প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩২১): বলা হয় আহলেহাদীছগণ নাজাতপ্রাপ্ত দল। কিন্তু তারা এখন বহু দলে বিভক্ত। নাজাতপ্রাপ্ত কাফেলা কি দলে দলে বিভক্ত হয়? আসলে নাজাতপ্রাপ্ত দল কোন্টি?
-রবীউল ইসলাম, খুলনা।
উত্তর : প্রকৃত আহলেহাদীছ যারা, তাদের মধ্যে কোন দলাদলি নেই। কারণ আক্বীদাগতভাবে সকল আহলেহাদীছই এক। শরী‘আতের ব্যাখ্যাগত বুঝের পার্থক্যের কারণে কিছু প্রশাখাগত বিষয়ে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক। মতভেদ থাকলেও জামা‘আতগতভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ এসেছে হাদীছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, عليكم بالجماعة وإياكم والفرقة ‘তোমাদের উপর জামা‘আতী যিন্দেগী ফরয করা হ’ল এবং বিচ্ছিন্নতাকে নিষিদ্ধ করা হ’ল (তিরমিযী হা/২৪৬৫)। তবে দুনিয়াবী স্বার্থ হাছিলের উদ্দেশ্যে যিদ ও হঠকারিতাবশে যদি কেউ দলাদলি সৃষ্টি করে, তবে তার জন্য আল্লাহ্র নিকট যেকোন ব্যক্তিকেই জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে (বাক্বারাহ ১৩৭; আলে ইমরান ১০৫; আন‘আম ১৫৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম এবং মুহাদ্দিছ ওলামায়ে কেরামের ভাষ্য অনুযায়ী কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃশর্ত অনুসারী আহলেহাদীছগণই মাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দল (তিরমিযী, মিশকাত হা/৬২৮৩, ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৬০৩২; বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীছ; বিস্তারিত আলোচনা দেখুন: ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন’ বই)
প্রশ্ন (২/৩২২) : স্বামীর ব্যস্ততার কারণে কোন মহিলা পূর্ণ পর্দাসহ দিনে বা সন্ধ্যার পর বাজারে গেলে ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েয হবে কি?
-ইসলামুল হক
কামারকুড়ি, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের একাকী বের হওয়া শরী‘আতে নিষিদ্ধ (বুখারী হা/৩০০৬; মিশকাত হা/২৫১৩)। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলে একান্ত বাধ্যগত প্রয়োজনে মুখমন্ডলসহ সমস্ত শরীর আবৃত করে সাবধানতার সাথে বাজারে যেতে পারে (ফাৎহুল ক্বাদীর ৪/৩০৪, আহযাব ৫৯ আয়াতের ব্যাখ্যা; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৭/২২৮)
প্রশ্ন (৩/৩২৩) : সরকারী নিয়মানুযায়ী মাদরাসার সময়সূচী হল, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। অনেক সময় মাদরাসা শেষ করে দুপুর ২/৩ টায় বাড়ী যেতে হয়। আবার কখনো মাদরাসায় যেতে সাড়ে দশটা বেজে যায়। এটা কি অপরাধ হবে? এর জন্য ক্বিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে কি?
-মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
শলুয়া, চারঘাট, রাজশাহী।
উত্তর : প্রতিষ্ঠানের নিয়ম না মানলে অবশ্যই দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি  করতে  হবে।  রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)  বলেন,  সাবধান!তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর (ক্বিয়ামতের দিন) তোমরা প্রত্যেকে স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮৫)। তবে বাধ্যগত অবস্থায় কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ১৬)
প্রশ্ন (৪/৩২৪) : মানছূর হাল্লাজের আক্বীদা সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।
-শামীম
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
উত্তর : হুসাইন বিন মানছূর বিন মাহমা আল-হাল্লাজ (২৪৪-৩০৯ হিঃ/৮৪৮-৯২২ খৃঃ) ইরানের বায়যা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ওয়াসিত্বে বড় হন। পরে বাগদাদে চলে আসেন। তিনি ভারতে যান ও সেখানে জাদু বিদ্যা শিখেন। বাগদাদে ফিরে তিনি প্রথমে ‘নবী’ দাবী করেন। অতঃপর সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার অবস্থান সংক্রান্ত অদ্বৈতবাদী দর্শনের প্রচার শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে নিজেকে ‘আনাল হক্ব’ (أنا الحق) বলে ‘আল্লাহ’ দাবী করেন। তাকে কারাদন্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও কয়েদীদের মধ্যে এই কুফরী আক্বীদা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে খলীফা মুক্বতাদির বিল্লাহ্র সময়ে (২৯৫-৩২০হিঃ/৯০৭-৯৩২খৃঃ) দেশের সর্বোচ্চ বিদ্বানমন্ডলীর মতামত ও বিচারকদের রায়ে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। এভাবে ৯ বছর বিভিন্ন কারাগারে বন্দী থাকার পর ৩০৯ হিজরীর ৯ই যুলক্বা‘দাহ মঙ্গলবার প্রকাশ্যে তার হাত-পা ও মাথা কেটে ব্রীজের উপর ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং দেহকে আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করা হয় (আল-বিদায়াহ ১১/১৪১-১৫৪; ডঃ আমিনুল ইসলাম, ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম দর্শন পৃঃ ১২২-১২৩)
প্রশ্ন (৫/৩২৫) : অসুস্থতার কারণে ইমাম বসে ছালাত আদায় করলে মুক্তাদীরা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? হাদীছটির ইবারতসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ছানাউল্লাহ
রাজশাহী কোর্ট, রাজশাহী।
উত্তর : পারবে (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৯)। হুমায়দী বলেন,
إِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوْا جُلُوْسًا، هُوَ فِى مَرَضِهِ الْقَدِيْمِ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ قِيَامًا لَمْ يَأْمُرْهُمْ بِالْقُعُوْدِ وَإِنَّمَا يُؤْخَذُ بِالآخِرِ فَالآخِرِ-
‘যখন ইমাম বসে ছালাত আদায় করবে তখন তোমরা বসে ছালাত আদায় কর। এই অবস্থা ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর পূর্বের রোগের কারণে। এরপর রাসূল (ছাঃ) বসে ছালাত আদায় করেছেন এবং ছাহাবীগণ তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছেন। তিনি তাদেরকে বসার আদেশ দেননি (বুখারী হা/৬৮৯-এর সাথে সংযুক্ত; মির‘আত ৪/৮৯)
প্রশ্ন (৬/৩২৬) : অনেকে নিয়মিত ছালাত ও ছিয়াম পালন করে। কিন্তু সর্বদা টাখনুর নীচে কাপড় পরে। অথচ হাদীছে আছে, টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানকারী ব্যক্তি জাহান্নামী। উক্ত ব্যক্তির পরিণাম কী হবে?
