সংগঠন সংবাদ

তাবলীগী ইজতেমা ২০১৪

রাজশাহী ২৮ ফেব্রুয়ারী ও ১ মার্চ বৃহস্পতি ও শুক্রবার : ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর দু’দিনব্যাপী ২৪তম বার্ষিক তাবলীগী ইজতেমা রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া ট্রাক টার্মিনাল ময়দানে যথাসময়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফালিল্লা-হিল হাম্দ। দেশব্যাপী নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকায় ১ম দিন সকাল ১০-টায় পূর্ব ঘোষিত সময়ে প্যান্ডেলের পরিবর্তে দারুল হাদীছ বিশ্ববিদ্যালয় (প্রাঃ) জামে মসজিদে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর হেফয বিভাগের শিক্ষক হাফেয তোফাযযল হোসায়েন। স্বাগত ভাষণ পেশ করেন তাবলীগী ইজতেমা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক ও ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ।

অতঃপর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী ইজতেমায় পূর্বনির্ধারিত বিষয়বস্ত্ত সমূহের উপর বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম (মেহেরপুর), সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম (যশোর), প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (কুমিল্লা), প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (গোপালগঞ্জ), ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম (খুলনা), মাওলানা ছফিউল্লাহ (কুমিল্লা), ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন (রাজশাহী), সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন (কুমিল্লা) ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক আব্দুল হালীম (রাজশাহী), আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও দারুল ইফতা-র সদস্য আব্দুল খালেক সালাফী (নওগাঁ), সাবেক অধ্যক্ষ ও দারুল ইফতা-র সদস্য মাওলানা মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), শিক্ষক মাওলানা রুস্তম আলী (রাজশাহী), ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল (পাবনা), বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব (ঢাকা), তাবলীগ সম্পাদক মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম (কুমিল্লা), সাবেক তাবলীগ সম্পাদক হাফেয শামসুর রহমান আযাদী (সাতক্ষীরা), সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান (সাতক্ষীরা), সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন (সাতক্ষীরা), যশোর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকবর হোসাইন (যশোর), মোহনপুর উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা দুর্রুল হুদা (রাজশাহী), কেন্দ্রীয় মুবাল্লিগ মাওলানা শরীফুল ইসলাম (রাজশাহী), মাওলানা আবু বকর (রাজশাহী) প্রমুখ।

এবারের তাবলীগী ইজতেমায় মুছল্লীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেক বেশী। পুরুষ ও মহিলা উভয় প্যান্ডেলই পূর্বের তুলনায় অনেক বড় করা হয়েছিল এবং ট্রাক টার্মিনালের প্রায় সম্পূর্ণটাই সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। বাইরের যেলাগুলি থেকে সর্বমোট ১৮৬টি রিজার্ভ বাস ছাড়াও ঢাকা থেকে ট্রেনের ৩টি বগি রিজার্ভ সহ বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় সব যেলা থেকেই ট্রেন, বাস, মাইক্রো, ভটভটি, সাইকেল, ইজিবাইক ইত্যাদি বিভিন্ন যানবাহন যোগে হাযার হাযার মুছল্লীগণ ইজতেমায় শরীক হন।

আমীরে জামা‘আতের উদ্বোধনী ভাষণ :

উদ্বোধনী ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়তে চাই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের আশা করি। তিনি সূরা মায়েদাহ ৩৫ আয়াতের ব্যাখ্যা করে উপস্থিত কর্মী ও সুধীগণের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাই আল্লাহকে ভয় করুন এবং স্ব স্ব নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য তালাশ করুন। অতঃপর তিনি ছহীহ মুসলিমের ২৬৯৯নং হাদীছ উল্লেখ করে বলেন, (১) কোন ব্যক্তি কোন মুসলমানের পার্থিব কষ্ট দূর করলে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করে দিবেন। এটা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অসীলা। (২) যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ভাইয়ের কোন কঠিন কাজকে সহজ করে দিবে আল্লাহ পাক দুনিয়া ও আখিরাতে তার একটি কঠিন বিপদকে সহজ করে দিবেন। (৩) কোন মুসলমান কোন মুসলমানের দোষ ঢেকে দিলে আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার একটি দোষ ঢেকে দিবেন। (৪) আল্লাহ বান্দার সাহায্যে ততক্ষণ থাকেন যতক্ষণ সে তার কোন ভাইয়ের সাহায্যে থাকে। (৫) যে ব্যক্তি দ্বীনী ইলম অর্জনের জন্য পথ চলে, আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। (৬) একদল মানুষ যখন আল্লাহ্্র কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে ও তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের উপরে প্রশান্তি নাযিল হয় ও তাদেরকে আল্লাহর রহমত ঢেকে রাখে। ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। কিন্তু যাকে তার আমল পশ্চাদগামী করে, তার বংশমর্যাদা তাকে অগ্রগামী করতে পারে না’।

