ‘যে বস্ত্ত না হ’লে ওয়াজিব আদায় হয় না, সেটাও ওয়াজিব।’ অতএব বড় জামা‘আতে মাইক অথবা মুকাবিবর থাকা ওয়াজিব। রাসূল (ছাঃ)-এর তাকবীরের আওয়ায মুছল্লীদের শুনানোর জন্য আবুবকর (রাঃ) উচ্চকণ্ঠে তাকবীর দিয়েছেন (বুখারী হা/১১৪০)। তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুকাবিবর। বর্তমানে মাইক সেই কাজটিই করে থাকে। 

প্রশ্ন (৮/২০৮) : সমাজে মোবাইলে বা সাক্ষাতে বিদায়ের সময় অনেকেই ‘ভাল থাকবেন’ ‘ভাল থাকুন’ ইত্যাদি বলে থাকেন। এরূপ বলা কি শরী‘আতসম্মত হবে? না হলে এক্ষেত্রে কি বলা উচিৎ?

-ফারূক হোসাইন

আটরশি, ফরিদপুর।

উত্তর : এরূপ বলা ঠিক নয়; বরং বলতে হবে ‘আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন’। কারণ মানুষ নিজে নিজে ভাল থাকতে পারে না। বরং বিদায়কালে সালাম দিয়ে বিদায় নিবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা কোন মজলিসে প্রবেশকালে ও বসার সময় এবং উঠে যাওয়ার সময় সালাম দিবে (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৬৬০, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, ‘সালাম’ অনুচ্ছেদ-১)

প্রশ্ন (৯/২০৯) : পিতা-মাতা ছালাত আদায় না করলে সন্তানের করণীয় কি?

-আব্দুল্লাহ, ঢাকা

উত্তর : পিতা-মাতাকে ছালাত আদায়ের জন্য নম্র ভাষায় নছীহত করতে হবে। ভাল কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজে নিষেধ করা মুমিনের প্রধান কর্তব্য (আলে-ইমরান ১০৪, ১১০)। তবে পিতা-মাতার সাথে মন্দ আচরণ করা যাবে না (লোকমান ৩১/১৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অমুসলিম মাতার সাথে ভাল আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১৩)। বারবার চেষ্টা করতে হবে এবং তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে দো‘আ করতে হবে।

প্রশ্ন (১০/২১০) : জনৈক আলেম বলেন, ব্যক্তি মারা গেলে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী এক বার ব্যতীত জানাযা পড়া জায়েয নয়। উক্ত বক্তব্যের শুদ্ধতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-ছফিউল্লাহ

বি.কে. রায় রোড, খুলনা।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। একজন মৃত ব্যক্তির জানাযার ছালাত একাধিকবার পড়া যায়। অনুরূপভাবে একই ব্যক্তির জানাযায় একজন ব্যক্তি একাধিকবার শরীক হ’তে পারেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৫৮, ৫৯; মির‘আত ৫/৩৯০পৃঃ; তিরমিযী হা/১০৩৭; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/১৩০পৃঃ)

প্রশ্ন (১১/২১১) : মুহুরীর পেশা গ্রহণ করা যাবে কি?

-শরীফ, ঝিনাইদহ।

উত্তর : মুহুরীর পেশা গ্রহণ করা যায়। তবে তা হতে হবে সম্পূর্ণরূপে প্রতারণামুক্ত এবং থাকতে হবে মানুষকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য কর এবং গোনাহ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ ৫/২)

প্রশ্ন (১২/২১২) : আল্লাহর কাছে হালাল রূযী কামনা করার জন্য কোন দো‘আ আছে কি?

-আব্দুল্লাহ

কসবা, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর: আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে ভয় করে, আল্লাহ তার (কাংখিত) পথ খুলে দেন’। ‘এবং তাকে রূযী দান করেন এমন উৎস হ’তে যে বিষয়ে তার কোনরূপ পূর্ব ধারণা ছিল না’ (তালাক ৬৫/২-৩)। বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে রুযী ও সম্পদ বৃদ্ধি হয় (নুহ ১০-১২)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান নাফি‘আন, ওয়া ‘আমালান মুতাক্বাববালান, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়েবা (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী ইলম, কবুলযোগ্য আমল ও পবিত্র রূযী প্রার্থনা করছি’) (ইবনু মাজাহ হা/৯২৫, মিশকাত হা/২৪৯৮)

প্রশ্ন (১৩/২১৩) : পুরানো কবরস্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। সেখানে মাটি ভরাট করে কবরস্থান উঁচু করা যাবে কি?

