প্রবন্ধ

বিদ‘আত ও তার পরিণতি

মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম

(৫ম কিস্তি)

শারঈ মানদন্ডে বিদ‘আতে হাসানাহ্ ও সায়্যিআহ্

যারা বিদ‘আতকে হাসানাহ্ ও সায়্যিআহ্ তথা ভাল ও মন্দ শ্রেণীদ্বয়ে বিভক্ত করে এবং বিদ‘আতে হাসানাহ্কে ইসলামী শরী‘আতে বৈধ বলে আখ্যায়িত করে, তারা স্পষ্টভাবে রাসূল (ছাঃ)-এর বিরোধিতা করে। কেননা তিনি বলেছেন, فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. ‘নিশ্চয়ই সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা’।[1] অতএব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রত্যেক প্রকার বিদ‘আতের উপর ভ্রষ্টতার হুকুম জারী করেছেন যা হেদায়াতের বিপরীত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ- ‘তারাই হেদায়াতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতা এবং মাগফিরাতের পরিবর্তে আযাব ক্রয় করেছে। আগুন সহ্য করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল’ (বাকারাহ্ ২/১৭৫)। তিনি অন্যত্র বলেন,وَمَنْ يُضْلِلِ اللهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ، وَمَنْ يَهْدِ اللهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُضِلٍّ أَلَيْسَ اللهُ بِعَزِيْزٍ ذِي انْتِقَامٍ ‘আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হেদায়াতকারী নেই। আর আল্লাহ যাকে হেদায়াত করেন, তার জন্য কোন পথ ভ্রষ্টকারী নেই। আল্লাহ কি মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন’? (যুমার ৩৯/৩৬-৩৭)

দ্বিতীয়তঃ সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্ট হওয়ার ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনে ইযাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তাদের কেউই বিদ‘আতকে হাসানাহ্ এবং সায়্যিআহ্ শ্রেণীদ্বয়ে বিভক্ত করেননি।

তৃতীয়তঃ আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য হাছিলের উদ্দেশ্যে ইসলামী শরী‘আতের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। কেননা ইবাদতের মূল হল নিষিদ্ধ, যতক্ষণ পর্যন্ত তা জায়েয হওয়ার দলীল না পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই শরী‘আতের মধ্যে এমন কিছু সৃষ্টি করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত’।[2]

শায়খ ছালেহ আল-ফাওযান (রহঃ) বলেন,

مَنْ قَسَّمَ الْبِدْعَةَ إِلَى بِدْعَةٍ حَسَنَةٍ وَبِدْعَةٍ سَيِّئَةٍ؛ فَهُوَ غَالِطٌ وَمُخْطِئٌ وَمُخَالِفٌ لِقَوْلِهِ r فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ؛ لِأَنَّ الرَّسُوْلَ r حَكَمَ عَلَى الْبِدَعِ كُلِّهَا بِأَنَّهَا ضَلاَلَةٌ، وَهَذَا يَقُوْلُ لَيْسَ كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةً، بَلْ هُنَاكَ بِدْعَةٌ حَسَنَةٌ-

‘যে ব্যক্তি বিদ‘আতকে হাসানাহ্ ও সায়্যিআহ্ তথা ভাল ও মন্দ শ্রেণীদ্বয়ে বিভক্ত করল, সে ভুল করল এবং সকল বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা মর্মে রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীর বিরোধিতা করল। কেননা রাসূল (ছাঃ) সকল বিদ‘আতকেই গোমরাহী বলে ফায়ছালা দিয়েছেন। অথচ এ ব্যক্তি (বিদ‘আতী) বলছে যে, সকল বিদ‘আত গোমরাহী নয়; বরং কিছু সুন্দর বিদ‘আত আছে’।[3]

হাফেয ইবনে রজব (রহঃ) বলেন,

فَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم إِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ : مِنْ جَوَامِعِ الْكَلِمِ، لاَ يَخْرُجُ عَنْهُ شَيْءٌ، وَهُوَ أَصْلٌ عَظِيْمٌ مِنْ أُصُوْلِ الدِّيْنِ، وَهُوَ شَبِيْهٌ بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ؛ فَكُلُّ مَنْ أَحْدَثَ شَيْئًا وَنَسَبَهُ إِلَى الدِّيْنِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ أَصْلٌ مِنَ الدِّيْنِ يَرْجِعُ إِلَيْهِ؛ فَهُوَ ضَلاَلَةٌ، وَالدِّيْنُ بَرِيْءٌ مِنْهُ، وَسَوَاءٌ فِيْ ذَلِكَ مَسَائِلُ الاِعْتِقَادَاتِ أَوِ الأَعْمَالِ أَوِ الأَقْوَالِ الظَّاهِرَةِ وَالبَاطِنَةِ-

রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী ‘সকল বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য, যা থেকে কোন কিছুই বাদ পড়ে না। ইহা দ্বীনের মৌলিক বিষয় সমূহের মধ্যে একটি মৌলিক বিষয়। ইহা রাসূল (ছাঃ)-এর ঐ বাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরী‘আতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’। অতএব যে ব্যক্তি নতুন কিছু সৃষ্টি করবে এবং তাকে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করবে, অথচ তা দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত নয়, তাহলে তা গোমরাহী। আর দ্বীন এ থেকে মুক্ত। চাই তা আক্বীদাহ সংক্রান্ত বিষয় হোক, কিংবা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কোন কথা ও কর্ম সংক্রান্ত হোক’।[4]