তিনি সবাইকে স্ব স্ব জীবনের কৃত গোনাহ সমূহ থেকে তওবা করার আহবান জানান। সাথে সাথে সবাইকে আল্লাহর সাহায্য ও তার নিকটে হেদায়াত প্রার্থনা করার উপদেশ দেন। পরিশেষে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা এবং আল্লাহর রহমত কামনা করে দু’দিন ব্যাপী তাবলীগী ইজতেমার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আলহামদুলিল্লাহ উদ্বোধনী ভাষণের পর থেকেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং পরবর্তী সকল কার্যক্রম ইজতেমার মূল প্যান্ডেল থেকে পরিচালিত হয়।

দু’দিনব্যাপী তাবলীগী ইজতেমায় বিভিন্ন পর্যায়ে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন প্রমুখ। তাবলীগী ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেয লুৎফর রহমান, হাফেয তোফাযযল হোসাইন, হাফেয আবদুল আলীম, আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির ও হাফেয ছানাউল্লাহ (বগুড়া)। ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর প্রধান মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম (জয়পুরহাট), যশোর যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম, দিনাজপুর- পশ্চিম যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি আব্দুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ ও আব্দুল আলীম প্রমুখ।

১ম দিনের ভাষণ :

প্রথম দিন বাদ এশা রাত ৯-টায় সামাজিক ‘দ্বন্দ্বের কারণ সমূহ’ শীর্ষক ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা ইউসুফের ১০৮ আয়াত পেশ করে বলেন, এই আয়াতের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের সফলতার জন্য মৌলিক পাঁচটি বিষয় নিহিত রয়েছে- ১. দাওয়াত হবে স্রেফ আল্লাহর পথে। ২. পথ হবে স্রেফ রাসূল (ছাঃ)-এর পথ। ৩. দৃঢ় বিশ্বাস, জাগ্রত জ্ঞান ও দলীলসহ দাওয়াত হতে হবে। ৪. নিজে দাওয়াত দিবেন এবং সাথে একটি অনুসারী দল থাকতে হবে। ৫. সকল প্রকার শিরকের আবিলতা হ’তে মুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে মুসলমান উক্ত পথ হারিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক যুগে মুসলমানদের পথভ্রষ্টতার কারণ ছিল চারটি। ১. ইহুদী-নাছারাদের প্ররোচনা ২. রাজনৈতিক স্বার্থদ্বন্দ্ব ৩. বিজাতীয় প্রথা ও দর্শন চিন্তার অনুপ্রবেশ ৪. শরী‘আতের ব্যাখ্যাগত মতভেদ। আজও সেই কারণগুলি বিদ্যমান আছে। এক্ষণে আমাদের করণীয় হবে উক্ত কারণগুলি দূর করা এবং আমর বিন মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের মৌলিক পথে ফিরে যাওয়া।

২য় দিনের ভাষণ :

ইজতেমার ২য় দিন বাদ এশা রাত ৯-টায় ‘দ্বন্দ্বমুখর সমাজে মুমিনের করণীয়’ বিষয়ে প্রদত্ত ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা আনফালের ৪৫ ও ৪৬ আয়াত পেশ করে বলেন, এখানে পাঁচটি বিষয় বলা হয়েছে- ১. বাতিলের বিরুদ্ধে হকের উপরে দৃঢ় থাকতে হবে। ২. আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ করতে হবে। ৩. সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে হবে। ৪. আপোষে ঝগড়া করা যাবে না। (৫) সমস্যা হ’লে ধৈর্যের সাথে তা মোকাবিলা করতে হবে, নইলে শক্তি উবে যাবে।