-সাইফুল ইসলাম

কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর:  এতে শরী‘আতের কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (১৪/২১৪) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, কুরবানীর ৩ দিন হাঁস-মুরগী যবেহ করা কিংবা গোশত কিনে খাওয়া হারাম। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-নাছিরুল ইসলাম

তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

উত্তর: এটা সমাজে প্রচলিত একটি কুসংস্কার মাত্র।  

প্রশ্ন (১৫/২১৫) : গৃহপালিত পশুর মল-মূত্র কাপড়ে লাগলে উক্ত কাপড়ে ছালাত হবে কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান

তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল সে সব প্রাণীর পেশাব-পায়খানা পবিত্র। সেটা কাপড়ে লাগলে উক্ত কাপড়ে ছালাত আদায় করা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) নিজে ছাগলের গোয়ালে ছালাত পড়েছেন এবং পড়তে অনুমতি দিয়েছেন (বুখারী হা/২৩৪, মুসলিম হা/৩৬০, ৫২৪)

প্রশ্ন (১৬/২১৬) : মসজিদে ক্বোবায় ছালাত আদায় করার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি?

মুহসিন আলম

ছোট বনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বাড়িতে ওযূ করে মসজিদে ক্বোবায় এসে ছালাত আদায় করল, তার জন্য একটি ওমরাহ করার সমপরিমাণ নেকী রয়েছে (নাসাঈ হা/৬৯৯, ইবনু মাজাহ হা/১৪১২)

প্রশ্ন (১৭/২১৭) : জনৈক আলেম বলেন, দো‘আই ইবাদতের মূল। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

হাতেম আলী

সখীপুর, টাঙ্গাইল।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী হা/৩৩৭১, মিশকাত হা/২২৩১)। তবে অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, দো‘আই হ’ল ইবাদত (আবুদাউদ হা/১৪৮১, তিরমিযী হা/৩৩৭২, মিশকাত হা/২২৩০, সনদ ছহীহ)। অর্থাৎ দো‘আ হ’ল শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

প্রশ্ন (১৮/২১৮) : ইমাম মিম্বরে উঠার পূর্বে জুম‘আর আযান দেওয়া যাবে কি?

-মীযান, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর: ইমাম মিম্বারে উঠার পূর্বে জুম‘আর আযান দেওয়া সুন্নাত পরিপন্থী কাজ। বরং খতীব মিম্বরে বসার পরে আযান দেওয়া সুন্নাত। সায়েব বিন ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে জুম‘আর দিনে আযান দেয়া হ’ত যখন খতীব মিম্বারে বসতেন (বুখারী হা/৯১৩)

প্রশ্ন (১৯/২১৯) : ফাৎরাতুল অহি কি? এর সময়কাল জানিয়ে বাধিত করবেন।

-নাজমুল হাসান, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর উপর ২১শে রামাযানের ক্বদর রাতে প্রথম অহি নাযিলের পর থেকে কয়েকদিনের বিরতিকালকে فَتْرَةُ الْوَحْىِ বা অহি-র বিরতিকাল বলা হয়। এটি ৪০ দিন বা আড়াই বা তিন বছরের জন্য ছিল না, যা প্রসিদ্ধ আছে (আলোচনা দ্রষ্টব্য : আর-রাহীক্ব পৃঃ ৬৯; আকরাম যিয়া ওমরী, সীরাহ ছহীহাহ ১/১২৭-টীকা-১)। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, অহি-র বিরতিকাল ছিল মাত্র কয়েক দিনের (كانت أيامًا) (বুখারী ফাৎহসহ হা/৩-এর আলোচনা, ফায়েদা, ১/৩৭ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, অহি-র বিরতি দু’বার হয়েছিল। প্রথম বিরতির পর সূরা মুদ্দাছছির ১-৫ আয়াত নাযিল হয়।  দ্বিতীয় বিরতির পর সূরা যোহা নাযিল হয়। এই সময় দুই বা তিন দিন অহি নাযিলে বিরতি ঘটে। তাতেই মুশরিকরা বলতে থাকে মুহাম্মাদের রব তাকে ছেড়ে গেছে। তখন অত্র সূরা নাযিল হয়।

ইবনু ইসহাক তৃতীয় আরেকটি বিরতির কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে কাফেররা তাকে আছহাবে কাহফ, যুলক্বারনাইন ও রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি ইনশাআল্লাহ ছাড়াই পরদিন জবাব দিবেন বলেন। এতে ১৫ দিন অহি নাযিল হওয়া বন্ধ থাকে। বিষয়টি সঠিক নয়। উল্লেখ্য যে, অহি-র বিরতিকালের সময়সীমা সঠিকভাবে নির্ধারণ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না। তবে এর মেয়াদ কখনো দীর্ঘ ছিল না। যাতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং তা অহি গ্রহণে প্রস্ত্তত হয়’ (দ্রঃ সীরাহ ছহীহাহ ১/১২৭-১২৮)

প্রশ্ন (২০/২২০) : শরী‘আতে সুরমা ব্যবহারের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা আছে কি? এর উপকারিতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-উমর ফারূক