বিদ‘আতে হাসানাহ ও সায়্যিআহ পন্থীদের দলীলের জবাব

প্রথম দলীল :

عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : مَا رَأَى الْمُسْلِمُوْنَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ حَسَنٌ، وَمَا رَآهُ الْمُسْلِمُوْنَ سَيِّئًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ سَيِّءٌ، وَقَدْ رَأَى الصَّحَابَةُ جَمِيْعًا أَنْ يَسْتَخْلِفُوْا أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ-

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলমানদের দৃষ্টিতে যা উত্তম আল্লাহর দৃষ্টিতেও তা উত্তম। আর মুসলমানদের দৃষ্টিতে যা নিকৃষ্ট আল্লাহর দৃষ্টিতেও তা নিকৃষ্ট। আর প্রত্যেক ছাহাবী আবূ বকর (রাঃ)-কে খলীফা করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করে ছিলেন।[5]

অত্র হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মুসলমানদের নিকটে যে কাজ উত্তম বলে বিবেচিত হবে, আল্লাহর নিকটেও সে কাজ উত্তম। অতএব বিদ‘আতে হাসানাহ্ মানুষের নিকট উত্তম বলে বিবেচিত বিধায় আল্লাহর নিকটেও তা উত্তম আমল হিসাবে গণ্য।

জবাব : ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন,تفرد به النخعي، قال أحمد بن حنبل : كان يضع الحديث، وهذا الحديث إنما يعرف من كلام بن مسعود- ‘এই হাদীছটি নাখঈ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, তিনি (নাখঈ) হাদীছ জালকারী। আর এই হাদীছটি ইবনু মাসউদের বক্তব্য হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে’।[6]

ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন,إن هذا ليس من كلام رسول الله وإنما يضيفه إلى كلامه من لا علم له بالحديث وإنما هو ثابت عن ابن مسعود من قوله- ‘এটা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কথা নয়। হাদীছ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরাই এটাকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে সম্পৃক্ত করেছে। বরং এটা ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর বাণী হিসাবে প্রমাণিত’।[7]

আল-আলাঈ (রহঃ) বলেন, আমি আমার দীর্ঘ গবেষণার পরেও হাদীছ গ্রন্থ সমূহে মারফূ সূত্রে এর কিছুই খুঁজে পাইনি। এমনকি যঈফ সনদেও পাইনি। বরং এটা ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে ‘মাওকূফ’ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।[8]

আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন,لا أصل له مرفوعا، وإنما ورد موقوفا على ابن مسعود- ‘মারফূ‘ সূত্রে এর কোন ভিত্তি নেই। বরং এটা ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে ‘মাওকূফ’ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে’।[9]  তিনি আরো বলেন,

إِنَّ مِنْ عَجَائِبِ الدُّنْيَا أَنْ يَحْتَجَّ بَعْضُ النَّاسِ بِهَذَا الحَدِيْثِ عَلَى أَنَّ فِيْ الدِّيْنِ بِدْعَةً حَسَنَةً، وَأَنَّ الدَّلِيْلَ عَلَى حُسْنِهَا اِعْتِيَادُ الْمُسْلِمِيْنَ لَهَا-

‘নিশ্চয়ই দুনিয়ার আশ্চর্যজনক বিষয় হল, কিছু মানুষ এই হাদীছটিকে দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আতে হাসানাহ থাকার দলীল হিসাবে পেশ করে। অথচ বিদ‘আতে হাসানার দলীল পেশ করা মুসলমানদেরকে বিদ‘আতের উপর অভ্যস্ত করার নামান্তর’।[10]

অতএব হাদীছটি মারফূ‘ সূত্রে ছহীহ না হওয়ায় তা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও তা রাসূল (ছাঃ)-এর অকাট্য বাণী-  فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ ‘নিশ্চয়ই সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা[11] এর স্পষ্ট বিরোধী।

পক্ষান্তরে যদি হাদীছটিকে মাওকূফ সূত্রে ছহীহ ধরা হয়, তাহলে তাতে বর্ণিত المسلمون এর ال ইস্তিগরাকের জন্য এসেছে। অর্থাৎ সকল মুসলমান যার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছে।

ইয ইবনু আব্দুস সালাম (রহঃ) বলেন, যদি হাদীছটিকে ছহীহ ধরা হয়, তাহলে তাতে বর্ণিত المسلمون দ্বারা أهل الإجماع বুঝানো হয়েছে।[12]

অতএব উল্লিখিত আছার দ্বারা যারা বিদ‘আতে হাসানার বৈধতার দলীল পেশ করেছে, তারা কি এমন কোন বিদ‘আত উপস্থাপন করতে সক্ষম, যার উপর সকল মুসলমান ঐক্যমত পোষণ করেছে? কখনোই তা সম্ভব নয়। বরং সকল প্রকার বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা, যা ছহীহ হাদীছ ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত।