-শমশের
খানপুর, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাত, ছিয়াম আদায় করা সত্ত্বেও যদি কেউ টাখনুর নীচে পোশাক পরিধান করে, তাহলে অবশ্যই তার ঈমানে দুর্বলতা আছে। এরা তওবা না করলে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করবেন না। রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, যারা টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান  করে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেন না, তাকে ক্ষমা করবেন না এবং তার জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি (মুসলিম হা/৩০৬; মিশকাত হা/২৭৯৫)। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ছালাত-ছিয়ামে উক্ত কবীরা গোনাহ মাফ হবে না। কেননা পাপের কারণে মুছল্লীরাও জাহান্নামে যাবে (মাঊন ৪-৬)। যদিও তাদের সিজদার স্থান জাহান্নাম পোড়াতে পারবে না (বুখারী হা/৮০৬)
প্রশ্ন (৭/৩২৭) : কোন লোক যদি মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে, আর পরে সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তাহলে তার পরিণতি কি হবে?
-মা‘ছূম, নরসিংদী।
উত্তর : অঙ্গীকার ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত সমূহের অন্যতম (বুখারী হা/৩৩; মিশকাত হা/৫৫)। আর ক্বিয়ামতের দিন সফলকাম মুমিন তারাই, যারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে (মুমিনূন ৮)। অতএব যদি কেউ কোন ব্যক্তির দেনার দায় গ্রহণ করে তাহ’লে এ দায়িত্ব হতে সে মুক্ত হতে পারবে না (বুখারী হা/২২৯৫-এর অনুচ্ছেদ দ্রঃ)
প্রশ্ন (৮/৩২৮) : বাজার থেকে পণ্য কিনে অন্যের কাছে বেশী দামে বিক্রয় করলে তা বৈধ হবে কি?
-তোফাযযল
খড়খড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : প্রতারণা ও মিথ্যা কৌশল থেকে মুক্ত হলে এ ধরনের ব্যবসা বৈধ হবে (মুসলিম হা/২৯৪; মিশকাত হা/৩৫২০)
প্রশ্নঃ (৯/৩২৯): কোন মহিলা স্বামীর অজান্তে আত্মীয়দের মাঝে দান করে থাকে। আত্মীয়রা স্বামীর কাছে ছোট এবং লজ্জিত হবে বলে স্বামীকে জানানো হয় না। এরূপ দান কি শরী‘আত সম্মত হবে?
-আসমা
কামারকুড়ি, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : স্বামীর সংসারের ক্ষতি না হলে এবং এরূপ দানে স্বামী সন্তুষ্ট থাকবে বলে মনে করলে উক্ত দান শরী‘আত সম্মত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, স্ত্রী তার স্বামীর খাদ্য সামগ্রী হতে ছাদাক্বা করলে এবং তাতে বিপর্যয়ের উদ্দেশ্য না থাকলে সে ছওয়াব পাবে। উপার্জন করার কারণে স্বামীও ছওয়াব পাবে এবং মালের পাহারাদারও অনুরূপ ছওয়াব পাবে (বুখারী হা/১৪৩৭; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৯৪৭)
প্রশ্নঃ (১০/৩৩০) : যার পীর নেই তার পীর শয়তান। এধরনের আক্বীদা পোষণ করা যাবে কি?
-আল-আমীন
ফরিদপুর।
উত্তর : এটা কুফরী আক্বীদা। ইসলামে পীরের কোন অস্তিত্ব নেই। কারণ আল্লাহ ও রাসূল (ছাঃ) কোন পীরের অনুসরণ করার নির্দেশ দেননি। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তোমাদের আমীরের আনুগত্য কর’ (নিসা ৫৯)। যিনি আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী তোমাদের পরিচালনা করেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৬২ ‘নেতৃত্ব ও বিচার’ অধ্যায়)। ‘পীর’ এদেশে ছূফীদের একটি উপাধি। প্রাচীন ও আধুনিককালে মুসলমানদের তাওহীদ বিশ্বাসে ফিৎনা সৃষ্টির সবচেয়ে বড় মাধ্যম হ’ল ছূফীবাদ। অতএব এইসব মতবাদ থেকে সাবধান!
প্রশ্ন (১১/৩৩১) : জনৈক আলেম বলেন, মহিলাদের জন্য গলায় হার, হাতে আংটি, নাকে নাকফুল দেওয়া জায়েয নয়। কারণ নাকে নাকফুল দিলে নাকে পানি প্রবেশ করে না। তাই তাদের ওযূ হয় না এবং ছালাতও হয় না। উক্ত দাবী কি সঠিক?
-মুনমুন
 প্রসাদপুর বাজার, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক নয়। মহিলারা গহনা ও অলংকার পরিধান করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদের ছালাত ও খুৎবা প্রদানের পর মহিলাদের নিকট গিয়ে নছীহত করলেন ও তাদের ছাদাক্বা করার উপদেশ দিলেন। ফলে তারা কান ও গলার গহনা খুলে বেলালের নিকট দিতে লাগলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪২৯)। সুতরাং গহনা পরা যাবে এবং তা পরিহিত অবস্থায় ওযূ করাও যাবে। গহনা ওযূর কোন ক্ষতি করবে না। কারণ শরী‘আতে এ সম্পর্কে কোন নির্দেশনা নেই। উল্লেখ্য যে, হাতে আংটি থাকলে ওযূর সময় নড়াচড়া করতে হবে মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (দারাকুৎনী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪২৯)
প্রশ্ন (১২/৩৩২) : জনৈক ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোন মাদরাসার নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, মাদরাসার নামে এই জমি দান করলাম। বর্তমানে ঐ ব্যক্তি বেঁচে নেই। এখন তার ওয়ারিছগণ উক্ত জমিতে ঈদগাহ বানাতে চায়। এটা শরী‘আত সম্মত হবে কি?