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ঘুমানোর সময় চোখে ‘ইছমাদ’ সুরমা লাগাও। এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি হয় এবং ভ্রুতে নতুন লোম গজায়’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৪৯৬, ছহীহাহ হা/৭২৪)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, এটা চোখের ময়লা দূর করে এবং চক্ষু পরিষ্কার করে (ত্বাবারাণী, ছহীহাহ হা/৬৬৫)। অতএব পুরুষেরা হাদীছে বর্ণিত উপকারিতা লাভের উদ্দেশ্যে চোখে সুরমা লাগাবে; সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে নয়। আর মেয়েরা চোখের উপকারিতা এবং স্বামীর নিকট সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সুরমা লাগাবে।

প্রশ্ন (২১/২২১) : ধর্মীয় জীবনে ইসলামের সকল বিধি-বিধান মেনে চলার সাথে সাথে বৈষয়িক জীবনে গণতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য সময় ও শ্রম ব্যয় করলে নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করা যাবে কি?

-ক্বামারুযযামান, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : ‘মুসলিম’ বলা যাবে, তবে প্রকৃত মুসলিম নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধানসমূহ কামনা করে? বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর চাইতে সুন্দর বিধানদাতা আর কে আছে’? (মায়েদাহ ৫/৫০)। অতএব ইসলামের বাইরে উপরোক্ত মতবাদসমূহ সবই জাহেলিয়াত।

এসবের অনুসারীদের মধ্যে কেউ বিশ্বাসগত কুফরীতে এবং কেউ কর্মগত কুফরীতে লিপ্ত আছে। (১) বিশ্বাসগত কুফরী হ’ল- যারা বৈষয়িক জীবনে আল্লাহর বিধান সমূহ অস্বীকার করে অথবা সেগুলিকে ‘হক’ জানলেও পরিস্থিতি বা যুগের দোহাই পেড়ে নিজেদের রচিত বিধানকে উত্তম বা সমান বা সিদ্ধ মনে করে। এরা মুসলিম মিল্লাত থেকে খারিজ বলে গণ্য হবে।

আল্লাহ বলেন, ‘যেসব লোকেরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের সাথে কুফরী করে এবং আল্লাহ ও রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে এবং বলে যে, আমরা কিছু অংশের উপরে ঈমান আনলাম ও কিছু অংশে কুফরী করলাম। এর দ্বারা তারা দু’য়ের মাঝে একটা (আপোষের) রাস্তা বের করতে চায়’। ‘এরাই হ’ল প্রকৃত ‘কাফির’। আর আমরা কাফিরদের জন্য নিকৃষ্টতম শাস্তি নির্ধারিত করে রেখেছি’ (নিসা ৪/১৫০-১৫১)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের দিকে মানুষকে আহবান করে, সে ব্যক্তি জাহান্নামীদের দলভুক্ত। যদিও সে ছিয়াম পালন করে, ছালাত আদায় করে এবং ধারণা করে যে সে একজন মুসলিম’ (আহমাদ হা/১৭২০৯; তিরমিযী হা/২৮৬৩; মিশকাত হা/৩৬৯৪)

অতএব উপরে বর্ণিত আক্বীদা ও বিশ্বাস যদি কোন ব্যক্তি বা দলের থাকে, তবে সেই নেতা বা দল ইসলাম থেকে খারিজ গণ্য হবে। তাদের দলভুক্ত হওয়া কোন মুসলমানের জন্য সিদ্ধ নয়।

(২) কর্মগত কুফরী হল- যদি কোন শাসক বা শাসক দল আল্লাহর বিধানকে সর্বোচ্চ, সর্বাঙ্গ সুন্দর ও সর্বযুগীয় এবং মুসলিম-অমুসলিম সকল মানুষের জন্য কল্যাণবিধান বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে এবং মুখে তা স্বীকার করে ও তা প্রতিষ্ঠার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা চালায়, কিন্তু বাধ্যগত কারণে আল্লাহর কিছু হুকুম বাস্তবায়নে অক্ষম থাকে, তাকে ‘কর্মগত কুফরী’ বলে। এর দ্বারা উক্ত ব্যক্তি বা দল ইসলাম থেকে খারিজ হবে না। তবে তারা কবীরা গোনাহগার হবে। তারা ইসলাম বিরোধী কোন বিধান জারি করলে তাদের উক্ত হুকুম মান্য করা সিদ্ধ হবে না। বরং তার প্রতিবাদ করতে হবে, তা থেকে বিরত থাকতে হবে ও তাকে ঘৃণা করতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)(বিঃ দ্রঃ ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ বই পৃঃ ২২-২৩)

প্রশ্ন (২২/২২২) : দেশের প্রচলিত আইনে বিচারকগণ বিচার করতে বাধ্য। অথচ এর অনেক আইনই ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এক্ষণে বিচারকের পেশা গ্রহণ করা শরী‘আতসম্মত হবে কি এবং বর্তমানে যারা এরূপ পেশায় জড়িত তাদের বাঁচার পথ কি?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক জজ।