আর যদি المسلمون এর ال কে للجنس বা জাতি বাচক ধরা হয়, তাহলে অর্থ হবে, উক্ত বিদ‘আতকে কিছু মুসলিম বিদ‘আতে হাসানা বলে গণ্য করেছে এবং কিছু মুসলিম তাকে বিদ‘আতে সায়্যিআহ বলে আখ্যায়িত করেছে। আর এরূপ হলে তা ইজমা বলে গণ্য হবে না এবং এর দ্বারা দলীল পেশ করা বৈধ হবে না।

প্রকৃতপক্ষে উল্লিখিত আছারে বর্ণিত المسلمون এর ال দ্বারা للعهد বুঝানো হয়েছে। অতএব المسلمون দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইজমায়ে ছাহাবা তথা যার উপর ছাহাবায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর পৃথিবীতে এমন কোন বিদ‘আত নেই যা হাসানাহ বা ভাল হওয়ার ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। বরং তাঁরা সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

সুধী পাঠক! উল্লিখিত আছারের প্রকৃত উদ্দেশ্য তার শেষাংশে বর্ণনা করা হয়েছে। যেখানে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর খেলাফতের ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরামের ইজমার দলীল পেশ করেছেন।

হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, উল্লিখিত আছারটি দ্বারা খেলাফতের ক্ষেত্রে আবু বকর (রাঃ)-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরামের ইজমার কথা বুঝানো হয়েছে।[13]

ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, এই আছারটি সকল মুসলমান যার উত্তমতার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছে আল্লাহর নিকট তা উত্তম হওয়ার দলীল। কিন্তু কিছু সংখ্যক মুসলমানের রায় বা মত তোমাদের উপর দলীল সাব্যস্ত হওয়া বুঝানো হয়নি।[14]

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উল্লিখিত আছারে বর্ণিত المسلمون দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ছাহাবায়ে কেরাম। অর্থাৎ ছাহাবায়ে কেরাম যার  উত্তমতার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আল্লাহর নিকট তা উত্তম।

এছাড়াও আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) ছিলেন কঠোরভাবে বিদ‘আতকে প্রত্যাখ্যানকারী। তিনি বলেন, أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ سَتُحْدِثُونَ وَيُحْدَثُ لَكُمْ ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مُحْدَثَةً فَعَلَيْكُمْ بِالأَمْرِ الأَوَّلِ ‘হে মানব জাতি! নিশ্চয়ই তোমরা নতুন কিছু সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের জন্য নতুন কিছু সৃষ্টি করা হবে। যখন তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) কোন নবাবিস্কৃত বস্ত্ত দেখবে, তখন তোমাদের কর্তব্য হল, প্রথমটাকেই অাঁকড়ে ধরা’।[15] অতএব তাঁর কথা কিভাবে বিদ‘আতে হাসানা বৈধতার দলীল হতে পারে?

এছাড়াও উল্লিখিত দলীলের উপর ভিত্তি করে যে কোন ভাল কাজকে বৈধ মনে করলে তা হবে ছহীহ হাদীছের বিরোধী। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٍ وَإِنْ رَآهَا النَّاسُ حَسَنَةً ‘সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ তাকে উত্তম মনে করে’।[16]

প্রিয় পাঠক! মুসলমানদের নিকট যে কাজ উত্তম বলে বিবেচিত হবে, আল্লাহর নিকটেও সে কাজ উত্তম বলে বিবেচিত হলে রাসূল (ছাঃ) ঐ তিন ব্যক্তিকে হুঁশিয়ার করতেন না; যারা রাসূল (ছাঃ)-এর আমলকে কম মনে করেছিল এবং সারারাত্রি জেগে জেগে ছালাত আদায়, প্রতিদিন ছিয়াম পালন এবং বিবাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। উক্ত তিন ব্যক্তির উদ্দেশ্য এতো ভাল হওয়া সত্তেবও রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে ছালাত ও ছিয়ামের মত ভাল আমলের প্রতি উৎসাহ না দিয়ে বরং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِى فَلَيْسَ مِنِّى ‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত হ’তে বিমুখ হবে (সুন্নাত পরিপন্থী আমল করবে), সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়’।[17] অতএব ভাল কাজটি অবশ্যই কুরআন ও ছহীহ দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে।

দ্বিতীয় দলীল : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

مَنْ سَنَّ فِيْ الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا وَلاَ يَنْقُصُ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَىْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِيْ الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ عَلَيْهِ مِثْلُ وِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا وَلاَ يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ-

‘যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম রীতি চালু করবে সে তার প্রতিদান পাবে এবং তার দেখাদেখি পরবর্তীতে যারা তা করবে তাদের সমান প্রতিদানও সে পাবে। তবে তাদের প্রতিদান থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ রীতি চালু করবে, সে তার কাজের পাপ ও তার দেখাদেখি পরবর্তীতে যারা তা করবে তাদের সমান পাপের অধিকারী হবে। তবে তাদের পাপ থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না’।[18]