তিনি বলেন, হক প্রতিষ্ঠার উপায় হ’ল ৬টি : ১. হকের উপরে দৃঢ় থাকা এবং যে কোন বিপদের জন্য সদা প্রস্ত্তত থাকা, ২. আল্লাহর উপরে পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হওয়া, ৩. কর্মীদের পক্ষ হ’তে নেতৃবৃন্দকে আল্লাহর পথে দৃঢ় থাকার জন্য উৎসাহিত করা, ৪. ছবর ও ছালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। ৫. প্রত্যেককে স্ব স্ব স্তরে সাধ্যমত আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করা। ৬. জাতিকে জাগিয়ে তোলা।

তিনি বলেন, কর্মীদের উদ্দেশ্যে আমাদের উপদেশ হচ্ছে- ১. জামা‘আতবদ্ধ হৌন, বিভক্ত হবেন না। ২. প্রতিটি গৃহকে ইসলামের দুর্গ হিসাবে গড়ে তুলুন। আপনার গৃহে শিরকী-বিদ‘আতী কোন কাজ-কর্ম এবং অনৈসলামী কোন সাহিত্য যেন কিছুতেই ঢুকতে না পারে। ৩. নারী ও পুরুষ স্ব স্ব পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করুন। ৪. প্রত্যেকে সাধ্যমত জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন। ৫. তরুণ ও যুবকেরা যাবতীয় বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। পরিশেষে তিনি দ্বীনের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

ইজতেমার অন্যান্য রিপোর্ট

জুম‘আর খুৎবা :

ইজতেমার ১ম দিন শুক্রবার ইজতেমা প্যান্ডেলে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত এবং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। সেক্রেটারী জেনারেল ‘জামা‘আতী যিন্দেগী’ বিষয়ে এবং আমীরে জামা‘আত তাঁর খুৎবায় আখেরাতের সফলতা লাভের জন্য নিয়তের খুলূছিয়াতের উপর আলোকপাত করেন। এ সময় পুরো ময়দানব্যাপী সুবিশাল প্যান্ডেল ছিল কানায় কানায় ভরা।

যুবসমাবেশ :

ইজতেমার ২য় দিন বেলা সাড়ে ১০-টায় প্রস্তাবিত দারুলহাদীছ বিশ্ববিদ্যালয় (প্রাঃ) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে পৃথক প্যান্ডেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে ‘যুবসমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, সমাজ পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল, তা পূরণ করতে গেলে সর্বাগ্রে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। কেননা আল্লাহ ঐ জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। তিনি সবাইকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্ব স্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহবান জানান।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর নযরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকবার হোসাইন, সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ তাসলীম সরকার, সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক আব্দুল হালীম, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, ‘যুবসংঘ’ ঢাকা যেলা সভাপতি হুমায়ুন কবীর, কুমিল্লা যেলা সভাপতি জামীলুর রহমান, বগুড়া যেলা সভাপতি আব্দুর রাযযাক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মেছবাহুল ইসলাম, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম। বিপুল সংখ্যক যুবক ও সুধীমন্ডলী এই প্রাণবন্ত সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্ব :

গত বছরের ন্যায় এবারও ইজতেমায় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তরে সুযোগ রাখা হয়। ২য় দিন সকাল সাড়ে ৯-টা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী এই আকর্ষণীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক-এর সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মুবাল্লেগ মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম।

হাফেয ছাত্রদের সনদ প্রদান :

আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর হেফয বিভাগের ৫জন ছাত্র এ বৎসর পবিত্র কুরআন হেফয সম্পন্ন করেছে। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ এশা তাদের পাঞ্জাবী-পাজামা, টুপি ও সনদ প্রদান করেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যাল আব্দুল খালেক সালাফী। সনদপ্রাপ্ত ছাত্ররা হ’ল : ১. নাঈমুল হাসান (নওগাঁ) ২. রায়হানুদ্দীন (দিনাজপুর) ৩. কুরাইশ (বগুড়া) ৪. মাহদী হাসান (দিনাজপুর) ৫. যায়েদ হোসাইন (রাজশাহী)।

জাতীয় গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ :

বিগত বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে নির্বাচিত বই ছিল ‘স্মারকগ্রন্থ’ ও ‘তিনটি মতবাদ’। এতে শীর্ষস্থান অধিকারী তিনজন হ’ল যথাক্রমে আব্দুল্লাহ আল-মাহমূদ (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), আসাদুল্লাহ আল-গালিব (কুষ্টিয়া), আতাউর রহমান (রাজশাহী)। এছাড়া ২০জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ও  ‘আন্দোলন’-এর সেক্রেটারী জেনারেল।

বিদায়ী ভাষণ ও দো‘আ :

২য় দিন শনিবার গভীর রাতে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত ইজতেমায় আগত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বিদায়ী ভাষণ দেন এবং তিনি সবাইকে ছহী-সালামতে স্ব স্ব গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন। বিদায়কালে উপস্থিত মুছল্লীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আবেগভরা মনে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের নিকট থেকে বিদায়ী দো‘আ নিয়ে যান। উল্লেখ্য যে, হঠাৎ বৃষ্টি নামায় বাদ ফজরের স্থলে রাত সাড়ে ৩-টায় ইজতেমা শেষ হয়।

সাইকেল আরোহী : তাবলীগী ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য সুদূর সাতক্ষীরা (অন্যূন ৩২৫ কি.মি. দূর) থেকে সাইকেল যোগে রাজশাহীর নওদাপাড়ায় পৌঁছেন তালা উপযেলাধীন গড়েরকান্দা গ্রামের আব্দুল বারী (৫৩)। সাতক্ষীরা থেকে রাজশাহী পৌঁছতে তার সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এবার নিয়ে তিনি ১২ বছর যাবৎ বাইসাইকেল যোগে তাবলীগী ইজতেমায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত :

ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার বাদ আছর ইজতেমা ময়দানের পার্শ্ববর্তী সড়কে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার রতনপুর মধ্যকান্দি গ্রাম থেকে আগত মুহাম্মাদ সুরূজ মিয়া (৫৫)-কে মটর সাইকেল ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। সাথে সাথে তাকে পার্শ্ববর্তী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার ক্ষতস্থানে ১২টি সেলাই দেওয়া হয়। অতঃপর এম্বুলেন্সযোগে তাকে নিজ বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে অনেকটা সুস্থ।

[আমরা আল্লাহর নিকট তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। -সম্পাদক]

ইজতেমায় গৃহীত প্রস্তাব সমূহ :

২য় দিন রাতে আমীরে জামা‘আতের ভাষণের পরেই সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম সরকারের নিকট নিম্নোক্ত দাবী সমূহ পেশ করেন-

১। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সূদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

২। দল ও প্রার্থীবিহীন নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৩। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাসে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ কর্তৃক প্রকাশিত/অনুমোদিত বই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৪। মাদরাসার কমিটি গঠনের সময় সভাপতি হিসাবে স্থানীয় এমপি বা তার প্রতিনিধির পরিবর্তে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী/প্রতিষ্ঠাতা/পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধানকে সভাপতি মনোনয়ন দিতে হবে।

৫। মাদরাসায় ছবি টাঙ্গানো এবং মাদরাসায় বিভিন্ন দিবস পালন ও রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন বাধ্যতামূলক করা যাবে না।

৬। সহ-শিক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা পৃথক শিফটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৭। সিলেবাসে আরবী ও ইসলামী বিষয় সমূহের বাইরে অতিরিক্ত সিলেবাসের বোঝা হরাস করতে হবে। বিশেষ করে ২০০ নম্বরের সৃজনশীল ইংরেজী বিষয় বাধ্যতামূলক বিধান বাতিল করতে হবে।

৮। সাধারণ শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ৩ থেকে ৮ পর্যন্ত দাবীগুলি গত বছর ২০.৬.২০১৩ইং তারিখে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর অফিসে পৌঁছানো হয়েছে।

ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে চারদিনের সফরে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

গত ৫ই মার্চ বুধবার হ’তে ৮ই মার্চ শনিবার পর্যন্ত চার দিন ব্যাপী সফরে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ যেলার বিভিন্ন এলাকা সফর করেন। এ সময়ে তিনি যেলা সম্মেলন, সুধী সমাবেশ, দায়িত্বশীল বৈঠক সহ একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। বিস্তারিত রিপোর্ট নিম্নরূপ :   

৫ মার্চ বুধবার :