-মুহাম্মাদ তরীকুল ইসলাম
জগন্নাথপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : মাদরাসায় দান করার কথা বলার কারণে উক্ত জমি যে কোন মাদরাসায় দিতে হবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ‘হেবা’ অনুচ্ছেদ)। মাদরাসা বলতে কেবল ঐগুলিকে বলা হয়, যেখানে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী আক্বীদা ও আমল শিক্ষা দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে দ্বীনী ইলমের নামে যেখানে শিরক, বিদ‘আত ও ছূফীবাদ শিখানো হয়, সেগুলি আদৌ কোন মাদরাসা নয়। বরং এগুলি ইসলাম ধ্বংসের আখড়া মাত্র। আল্লাহ বলেন, তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য কর এবং গোনাহ ও সীমালংঘনের কাজে সাহায্য করো না’ (মায়েদাহ ২)। অতঃপর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মাদরাসার মাঠে ঈদের ছালাত আদায় করা যাবে।
প্রশ্ন (১৩/৩৩৩) : সমাজে অনেক বিত্তশালী লোক রয়েছেন যারা প্রতি বছর হজ্জ পালন করেন এবং সময় পেলেই ওমরাহ করতে যান। কিন্তু গরীব আত্মীয়-স্বজন এবং গরীব প্রতিবেশীর প্রতি খেয়াল রাখেন না। ইসলামের দৃষ্টিতে উক্ত হজ্জ ও ওমরার অবস্থা কী হবে?
-আবুল কাসেম
শিবপুর, কালীগঞ্জ।
উত্তর : বার বার হজ্জ ও ওমরাহ না করে দরিদ্র ও অসহায় পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও ইয়াতীমদের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাদের মাঝে অর্থ দান করা উত্তম (ফাতাওয়া ওছায়মীন, ২১/২৮ পৃঃ)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ঐ ব্যক্তি মুমিন নয় যে পেট ভরে খায়। অথচ তার তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩১১৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪৯; মিশকাত হা/৪৯৯১)
প্রশ্ন (১৪/৩৩৪) : জুম‘আর ছালাতের পূর্বে যে চার রাক‘আত সুন্নাত পড়া হয় তা কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা?
-আব্দুল আলীম
পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
উত্তর : জুম‘আর ছালাতের পূর্বে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করা সম্পর্কে ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (যঈফ ইবনে মাজাহ হা/১১২৯)। তবে খত্বীব মিম্বরে বসার আগ পর্যন্ত যত রাক‘আত খুশী নফল ছালাত আদায় করা যাবে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৫৮, ১৩৮৪, ৮৭)
প্রশ্ন (১৫/৩৩৫) : সর্বপ্রথম কোন ছাহাবীর জানাযা হয় এবং সেই জানাযার ছালাতে কে ইমামতি করেন?
-ইনামুল হুদা
সোনাবাড়ীয়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : মাদানী জীবনে প্রথম জানাযার বিধান জারি হয়। ১লা হিজরীর শাওয়াল মাসে বদর যুদ্ধের পূর্বে খ্যাতনামা আনছার ছাহাবী আস‘আদ বিন যুরারাহ (রাঃ) অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং ১ম ছাহাবী হিসাবে বাক্বী‘ গোরস্থানে কবরস্থ হন। তিনিই ছিলেন ১ম মাইয়েত, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) যার জানাযা পড়েন’ (আল-ইছাবাহ ক্রমিক : ১১১; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃঃ ১৯০, টীকা-৮৭০)
প্রশ্ন (১৬/৩৩৬) : কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা বৈধ?
-মুহাম্মাদ মুবীনুল ইসলাম
ছায়ানীড়, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : (১) অত্যাচারীর অত্যাচার প্রকাশ করার জন্য (২) সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা এবং পাপীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য (৩) হাদীছের সনদ যাচাই ও ফৎওয়া জানার জন্য (৪) মুসলিমদেরকে মন্দ থেকে সতর্ক করা ও তাদের মঙ্গল কামনার ক্ষেত্রে (৫) পাপাচার ও বিদ‘আতে লিপ্ত হলে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে (৬) প্রসিদ্ধ নাম ধরে পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে (নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, ২৫৬ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ৫৭৫)
প্রশ্ন (১৭/৩৩৭) : প্রবাসী ছেলের জন্য মৃত মায়ের জানাযা ও দাফন কার্য ভিডিও করে সংরক্ষণ করা যাবে কি?
-আব্দুল্লাহ
নাচোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন ছবি পেলে তাকে ধুলিসাৎ করে দাও’ (মুসলিম হা/৯৬৯)। তাছাড়া এতে কোন কল্যাণ নেই। বরং মায়ের অদৃশ্য স্মৃতি বুকে ধারণ করে তার জন্য প্রাণভরে দো‘আ ও ছাদাক্বা করার মধ্যেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত রয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩ ‘ইল্ম’ অধ্যায়)
প্রশ্ন (১৮/৩৩৮) : আমি এবং আমার এক আত্মীয় একটি জমি ক্রয় করি। কিন্তু সে চক্রান্ত করে জমিটি তার নামে দলীল করে নেয়। ঐ জমির মূল্য দাবি করলে সে তা দিতে অস্বীকার করে। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়। এ জন্য দায়ী হবে কে?