জবাব : যারা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উক্ত বক্তব্যকে বিদ‘আতে হাসানার বৈধতার দলীল হিসাবে পেশ করে, তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যারা কুরআন ও হাদীছের প্রথম ও শেষ অংশ গোপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। যেমন- ছালাত অস্বীকারকারীরা দলীল দিয়ে থাকে যে, আল্লাহ নিজেই বলেছেন, فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ ‘দুর্ভোগ ছালাত আদায়কারীদের জন্য’ (মাউন ১০৭/৪)। অথচ তারা পরের আয়াতগুলো উল্লেখ করে না। যেখানে বলা হয়েছে,

الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ - الَّذِيْنَ هُمْ يُرَاءُوْنَ - وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ-

‘যারা তাদের ছালাত সম্পর্কে উদাসীন; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য আদায় করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না’ (মাউন ১০৭/৫-৭)। অর্থাৎ যারা তাদের ছালাত সম্বন্ধে উদাসীন ও লোক দেখানোর জন্য ছালাত আদায় করে তাদের জন্য দুর্ভোগ। কিন্তু তারা এসব কিছু উল্লেখ না করে বলে, ছালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ।

অনুরূপভাবে তারা উল্লেখ করে আল্লাহ তা‘আলার বাণী-يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا تَقْرَبُوْا الصَّلَاةَ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ছালাতের নিকটবর্তী হয়ো না’ (নিসা ৪/৪৩)। অথচ তারা উক্ত আয়াতের পরের অংশ উল্লেখ করে না। যেখানে বলা হয়েছে, وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوْا مَا تَقُوْلُوْنَ ‘তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ’ (নিসা ৪/৪৩)। অর্থাৎ তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছালাতের নিকটবর্তী হয়ো না। কিন্তু তারা অবস্থা উল্লেখ না করে শুধুমাত্র বলে থাকে যে, তোমরা ছালাতের নিকটবর্তী হয়ো না।

বিদ‘আতে হাসানার বৈধতার প্রমাণে উল্লিখিত দলীল পেশ করার ক্ষেত্রেও ঠিক অনুরূপ ঘটনার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। তারা তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে হাদীছের অংশ বিশেষ উল্লেখ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ পূর্ণ হাদীছ উল্লেখ করলে খুব সহজেই এর সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্। তা হল :

মুনযির ইবনু জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ভোরের দিকে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তাঁর কাছে পাদুকাবিহীন, বস্ত্রহীন, গলায় চামড়ার আবা পরিহিত এবং নিজেদের তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় একদল লোক আসল। এদের অধিকাংশ কিংবা সকলেই মুযার গোত্রের লোক ছিল। অভাব-অনটনে তাদের এই করুণ অবস্থা দেখে রাসূল (ছাঃ)-এর মুখমন্ডল পরিবর্তিত ও বিষণ্ণ হয়ে গেল। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বেলাল (রাঃ)-কে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। বেলাল (রাঃ) আযান ও এক্বামত দিলেন। ছালাত শেষ করে তিনি উপস্থিত মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং এই আয়াত পাঠ করলেন- ‘হে মানব জাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একজন মাত্র ব্যক্তি [আদম (আঃ)] থেকে সৃষ্টি করেছেন।... নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী’ (নিসা ৪/১)। অতঃপর তিনি সূরা হাশরের শেষের দিকের এই আয়াত পাঠ করলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের জন্য কি সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ্য করে’। অতঃপর উপস্থিত লোকদের কেউ তার দীনার, কেউ দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ এক ছা‘ আটা ও কেউ এক ছা‘ খেজুর দান করল। অবশেষে তিনি বললেন, এক টুকরা খেজুর হলেও নিয়ে আস। বর্ণনাকারী বলেন, আনছার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বিরাট থলে নিয়ে আসলেন। তার হাত তা বহন করতে প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েছিল। রাবী আরো বলেন, অতঃপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করতে থাকল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দু’টি স্তূপ হয়ে গেল। রাসূল (ছাঃ)-এর চেহারা খাঁটি সোনার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম রীতি চালু করবে সে তার প্রতিদান পাবে এবং তার দেখাদেখি পরবর্তীতে যারা তা করবে, তাদের সমান প্রতিদানও সে পাবে। তবে তাদের প্রতিদান থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ রীতি চালু করবে, সে তার কাজের পাপ ও তার দেখাদেখি পরবর্তীতে যারা তা করবে তাদের সমান পাপের অধিকারী হবে। তবে তাদের পাপ থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না’।[19]

অত্র হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, একজন আনছারীর দান আরম্ভ করার মাধ্যমে অন্যান্য ছাহাবায়ে কেরাম একের পর এক দান করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খুশি হয়ে বলেছিলেন, কেউ যদি কোন সুন্নাতের উপর আমল আরম্ভ করে, আর তাকে দেখে অন্য কেউ আমল করে, তাহলে সে ব্যক্তিও সমপরিমাণ নেকীর হকদার হবে। এখানে বিদ‘আতে হাসানাকে বৈধ করা হয়নি।

ইমাম শাতেবী (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উক্ত বক্তব্য দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সুন্নাতের উপর আমল আরম্ভকারী। তাকে দেখে পরবর্তী আমলকারীদের সমপরিমাণ নেকীর হকদার হবে। আর এটা দু’টি দিক লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হবে।