দায়িত্বশীল বৈঠক : বংশাল, ঢাকা ৫ মার্চ বুধবার : রাজশাহী থেকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইট যোগে বিকাল সাড়ে ৪-টায় আমীরে জামা‘আত ঢাকা পৌঁছেন। ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’ -এর অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ বিমানবন্দর থেকে আমীরে জামা‘আতকে রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে যান। অতঃপর বাদ মাগরিব তিনি পুরান ঢাকার বংশালস্থ যেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল বৈঠকে যোগদান করেন। এ সময়ে তিনি যেলার সাংগঠনিক অগ্রগতির খোঁজ-খবর নেন এবং ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে জামা‘আতী যিন্দেগীর আবশ্যকতা তুলে ধরে স্রেফ পরকালীন মুক্তির স্বার্থে সকলকে দায়িত্বসচেতন হওয়ার উপদেশ দেন। তিনি যেলা অফিস ও শাখা সমূহে নিয়মিত সাপ্তাহিক তা‘লীমী বৈঠক চালু করার আহবান জানান।

৬ মার্চ বৃহস্পতিবার :

রাজনৈতিক স্বার্থদ্বন্দ্ব ভুলে সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসুন!

-নরসিংদী যেলা সম্মেলনে আমীরে জামা‘আত

নরসিংদী ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার : অদ্য বাদ আছর ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ নরসিংদী যেলার উদ্যোগে সদর থানাধীন দক্ষিণ শিলমান্দী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত  যেলা সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব দেশবাসীর প্রতি উপরোক্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, সমাজের গতানুগতিক ধারার সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের সঠিক রূপ তুলে ধরা সম্ভব নয়। বরং অধঃপতনের এই স্রোতকে প্রতিরোধ ও পরিবর্তনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সবার আগে নিজেদের হৃদয়জগতকে পার্থিব স্বার্থদ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত করে স্রেফ আল্লাহর জন্য খালি করে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ কোন একটি দলের জন্য নয়, বরং সকল মানুষকে জান্নাতের পথ দেখানোর জন্য ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে।

যেলা ‘আন্দোলন’ -এর সভাপতি কাযী মাওলানা আমীনুদ্দীন -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন। সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন, আল-মারকাযুল ইসলামী আসসালাফী নওদাপাড়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর তাবলীগ সম্পাদক মাওলানা শফীকুল ইসলাম, নরসিংদী যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা ইকবাল কবীর, তাবলীগ সম্পাদক আব্দল্লাহ আল-মামূন, যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ শাহীন, অর্থ সম্পাদক হাফেয শরীফ প্রমুখ দায়িত্বশীলগণ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার, অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ফরীদ মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও যেলা ‘আন্দোলন’-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক জালালুদ্দীন। সম্মেলনে নরসিংদী যেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, গাযীপুর যেলা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সুধী যোগদান করেন। প্যান্ডেল ছাড়িয়ে খোলা আকাশের নীচে বসে-দাঁড়িয়ে ও পার্শ্ববর্তী রাস্তায় এবং বাড়ীর ছাদে অগণিত মানুষকে বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।

দায়িত্বশীল বৈঠক : আমীরে জামা‘আতের বক্তব্যের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী জনাব নূরুল ইসলাম ছাহেবের বাসায় যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর দায়িত্বশীলদের সমন্বয়ে এক দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে আমীরে জামা‘আত যেলা সংগঠনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং যেলায় তা‘লীমী বৈঠক, মাসিক পরিকল্পনা ও তাবলীগী সফর, নিয়মিত এয়ানত আদায়, শাখা ও এলাকা গঠন, টার্গেট ভিত্তিক কর্মী তৈরী ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন। তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর নিকটে জবাবদিহিতার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে সকলকে নিষ্ঠার সাথে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। 

৭ মার্চ শুক্রবার :

সুধী সমাবেশ : মাধবদী, নরসিংদী : নরসিংদী যেলা সম্মেলন শেষে আমীরে জামা‘আত ও তাঁর সফরসঙ্গীগণ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মাহফূযুল ইসলামের বাগহাটার বাসায় রাত্রি যাপন করেন। অতঃপর সেখান থেকে তিনি পার্শ্ববর্তী মাধবদী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ‘চিকেন হার্ট চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে’র স্বত্বাধিকারী জনাব হাজী আব্দুল বাকের ছাহেবের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সকাল ৮-টায় মাধবদী বাজারে তাঁর রেষ্টুরেন্টে পৌঁছেন ও তার আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। অতঃপর স্থানীয় আহলেহাদীছ ব্যবসায়ীদের নিয়ে মাধবদী বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদের দোতলায় অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সুধী সমাবেশে যোগদান করেন। মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সমবেত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে হালাল ব্যবসার গুরুত্ব এবং আহলেহাদীছ আন্দোলনের অর্থনৈতিক সংস্কার নীতি ব্যাখ্যা করে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ পেশ করেন। এসময়ে তিনি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