-ছিয়াম সারোয়ার
প্রসাদপুর বাজার, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : প্রতারণাকারী ব্যক্তিই দায়ী হবে। কারণ সে দু’টি অন্যায় করেছে। একটি হচ্ছে অন্যের সম্পদ নিজ নামে করে নেওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে জমি ফেরত না দেওয়া। উক্ত দু’টি অন্যায়ই বান্দার হকের সাথে জড়িত, যা বান্দা ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ ক্ষমা করেন না (বুখারী হা/২৪৪৯; মিশকাত হা/৫১২৬)। এক্ষণে ঐ ব্যক্তিকে জমি ফেরত দিতে হবে বা বর্তমান বাজার মূল্য প্রদান করতে হবে। অতঃপর তার নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। তবে উভয়ের মধ্যে সালাম-মুছাফাহা অব্যাহত রাখতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হা/৫০২৭)
প্রশ্ন (১৯/৩৩৯) : জামে মসজিদের জন্য বিভিন্ন দাতা কয়েক বছর পূর্বে জমি দান করেন। বর্তমানে মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। অর্থ সংকটের কারণে জমিগুলো বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু জমিগুলোর কাগজ সঠিক না হওয়ায় বাইরের লোক তা ক্রয় করতে চাচ্ছে না। এমতাবস্থায় যারা দান করেছেন, তাদের কাছে বিক্রয় করা যাবে কি? অথবা এ জন্য করণীয় কী?
-মসজিদ কমিটি
হলাকান্দর, পত্নীতলা, নওগাঁ।
উত্তর : মসজিদের জমি যদি কেউ ক্রয় করতে না চায়, তবে মসজিদ সংস্কারের স্বার্থে জমি দাতা নিজে তা ক্রয় করে নিতে পারেন (ফাতাওয়া ইবনু তায়মিয়াহ, ৩১/২১৬)
প্রশ্ন (২০/৩৪০) : ওযূর শুরুতে বিসমিল্লাহ না বললে ওযূ হবে কি?
-হাফীযুর রহমান
মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : ওযূর শুরুতে যে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে না তার ওযূ হবে না (আবুদাঊদ হা/১০১; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৮, সনদ হাসান ছহীহ)
প্রশ্ন (২১/৩৪১) : বিয়ে বা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ভিডিও করা যাবে কি? টেলিভিশন দেখা কি শরী‘আত সম্মত হবে?
-আমানুল্লাহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর : বিয়ে অনুষ্ঠান ভিডিও করা যাবে না। কারণ এটি স্রেফ সখ মাত্র। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ভিডিও করা যায় সেখান থেকে ধর্মীয় উপদেশ লাভের জন্য।
বর্তমান টিভি চ্যানেলগুলিতে পাপের অংশই বেশী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের একটি অংশ নির্ধারিত আছে। চোখের যেনা দেখা, কানে যেনা শ্রবণ করা, মুখের যেনা কথা বলা, হাতের যেনা স্পর্শ করা, পায়ের যেনা চলা এবং অন্তরের যেনা কল্পনা করা (মুসলিম হা/৬৯২৫; মিশকাত হা/৮৬)। অশ্লীল ছবি দেখা, গান বাজনা শ্রবণ করা এবং মুখে বলা ইত্যাদির মাধ্যমে যেনার মত নোংরামি ছড়াচ্ছে। অতএব এসব থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য।
প্রশ্ন (২২/৩৪২) : খুলনা দারুল উলূম মাদরাসার মুফতীগণ ফাতাওয়া দিয়েছেন যে, ‘মক্কার যারা মুক্বীম তারা হজ্জ করলে মদীনা-আরাফা-মুযদালিফায় সময় মত ছালাত পড়বে এবং ক্বছর করতে পারবে না (ফাতাওয়া আলমগীরী ১ম খন্ড ১৩৯ পৃঃ; হেদায়া ১ম খন্ড ১৬৬ পৃঃ; মাহমুদিয়া ১ম খন্ড ৩৬৯ পৃঃ)। উক্ত ফাতাওয়া কি সঠিক হয়েছে?
-এম.এ. মজীদ, খুলনা।
উত্তর : উক্ত ফৎওয়া সঠিক নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ), আবুবকর (রাঃ) এবং ওমর (রাঃ) মিনাতে ছালাত ক্বছর করে করতেন। মক্কার স্থানীয় ব্যক্তিরাও তাঁদের সাথে ক্বছর করতেন। তবে ওছমান (রাঃ) তাঁর খেলাফতের প্রথমদিকে ক্বছর করতেন এবং পরবর্তীতে পুরা পড়তেন (বুখারী হা/১০৮২; মুসলিম হা/১৬২৪; মিশকাত হা/১৩৪৭ ‘সফরের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)। এটি ছিল ওছমান (রাঃ)-এর ব্যক্তিগত আমল। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, তোমাদের মাঝে যদি কোন বিষয়ে মতানৈক্য হয়, তাহলে তোমরা ফিরে যাও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে (নিসা ৫৯)।  আবদুর রহমান বিন ইয়াযীদ বলেন, আমি যখন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ)-কে ওছমান (রাঃ)-এর পুরো ছালাত পড়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি বললেন, আমার জন্য দুই রাক‘আত আল্লাহ্র দরবারে কবুল হওয়া চার রাক‘আতের চাইতে বেশি পসন্দনীয় (ক্বাযী আয়ায, ইকমালুল মু‘আল্লিম শরহ ছহীহ মুসলিম ৩/১২)
উল্লেখ্য, রাসূল (ছাঃ) মক্কা বিজয়ের সফরে মক্কায় দুই রাক‘আত ছালাত পড়ার পর বললেন, (يا أهل البلد، صلوا اربعا، فإنا سَفْرٌ) ‘হে নগরবাসীগণ! তোমরা চার রাক‘আত পড়। কারণ আমরা মুসাফির’ (আবুদাঊদ হা/১২২৯; মিশকাত হা/১৩৪২) বর্ণনাটি ‘যঈফ’। এর সনদে আলী বিন যায়েদ বিন জুদ‘আন নামে একজন যঈফ রাবী আছেন (ফাৎহুল বারী ৪/৪৭; সিয়ার নুবালা, ক্রমিক ৮২, ৫/২০৬)। বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরাফা ময়দানে অবস্থানকালে এক আযানে ও দুই ইক্বামতে যোহর ও আছর জমা তাক্বদীম করেন। মুক্বীম-মুসাফির সকলে তাঁর সাথে একইভাবে ছালাত আদায় করেন (বুখারী, মিশকাত হা/২৬১৭ ‘হজ্জ’ অধ্যায়; আবুদাঊদ হা/১৯১৩)। মুযদালেফাতেও মাগরিব ও এশা জমা তাখীর করেছিলেন। আগে-পিছে কোন সুন্নাত পড়েননি (বুখারী, মিশকাত হা/২৬০৭; মুসলিম হা/১২৮৮)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, এটি ফক্বীহ বিদ্বানগণের মধ্যে ইজমা-এর ন্যায়’ (আলবানী, মানাসিকুল হজ্জ ওয়াল ওমরাহ পৃঃ ২৯ টীকা-৬৪)