(ক) প্রথমে লক্ষ্য করুন! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কখন উক্ত কথা বলেছিলেন? তিনি যখন ছাহাবায়ে কেরামকে দানের উৎসাহ দিচ্ছিলেন তখন এক আনছারীর দান আরম্ভ করার মাধ্যমে সকলেই দান আরম্ভ করেছিলেন। আর দান ইসলামী শরী‘আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আর সুন্নাত কখনই বিদ‘আত হতে পারে না। অতএব রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী- مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً এর অর্থ হল, مَنْ عَمِلَ بِسُنَّةٍ তথা ‘যে ব্যক্তি সুন্নাতের উপর আমল আরম্ভ করল’।

(খ) বিদ‘আতে হাসানাহ ও বিদ‘আতে সায়্যিআহ এরূপ প্রকারভেদ কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত হতে হবে। কেননা কোন্ জিনিস উত্তম এবং কোন্ জিনিস নিকৃষ্ট? তা ইসলামী শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত হবে। মানুষের বিবেক নির্ধারণ করলে তা কখনই গ্রহণীয় হবে না। সুন্নাত হল, যা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। পক্ষান্তরে বিদ‘আত হল, যা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ বহির্ভূত। আর কুরআন ও ছহীহ হাদীছ বহির্ভূত কোন কাজ কখনোই হাসানাহ বা উত্তম হতে পারে না।

অতএব যে সুন্নাত কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত অথচ মানুষ তার উপর আমল করে না, এমন কোন সুন্নাতকে নতুনভাবে জীবিত করাকে সুন্নাতে হাসানাহ্ বলা হয়। যেমন- জামা‘আতবদ্ধভাবে তারাবীহর ছালাত আদায় করা। এটা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত যা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু তিনি তাঁর উম্মাতের উপর ফরয হওয়ার আশংকায় তিন দিনের বেশি জামা‘আতে আদায় করেননি। ওমর (রাঃ) তাঁর মৃত্যুর পরে উক্ত সুন্নাতকে জীবিত করলেন।

হে মুসলিম ভাই!  রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উক্ত কথাকে আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করার জন্য কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হল,

(ক) যিনি বলেছেন, مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً ‘যে ব্যক্তি একটি সুন্নাত জারী করল’। তিনিই আবার বলেছেন, فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. ‘নিশ্চয়ই সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা’।[20] আর এটা অসম্ভব যে রাসূল (ছাঃ)-এর মুখ থেকে এমন কথা বের হবে, যা তাঁরই অন্য একটা বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এটাও অসম্ভব যে, কখনো রাসূল (ছাঃ)-এর দু’টি বাণীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিবে। আর এটাও অসম্ভব যে, কখনো দু’টি হাদীছ বিরোধপূর্ণভাবে একই অর্থে ব্যবহৃত হবে। যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহর বাণী বা রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীর মধ্যে বিরোধ আছে, সে যেন তার দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করে নেয়। কেননা এ ধারণা এসেছে তার হাদীছ বুঝার ব্যর্থতা থেকে বা মনের কুটিলতা থেকে। আল্লাহর বাণী বা রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীর মধ্যে বিরোধ হওয়া অসম্ভব। সুতরাং বিষয়টি যদি এমনই হয় তাহ’লে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً   এ দুই হাদীছের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।[21] সুতরাং আমাদের জন্য জায়েয হবে না যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর এক হাদীছকে গ্রহণ করব আর অন্য হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করব।

(খ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ سَنَّ ‘যে ব্যক্তি সুন্নাত জারী করল’। কিন্তু বলেননি من ابتدع ‘যে বিদ‘আত করল’। অতঃপর তিনি বলেছেন, فِيْ الإِسْلاَمِ তথা ইসলামের মধ্যে। আর বিদ‘আত ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং ইসলাম বহির্ভূত বলেই তাকে বিদ‘আত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেছেন, حَسَنَةً তথা উত্তম। আর বিদ‘আত কখনো হাসানাহ্ তথা উত্তম হয় না; বরং রাসূল (ছাঃ) বিদ‘আতকে ضَلاَلَةٌ বা ভ্রষ্টতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।[22]

(গ) সালাফে ছালেহীনের কেউ সুন্নাতে হাসানার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাকে বিদ‘আতে হাসানাহ বলে আখ্যায়িত করেননি।

অতএব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উক্ত কথা দ্বারা বিদ‘আতে হাসানা বৈধতার দলীল পেশ করা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর মিথ্যারোপ করার শামিল। হাদীছে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ- ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান বানিয়ে নিল’।[23]