জুম‘আর খুৎবা : চরপাড়া, কাঞ্চন, নারায়ণগঞ্জ : সকালে মাধবদী সুধী সমাবেশ শেষ করে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে নরসিংদী শহর ঘুরে নারায়ণগঞ্জ যেলার রূপগঞ্জ থানাধীন চরপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এসময় তাঁদেরকে বিদায় দেন নরীসংদী যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা কাযী আমীনুদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফূযুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক হাফেয ওয়াহীদুয্যামান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শরীফুদ্দীন ভূঁইয়া। অতঃপর চরপাড়া কেন্দ্রীয় আহলেহাদীছ জামে মসজিদে প্রদত্ত জুম‘আর খুৎবায় তিনি সকলকে আদর্শিকভাবে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, আজ আহলেহাদীছ সমাজেও শিরক ও বিদ‘আত প্রবেশ করেছে। অথচ দলাদলি করতে গিয়ে আমরা এসবকে হযম করছি। বলতেকি সমাজে পুঞ্জীভূত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনাচার সমূহের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রচেষ্টা শুরু করার কারণেই প্রথমে ঘরে অতঃপর ঘরে ও বাইরে আমাদেরকে বিভিন্ন গীবত-তোহমত এবং অবশেষে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের সঙ্গে আপোষ করে দলাদলি করা সহজ। কিন্তু সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে দলবদ্ধ প্রচেষ্টা চালানো খুবই কঠিন কাজ। তিনি বলেন, ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীন সমাজ সংস্কারের কাজ করেছেন। আমরাও সে পথে নেমেছি। তাই এপথে দুনিয়ায় কষ্ট হ’লেও আখেরাতে রয়েছে অনন্ত সুখের জান্নাত।

খুৎবা ও ছালাত শেষে আমীরে জামা‘আতের সফরসঙ্গী ড. সাখাওয়াত হোসাইন সমবেত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণে জামা‘আতী যিন্দেগীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। অতঃপর  স্থানীয় হাজী আবুল হাশেমকে সভাপতি ও হাজী মিলন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক, জনাব মোমিনুল ইসলাম মাষ্টারকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেওয়ান আবুবকরকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করে কাঞ্চন এলাকা ‘আন্দোলন’-এর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর সদস্যগণ মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের নিকট আনুগত্যের বায়‘আত গ্রহণ করেন। এ সময়ে ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব তাসলীম সরকার, অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, তাবলীগ সম্পাদক শফীকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ফরীদ মিয়া, ঢাকা যেলা ‘যুবসংঘে’র সাবেক সভাপতি ছফিউল্লাহ খান প্রমুখ দায়িত্বশীলবৃন্দসহ বিশিষ্ট মুছল্লীগণ উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদের মুতাওয়াল্লী হাজী মিলন মিয়ার বাসায় দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন ও হালকা বিশ্রাম নেন।