প্রশ্ন (২৩/৩৪৩) : কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার বার একই শিক্ষক দ্বারা কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে আর্থিক সম্মানীর ব্যবস্থা রয়েছে। এতে অন্য শিক্ষকগণ অসন্তুষ্ট থাকেন। এভাবে বান্দার হক বিনষ্টের কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আল্লাহ্র কাছে জবাবদিহি করতে হবে কি-না জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মুহাম্মাদ আব্দুল মজীদ
ফজিলা রহমান মহিলা কলেজ
পিরোজপুর।
উত্তর : যদি প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রে বিভিন্ন মেয়াদে পৃথক পৃথক শিক্ষক থাকার বিষয়টি আবশ্যিক থাকে, তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী হবেন। আর তা না থাকলে কমিটির পরামর্শে প্রধান শিক্ষক যাকে যোগ্য মনে করবেন তার নাম প্রস্তাব করতে পারেন। এতে একই শিক্ষক একাধিকবার আসতে পারেন। আর যদি প্রতিষ্ঠান প্রধানের এতে কোন প্রতারণা বা কারসাজি থাকে এবং তিনি যোগ্যতার মূল্যায়ন না করেন, তাহলে অবশ্যই তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে (বুখারী হা/২৪৪৯; মিশকাত হা/৫১২৬)। কেননা রাসূল (ছাঃ) হকদারকে তার হক দিতে বলেছেন (বুখারী হা/১৯৬৮)
প্রশ্ন (২৪/৩৪৪) : আত-তাহরীক ডিসেম্বর ২০১১ সংখ্যায় ‘পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর কাহিনী’ প্রবন্ধে উযযা মূর্তি চূর্ণ করা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, উয্যা একটি মূর্তির নাম। যার প্রাণ নেই, হাঁটা চলার শক্তি নেই। তাহ’লে খালেদ যে নগ্ন মহিলাকে বেরিয়ে আসতে দেখেন এবং দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন আসলে সেটি কি ছিল?
-মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
সোহাগদল, পিরোজপুর।
উত্তর : ওটা নারী জিন ছিল। উযযা মূর্তির রূপ ধরে মহিলা জিন মূর্তিপূজা করার জন্য উৎসাহ দিত। এজন্য রাসূল (ছাঃ) উক্ত নগ্ন নারী জিনকে প্রকৃত উযযা বলেছেন (নাসাঈ কুবরা হা/১১৫৪৭)। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক মূর্তির সাথে একজন করে নারী জিন থাকে’ (আহমাদ হা/২১২৬৯)। যে মানুষকে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।
প্রশ্ন (২৫/৩৪৫) : আমরা জানি ১২০ দিন তথা ৪ মাস পরে মাতৃগর্ভে ভ্রূণে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়। এর পূর্বে যেকোন মাধ্যমে ঐ ভ্রূণ ফেলে দিলে গোনাহ হবে কি?
-ডাঃ মুহসিন
হাটগাঙ্গোপাড়া, বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শের আলোকে যদি মায়ের জীবনের হুমকি থাকে তাহলে গর্ভস্থিত ভ্রূণ ফেলে দেয়া জায়েয। অন্যথায় শরী‘আতের দৃষ্টিতে গর্ভপাত করা হারাম (বাক্বারাহ ২০৫)। আর দারিদ্রে্যর ভয়ে সন্তান হত্যা করা হলে তা হবে আরো বড় পাপ (বনু ইসরাঈল ৩১)
প্রশ্ন (২৬/৩৪৬) : জনৈকা মহিলা ঋতু থেকে পবিত্র হওয়ার আগেই স্বামীর সাথে সহবাস করে। এমতাবস্থায় করণীয় কি?
-ইসমাঈল
সখিপুর, গাজীপুর।
উত্তর : এজন্য তাদেরকে তওবা করতে হবে এবং এক দীনার বা অর্ধ দীনার ছাদাক্বা করতে হবে (আবুদাঊদ হা/২৬৪; মিশকাত হা/৫৫৩)। এটি ছিল নবী যুগের স্বর্ণমুদ্রার নাম। এখন সেখানে তা নেই। অতএব স্ব স্ব দেশের মুদ্রায় কিছু ছাদাক্বা করা উত্তম। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, নির্দেশটি ‘মানদূব’ পর্যায়ের। ওয়াজিব পর্যায়ের নয়’ (মির‘আত ৩/২৫১)। অতএব কঠিনভাবে তওবা করাই কর্তব্য।
প্রশ্ন (২৭/৩৪৭) : টাকার যাকাত নির্ধারিত হবে কিভাবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
-আব্দুল্লাহ
সাহেব বাজার, রাজশাহী।
উত্তর : সোনা-চাঁদীর নিছাব অনুযায়ী টাকার যাকাত নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ বর্তমান ওযন অনুযায়ী ৮৫ গ্রাম সোনা এবং ৫৯৫ গ্রাম চাঁদী। প্রয়োজনীয় খরচ বাদে যা অবশিষ্ট থাকবে এবং এক বছর তার উপর অতিবাহিত হলে সঞ্চিত টাকার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। শতকরা আড়াই ভাগ হিসাবে (ইবনে মাজাহ হা/১৭৮০)। স্বর্ণের মূল্যমান রূপা অপেক্ষা স্থিতিশীল এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য বিধায় অধিকাংশ বিদ্বান স্বর্ণের হিসাব অনুযায়ী যাকাত দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
প্রশ্ন (২৮/৩৪৮) : দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে স্বামীর সমস্যার কারণে সন্তান হচ্ছে না। এমতাবস্থায় স্বামীর নিকট থেকে তালাক নিয়ে অন্যত্র বিবাহ করা যাবে কি?