উত্তর : যদি বিচারক হিসাবে হককে হক হিসেবে আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার, হককে তার প্রাপকের নিকটে পৌঁছে দেয়ার এবং মযলূমকে সাহায্য করার সুযোগ থাকে এবং তা বাস্তবায়ন করা যায় তাহ’লে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে শরী‘আতে বাধা নেই। কারণ তা নেকী এবং তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করার শামিল হিসেবে গণ্য হবে (মায়েদাহ ২)। আর যদি এরূপ সুযোগ না থাকে তাহলে বৈধ নয়। কেননা তাতে বিচারককে উক্ত গোনাহের ভাগিদার হতে হবে।

বর্তমানে যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছেন, তারা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক আইনগুলি বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থাকবেন। সম্ভব না হলে উক্ত চাকুরী পরিত্যাগ করবেন।

প্রশ্ন (২৩/২২৩) : মাওলানা আকরম খাঁ, স্যার সৈয়দ আহমাদ, সুলায়মান নদভী মি‘রাজের ঘটনাকে স্বাপ্নিক বলেছেন। এর সত্যতা আছে কি?

-হাসান আলী, বসুপাড়া, খুলনা।

উত্তর : এটি তাঁদের ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ মি‘রাজের ঘটনা যদি স্বাপ্নিক বা আত্মিক হ’ত, তাহলে মক্কার কাফির-মুশরিকদের তা অবিশ্বাস করার কোন কারণ থাকত না। কেননা তারা এটা শুনেই একে মিথ্যা বলেছিল এবং বায়তুল মুক্বাদ্দাসের বিবরণ দাবী করেছিল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৮৬৭)। আর ‘আবদ’ বলা হয় দেহ ও প্রাণ সহ ব্যক্তিকে। স্বপ্নে হলে তো ‘রূহ’ বলা হ’ত। এছাড়া রাসূল (ছাঃ)-এর সশরীরে মি‘রাজে গমন এবং আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন, ‘পরম পবিত্র সত্তা তিনি যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আক্বছা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছিলেন। যার চতুস্পার্শ্বকে আমরা বরকতময় করেছি। যাতে করে আমরা তাকে আমাদের নিদর্শনসমূহরে কিছু দেখিয়ে দেই’ (ইসরা ১; তাছাড়া সূরা নজম ১১-১৮ পর্যন্ত দ্রষ্টব্য)। ছহীহ হাদীছে এসেছে, তিনি ‘বোরাক’-নামক বাহনের মাধ্যমে প্রতি আসমানে পৌঁছেছিলেন। সেখানে নবীদের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। ফেরার পথে মূসা (আঃ)-এর সাথে ছালাত সম্পর্কে কথোপকথন হয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৮৬২-৬৪, ‘মিরাজ’ অনুচ্ছেদ)। এমনকি মি‘রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সকল নবী-রাসূলের ইমামতি করেছিলেন’ (মুসলিম হা/১৭২ ‘ঈমান’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (২৪/২২৪) : কোন ব্যক্তি নিজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির জন্য কাফনের কাপড় কিনে রাখতে পারবে কি?

-আব্দুল্লাহ নাজীব

দক্ষিণ দিনাজপুর, ভারত।

উত্তর : মৃত্যুর পূর্বে কাফনের কাপড় কিনে রাখায় শারঈ কোন বাধা নেই। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হ’ল তখন তিনি নতুন কাপড় আনালেন এবং পরিধান করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘মৃত ব্যক্তিকে ক্বিয়ামতের দিন সেই কাপড়ে উঠানো হবে, যে কাপড়ে সে মৃত্যুবরণ করবে’ (আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১৬৪০, ‘মৃতের গোসল ও কাফন দান’ অনুচ্ছেদ)। একদা রাসূল একটি চাদর উপঢৌকন পেয়ে তা পরিধান করলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, চাদরটা কি চমৎকার! আমাকে এটা পরতে দিন। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে তা দিয়ে দিলেন। লোকেরা বলতে লাগল যে, তুমি এটা ঠিক করোনি। তখন লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি এটা পরার জন্য চাইনি; বরং আমি আমার কাফন বানানোর জন্য চেয়ে নিয়েছি। সাহল (রাঃ) বলেন, যেদিন লোকটি মারা গেল সেদিন সেটিই তার কাফন হল (আহমাদ হা/২২৮৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৫৫)

প্রশ্ন (২৫/২২৫) : আমাদের সমাজে স্ত্রী প্রথম গর্ভবতী হওয়ার ৭-৮ মাস পর ‘বৌ বিদায়’ নামে একটি অনুষ্ঠান ঘটা করে পালন করা হয়। এর কোন ভিত্তি আছে কি?