সুধী সমাবেশ : পূর্বাচল উপশহর, ঢাকা : আমীরে জামা‘আতের আগমন উপলক্ষ্যে ৭ই মার্চ শুক্রবার বেলা ৩-টায় নতুন ঢাকার পূর্বাচল উপশহর এলাকা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র উদ্যোগে স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে এক সুধী সমাবেশ-এর আয়োজন করা হয়। চরপাড়ায় জুম‘আর ছালাত ও বিশ্রাম শেষে বাদ আছর আমীরে জামা‘আত উক্ত সমাবেশে যোগদান করেন। পূর্বাচল এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি জনাব এম.এ.কেরামত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, আহলেহাদীছ আন্দোলনের ঢেউ যে আপামর জনসাধারণের হৃদয়ের গহীনে স্থান করে নিয়েছে, পূর্বাচলের এই বসতিহীন এলাকায় এত বড় জনসমাবেশ তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আপনারা আজকের পুরানো বাসিন্দারা আগামী দিনে এ অঞ্চলে আগত নতুন বাসিন্দাদের কাছে ছহীহ আক্বীদার দাওয়াত তুলে ধরবেন এবং সেদিন পূর্বাচল আহলেহাদীছ অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত হবে বলে আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ও ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি জনাব মোশাররফ হোসাইন, অর্থ সম্পাদক কাযী হারূনুর রশীদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরীদ মিঁয়া, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়ার শিক্ষক জনাব শামসুল আলম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ ও অন্যান্যগণ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্বাচল এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি জনাব ছালাহুদ্দীন মেম্বার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, এলাকা ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র সভাপতি মাহফূযুর রহমান। অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সুধী এবং বহু মা-বোন যোগদান করেন।

ইসলামী সম্মেলন : কাঞ্চন, নারায়ণগঞ্জ : পূর্বাচলে সুধী সমাবেশ শেষ করে বাদ মাগরিব আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যেলাধীন কাঞ্চন চৌধুরীপাড়া ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক ইসলামী সম্মেলন ব্যবস্থাপনা কমিটির তাৎক্ষণিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সেখানে যোগদান করেন। এখানে তিনি আহলেহাদীছ যুবসংঘের সাবেক শাখা সভাপতি যায়েদ মিঁয়ার বাড়ীতে রাত্রির খাবার গ্রহণ করেন। অতঃপর ইসলামী সম্মেলনে যোগদান করেন। উক্ত সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বিভিন্ন দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অভ্রান্ত বিধান নিঃশর্তভাবে মেনে নেয়ার ভিত্তিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, তুচ্ছ কারণে আজ ভাই-ভাইয়ে রেষারেষি সৃষ্টি হচ্ছে এবং সামাজিক ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে। অথচ পরকালীন মুক্তির স্বার্থে আমাদেরকে অবশ্যই এসব থেকে তওবা করে ফিরে আসা উচিত। অন্যান্যের মধ্যে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুযাফফর বিন মুহসিন ও ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন  ইসমাঈল প্রমুখ।

সম্মেলনে বক্তব্য শেষ করে রাত ১১-টায় রওয়ানা হয়ে ১-টার দিকে আমীরে জামা‘আত ঢাকায় হোটেলে পৌঁছেন এবং পরদিন বিকালে বিমান যোগে তিনি রাজশাহী ফিরে আসেন। ফালিল্লা-হিল হাম্দ

অন্যান্য খবর :

(১) মাদরাসা পরিদর্শন : ৬ই মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে নরসিংদী যাওয়ার পথে পূর্বাচল নিউ টাউনের ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘মাদরাসাতুল হাদীছ ও দারুল আইতাম’ পরিদর্শনের জন্য কিছু সময় যাত্রা বিরতি করেন। তিনি সেখানে যোহর ও আছর ছালাত জমা ও ক্বছর সহ আদায় করেন। অতঃপর ইয়াতীম ছাত্রদের পড়াশুনা সহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।

(২) অসুস্থ কর্মীর পাশে আমীরে জামা‘আত : পূর্বাচল মাদরাসা পরিদর্শন শেষে রওয়ানা হয়ে আমীরে জামা‘আত স্বীয় সফরসঙ্গীদের নিয়ে নরসিংদী যেলার সদর থানাধীন চৈতাব আহলেহাদীছ জামে মসজিদে পৌঁছেন এবং রাজশাহীতে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বই বিক্রয় বিভাগে’র ম্যানেজার জনাব আব্দুল বারীর আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে শায়িত আব্দুল বারীর পিতা-মাতা ও অন্যান্যদের কবর যিয়ারত করেন। অতঃপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারী’১৪ রাজশাহীর কেন্দ্রীয় তাবলীগী ইজতেমায় যাওয়ার জন্য গাড়ীতে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে শয্যাশায়ী পার্শ্ববর্তী স্বর্পনিগৈড় শাখা ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র সভাপতি যহীরুল ইসলামকে তার বাড়ীতে দেখতে যান। আমীরে জামা‘আত তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন ও তার সুস্থতার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করেন।