-নওরীণ জাহান
সাভার, ঢাকা।
উত্তর : স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমে সন্তান আসে। কিন্তু মিলন হলেই সন্তান হবে এমনটি নয়। কারণ এটা সম্পূর্ণ আল্লাহ্র হাতে (শূরা ৪৯-৫০)। তাছাড়া অন্যত্র বিবাহ হলে সন্তান হবেই মর্মে কোন নিশ্চয়তা নেই। কাজেই ধৈর্যধারণ করে স্বামীর সাথে জীবন-যাপন করাই ভাল হবে। কারণ নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে মহিলা তার স্বামীর নিকট থেকে অকারণে তালাক চায় তার উপর জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম হয়ে যাবে’ (আবুদাঊদ হা/২২৬, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৩২৭৯)
উল্লেখ্য যে, চিকিৎসার মাধ্যমে যদি স্বামীর দুর্বলতা না সারে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে ‘খোলা’-র মাধ্যমে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে পারে (বুখারী, মিশকাত হা/৩২৭৪)
প্রশ্ন (২৯/৩৪৯) : আমরা (৬) ছয় বোন ও চার (৪) ভাই। বাবা-মা উভয়েই বেঁচে আছে। আববার নামে ২৪ ও মায়ের নামে ২ বিঘা মোট ২৬ বিঘা জমি আছে। ভাইয়েরা জমি বোনদেরকে দিতে চাচ্ছে না। মায়ের জমিটুকু দিতে চাচ্ছে। উক্ত সম্পত্তির মধ্যে কে কতটুকু পাবে? আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী বণ্টন না করলে তার পরিণাম কী জানিয়ে বাধিত করবেন।
-আয়েশা খাতুন
হাজরাপুকুর, রাজশাহী।
উত্তর: ওয়ারিছগণ কে কতটুকু পাবে তা স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারন করে দিয়েছেন (নিসা ৭, ১১)। কিন্তু সেটা পাবে মৃত্যুর পরে, আগে নয়। তবে কেউ যদি জীবিত অবস্থায় বন্টন করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সব ওয়ারিছকে অংশ মত দিতে হবে। তবে এটা হ’তে হবে সাময়িক ভিত্তিতে কেবল মৌখিকভাবে। কারণ চূড়ান্ত ভাগবন্টন হবে মৃত্যুর পরে ইসলামী শরী‘আত মতে। প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে ছেলেদেরকে মেয়েদের দ্বিগুণ নীতির ভিত্তিতে মা ও বাপ উভয়ের ২৬ বিঘা জমি ১৪ ভাগে ভাগ করে ছেলেরা পাবে দুই ভাগ, আর মেয়েরা পাবে এক ভাগ করে। বোনদেরকে তাদের প্রাপ্য হক থেকে মাহরূম করা নিঃসন্দেহে কাবীরা গুনাহ এবং তা অন্যের হক আত্মসাতের শামিল। তারা ক্ষমা না করলে আল্লাহ তা‘আলা উক্ত পাপ ক্ষমা করবেন না (বুখারী হা/২৪৪৯ ‘অত্যাচার ও আত্মসাত’ অধ্যায় ৪৬, ১০ অনুচ্ছেদ)
প্রশ্ন (৩০/৩৫০) :  কোন মুছল্লী মাগরিবের ছালাতে গিয়ে যদি দেখে ইমাম ২য় রাক‘আতে সূরা ফাতেহা শেষ করে অন্য সূরা পাঠ করছেন। উক্ত অবস্থায় ঐ মুছল্লী কি শুধু সূরা ফাতেহা পড়বে? না ছানা পাঠ করে সূরা ফাতেহা পড়বে? অথবা সে শেষ রাক‘আত পেয়েছে। ইমামের সালামের পর সে এক রাক‘আত করে পড়বে, নাকি দু’রাক‘আত এক সাথে পড়বে?
-আনোয়ার, রংপুর।
উত্তর: উক্ত অবস্থায় শুধু সূরা ফাতেহা পড়বে (বুখারী হা/৭৫৭; মুসলিম হা/৫০৭)। আর ইমাম সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে এক রাক‘আত পড়ে বৈঠক করবে। অতঃপর আরেক রাক‘আত পড়ে বৈঠক শেষে সালাম ফিরাবে। পিছনে আসা ব্যক্তি ইমামের সাথে যে রাক‘আত পাবে সেটাই তার প্রথম রাক‘আত বলে গণ্য হবে (বুখারী হা/৬৩৫; মুসলিম হা/১৩৮৯)
প্রশ্ন (৩১/৩৫১) : হানাফী মসজিদে ছালাত আদায় করলে ইমামের দ্রুত পড়ার কারণে ছালাতে একাগ্রতা আসে না। তাছাড়া ফজর, যোহর, আছর ছালাত তারা অনেক দেরীতে পড়ে। এক্ষেত্রে একাকী আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-ডাঃ মামূন, নওগাঁ।
উত্তর : এ ধরনের মসজিদে ছালাত আদায় করার কারণে ছালাতে একাগ্রতা নষ্ট হলে ইমাম পাপী হবে। তবে মুক্তাদীর ছালাত হয়ে যাবে (বুখারী হা/৬৯৪; মিশকাত হা/১১৩৩ ‘ইমামের কর্তব্য’ অনুচ্ছেদ)। আর  ছালাতের সময় হয়ে গেলে একাকী আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করে নিতে হবে। পরে তাদের সাথে পড়তে সক্ষম হলে শামিল হওয়া যাবে। তবে পরবর্তী ছালাতটি নফল বলে গণ্য হবে (মুসলিম হা/১৪৯৭)
প্রশ্ন (৩২/৩৫২) : চুল ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা করা কি শরী‘আত সম্মত? মহিলাদের মাথার চুল অাঁচড়ানো পর চিরুনীতে যে চুল উঠে তা বিক্রয় করা যাবে কি?
