মুসলিম জাহান

ভ্যালেন্টাইন্স ডে মুসলিম মূল্যবোধের প্রতি হুমকি

 -মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার মুসলিম মূল্যবোধ পর্যবেক্ষণকারী সরকারী সংস্থা ‘জাকিম’ বলেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইনস ডে মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি হুমকি স্বরূপ। মাদকাসক্তি থেকে গর্ভপাত পর্যন্ত সব ধরনের অপকর্মের জন্য দায়ী এই ভ্যালেন্টাইন্স ডে। এ ধরনের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন প্রতারণা, মাদকাসক্তি থেকে মানসিক বৈকল্য, গর্ভপাত ও ভ্রূণ হত্যা এবং অন্যান্য নেতিবাচক নৈতিক রোগের সৃষ্টি হয়, যা যুব সমাজের মধ্যে বিপর্যয় ও নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে।’ এ সংস্থা নিয়মিত পাপাচার ও উচ্ছৃঙ্খলায় প্ররোচনাদায়ক হিসাবে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র নিন্দা করে আসছে। মালয়েশিয়ার দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষের শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি মুসলমান। মালয়েশিয়ার পরহেযগার মুসলমানেরা সম্প্রতি দেশটির ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণে বেশ সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। ২০১১ সালে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে প্রায় ১০০ মুসলমানকে আটক করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নেকাব নিষিদ্ধের চেষ্টা ব্যর্থ

জনসমক্ষে নেকাব নিষিদ্ধ করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপিত একটি বিল রুখে দিয়েছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। গত শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বিলটি উত্থাপিত হ’লে লেবার দলীয় বাঙালি এমপি রুশনারা আলীসহ লেবার এমপিরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক, কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ফিলিপ হলোবোর্ন জনসমক্ষে নেকাব পরিধানকে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করতে বিলটি এনেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিলটির ওপর দ্বিতীয় দফা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এবং মুসলিম নারী এমপি রুশনারা আলী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই বিলটি ছিল একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল। নারীদের নেকাব পরিধানকে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলেন কনজারভেটিভ এমপি। এটা তাদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিনি বলেন, যারা নেকাব পরিধান করতে চান এবং যারা পরিধান করতে চান না উভয়ের অধিকার রক্ষায় আমি সংগ্রাম করে যাব। শ্যাডো জাস্টিস মিনিস্টার সাদেক খান তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, অনেক নারী নেকাব বা ভেইল পরিধান করেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত পসন্দের ব্যাপার। তিনি এই বিষয়টিকে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করার তীব্র বিরোধী।

তিনি বলেন, কেউ নেকাব পরিধান করল কী করল না সে বিষয়টি ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তিনি সকল প্রকার বৈষম্য রোধে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, আধুনিক ব্রিটিশ সমাজে বৈষম্যের কোন স্থান নেই।

[জান্নাতে আদম ও হাওয়াকে নগ্ন করেছিল শয়তান। এ যুগের নারীকে নগ্ন করতে প্রধান ভূমিকা রাখে মানবরূপী শয়তান। অতএব এদের থেকে সাবধান! (স.স.)]

আরব আমিরাতের স্কুলে পাঠ্য বইয়ের বদলে আইপ্যাড!

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় ৭৫ ভাগ স্কুলে (ইন্টারন্যাশনাল/প্রাইভেট) পাঠ্য বইয়ের বদলে আইপ্যাড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটির এক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ছাত্র-ছাত্রীরা গাদা গাদা বই বহন করে স্কুলে আসে। এটি তাদের কাছে বোঝা স্বরূপ। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত এক ধরনের চাপের তৈরী হয়। চাপ কমানোর জন্যই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাছাড়া এটি তাদের শিক্ষার্থীদের নতুন প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করবে। সাহারা কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক আল-শালফান জানান, ১৫ হাযারের বেশি শিক্ষার্থী ডিজিটাল এই পদ্ধতির আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে পড়াশোনায় ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দ পাবে। তিনি জানান, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি ও ক্লাসরুমেরও পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে কিছু সঊদী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে পাঠ্যবই পরিবর্তনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুরসীকে অপসারণের পর মিসরে নিহত ৬ হাযার

মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসীকে অবৈধভাবে অপসারণের পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৬ হাযারের অধিক মুরসী সমর্থক। গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ২০ হাযার। রাবেয়া স্কয়ার, আল-নাহযা স্কয়ার, রামসিস স্কয়ারসহ দেশজুড়ে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এরা নিহত হন। এদের মধ্যে নারী-শিশু, সাংবাদিক ও ব্রাদারহুড নেতৃবৃন্দের ছেলেমেয়েরাও রয়েছেন। অন্যদিকে চলমান আন্দোলনে প্রতি সপ্তাহেই নিহত হচ্ছেন মুরসী সমর্থকরা।

[গণতন্ত্রকে বরণ করেও ইসলামপন্থী মুরসীদের রক্ষা হলো না। অতএব দুই রং ছেড়ে এক রং হওয়া কর্তব্য (স.স.)]

কট্টরপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কা দেশে দেশে

লেবাননের রাজধানী বৈরূতে কট্টরপন্থীদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় বিধ্বস্ত একটি গাড়ি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রাম বিশারিয়েহ। একসময় বেশ শান্ত ছিল গ্রামটি। ছিল বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান। কিন্তু এখন সেই শান্ত রূপটি নেই বিশারিয়েহ’র। এই গ্রামের দুই তরুণ সিরিয়ায় গিয়ে বিদ্রোহীদের পক্ষ নিয়ে লড়াই করেছেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন তাঁরা। এই আত্মঘাতী হামলার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সঊদী আরবে। সেই আতঙ্ক থেকে সঊদী কর্তৃপক্ষ তার নাগরিকদের সিরিয়ার যুদ্ধে যাওয়া ঠেকাতে বেশি তৎপর।

লেবানন ও সঊদী আরবের এই পরিস্থিতি থেকে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, সিরিয়ায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা রক্তপাত সহিংসপ্রবণ ঐ অঞ্চলকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও আতঙ্কিত করে তুলেছে। সিরিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে দেশে ফিরে তরুণেরা সেই বিপজ্জনক ধারণা নিয়ে নিজেদের দেশের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ব্যবহার করছেন। বিশারিয়েহ গ্রাম থেকে গত কয়েক মাসে অন্তত পাঁচজন সুন্নী তরুণ সিরিয়া যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। তাঁদের মধ্যেই দু’জন হ’ল নিদাল মুগায়ার ও আদান আল-মুহাম্মাদ। সম্প্রতি তারা দেশে ফিরে এসে রাজধানী বৈরূতে ইরানী শী‘আ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে।

নিদালের বাবা হিশাম আল-মুগায়ার তাঁর ২০ বছর বয়সী ছেলে সম্পর্কে বলেন, সে ভাল মনের চমৎকার একজন যুবক ছিল। আমার মনে হয়, বিবেকহীন কেউ আমার ছেলের মগজ ধোলাই করেছে’। বোমা হামলার খবর প্রকাশের পর যখন জানাজানি হয় নিদালই ঐ হামলা চালিয়েছেন, তখন শী‘আ সম্প্রদায়ের লোকজন নিদালদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুড়ে যায় তাঁদের মুদিদোকান ও চারটি গাড়ি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হিশাম বলেন, ছেলে আমার বোমা ফাটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে, সেই সঙ্গে ধ্বংস করে দিয়েছে আমাদেরও’।

বিশারিয়েহ’র তরুণ নিদাল ও আদানের মতো বিদেশ থেকে ফেরা কট্টরপন্থীদের হাতেই ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কট্টরপন্থী অনেক গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তাই এই চরমপন্থা গ্রহণের বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সরকারের জন্য।

[এদের উস্কানীদাতা হিসাবে পরাশক্তিগুলোকে দায়ী করা হয়ে থাকে। নইলে ইসলাম কখনো কাউকে কট্টরপন্থী বানায় না (স.স.)]