মিনহাজুল ইসলাম

উজানপাড়া, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : ইসলামী শরী‘আতে এর কোন অস্তিত্ব নেই। অতএব এরূপ অনুষ্ঠান অবশ্যই বর্জনীয়।

প্রশ্ন (২৬/২২৬) : দাড়ির মূল অংশ ঠিক রেখে আশে-পাশের দাড়ি অনেকে শেভ করে থাকেন। এটা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

মীযানুর রহমান, খলীফাপাড়া, রংপুর।

উত্তর : لحية বা দাড়ি বলা হয় ঐ সমস্ত লোমকে, যা পুরুষের দুই গাল ও থুতনীর নীচে হয়ে থাকে। অতএব গালের উপর ও থুতনীর নীচে যে সমস্ত লোম ওঠে, তা কাটা ও ছাটা যাবে না।রাসূল (ছাঃ)-এর পরিষ্কার নির্দেশ হ’ল, তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও ও গোঁফ ছাটো এবং মুশরিকদের বিপরীত কর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২১)। অতএব যতটুকু দাড়ি, ততটুকু ছাড়তে হবে।

প্রশ্ন (২৭/২২৭) : অর্থনীতি, পলিটিক্যাল সাইন্স, ব্যাংকিং প্রভৃতি বিষয়ে অধিকাংশ পাঠ্য বই ইসলাম বিরোধী। এছাড়া এগুলি শেখার পর হারাম পেশা গ্রহণ করতে হয়। এসব বিষয়ে পড়াশুনা করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-রেযওয়ানুল ইসলাম

আত্রাই, দুর্গাপুর, রাজশাহী।

উত্তর : হারাম রুযীর উদ্দেশ্যে হারাম কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে যে জ্ঞান হারাম উপার্জনে বাধ্য করে সে জ্ঞান অর্জন করাও বৈধ নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র বস্ত্ত ভিন্ন কবুল করেন না’ (মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০)। তবে ইসলামী রীতি-নীতির উপর অটল থেকে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য বুঝে হক প্রচার ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানব রচিত আইন বা রীতি-নীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়।

প্রশ্ন (২৮/২২৮) : চুরি করার পর কুরআনে হাত রেখে কসম করে তা অস্বীকার করার অনেকদিন পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু মূল মালিককে না পাওয়ায় ফেরত দিতে পারছে না। এক্ষণে এর কাফফারা স্বরূপ কি করণীয়?

ইমরান হোসাইন, ওমান।

উত্তর : চুরি করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮)। যা তওবা ব্যতীত মাফ হবে না (নিসা ৪/৩১)। যথাসাধ্য চেষ্টার পরেও যদি মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায়, তখন উক্ত টাকা তার নামে ছাদাক্বা করে দিতে হবে। তাহ’লে আশা করা যায় আল্লাহ ক্ষমা করবেন। উল্লেখ্য যে, মালিক শনাক্ত হওয়ার পরেও লজ্জা বা অপমান মনে করে তাকে তার সম্পদ ফিরিয়ে না দিলে এবং তার নিকট মাফ না চাইলে মনে রাখতে হবে যে, ইহকালের শাস্তি ও অপমান হ’তে পরকালের শাস্তি ও অপমান অনেক কঠিন এবং ভয়াবহ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১২৭)

প্রশ্ন (২৯/২২৯) : ইসলামের দৃষ্টিতে কোন দিবস পালন করা কোন পর্যায়ের শিরক? কিভাবে এটা শিরকের পর্যায়ভুক্ত গোনাহে পরিণত হয় জানিয়ে বাধিত করবেন।

-মুন্নাফ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা।

উত্তর : দিবস পালন শিরক নয়। তবে নিঃসন্দেহে বিদ‘আত।  যেমন- ঈদে মীলাদুন্নবী, শবেবরাত, শবেমি‘রাজ ইত্যাদি। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের যামানায় এসব দিবসের কোন অস্তিত্ব ছিল না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরী‘আতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী হা/২৬৯৭; মুসলিম হা/১৭১৮; মিশকাত হা/১৪০)। এতদ্ব্যতীত অমুসলিমদের অনুকরণে যেসব দিবস পালিত হয়, তার সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। এগুলি স্রেফ জাহেলিয়াত এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি মাত্র। যেমন- নববর্ষ, থার্টিফার্স্ট নাইট, ভালোবাসা দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস, হাত ধোয়া দিবস ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবুদাঊদ, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৩৪৭ ‘পোষাক’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (৩০/২৩০) : মক্কা বিজয়ের পর আর কোন হিজরত আছে কি? থাকলে তার স্বরূপ কি?