-নাসীমা আখতার
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : চুল ক্রয়-বিক্রয় করা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ যা সংযুক্ত থাকা অবস্থায় বিক্রি করা নাজায়েয়, তা পৃথক হওয়ার পরও নাজায়েয। মানুষের চুল তার অন্যতম। এর দ্বারা মানুষের মর্যাদার হানি হয় (নববী, আল-মাজমূ‘ ৯/২৫৪ পৃঃ)
প্রশ্ন (৩৩/৩৫৩) : শিরক এবং বিদ‘আতকারীকে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কেমন শাস্তি দিবেন? শিরক ও বিদ‘আত হতে বাঁচার উপায় কি?
-মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান
বোয়ালকান্দি, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : শিরক ও বিদ‘আত দুইটিই জঘন্য অপরাধ। যদি উক্ত পাপ হতে তওবা না করে কেউ মারা যায়, তাহলে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দিবেন। যেমন শিরক সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিবেন। আর তার স্থান হবে জাহান্নামে। আর সীমালংঘনকারীদের জন্য আখেরাতে কোন সাহায্যকারী থাকবে না (মায়েদাহ ৭২)। অতঃপর যারা বিদ‘আতী তারা রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে পরিত্যাগ করে মানুষের তৈরি বিধানের আনুগত্য করে। যারা আল্লাহ্র রাসূলের বিধান মানবে না, তারা মুমিন হতে পারবে না (নিসা ৬৫)। বিদ‘আতীরা হাউয কাওছারের পানি পান করার সুযোগ পাবে না এবং রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আতও পাবে না (মুসলিম হা/৪২৪৩)। অবশেষে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে (নাসাঈ হা/১৫৭৮)
অতএব যাবতীয় কর্ম এবং ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করলে শিরক থেকে বাঁচা সম্ভব। অনুরূপ দলীলবিহীন ও জাল-যঈফ হাদীছভিত্তিক আমল ত্যাগ করে শুধু ছহীহ দলীল ভিত্তিক আমল করলে বিদ‘আত থেকে বাঁচা সম্ভব।
প্রশ্ন (৩৪/৩৫৪) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কোন এলাকার ইমামদের বেতন দিয়েছেন কি? ইমামগণ বেতন নিলে গুণাহগার হবেন কি? আল্লাহ বলেন, কুরআনকে স্বল্প মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় কর না। এর দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?
-মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ
রাজপাট, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।
উত্তর : কুরআন শিক্ষা দিয়ে, ইমামতি করে, আযান দিয়ে, দ্বীনী তা‘লীম দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয আছে। তবে অর্থ গ্রহণ যেন উদ্দেশ্য না হয়। উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে বস্ত্তর উপর তোমরা পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে সেগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী হকদার হচ্ছে আল্লাহ্র কিতাব (বুখারী, মিশকাত হা/২৯৮৫)। উক্ত হাদীছে সূরা ফাতিহা পাঠ করে ঝাড়ফুঁক করে ছাহাবীগণ খাদ্য হিসাবে বিনিময় গ্রহণ করেছেন সে কথাও উল্লেখ রয়েছে।
রাসূল (ছাঃ) আবূ মাহ্যূরাকে আযান শেষে একটি রূপার থলি প্রদান করে তার জন্য বরকত কামনা করে দো‘আ করেন (নাসাঈ  হা/৬৩২; ইবনু মাজাহ হা/৭০৮)। অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) আযানের বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না তাকে মুয়াযযিন হিসাবে গ্রহণ করতে বলেছেন (নাসাঈ হা/৬৭২; তিরমিযী হা/২০৯)। এর অর্থ হচ্ছে, যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করার শর্ত দিবে। যেমন বলল, এ পরিমাণ টাকা না দিলে আমি ইমামাতি করব না, আযান দিব না, কুরআন পড়াবো না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছায় প্রদান করলে তাতে কোন দোষ নেই (শানক্বীত্বী, শারহু যাদুল মুসতাক্বনি‘ ৯/১৪৯)
এগুলিতে বিনিময় গ্রহণ করা কুরআনকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়। ইহুদী-নাছারা ধর্মনেতারা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাদের কিতাবের শব্দ বা অর্থ পরিবর্তন করে ফেলত এবং তার বিনিময়ে লোকদের নিকট থেকে অর্থ উপার্জন করত। আল্লাহ একে তাচ্ছিল্যভরে ‘স্বল্পমূল্যে বিক্রয়’ বলে অভিহিত করেছেন(তাফসীর কুরতুবী, উক্ত আয়াতের বাখ্যা দ্রঃ)। অতএব ইসলামী শারী‘আতের কোন বিধানকে পরিবর্তন করার লক্ষ্যে যদি কেউ ঘুষের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে তাহলে তা এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে।
প্রশ্ন (৩৫/৩৫৫) : এমন কোন আমল আছে কি যার দ্বারা কবরের চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ইসলাম
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : কবরের মাটির চাপ থেকে সৎ অসৎ, মুসলিম অমুসলিম কেউ রক্ষা পাবে না (আহমাদ হা/২৪৩২৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৬৯৫)। তবে সবার চাপ একই ধরনের হবে না। মুমিন ব্যক্তি এই চাপে শান্তি অনুভব করবে।
প্রশ্ন (৩৬/৩৫৬) : আমরা এতদিন যাবত ‘দুই সিজদার’ মাঝের দো‘আ নীরবে পড়ে আসছি। কিন্তু ‘আহলে হাদিস দর্পণ’ ৮ম বর্ষ, ২০/০৪-০৫ইং ডিসেম্বর-জানুয়ারী সংখ্যা ১৩-১৪ পৃষ্ঠায় হাদিসের আলোকে লেখা হয়েছে দুই সিজদার মাঝের দো‘আ সরবে পড়তে হবে এবং আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী...’ দো‘আটি যঈফ। উক্ত বিষয়ে সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-সোলায়মান
বোয়ালকান্দি, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর: যে দো‘আর সাথে অন্যরা ‘আমীন’ বলে যেমন ক্বুনূতে নাযেলা, এস্তেস্কার দো‘আ ইত্যাদি ব্যতীত বাকী সকল দো‘আ নীরবে পড়া উচিত। কেননা আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, ‘তোমরা প্রতিপালককে মনে মনে বিনয় ও ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে ডাক’ (আ‘রাফ ২০৫)। প্রশ্নে উল্লেখিত দো‘আটি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (আবুদাউদ হা/৭৯৬; তিরমিযী হা/২৮৪)
প্রশ্ন (৩৭/৩৫৭) : ছাগল, গরু, মহিষ, ভেড়া প্রভৃতি পশুর চামড়া খাওয়া যাবে কি?
