কবিতা

ভাবাবেগ
আতিয়ার রহমান
সোনাবাড়িয়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

আবেগ ভরা অশ্ববেগে
চলবে যে জন এই ধরায়,
তড়িৎ সম চমকে উঠে
সম্মুখে যে চলতে চায়।
ভুল কি সঠিক একটু খানি
রয় না যাহার ভাবনাতে
ছুটলে বাঁচে চায় না পিছে
চলতে সে চায় দিন রাতে।
হয় কি তাহার ইচ্ছা পুরা
আছড়ে পড়ে যমীন পর
আল্লাহকে যে বাদ দিয়ে চলে
ধরলো না যে ‘অহি’র ধার।
রাসূল (ছাঃ)-এর অমর বাণী
সে আদেশ যে মানলো না,
হক-বাতিলের ডিঙায় বেড়া
একটু বাধা মানলো না।
বিদা‘আতীদের পাতা ফাঁদে
যে জন নিজে দেয় চরণ,
হক-বাতিলের দ্বন্দ্ব হ’লে
বাতিল পথে চালায় রণ।
নিজের হাতেই পরকালের
পরলো ফাঁসি তার গলায়,
আযাব-গযব ধরবে ঘিরে
আসবে নেমে পরাজয়।

এসো আলোর পথে
মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম
রিয়াদ, সঊদী আরব।

তাওহীদের আলো জ্বালাবো বিশ্বে এইতো মোদের পণ,
কুরআন-সুন্নাহ্র বিধান দিয়ে গড়বো মোদের জীবন।
আবাল-বৃদ্ধ, আয়রে তরুণ তাওহীদের ঝান্ডা তলে,
গোমরাহী পথ ছেড়ে দিয়ে আয় রাসূলের দলে।
ঈমানহারা গোমরাহরা ত্বাগূতের দলে চলে,
সত্যের সন্ধান পেয়েছি মোরা আহলেহাদীছের দলে।
কাফের-মুশরিক, ত্বাগূতের দল চির জাহান্নামী,
আহলেহাদীছের তাওহীদের দল হবে জান্নাতগামী।
আয়রে সবাই আল্লাহ্র নামে শপথ করে বলি,
সারা জীবন মোরা যেন তাওহীদের পথে চলি।
ছেড়ে দিয়ে শিরক-বিদ‘আত যত গোমরাহী,
হব মোরা এই দুনিয়ায় বিরামহীন সংগ্রামী।
ঈমান-আক্বীদার শিক্ষা নিব আলেমগণের কাছে,
সঠিক শিক্ষা পাব মোরা কুরআন-হাদীছের মাঝে।
দ্বীন ইসলামে জীবন গড়ে হব পরশমনি,
মোদের ছোয়ায় উঠবে গড়ে মণি-মুক্তার খনি।
আল্লাহ্র রাহে সংগ্রাম করব মোরা নওজোয়ান,
ঘরে ঘরে পৌঁছে দিব ইসলামের বিধান।
সমাজ থেকে দূর করিব যত নাফরমানী,
দ্বীনের দাওয়াতে করব মোরা জীবন কুরবানী।
ভয় করি না শত্রু-সেনা শয়তান ত্বাগূতের দল,
সঙ্গে মোদের আছেন আল্লাহ, ঈমান মোদের বল।
সংগ্রাম করে অহি-র বিধান কায়েম করে যমীনে,
তাওহীদের ঝান্ডা মোরা উড়াব গগনে।

পৃথিবীর নিয়ম
এম.এম যিয়াউর রহমান
কেশবপুর, যশোর।

যে আসে ভাই সেই চলে যায় ফিরে আসে না আর
এই হ’লো ভাই পৃথিবীর নিয়ম রুখবে কে তাঁর?
পথিকের মত পাড়ি দিয়ে যায় থেকে ক্ষণকাল
সত্যই এ যে জগতের নিয়ম দিন-দুনিয়ার হাল।
সারাটি জীবন হিংসা-বিদ্বেষ অসীম বাহাদুরী
জীবনের হিসাব মিলাইনি কভু কত কি-না করি!
আশার সমুদ্রে খেয়েছে জীবন গড়িছে সোনার সংসার
ভুলেও কভু করিনি ফিকির আমার ঠিকানা কোন পার?
শৈশব-কৈশোর-যৌবন পেরিয়ে উপস্থিত বৃদ্ধকাল
চিন্তা-চেতনা জাগেনি মনে কেমন মৃত্যু হল?
স্বপ্নের নদী দূরে চলে গেছে বিদায় কল্পনার জাল
সবই  কিছু ছাড়ি দিতে হবে পাড়ি একি নিষ্ঠুর হাল?
জীবনের যত ছুটাছুটি ভাই আমার আমার বলি
জীবনের যত অর্জিত ফসল রেখে যাচ্ছি চলি।
ধোঁকার এ পৃথিবী মিথ্যা সবই নয় এ আসল বাড়ী
ভাবিনি কখনো ধূসর দিগন্ত যেতে হবে ভাই ছাড়ি।
যে আসে ভাই সেই চলে যায় ফিরে আসে না আর
এই হ’ল ভাই জগতের নিয়ম রুখবে কে তার?
পথিকের মত পাড়ি দিয়ে যায় থেকে ক্ষণকাল
সত্যই এসে জগতের নিয়ম দিন-দুনিয়ার হাল।

ছালাত
আব্দুর রাযযাক
তাহেরপুর, বাগমারা, রাজশাহী।

ছালাত পড়ে মুসলিম মোরা
কুসুম হয়ে ফুটবো গো,
ক্বিয়ামতে কাওছারের পানি
দু’হস্তে পান করবো গো।
এই জগতে কাঞ্চন মানিক
সব কিছুই নকল,
নির্মল ঈমানে ছালাত পড়ে
জান্নাত করবো দখল।
ছালাত পড়ে জীবন সব
তুলবো মোরা গড়ে।
জীবন শেষে ছালাত সাথী
সবি থাকবে পড়ে।
ছালাত হবে অন্ধ গোরের
নিত্য প্রদীপ সাথী,
ছালাত পড়ে মুমিন হয়ে
কাটাবো দিবা-রাতি।
এমন কিছু নাই দুনিয়ায়
ছালাত সমতুল,
ছালাত চালায় স্রষ্টার পথে
নাইকো তাতে ভুল।