-বুরহানুদ্দীন

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, মাগুরা।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী- ‘মক্কা বিজয়ের পরে আর হিজরত নেই। কিন্তু জিহাদ ও হিজরতের নিয়ত অবশিষ্ট থাকবে’ (বুখারী হা/১৮৩৪; মুসলিম হা/১৩৫৩; মিশকাত হা/২৭১৫)। এর অর্থ হ’ল, মক্কা থেকে কোন হিজরত নেই। তবে যে সকল দেশ ও অঞ্চলে ঈমান ও দ্বীন রক্ষা করা কঠিন সে সকল স্থান থেকে অন্যত্র হিজরত করা ফরয যেখানে দ্বীন রক্ষা করা সহজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবয করার সময় বলেন, তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম। ফেরেশতারা বলেন, আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল’ (নিসা ৪/৯৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘হিজরত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না তওবা বন্ধ হবে। আর তওবা বন্ধ হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হয়’ (আবুদাউদ হা/২৪৭৯)। তিনি আরো বলেন, ‘যে পর্যন্ত কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ থাকবে, সে পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না’ (নাসাঈ হা/৪১৭২; ছহীহুল জামে‘ হা/৫২১৮)

প্রশ্ন (৩১/২৩১) : সূরা তওবার ২ নং আয়াতের প্রেক্ষাপট কি? প্রচলিত তিন চিল্লার সাথে সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে কি?

-মো‘আযেযম, সিঙ্গাপুর।

উত্তর : এর সাথে প্রচলিত ‘চিল্লা’ প্রথার কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তোমরা দেশে চার মাসকাল পরিভ্রমণ কর ও জেনে রেখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের লাঞ্ছিত করে থাকেন’ (তওবা ৯/২)। ৯ম হিজরীতে যখন রাসূল (ছাঃ) তাবূক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন তখন এ সূরা নাযিল হয়। এসময় তিনি আবুবকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বে একদল ছাহাবীকে হজ্জ আদায় করার জন্য প্রেরণ করেন এবং মুশরিকদেরকে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন যে, পরের বছর থেকে তারা আর হজ্জ করতে পারবে না। পরক্ষণেই রাসূল (ছাঃ) ঘোষণাকারী হিসেবে আলী (রাঃ)-কে আবুবকর (রাঃ)-এর অনুসরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। মুশরিকদের যাদের সাথে চার মাসের কমে নিরাপত্তা চুক্তি ছিল এবং যাদের সাথে কোন চুক্তি ছিল না এবং যাদের সাথে সময় নির্ধারণ না করে চুক্তি ছিল তাদের সকলকে চার মাস মক্কায় নিরাপদে চলাফেরার অনুমতি প্রদান করা হয়। যা দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যাদের সাথে চার মাসের অধিক সময়ের জন্য নিরাপত্তা চুক্তি ছিল, চতুর্থ আয়াতে তাদের সাথে কৃত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর পরের বছর ১০ম হিজরীতে রাসূল (ছাঃ) মুশরিকমুক্ত মক্কায় বিদায় হজ্জ করেন।

অতএব মুশরিকদেরকে চার মাসের বা চার মাসের অধিক  সময়ের চুক্তির মেয়াদকাল পর্যন্ত মক্কায় নিরাপদে চলাফেরার অনুমতি প্রদানের সাথে বর্তমান যুগের ইলিয়াসী তাবলীগের তিন চিল্লার সম্পর্ক তৈরী করা কুরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা ছাড়া কিছুই নয়।

প্রশ্ন (৩২/২৩২) : কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা নিজেকে বুঝাতে কোন স্থানে ‘আমি’ আবার কোন স্থানে ‘আমরা’ ব্যবহার করেছেন। এরূপ করার কারণ কি?

-মাযহারুল ইসলাম, সিঙ্গাপুর।

উত্তর : এর মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্ব বুঝানো হয়েছে মাত্র। এটা আরবী ভাষার অলংকারের অন্তর্ভুক্ত। অতএব একজন অনুবাদকের কর্তব্য হল, কুরআনের প্রতিটি আয়াত যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবেই অনুবাদ করা। নইলে তাতে কুরআনের ভাব ও ভাষাগত অলংকারের বিপরীত মর্ম প্রকাশ পাবে। যা অবশ্যই গোনাহের কারণ হবে।

প্রশ্ন (৩৩/২৩৩) : রাসূল (ছাঃ) কৃত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ৩০ জন ভন্ডনবীর মধ্যে এ পর্যন্ত কতজনের আবির্ভাব ঘটেছে? এটা কি ত্রিশ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ?