-ডঃ মুহাম্মাদ আলী
সহকারী অধ্যাপক, জামনগর ডিগ্রী কলেজ
নাটোর।
উত্তর : যবহকৃত হালাল পশুর প্রবাহিত রক্ত ব্যতীত সবই হালাল (আন‘আম ১৪৫)। হানাফী কিতাব সমূহে আরো ছয়টি বস্ত্ত হারাম বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু সেগুলি সব ক্বিয়াসী বা অনুমান নির্ভর। সুতরাং হালাল পশুর চামড়া যদি কেউ খেতে চায়, খেতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং ক্ষতি করো না (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)। কেননা এতে খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য ব্যাহত হয় (ফৎহুল ক্বাদীর বাক্বারাহ ১৬৮; মায়েদাহ ৮৮; আনফাল ৬৯; নামল ১১৪)
প্রশ্ন (৩৮/৩৫৮) : আল্লাহ তা‘আলা মুমিন বান্দার কলবের ভিতর অবস্থান করেন। আর মুমিন বান্দার কলব হল আল্লাহ্র আরশ।’ এর দলীল জানিয়ে বাধিত করবেন। হে আল্লাহ তোমার রহমত ও গুণসমূহের অসীলায় আমাকে আরোগ্য দান কর। এভাবে দো‘আ করা যাবে কি?
-আব্দুল আলীম
এ.এইচ. রিভারভিউ, চট্টগ্রাম।
উত্তর : উক্ত মর্মে সমাজে যে বর্ণনা প্রচলিত আছে তা ভিত্তিহীন (সিলসিলা যঈফাহ হ/৫১০৩)। এবিষয়ে সঠিক আক্বীদা হল, আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপরে সমুন্নীত। এ সম্পর্কে কুরআনে সাতটি আয়াত বয়েছে (সূরা ইউনুস ৩; আ‘রাফ ৫৪; ত্বোয়াহা ৫; ফুরক্বান ৫৯; সাজদাহ ৪; হাদীদ ৪)। একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারাও তা প্রমাণিত (মুসলিম হা/১২২৭; বুখারী হা/৭৪২৩)। তবে আল্লাহ তাঁর ইলম ও কুদরতের মাধ্যমে সকলের সাথে থাকেন। যেমন তিনি মূসা ও হারূণকে বলছেন, لاَ تَخَافَا إِنَّنِيْ مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى ‘ভয় করো না। আমি  তোমাদের সাথে আছি। আমি সব শুনছি ও দেখছি (ত্বোয়াহা ৪৬)
আল্লাহ্র নাম ও গুণাবলীর অসীলায় দো‘আ করা যাবে। যেমন, يا رحيم ارحمنى، يا رزاق ارزقنى، يا هادى اهدنى، يا ناصر انصرنى ‘হে দয়ালু! আমাকে দয়া কর। হে রূযীদাতা! আমাকে রূযী দাও। হে পথ প্রদর্শক! আমাকে সুপথ দেখাও। হে সাহায্যকারী! আমাকে সাহায্য কর’ ইত্যাদি। এভাবে অর্থ বুঝে দো‘আ করলে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে। আল্লাহ্র প্রতি নির্ভরতা বৃদ্ধি পায় ও দেহমনে শক্তি আসে। বস্ত্ততঃ ছিফাতী নামগুলি আল্লাহ্র একত্ববাদ, তাঁর দয়া, দানশীলতা ও সর্বোচ্চ শক্তি হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আল্লাহ্র সুন্দর নাম সমূহ রয়েছে তোমরা সেগুলির মাধ্যমে আল্লাহকে ডাক (আ‘রাফ ১৮০)
প্রশ্ন (৪০/৩৬০) : আলমে বরযখ কী? বরযখ এবং আখেরাতের জীবন কি একই?
-মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান
বোয়ালকান্দি, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর: বরযখ শব্দের অর্থ অন্তরায় ও পৃথককারী। শরী‘আতের পরিভাষায় মৃত্যর পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সময়কালকে বরযখ বলা হয়। এটা দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের মধ্যেকার প্রাচীর। আল্লাহ বলেন, তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত (ম’ুমিনূন ১০০)। ক্বিয়ামতের পর থেকে আখেরাতের জীবন শুরু। যেহেতু আখেরাতই শেষ জীবন, তাই তাকে আখেরাত বা শেষদিবস বলা হয় (তাফসীর ত্বাবারী, বাক্বারাহ ৮ আয়াতের ব্যাখ্যা)। তারপর যার নেকী বেশি হবে সে যাবে জান্নাতে, আর যার গুনাহ বেশি হবে, সে যাবে জাহান্নামে (সুরা আল-ক্বারি‘আহ ৬-১১)। সুতরাং বরযখ ও আখেরাত পৃথক বিষয়।

HTML Comment Box is loading comments...