তৃতীয় দলীল : হাদীছে এসেছে, আব্দুর রহমান ইবনু আব্দুল কারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি ওমর (রাঃ)-এর সাথে রামাযানের এক রাতে মসজিদের দিকে বের হলাম। আর মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে ছালাত আদায় করছিল। কেউ একাকী ছালাত আদায় করছিল আবার কেউ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ছালাত আদায় করছিল। ওমর (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি যে, আমি যদি এই লোকগুলিকে একজন ক্বারী (ইমাম)-এর পেছনে একত্রিত করে দেই, তবে তা উত্তম হবে। এরপরে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে উবাই ইবনু কা‘বের পেছনে সকলকে একত্রিত করে দিলেন। তারপর অন্য এক রাতে আমি ওমর (রাঃ)-এর সাথে বের হলাম। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে ছালাত আদায় করছিল। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ ‘কতই না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা’! তোমরা রাতে যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা ছালাত আদায় কর। এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন। কেননা লোকেরা তখন রাতের প্রথম অংশে ছালাত আদায় করত।[24]

জবাব : প্রথমত যেখানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ- ‘নিশ্চয়ই সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা,[25] সেখানে অন্য কারো কোন কথা দ্বারা রাসূল (ছাঃ)ুএর উক্ত বাণীর বিরোধিতা করা বৈধ নয়। এমনকি নবী (ছাঃ)-এর পরে উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ আবূবকর (রাঃ), ওমর (রাঃ), ওছমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ)-এর উক্তির মাধ্যমেও নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,فَلْيَحْذَرِ الَّذِيْنَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ ‘সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর মর্মন্তুদ শাস্তি’ (নূর ২৪/৬৩)

ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, أَتَدْرِيْ مَا الْفِتْنَةُ؟ اَلْفِتْنَةُ الشِّرْكُ لَعَلَّهُ إِذَا رَدَّ بَعْضَ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقَعَ فِيْ قَلْبِهِ شَيْءٌ مِنَ الزَّيْغِ فَيُهْلِكُ ‘তুমি কি জান ফিতনা কি? ফিতনা হ’ল শিরক। সম্ভবত কেউ যখন রাসূল (ছাঃ)-এর কোন হাদীছ প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার হৃদয়ে সৃষ্টি হয় ভ্রষ্টতা। ফলে সে ধ্বংস হয়ে যায়’।[26]

ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, يُوْشِكُ أَنْ تُنْزَلَ عَلَيْكُمْ حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَقُوْلُوْنَ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ وَعُمَرُ ‘আশংকা হয় যে, আকাশ থেকে তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করা হবে। আমি বলছি যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আর তোমরা বলছ, আবূবকর ও ওমর (রাঃ) বলেছেন’।[27]

দ্বিতীয়ত: আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমীরুল মুমিনীন ওমর (রাঃ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর বাণীকে সম্মান করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক কঠোর ছিলেন। তিনি আল্লাহর নাযিলকৃত দন্ডবিধি সম্পর্কে অবগতির ব্যাপারে প্রসিদ্ধ ছিলেন। এমনকি তিনি আল্লাহর বাণীর নিকট আত্মসমপর্ণকারী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। সুতরাং ওমর (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে একথা বলা অনুচিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণীর বিরোধিতা করে কোন বিদ‘আত সম্পর্কে বলবেন نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ (এটা উত্তম বিদ‘আত)? অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজেই রামাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইল জামা‘আতবদ্ধভাবে আদায় করেছেন। হাদীছে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত,

أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى ذَاتَ لَيْلَةٍ فِى الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ، ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ، ثُمَّ اجْتَمَعُوْا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ قَدْ رَأَيْتُ الَّذِىْ صَنَعْتُمْ وَلَمْ يَمْنَعْنِى مِنَ الْخُرُوْجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّىْ خَشِيْتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَعْجِزُوْا عَنْهَا-

‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে এক রাত্রিতে (তারাবীহ) ছালাত আদায় করলেন। তাঁর সাথে কিছু মানুষও ছালাত আদায় করল। অতঃপর পরবর্তী দিনও তিনি তারাবীহর ছালাত আদায় করলেন। এতে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল। অতঃপর ৩য় বা ৪র্থ রাত্রিতে লোকেরা সমবেত হ’ল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদের নিকট বের হ’লেন না। সকাল বেলায় তিনি বললেন, তোমরা যা করেছ আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু তোমাদের উপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকা ব্যতীত অন্য কোন কারণ আমাকে তোমাদের নিকট বের হ’তে বাধা দেয়নি। কারণ (ফরয হয়ে গেলে) তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হবে’।[28]

অত্র হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ওমর (রাঃ) জামা‘আতবদ্ধভাবে তারাবীহর ছালাত আরম্ভ করেননি। বরং তা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত। তিনি তারাবীহর ছালাত তিন দিন জামা‘আতের সাথে আদায় করার পরে উম্মতের উপর তা ফরয হওয়ার আশংকায় জামা‘আত ত্যাগ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুবরণের পরে যেহেতু অহী অবতীর্ণের সমাপ্তি ঘটেছে, সেহেতু তা ফরয হওয়ার আশংকা দূরীভূত হয়েছে। আর তখনই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অনুমোদিত সেই সুন্নাতকেই ওমর (রাঃ) কেবল পুনর্জীবিত করেছিলেন মাত্র।