-মুহসিন আলম

 ছোট বনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : এটি ৩০ জনের মধ্যে সীমায়িত নয়। কেননা ভন্ডনবীর সংখ্যা বিভিন্ন হাদীছে বিভিন্ন রকম এসেছে। যেমন- কোন হাদীছে ২৭ জন যাদের মধ্যে ৪ জন হবে নারী (আহমাদ, ছহীহুল জামে‘ হা/৪২৫৮)। কোন হাদীছে ৩০ জন (আবুদাউদ হা/৪৩৩৩)। আবার কোন হাদীছে ৩০ জনের কাছাকাছি বলা হয়েছে (বুখারী হা/৭১২১; মুসলিম হা/১৫৭; মিশকাত হা/৫৪১০)। উল্লেখ্য যে, এ পর্যন্ত ভন্ডনবীর সংখ্যা ৩০ জন ছাড়িয়ে গেছে। অতএব উল্লিখিত হাদীছ সমূহে বর্ণিত ভন্ডনবী বলতে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে যাদের অনুসারী হবে এবং দা‘ওয়াতী কার্যক্রম থাকবে। অর্থাৎ যারা মানুষের মধ্যে শক্তি-সামর্থ্যের দ্বারা প্রভাব বিস্তার করে অনুসারী বানাতে সক্ষম হয়েছে এবং ধোঁকার মাধ্যমে কিছুটা হলেও সন্দেহ সৃষ্টি করতে পেরেছে এবং দা‘ওয়াতের দ্বারা প্রসারও লাভ করেছে। যেমন মুসাইলামা কায্যাব, তুলাইহা আসাদী, মুখতার ইবনু আবী ওবায়েদ আস-ছাক্বাফী, হারেস ও গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী প্রমুখ। কারণ দাবীকারীদের মধ্যে অনেকে পাগল ও রোগীও ছিল (শরহ ফাৎহুল মাজীদ ৩/৪০৩ পৃঃ)

প্রশ্ন (৩৪/২৩৪) : জনৈক আলেম বলেন, তাফসীর পড়া যাবে না। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। বরং কুরআন ও হাদীছ পাঠ করতে হবে। উক্ত বক্তব্য সঠিক কি?

দীদার বখ্শ

 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত আলেমের বক্তব্য সঠিক নয়; বরং তা কুরআন ও ছহীহ হাদীছের সঠিক বুঝ থেকে মানুষকে দূরে রাখার অপকৌশল মাত্র। কারণ কুরআন ও ছহীহ হাদীছ সমূহ সঠিকভাবে বুঝার জন্য তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ পড়তে হবে। আর কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ হচ্ছে তাফসীরগ্রন্থ সমূহ; যদি সে তাফসীর ছহীহ-শুদ্ধ হয়।

প্রশ্ন (৩৫/২৩৫) : জনৈক ব্যক্তি কম মূল্যে বাকীতে জমি ক্রয় করে অধিক মুল্যে অন্যের কাছে তা বিক্রি করে পরে টাকা পরিশোধ করে দেয়। এরূপ ব্যবসায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মাসঊদ রানা, মক্কা, সঊদী আরব।

উত্তর : জমির মূল মালিকের সম্মতিক্রমে প্রশ্নে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ব্যবসা করা শরী‘আত সম্মত। তবে মালিকের সম্মতি না থাকলে অথবা গোপনে এরূপ ব্যবসা করা জায়েয নয়। কেননা রাসূল (ছাঃ) ক্রয়কৃত বস্ত্ত মালিকানায় আসার পূর্বে অন্যের নিকট বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন (আবুদাউদ হা/ ৩৫০৪; তিরমিযী হা/১২৩৪; মিশকাত হা/২৮৯১)। আর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি না হওয়া পর্যন্ত মালিকানায় আসে না। তবে যদি বিক্রেতা জমির মূল্য নির্ধারণ করে দেয় এবং বলে যে, এর চেয়ে বেশী দামে বিক্রি করতে পারলে তা তোমার। তাহলে তা জায়েয হবে।

প্রশ্ন (৩৬/২৩৬) : মহিলাদের কণ্ঠে ইসলামী গান শোনা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-আব্দুল্লাহ আল-মামূন

ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ে শিশুদের কণ্ঠে উত্তম কথা সম্বলিত ইসলামী গান শোনা যাবে (বুখারী হা/৯৮৭, ৩৫২৯; মিশকাত হা/১৪৩২)। তবে প্রাপ্তবয়স্কা মহিলাদের কণ্ঠে ইসলামী গান শোনা বৈধ নয়। মহিলাদের সুন্দর কণ্ঠস্বর পরপুরুষকে শুনাতে নিষেধ করা হয়েছে (আহযাব ৩৩/৩২)। এতে ঐসব মহিলারা পরপুরুষকে নিজেদের দিকে আকৃষ্টকারীণী হিসাবে গণ্য হবে। রাসূল (ছাঃ) অন্যকে আকৃষ্টকারী নারীর কঠোর শাস্তির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন (মুসলিম হা/২১২৮; মিশকাত হা/৩৫২৪ ‘ক্বিছাছ’ অধ্যায়, ২ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৭/২৩৭) : একাধিক আযান শুনা গেলে সবগুলোরই কি উত্তর দিতে হবে, না যে কোন একটি দিলেই চলবে?