(৩) ৭ই মার্চ শুক্রবার সকালে তিনি শিলমান্দী ইউনিয়ন কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান বাগহাটা গ্রামের মরহূম বুলবুল আযীয ও ফারূক আযীয-এর বৃদ্ধা মা বর্তমানে শয্যাশায়ী মোমেনা বেগম (৯০)-এর বাড়ীতে যান ও তার সুস্থতার জন্য দো‘আ করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের অত্যন্ত ভক্ত ও গুণাগ্রাহী এবং ২০০৫-য়ে গ্রেফতারের সময় থেকে তিনি কেঁদে বুক ভাসিয়ে তাঁর মুক্তির জন্য আকুলভাবে দো‘আ করতেন।

(৪) ৭ই মার্চ নরসিংদী থেকে নারায়ণগঞ্জ যেলার রূপগঞ্জ উপযেলাধীন চরপাড়া যাওয়ার পথে রাণীপুরায় ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব তাসলীম সরকারের শ্বশুরবাড়ীতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। অতঃপর তার শ্যালক গত বছর ২৪শে ফেব্রুয়ারী’১৩ তারিখে মটর সাইকেল এক্সিডেন্টে নিহত আশরাফুল হক ভূঁইয়া (২৭)-এর কবর সহ অন্যান্যদের কবরস্থান যেয়ারত করেন ও তার মাকে সান্ত্বনা দেন। পরে তার রেখে যাওয়া শিশুপুত্রকে দো‘আ করেন। এ সময়ে তিনি রাণীপুরা হাজী আবু তাহের ভূঁইয়া মহিলা মাদরাসার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার ছবি টাঙ্গানো দেখে তা নামাতে নির্দেশ দেন এবং সাথে সাথে একজন শিক্ষক তা নামিয়ে ফেলেন।

(৫) একই দিন রাতে নারায়ণগঞ্জ যেলার কাঞ্চন চৌধুরীপাড়া ইসলামী সম্মেলনে যাওয়ার পথে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত চৌধুরীপাড়া বাজারে ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র ছেলেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরী ও পাঠাগার পরিদর্শন করেন। তিনি তাদেরকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেন ও দো‘আ করেন। তিনি তাদেরকে পাঠাগারের নাম ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন লাইব্রেরী ও পাঠাগার’ রাখার পরামর্শ দেন।

(৬) ৮ই মার্চ শনিবার সকালে হোটেল থেকে বিমান বন্দর যাওয়ার পথে তিনি প্রথমে গুলশান ও পরে জোয়ারসাহারায় যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে তিনি ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসাইনের অফিসে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। অতঃপর যোহরের ছালাত শেষে তিনি মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের সাথে বিমান বন্দর গমন করেন এবং তিনি ও ড. সাখাওয়াত হোসাইন সেখানে ২-১০মিঃ-এর ফ্লাইটে তাঁকে বিদায় জানান।

মারকায সংবাদ

ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৩-এর ফলাফলের ভিত্তিতে এ বছর আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ১৯ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করেছে। এদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৭ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ১২ জন। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্তরা হল- ১. মামূনুর রশীদ (রাজশাহী), ২. আব্দুল কাদের (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) ৩. আইয়ূব হোসেন (রাজশাহী) ৪. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) ৫. উমামা বিনতে তারিক (পাবনা) ৬. মুস্তাকীমা মারূফা মুন (দিনাজপুর) ৭. মায়মূনা আক্তার (বগুড়া)। উল্লেখ্য, রাজশাহী বোয়ালিয়া থানায় প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জনই আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর ছাত্র-ছাত্রী।

মৃত্যু সংবাদ

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর শুভাকাঙ্খী ও প্রবীণ মুরববী নারায়ণগঞ্জ যেলার আড়াই হাযার থানাধীন নোয়াগাঁও গ্রামের মাওলানা আব্দুল মুহাইমিন খান (৯৪) গত ৯ ফেব্রুয়ারী ভোর ৫-টায় নিজ বাড়ীতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লা-হে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন)। পরদিন বিকাল ৪-টায় নিজ গ্রামে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার ছালাতে ইমামতি করেন তাঁর পুত্র ফযল বারী খান। নরসিংদী যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর দায়িত্বশীল বৃন্দ সহ বিপুল সংখ্যক মুছল্লী তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ২ মেয়ে ও বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 [আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।- সম্পাদক]