তৃতীয়ত: ওমর (রাঃ) জামা‘আতবদ্ধভাবে তারাবীহর ছালাতকে বিদ‘আত বলেছিলেন আভিধানিক অর্থে। কেননা আবু বকর (রাঃ)-এর যামানায় ও ওমর (রাঃ)-এর প্রথম যামানায় তারাবীহর ছালাত জামা‘আতবদ্ধভাবে আদায় হত না। তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর ফরয হওয়ার আশংকায় ত্যাগকৃত জামা‘আতবদ্ধভাবে তারাবীহর ছালাত আদায়ের সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেছিলেন বলেই আবিধানিক অর্থে এটাকে বিদ‘আত বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং যেহেতু স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জামা‘আতবদ্ধভাবে তারাবীহর ছালাত আদায়ের সুন্নাত জারী করেছেন, সেহেতু আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে বিদ‘আত বলে আখ্যায়িত করলেও পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অবশ্যই বিদ‘আত নয়।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন,

قَوْلُ عُمَرَ «نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ» فَأَكْثَرُ مَا فِيْهِ تَسْمِيَةُ عُمَرَ تِلْكَ بِدْعَةً مَعَ حُسْنِهَا، وَهَذِهِ تَسْمِيَةٌ لُغَوِيَّةٌ، لاَ تَسْمِيَةٌ شَرْعِيَّةٌ. وَذَلِكَ أَنَّ الْبِدْعَةَ فِيْ اللُّغَةِ تَعُمُّ كُلَّ مَا فُعِلَ اِبْتِداءً مِنْ غَيْرِ مِثَالٍ سَابِقٍ، وَأَمَّا الْبِدْعَةُ الشَّرْعِيَّةُ : فَمَا لَمْ يَدُلَّ عَلَيْهِ دَلِيْلٌ شَرْعِيٌّ-

‘ওমর (রাঃ)-এর উক্তি, ‘এটা উত্তম বিদ‘আত’ কলার মধ্যে বেশির বেশি এতটুকু আছে যে, তিনি সেটাকে বিদ‘আতে হাসানাহ হিসাবে নামকরণ করেছেন। এই নামকরণ আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে; পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। আর আভিধানিক দৃষ্টিতে বিদ‘আত হল, ঐ সকল সাধারণ নতুন সৃষ্টি, যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই। আর পারিভাষিক দৃষ্টিতে বিদ‘আত হল, যা শারঈ দলীল দ্বারা সাব্যস্ত নয়।[29]

হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন,

البدعة على قسمين: تارة تكون بدعة شرعية، كقوله: فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة. وتارة تكون بدعة لغوية، كقول أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه عن جمعه إياهم على صلاة التراويح واستمرارهم: نِعْمَتَ البدعةُ هذه-

‘বিদ‘আত দুই প্রকার। কখনো এটা পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ‘আত হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী ‘নিশ্চয়ই সকল নতুন সৃষ্টিই বিদ‘আত এবং সকল প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা’। আবার কখনো আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ‘আত হয়। যেমন- আমীরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকদেরকে তারাবীহর ছালাতের জন্য একত্রিত করেন এবং সর্বদা এ আমল করার জন্য উৎসাহিত করে বলেন, ‘এটা কতই না সুন্দর বিদ‘আত’।[30]

চতুর্থ দলীল : বর্তমান পৃথিবীতে এমন কিছু নতুন বিষয় রয়েছে যা মুসলিম সমাজ গ্রহণ করেছে এবং তার উপর আমল করছে। অথচ সেগুলো রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে পরিচিত ছিল না। যেমন মাদরাসা নির্মাণ, গ্রন্থ রচনা প্রভৃতি। এগুলিকে মুসলিম সমাজ ভাল বলে গ্রহণ করেছে ও তার উপর আমল করছে এবং তারা এগুলোকে উত্তম কাজ হিসাবে গণ্য করেছে। যদি ইসলামী শরী‘আতে বিদ‘আতে হাসানার কোন অস্তিত্ব না থাকে তাহলে উল্লিখিত ভাল কাজগুলির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

জবাব : প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এটা শরী‘আতসম্মত কাজের একটা মাধ্যম মাত্র। আর মাধ্যম সমূহ স্থান ও কালের আবর্তনে ভিন্ন হয়ে থাকে এবং মাধ্যমগুলোর বিধান উদ্দেশ্যগুলোর বিধানের আওতাভুক্ত হয়। কাজেই শরী‘আতসম্মত বিষয়ের মাধ্যমগুলো বৈধ এবং শরী‘আত বিরোধী মাধ্যমগুলো অবৈধ। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَلاَ تَسُبُّواْ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ فَيَسُبُّواْ اللهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ ‘আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে তোমরা গালি দিও না। কেননা তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিবে’ (আন‘আম ৬/১০৮)। মুশরিকদের ইলাহগুলিকে গালি দেওয়া সীমালংঘন নয়, বরং সত্য ও উপযুক্ত। কিন্তু আল্লাহকে গালি দেওয়া সীমালংঘন ও যুলুম। কিন্তু মুশরিকদের ইলাহগুলিকে গালি দেওয়ার মত প্রশংসিত কাজ যখন আল্লাহকে গালি দেওয়ার মত ঘৃণিত কাজের কারণ হয়ে গেল, তখন সেটা (বিধর্মীদের উপাস্যকে গালি দেয়া) হারাম ও নিষিদ্ধ হয়ে গেল।