-শামসুদ্দীন মুন্সী

গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উত্তর : একাধিক আযানের মধ্যে একটির উত্তর দিলেই যথেষ্ট হবে। তবে যেহেতু আযানের উত্তর দেওয়া একটি ফযীলতপূর্ণ সুন্নাত, সেহেতু একাধিক আযানের উত্তর দিলে সে তার ছওয়াব পাবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা যখন আযান শুনবে তখন মুওয়াযযিন যা বলে তোমরাও তা বল’ (বুখারী হা/৬১১; মুসলিম হা/৩৮৩)। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আযানের উত্তর দিবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসলিম হা/৩৮৫; মিশকাত হা/৬৫৮)

প্রশ্ন (৩৮/২৩৮) : গোসল ফরয হলে গোসলের নিয়তে পুকুরে ডুব দিলেই কি পবিত্রতা অর্জিত হবে? এছাড়া বদ্ধ পুকুরে ফরয গোসল করা যাবে কি?

-ফখরুল ইসলাম

মোহাম্মাদপুর, ঢাকা।

উত্তর : গোসলের নিয়তে পুকুরের পানিতে ডুব দিলে পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে। তবে সুন্নাতী নিয়ম হল, গোসলের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলে ছালাতের ওযূর ন্যায় ওযূ করে, ফরয গোসলের নিয়ত করে মাথায় তিনবার পানি ঢালার পর শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ধুয়ে গোসল করা (বুখারী হা/২৪৮; মিশকাত হা/৪৩৫, ৪৩৬)। বদ্ধ বড় পুকুরে ফরয গোসল করা জায়েয। একদা রাসূল (ছাঃ)-কে ‘বুযা‘আহ’ কূপের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, পানি পবিত্র, কোন বস্ত্তই তাকে অপবিত্র করতে পারে না (আবুদাউদ হা/৬৬; নাসাঈ হা/৩২৬; মিশকাত হা/৪৭৮)

প্রশ্ন (৩৯/২৩৯) : ছালাত ব্যতীত অন্যকোন প্রয়োজনে মসজিদে গমন করলে তাহিইয়াতুল মসজিদ আদায় করতে হবে কি?

-শহীদুল ইসলাম

ইন্দিরা রোড, ঢাকা।

উত্তর : করাই সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন দু’রাক‘আত ছালাত আদায় না করে না বসে’ (বুখারী হা/৪৪৪; মুসলিম হা/৭১৪; মিশকাত হা/৭০৪)। উক্ত ছালাত মসজিদে প্রবেশের সাথে সম্পর্কিত, ছালাতের সময়ের সাথে নয়। এটি আদায়ে নেকী আছে। না করলে গোনাহ নেই।

প্রশ্ন (৪০/২৪০) : সংসার পরিচালনায় সক্ষম স্বামীর অমতে সরকারী চাকুরী করায় স্বামী আমার প্রতি অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে আমার সন্তান হচ্ছে না। এক্ষণে আমার করণীয় কি?

-সেলিনা হোসেন

লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।

উত্তর : স্ত্রী সর্বদা স্বামীর অনুগত থাকবে। স্বামীর বৈধ আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল। এ জন্য যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। আর এ জন্য যে, তারা তাদের (ভরণ-পোষণের জন্য) অর্থ ব্যয় করে, সেমতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগত এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন, লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে’ (নিসা ৩৪)। স্বামীর অবাধ্যতার পরিণতি ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির ছালাত তাদের কর্ণ পার হয় না (অর্থাৎ কবুল হয় না)। তন্মধ্যে একজন হচ্ছে ঐ মহিলা যে স্বামীর অসন্তুষ্টিতে রাত্রি যাপন করে’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/১১২২)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে ফেরেশতাগণ সকাল পর্যন্ত ঐ মহিলার উপর অভিসম্পাত করতে থাকে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩২৪৬)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, যে স্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে, রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করে, স্বীয় লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে’ (আবু নাঈম, মিশকাত হা/৩২৫৪ ‘নারীদের সাথে ব্যবহার’ অনুচ্ছেদ সনদ হাসান)। তবে আল্লাহর অবাধ্যতায় স্বামী, পিতা ও কারুরই কোন আনুগত্য নেই (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৩৬৬৪-৬৫, ৯৬)। এক্ষণে স্বামীর অনুমতি না পেলে চাকুরী ছেড়ে দিতে হবে। একমাত্র আল্লাহর নিকটেই সন্তান চাইতে হবে এবং সাথে সাথে কোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে। সর্বোপরি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। যেকোন বয়সে আল্লাহ সন্তান দিতে পারেন। ইবরাহীম (আঃ)-এর স্ত্রী সারাকে আল্লাহ বৃদ্ধ বয়সে সন্তান দিয়েছিলেন। অন্যদিকে রাসূল (ছাঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) সন্তানের মুখ দেখেননি। অতএব সন্তান না হলে আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর স্বামী-স্ত্রী উভয়কে খুশী থাকতে হবে।

 

 

HTML Comment Box is loading comments...