অনুরূপভাবে ছুরি একটি ধারাল অস্ত্র, যা দ্বারা মানুষ হত্যা করা যায় এবং কুরবানীর পশুও যবেহ করা যায়। এক্ষণে যদি ছুরি তৈরী করা হয় মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে তাহলে ছুরি তৈরী করা হারাম হবে। আর যদি তা কুরবানীর পশু যবেহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে তা বৈধ হবে।

অতএব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও গ্রন্থ রচনা যদিও শাব্দিক অর্থে বিদ‘আত যা রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় ছিল না, কিন্তু এটা শারঈ জ্ঞান চর্চার একটা মাধ্যম মাত্র। আর মাধ্যম সমূহের জন্য উদ্দেশ্য সমূহের বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি হারাম জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসা বা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে, তবে তার ভবন নির্মাণও হারাম সাব্যস্ত হবে। আর যদি কেউ দ্বীনী জ্ঞান শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তবে তার ভবন নির্মাণ বৈধ বা শরী‘আতসম্মত হবে। কিন্তু এটাকে বিদ‘আতে হাসানা বলার কোন অবকাশ নেই। কেননা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা সরাসরি কোন ইবাদত নয়; বরং এটা আল্লাহর ইবাদত সম্পর্কে জ্ঞান লাভের একটি মাধ্যম মাত্র।

[চলবে]


* লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদী আরব।

[1]. ইবনু মাজাহ হা/৪২, ‘খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অাঁকড়ে ধরা অনুচ্ছেদ।

[2]. বুখারী হা/২৬৯৭, ‘বিবাদ মীমাংসা’ অধ্যায়, বঙ্গানুবাদ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) ৩/১১৮ পৃঃ; মুসলিম হা/১৭১৮; মিশকাত হা/১৪০।

[3]. ছালেহ আল-ফাওযান, আল-ইরশাদ ইলা ছহীহিল ই‘তিকাদ ১/৩০০ পৃঃ।

[4]. তদেব।

[5]. মুসনাদে আহমাদ হা/৩৬০০; সিলসিলা যঈফা হা/৫৩৩।

[6]. আবু উসামাহ্ সালীম ইবনু আব্দিল হিলালী আস-সালাফী, আল-বিদ‘আত ওয়া আছারুহুস সায়্যি ফিল উম্মাহ্, ৬০ পৃঃ।

[7]. ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-ফুরুসিয়্যাহ, পৃঃ ৬১।

[8]. সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃঃ ৮৯।

[9]. সিলসিলা যঈফা হা/৫৩৩-এর আলোচনা দ্রঃ।

[10]. তদেব।

[11]. ইবনু মাজাহ, ‘খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অাঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ, হা/৪২।

[12]. ফাতাওয়া ইয ইবনু আব্দিস সালাম, পৃঃ ৪২।

[13]. ইবনু কাছীর (রহঃ), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/৩২৮ পৃঃ।

[14]. ইবনুল কাইয়িম (রহঃ), আল-ফুরূসিয়্যাহ ৬০ পৃঃ।

[15]. সুনানুদ দারেমী হা/১৬৯; ইবনু হাজার আসকালানী, সনদ ছহীহ, ফাতহুল বারী ১৩/২৫৩ পৃঃ।

[16]. সিলসিলাতুল আছারিছ ছহীহাহ্ হা/১২১; আলবানী, সনদ ছহীহ, তালখীছু আহকামিল জানায়েয ১/৮৩ পৃঃ।

[17]. বুখারী হা/৫০৬৩; মিশকাত হা/১৪৫, ‘কিতাব ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ।

[18]. মুসলিম হা/১০১৭; মিশকাত হা/২১০।

[19]. মুসলিম হা/১০১৭; মিশকাত হা/২১০।

[20]. ইবনু মাজাহ, ‘খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অাঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ, হা/৪২।

[21]. মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন, আল-ইবদা ফী কামালিশ শারঈ ওয়া খাতারিল ইবতিদা‘, পৃঃ ১৯।

[22]. তদেব।

[23]. বুখারী হা/১০৮; মুসলিম হা/৩;

[24]. বুখারী হা/২০১০, ‘ছিয়াম’ অধ্যায়; মিশকাত হা/১৩০১।

[25]. ইবনু মাজাহ, ‘খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অাঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ, হা/৪২।

[26]. ছালেহ আল-উছায়মীন, শরহে রিয়াযুছ ছালেহীন, ১/১৭৯; তাফসীর ইবনে কাছীর ২/৩৪৮; সূরা নিসা ৬৪-৬৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[27]. শরহে রিয়াযুছ ছালেহীন, ১/১৭৯; ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ২০/২৫০; তাফসীর ইবনে কাছীর ২/৩৪৮ পৃঃ; সূরা নিসা ৬৪-৬৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

[28]. বুখারী হা/২০১২; মুসলিম হা/৭৬১।

[29]. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ, ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম ২/৯৫ পৃঃ।

[30]. তাফসীর ইবনু কাছীর ১/১৬৬ পৃৃৃৃৃঃ; সূরা বাকারার ১১৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

 

 

 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...